ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উদযাপনে নাগরিকদের চীনে যেতে মানা করল তাইওয়ান

জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উদযাপনে নাগরিকদের চীনে যেতে মানা করল তাইওয়ান

চীনের শেষ রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়েছিলেন তিনি। তাইওয়ান এবং চীন—উভয় দেশই তাকে বীরের মর্যাদা দেয়। কিন্তু সেই মহান বিপ্লবী নেতা সান ইয়াৎ-সেনের জন্মবার্ষিকী ঘিরেই এবার দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী মাসে চীনে আয়োজিত সান ইয়াৎ-সেনের জন্মবার্ষিকীর কোনো অনুষ্ঠানে যোগ না দিতে নিজেদের নাগরিকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছে তাইওয়ান সরকার। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড বিষয়ক কাউন্সিল (মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল) এই নির্দেশ দেয়। কাউন্সিল জানায়, নাগরিকদের চীনে গিয়ে কমিউনিস্টদের মনগড়া কথায় কান দেওয়া উচিত নয়। তাদের অভিযোগ, চীন সান ইয়াৎ-সেনের ইতিহাসকে বিকৃত করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। মূলত ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা এবং একত্রীকরণ’ নীতি প্রচারের জন্যই এই জন্মবার্ষিকীকে হাতিয়ার করছে বেইজিং। ১৯১১ সালে সান ইয়াৎ-সেনের নেতৃত্বেই চীনে শত শত বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। এরপর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘রিপাবলিক অব চায়না’। ১৯২৫ সালে তিনি মারা যান। তবে ১৯৪৯ সালে মাও সেতুংয়ের কমিউনিস্টদের কাছে গৃহযুদ্ধে হেরে এই ‘রিপাবলিক অব চায়না’ সরকার তাইওয়ানে পালিয়ে যায়। আজও তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক নাম এটিই। আগামী ১২ নভেম্বর সান ইয়াৎ-সেনের ১৬০তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে চীন বড় ধরনের অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিলেও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এ বিষয়ে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরও কোনো মন্তব্য করেনি। চীনের চোখে সান ইয়াৎ-সেন একজন মহান জাতীয় বীর, দেশপ্রেমিক এবং ১৯৪৯ সালের বিপ্লবের অগ্রদূত। এর আগে ২০১৬ সালে এক ভাষণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছিলেন, সান ইয়াৎ-সেন সবসময় দেশভাগের চেষ্টার বিরোধিতা করতেন। তাই মাতৃভূমির ‘সম্পূর্ণ একত্রীকরণ’ সব চীনা নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। প্রসঙ্গত, তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রেখেছে বেইজিং। অন্যদিকে, তাইওয়ানে সান ইয়াৎ-সেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতির পিতা’ বলা হয়। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে আজও তার প্রতিকৃতি ঝোলানো থাকে। যদিও তার রাজনৈতিক দর্শন ‘থ্রি প্রিন্সিপালস অব দ্য পিপল’ (জনগণের তিন নীতি) এখন আর শিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক পাঠ্য নয়। বর্তমান তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এবং তার ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি চীনের চেয়ে তাইওয়ানের আলাদা পরিচয়ের ওপরই বেশি জোর দেয়। তবে ‘রিপাবলিক অব চায়না’র ভূমিকা নিয়ে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে তারা বেশ কড়া অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের কৃতিত্ব বেইজিং দাবি করায় ক্ষুব্ধ তাইপে। তাইওয়ান মনে করিয়ে দিয়েছে, মিত্রবাহিনীর সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ‘রিপাবলিক অব চায়না’ সরকারই লড়াই করেছিল; কারণ তখন ‘পিপলস রিপাবলিক অব চায়না’ বা বর্তমান চীনের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। চীন বরাবরই প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ আখ্যা দিয়ে তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। তবে প্রেসিডেন্ট লাইয়ের সাফ কথা— তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ কেবল তাইওয়ানের জনগণই নির্ধারণ করবে।

১২ বছর পর খুলল চীন-কোরিয়াকে সংযুক্তকারী সেতু

চীন ও উত্তর কোরিয়াকে সংযুক্তকারী একটি সেতু দীর্ঘ ১২ বছর পর খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে সেতুটি চালু হলো। চীন উত্তর কোরিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির কারণে দেশটির ওপর আরোপিত কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে চীন তাদের জন্য একটি জীবনরেখা হিসেবে কাজ করছে। ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ চীনের সীমান্ত শহর দানদং থেকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের প্রধান স্থলপথ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে সেতুটি চালু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বেইজিংয়ের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কের অবনতি ঘটলে উত্তর কোরিয়া তাদের অংশে অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করে দেয়। ফলে সেতুটির চালু হওয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেন, এই সেতুটি ‘চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের একটি নতুন প্রতীক’। তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে দুই দেশ তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘একটি নতুন অধ্যায়’ উন্মোচন করছে। ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ কয়েক দশক পুরনো চীন-কোরিয়া মৈত্রী সেতুর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। পুরনো সেতুটি ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সালের মধ্যে নির্মাণ করেছিল জাপান। আরও পড়ুনআরও পড়ুনইসরাইলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে বাংলাদেশের ওয়াকআউট চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বুধবার বলেন, নতুন সেতুটি দুই দেশের মধ্যে ‘যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম’। তিনি বলেন, এই পথটি ‘বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদানকে আরও সহজ করবে’। গত বছর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২.৭ বিলিয়ন ডলার, যার বেশির ভাগ রপ্তানিই করেছিল চীন। তবে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর থাকায়, সীমান্ত দিয়ে হঠাৎ করেই বাণিজ্যের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন হানকুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের চীনা অধ্যয়ন বিষয়ক অধ্যাপক কাং জুন-ইয়ং। তিনি বলেন, ‘পিয়ংইয়ং নিজেও চীনা পণ্যের হঠাৎ বড় ধরনের আমদানি নিয়ে সতর্ক; কারণ এতে তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে চীনের প্রভাব অনেক বেড়ে যেতে পারে। চীনও এই উদ্বেগের বিষয়টি ভালোভাবেই জানে, তাই বাণিজ্য ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’ বেইজিং ও পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিনের মিত্র। তাদের মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে—এটিই একমাত্র দেশ যার সঙ্গে চীনের এমন কোনো চুক্তি আছে। তবে এই মিত্রতায় যে কোনো টানাপোড়েন নেই, তা কিন্তু নয়। ২০১০-এর দশকের বড় একটি সময়জুড়ে দুই দেশের সম্পর্ক ছিল বেশ শীতল; কারণ পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির বিষয়ে বেইজিংয়ের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছিল। ২০১৭ সালে কিম জং উন একটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালান এবং এরপর থেকে নিষিদ্ধ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও বাড়িয়ে দেন। এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে তাদের সামরিক জোটকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। তবে ইদানীং চীনের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এডওয়ার্ড হাওয়েল বলেন, ‘মাত্র এক দশক আগেও বেইজিং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিকীকরণের কঠোর সমালোচনা করত, এমনকি পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের আহ্বানও জানিয়েছিল। কিন্তু এখন চীন এ বিষয়ে প্রায় কিছুই বলছে না।’ সূত্র: বিবিসি

১২ বছর পর খুলল চীন-কোরিয়াকে সংযুক্তকারী সেতু

১২ বছর অপেক্ষার পর চালু হলো চীন-উত্তর কোরিয়া সংযোগ সেতু

অবশেষে ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উন্মুক্ত করা হলো চীন ও উত্তর কোরিয়াকে যুক্তকারী বহুল প্রতীক্ষিত সড়ক সেতু ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে সেতুটি চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদং থেকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু পর্যন্ত বিস্তৃত ৩ কিলোমিটার (১.৯ মাইল) দীর্ঘ সেতুটি চালু হওয়ায় এটি দুই দেশের প্রধান স্থল বাণিজ্য রুটে পরিণত হতে যাচ্ছে। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেতুটি প্রথম ২০১৪ সালে উদ্বোধনের কথা ছিল। তবে উত্তর কোরিয়া তাদের অংশের সড়ক ও কাস্টমস অবকাঠামো নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি বেইজিংয়ের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এতে করে সেতুটির কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেন, ‘সেতুটি চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে এক নতুন মাইলফলক। এর মাধ্যমে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করছে।’ সেতুটি মূলত ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে জাপানি সাম্রাজ্যের সময়ে নির্মিত বহু পুরোনো ‘সিনো-কোরিয়ান ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’-এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সীমান্ত বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গত বছর উত্তর কোরিয়া ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বেড়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা মহামারিপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়। তবে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় সেতু চালুর পরও সীমান্ত বাণিজ্যে আকস্মিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সাউথ কোরিয়ার হানকুক ইউনিভার্সিটির চীনা বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কাং জুন-ইয়ং বিবিসিকে জানান, বেইজিংয়ের পণ্য যেন নিজ দেশের বাজারে একচ্ছত্র প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে উত্তর কোরিয়াও সতর্ক। তাই বাণিজ্য ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। দীর্ঘদিনের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কে গত এক দশকে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই আঞ্চলিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়াও তাদের প্রথম সড়ক সেতু উদ্বোধন করেছে। ফলে পিয়ংইয়ংকে মস্কোর দিকে ঝুঁকে পড়া ঠেকাতে ও নিজস্ব প্রভাব ধরে রাখতে বেইজিং সম্পর্ক জোরদারে গতি এনেছে। চলতি বছরের মার্চে বেইজিং-পিয়ংইয়ং ফ্লাইট ও যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালু করা হয় এবং গত জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উত্তর কোরিয়া সফর করে কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিফ-এরিক ইজলি বলেন, ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজের সূচনা এটিই প্রমাণ করে যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি ঘটছে। জুন মাসে সি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর কেবলই আনুষ্ঠানিকতা ছিল না।’

১২ বছর অপেক্ষার পর চালু হলো চীন-উত্তর কোরিয়া সংযোগ সেতু

উত্তর কোরিয়া ও চীনের মধ্যে নতুন সেতু চালু, নিষেধাজ্ঞা এড়াবেন কিম?

বহির্বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়া অবশেষে তার সীমান্ত পেরিয়ে বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের নতুন একটি পথ পেল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নির্মিত বহুল আলোচিত 'নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ' আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।  চার লেনের এই ব্যস্ত সেতুটি উত্তর কোরিয়াকে তার সবচেয়ে নিকটতম মিত্র এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদার চীনের সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে। গত বৃহস্পতিবার সেতুটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। তবে এ সুবিশাল অবকাঠামো চালু হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, পিয়ংইয়ং তার পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিতে এখন থেকে এই সেতুকে একটি সহজ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। প্রায় দুই মাইল দীর্ঘ এই নতুন সেতুটি চীনের সীমান্ত শহর দানদংয়ের সাথে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজুকে যুক্ত করেছে। যদিও ১২ বছর আগে ২০১৪ সালেই সেতুটির মূল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছিল, তবুও উত্তর কোরিয়ার অংশের সংযোগ সড়ক এবং প্রয়োজনীয় সীমান্ত তল্লাশি ও কাস্টমস অবকাঠামো অসম্পূর্ণ থাকায় এটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি গৃহীত পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। এই মাসের শুরুর দিকে ধারণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে দানদং ও সিনুইজুকে সংযোগকারী ওই সেতুতে বেশ কিছু যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়।  উল্লেখ্য, এই দুটি সীমান্ত শহর দিয়েই চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকে। বৃহস্পতিবার আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উভয় দেশের জাতীয় পাতাকায় সজ্জিত বহুসংখ্যক ট্রাক অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে নদী পার হয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। এর আগে ১৯৩৭ সালে নির্মিত 'সিনো-কোরিয়ান ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ'টিই ছিল দুই দেশের মূল যাতায়াত মাধ্যম, যা দানদংয়েই অবস্থিত। তবে পুরনো এই সেতুটি মাত্র এক লেনের হওয়ায় সেখানে একবারে কেবল একমুখী যানবাহন চলাচল করতে পারত, যা আধুনিক বাণিজ্যের বিপুল চাহিদা মেটাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছিল। দীর্ঘদিনের বিলম্ব কাটিয়ে নতুন এই সুবিশাল সেতুটির উদ্বোধন বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক নৈকট্যের কথাই জানান দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় দৃশ্যমান মাত্রায় উন্নত হতে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মার্চ মাসে উভয় দেশের মধ্যে বন্ধ থাকা রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু করা হয় এবং জুনে চীনের শীর্ষ নেতা শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং সফরে গিয়ে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার অভূতপূর্ব সামরিক ও অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির কারণে চীনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক দূরত্ব কিছুটা তৈরি হয়েছিল। তবে শি-কিম শীর্ষ বৈঠকটি দুই কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত ঐতিহাসিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার কিউংনাম বিশ্ববিদ্যায়লয়ের উত্তর কোরিয়া বিষয়ক প্রখ্যাত অধ্যাপক লিম উল-চুল মন্তব্য করেছেন যে, এই সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়া বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বহাল এবং কৌশলগত জোটবদ্ধতার একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদর্শনের চমৎকার সুযোগ পেয়েছে। বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এখনো উত্তর কোরিয়ার মোট আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশই চীনের সাথে সম্পন্ন হয়ে থাকে। বার্তা সংস্থা এপি-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে চীন ও উত্তর কোরিয়াকে যুক্তকারী মোট ১৭টি রেল ও সড়ক সংযোগ পথ বিদ্যমান রয়েছে। কূটনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে উত্তর কোরিয়া গত মাসে রাশিয়ার সাথেও নিজেদের সংযোগকারী প্রথম সড়ক সেতুটির উদ্বোধন করেছে। এদিকে নতুন এই চার লেনের সেতু চালু হওয়ার বিষয়ে অগ্রিম প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন চালু হওয়া এই সেতুটি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক লেনদেনের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ ও বিনিময়কে আরও গতিশীল করবে, যা উভয় দেশের আপামর সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে। তবে চীন ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা বললেও বিশ্ব সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বিষযটিকে মোটেও সাধারণ হিসেবে দেখছেন না। তাদের তীব্র আশঙ্কা, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপিত দেশগুলোর একটি উত্তর কোরিয়া এই সেতুকে কাজে লাগিয়ে কাঁচামাল, খনিজ সম্পদ ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের রপ্তানি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ অনায়াসে এড়িয়ে যেতে পারবে।  সূত্র: সিএনএন বিডি প্রতিদিন/এনএইচ

উত্তর কোরিয়া ও চীনের মধ্যে নতুন সেতু চালু, নিষেধাজ্ঞা এড়াবেন কিম?

উত্তর কোরিয়া ও চীনের মধ্যে নতুন সেতু চালু, নিষেধাজ্ঞা এড়াবেন কিম?

বহির্বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়া অবশেষে তার সীমান্ত পেরিয়ে বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের নতুন একটি পথ পেল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নির্মিত বহুল আলোচিত 'নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ' আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।  চার লেনের এই ব্যস্ত সেতুটি উত্তর কোরিয়াকে তার সবচেয়ে নিকটতম মিত্র এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদার চীনের সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে। গত বৃহস্পতিবার সেতুটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। তবে এ সুবিশাল অবকাঠামো চালু হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, পিয়ংইয়ং তার পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিতে এখন থেকে এই সেতুকে একটি সহজ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। প্রায় দুই মাইল দীর্ঘ এই নতুন সেতুটি চীনের সীমান্ত শহর দানদংয়ের সাথে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজুকে যুক্ত করেছে। যদিও ১২ বছর আগে ২০১৪ সালেই সেতুটির মূল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছিল, তবুও উত্তর কোরিয়ার অংশের সংযোগ সড়ক এবং প্রয়োজনীয় সীমান্ত তল্লাশি ও কাস্টমস অবকাঠামো অসম্পূর্ণ থাকায় এটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি গৃহীত পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। এই মাসের শুরুর দিকে ধারণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে দানদং ও সিনুইজুকে সংযোগকারী ওই সেতুতে বেশ কিছু যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়।  উল্লেখ্য, এই দুটি সীমান্ত শহর দিয়েই চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকে। বৃহস্পতিবার আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উভয় দেশের জাতীয় পাতাকায় সজ্জিত বহুসংখ্যক ট্রাক অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে নদী পার হয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। এর আগে ১৯৩৭ সালে নির্মিত 'সিনো-কোরিয়ান ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ'টিই ছিল দুই দেশের মূল যাতায়াত মাধ্যম, যা দানদংয়েই অবস্থিত। তবে পুরনো এই সেতুটি মাত্র এক লেনের হওয়ায় সেখানে একবারে কেবল একমুখী যানবাহন চলাচল করতে পারত, যা আধুনিক বাণিজ্যের বিপুল চাহিদা মেটাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছিল। দীর্ঘদিনের বিলম্ব কাটিয়ে নতুন এই সুবিশাল সেতুটির উদ্বোধন বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক নৈকট্যের কথাই জানান দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় দৃশ্যমান মাত্রায় উন্নত হতে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মার্চ মাসে উভয় দেশের মধ্যে বন্ধ থাকা রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু করা হয় এবং জুনে চীনের শীর্ষ নেতা শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং সফরে গিয়ে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার অভূতপূর্ব সামরিক ও অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির কারণে চীনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক দূরত্ব কিছুটা তৈরি হয়েছিল। তবে শি-কিম শীর্ষ বৈঠকটি দুই কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত ঐতিহাসিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার কিউংনাম বিশ্ববিদ্যায়লয়ের উত্তর কোরিয়া বিষয়ক প্রখ্যাত অধ্যাপক লিম উল-চুল মন্তব্য করেছেন যে, এই সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়া বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বহাল এবং কৌশলগত জোটবদ্ধতার একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদর্শনের চমৎকার সুযোগ পেয়েছে। বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এখনো উত্তর কোরিয়ার মোট আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশই চীনের সাথে সম্পন্ন হয়ে থাকে। বার্তা সংস্থা এপি-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে চীন ও উত্তর কোরিয়াকে যুক্তকারী মোট ১৭টি রেল ও সড়ক সংযোগ পথ বিদ্যমান রয়েছে। কূটনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে উত্তর কোরিয়া গত মাসে রাশিয়ার সাথেও নিজেদের সংযোগকারী প্রথম সড়ক সেতুটির উদ্বোধন করেছে। এদিকে নতুন এই চার লেনের সেতু চালু হওয়ার বিষয়ে অগ্রিম প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন চালু হওয়া এই সেতুটি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক লেনদেনের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ ও বিনিময়কে আরও গতিশীল করবে, যা উভয় দেশের আপামর সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে। তবে চীন ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা বললেও বিশ্ব সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বিষযটিকে মোটেও সাধারণ হিসেবে দেখছেন না। তাদের তীব্র আশঙ্কা, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপিত দেশগুলোর একটি উত্তর কোরিয়া এই সেতুকে কাজে লাগিয়ে কাঁচামাল, খনিজ সম্পদ ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের রপ্তানি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ অনায়াসে এড়িয়ে যেতে পারবে।  সূত্র: সিএনএন

উত্তর কোরিয়া ও চীনের মধ্যে নতুন সেতু চালু, নিষেধাজ্ঞা এড়াবেন কিম?

ইরানকে সহায়তা করলে চীন-রাশিয়ার অনেক কিছু হারানোর ঝুঁকি রয়েছে: ট্রাম্প

ইরানকে চীন বা রাশিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা করছে বলে বিশ্বাস করেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, তেহরানকে সহযোগিতা করতে গেলে মস্কো ও বেইজিংকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। সোমবার গভীর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সমালোচক ও বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, চীন ও রাশিয়া ইরানকে সমর্থন দিচ্ছে। তবে এ অভিযোগের সঙ্গে একমত নন তিনি। ট্রাম্প বলেন, চীন ও রাশিয়া যদি ইরানকে সহায়তা করেও থাকে, তবে তা খুবই সামান্য। তবে এমন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তার যুক্তি, ইরানকে সহযোগিতা করলে দেশ দুটির অনেক কিছু হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। সত্যিই তারা সহায়তা করলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তা জানতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে এলো। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ইরান ইস্যুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছেন। গত মাসে শি চিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় বেইজিং তেহরানকে কোনো সহায়তা করবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিল বলেও জানিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে বেইজিং একে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে। এদিকে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীনের সহায়তায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল বিক্রি করছে ইরান। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহারের বিষয়েও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব দাবি আগেও প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। বিডি-প্রতিদিন/শআ

ইরানকে সহায়তা করলে চীন-রাশিয়ার অনেক কিছু হারানোর ঝুঁকি রয়েছে: ট্রাম্প

এক সময় ছিল সিআইএ’র এয়ারফিল্ড, এখন চীনের সামরিক ঘাঁটি

ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কার সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএর একটি বিমানঘাঁটিতে লাওসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন একটি সামরিক কেন্দ্র চালু করেছে চীনের সামরিক বাহিনী। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালায় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে। রাজধানী ভিয়েনতিয়েনের প্রায় ৪০ মাইল উত্তরে এবং থাইল্যান্ডের নিকটতম সীমান্ত থেকে মাত্র ২৫ মাইল দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে রয়েছে বান কিউন বিমানবন্দরে চীন-লাওস যৌথ সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং চীন-লাওস মৈত্রী বিমান একাডেমি। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যক্রম শুরু করেছে। গোয়েন্দা ও স্যাটেলাইট চিত্র প্ল্যাটফর্ম ভ্যান্টরের স্যাটেলাইট ছবি পেয়েছে সিএনএন। ছবিতে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর থেকে ঘাঁটিতে ৬ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে এবং ২২টি বিমান রাখার উপযোগী জায়গা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই স্থাপনা লাওসের বিমানবাহিনীর পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন জোরদারে সহায়তার উদ্দেশ্যে তৈরি এবং দুই পক্ষ যৌথভাবে এর রক্ষণাবেক্ষণ করবে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এটি কোনও তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে হুমকির জন্য নয় এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বাস্তব সহযোগিতা আরও জোরদার ও আঞ্চলিক শান্তি-স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক। এখন পর্যন্ত চীনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক বিদেশি ঘাঁটি উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার জিবুতিতে, যা ২০১৭ সালে চালু হয়। এ ছাড়া থাইল্যান্ড উপসাগরে কম্বোডিয়ার রিয়াম নৌঘাঁটির বড় সম্প্রসারণেও অর্থায়ন করেছে চীন, যা তারা কম্বোডিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করে। সেখানে নতুন নির্মিত একটি জেটি এতটাই বড়, পিএলএ নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীও ভিড়তে পারবে। এতে এই অঞ্চলে বেইজিংয়ের পকিল্পনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে কম্বোডিয়া সরকার বলছে, রিয়াম অন্যদের জন্যও উন্মুক্ত। জানুয়ারিতে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজ সেখানে নোঙর করেছিল। লাওসের বান কিউন ঘাঁটি ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় সিআইএ পরিচালিত এয়ার আমেরিকা ব্যবহার করত। অঞ্চলটিতে গোপন অভিযানের জন্য এটি ছিল রসদ ও সহায়তা কেন্দ্র। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রতীকী হলেও লাওসে চীনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র-চীন ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়। সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ফেলো ড্রু থম্পসন বৃহস্পতিবার বলেন, এই ঘাঁটি থেকে অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীর জন্য কোনও হুমকি দেখা কঠিন। তিনি বলেন, এই রানওয়ে কোনও কিছুর কেদ্র বরাবার তাক করা ছুরি নয়। এখান থেকে বিমান অভিযান চালানোর কোনও পরিস্থিতি আমি কল্পনা করতে পারছি না। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক র‍্যাচেল ভ্যান্ডেনব্রিংক রয়টার্সকে বলেন, বান কিউন বেছে নেওয়া সুস্পষ্ট কোনও অপারেশনাল প্রয়োজন মেটানোর চেয়ে সুযোগকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য থেকেই বেশি হয়েছে বলে মনে হয়। তিনি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে সীমান্ত ও রেলপথসহ অবকাঠামোগত সংযোগের কারণে মূল ভূখণ্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সহজে পৌঁছানো যায় এমন একটি ঘাঁটি হিসেবে লাওসের কিছু ভূকৌশলগত মূল্য রয়েছে।

এক সময় ছিল সিআইএ’র এয়ারফিল্ড, এখন চীনের সামরিক ঘাঁটি
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream