ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
গাজায় বেসামরিক ভবনে ড্রোন হামলার অবাধ অনুমোদন ইসরায়েলের

গাজায় বেসামরিক ভবনে ড্রোন হামলার অবাধ অনুমোদন ইসরায়েলের

গাজা ভূখণ্ডে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের এলাকা ছাড়ার পূর্ব কোনো নোটিশ বা সতর্কবার্তা দেওয়া ছাড়াই বেসামরিক বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে ভারী বোমা ফেলার নির্দেশ পেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন চারজন ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সদস্য। সোমবার (১৩ অক্টোবর) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সামরিক গোয়েন্দা সদস্যদের প্রদত্ত জবানবন্দিতে দেখা গেছে, গাজায় নির্বিচারে হামলা চালানো এবং সংঘাত চলাকালে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর হার বা পারপার্শ্বিক ক্ষতি বিবেচনা করার নীতিমালায় চরম শিথিলতা আনা হয়েছিল। হামাসের একজন মাঠপর্যায়ের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ইব্রাহিম বায়ারিকে হত্যার উদ্দেশ্যে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ভবনে করা হামলায় আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন, যেখানে তাদের সরে যাওয়ার কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6acdd372447a4" ) ); অন্য এক জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, হামাস কমান্ডার আলী কাদীকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় একটি পরিবারের সব সদস্য মারা গেলেও সেই কমান্ডার অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। এছাড়া ড্রোন দলের সেনা সদস্য ও অন্য গোয়েন্দা কর্মীরা জানান, প্রায় ২০ জন পর্যন্ত বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই ড্রোন আক্রমণের অবাধ অনুমোদন ছিল এবং ২৪ লাখ মানুষের এই ভূখণ্ডে সেনা নিরাপত্তার অজুহাতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিকে প্রতিনিয়ত উপেক্ষা করা হয়েছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক নাদাব ওয়েইম্যান সামরিক বাহিনীর এই আচরণের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার বা ট্রাক চালককে মারার জন্য শত শত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না এবং ঊর্ধ্বতনদের এই অপরাধের দায় নেওয়া উচিত। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6acdd372447ca" ) ); উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।  এই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার মামলার শুনানি চলছে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৫ জনের প্রাণহানি

গাজা উপত্যকায় শনিবার ইসরায়েলি হামলায় দুটি পৃথক ঘটনায় অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। চিকিৎসকরা জানান, গাজা সিটির পান্ডামলের কাছে একটি ইসরায়েলি হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, গাজা সিটির দক্ষিণে তুফাহ এলাকায় অন্য একটি হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সশস্ত্র যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে দুটি হামলা চালানো হয়েছে। তবে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি। ইসরায়েল সম্প্রতি সপ্তাহগুলোতে হামাসের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং নতুন করে হামলা চালাচ্ছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও মূল কয়েকটি বিষয়ে দুপক্ষ একমত হতে পারেনি। একদিকে হামাসকে নিরস্ত্র করা ও অন্যদিকে গাজা থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে বিরোধ থেকে যায়। ইসরায়েলের দাবি, হামাস যুদ্ধবিরতি ভেঙে পুনরায় অস্ত্র জমাচ্ছে এবং হামলার চেষ্টা করছে। যার জবাবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজায় হামলা জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে হামাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে যে, ইসরায়েল নিজেই শান্তি চুক্তি ক্ষুণ্ন করছে। সূত্র: রয়টার্স

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৫ জনের প্রাণহানি

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা, চিকিৎসাকর্মী নিহত

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এক স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। বুধবার হামলায় তিনি নিহত হন বলে চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। নিহত ওই ব্যক্তি ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের হয়ে কাজ করছিলেন। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সূত্রটি আনাদোলু এজেন্সিকে জানায়, উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে আহতদের সহায়তায় যাওয়ার সময় বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক হামলায় আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন এক কিশোরও বুধবার মারা গেছে। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানায়, উত্তর গাজার জাবালিয়ার আবু হোসেন স্কুলের কাছে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ফিলিস্তিনি কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত মাসে খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণের সময় সে আহত হয়েছিল। একই সূত্র জানায়, খান ইউনিসের আল-আমাল এলাকার ৫ নম্বর সড়কের পাশের একটি জলাশয়ের কাছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক কিশোরী আহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আনাদোলুর এক সংবাদদাতা জানান, ইসরায়েলি রাবার বোটগুলো রাফাহ উপকূলের দিকে এগিয়ে এসে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে বোটগুলো সেখান থেকে পিছু হটে। এ ছাড়া খান ইউনিসের উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দুটি ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এ সময় শহরের পূর্বাঞ্চলে তীব্র গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। গাজা শহরের তুফাহ এলাকার পূর্বাঞ্চল এবং শহরটির পূর্বাঞ্চলেও ইসরায়েলি বাহিনী ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। দীর্ঘ এই যুদ্ধে গাজা উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/এমএল

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা, চিকিৎসাকর্মী নিহত
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream