ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
সমর্থকদের কলা নিয়ে মাঠে আসতে বললেন ম্যানসিটির কোচ

সমর্থকদের কলা নিয়ে মাঠে আসতে বললেন ম্যানসিটির কোচ

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ১০০টিরও বেশি আর্থিক নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এখন শাস্তি ঘোষণা না করলেও, স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সেই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করেছে। এই পরিস্থিতিতে মাঠের ফুটবলে ক্লাব-ফুটবলার-সমর্থক সবার মাঝে ঐক্য তৈরির লক্ষ্য হিসেবে ম্যাচ চলাকালে ওড়ানো হয় কলা আকৃতির বেলুন! এটি মূলত আশির দশকের শেষদিকে একটি ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা, যখন ইংরেজ ফুটবলের এক কঠিন সময়ে সমর্থকরা ম্যাচে কলা ও অন্যান্য বাতাসভর্তি জিনিসপত্র নিয়ে আসতেন। ওই ধারণাটি ‘১৮৯৪’ নামক সমর্থক গোষ্ঠী দ্বারা প্রচারিত হয়েছিল এবং এটি ফুটবল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্লাবের কোনো মতভেদ তৈরি হলে খেলায় আনন্দ ফিরিয়ে আনার একটি ইঙ্গিত। গত সপ্তাহে গোষ্ঠীটি এক টুইট বার্তায় বলেছিল, ‘এই ভক্তরা সবসময় একটি রোলারকোস্টারের মধ্য দিয়ে গেছে।’ মাঠে দলের কঠিন সময়েও পরিবেশকে প্রাণবন্ত রাখতে ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকরা ম্যাচে এমন কলা নিয়ে যেতেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ফিরে এসেছে সেই দৃশ্য। এই পরিস্থিতিতে মাঠের পারফরম্যান্সে খেলোয়াড় ও কোচের মধ্যে ঐক্য দেখা গেছে। একইসঙ্গে সমর্থকরাও দেখিয়েছেন নিজেদের দৃঢ়তা ও ক্লাবের প্রতি আনুগত্য।  দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর নিজেদের প্রথম ম্যাচে লিভারপুলের মাঠে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছিল এনজো মারেসকার দল ম্যানসিটি। সেই ম্যাচে সমর্থকদের কলা নিয়ে হাজির হওয়াকে বাইরের তীব্র সমালোচনার মুখে ক্লাবের প্রতি সমর্থকদের অবস্থানের শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দেখছেন ইতালিয়ান এই কোচ। আজ শনিবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ইপচউইচ টাউনের বিপক্ষে খেলবে ম্যানসিটি। ওই ম্যাচেও কলার বেলুন নিয়ে আসার আহ্বান জানালেন কোচ মারেসকা, ‘এটা খুবই সুন্দর। কলার পেছনের ইতিহাস আমি জানতাম না। তবে আশা করছি আগামীকাল স্টেডিয়ামে অনেক কলা দেখতে পাব। আমার মনে হয় এটি সমর্থক এবং স্টেডিয়ামে থাকা সবার জন্য সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি করে।’ ক্লাবকে ঘিরে চলমান বিতর্কময় পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করার কথা জানিয়ে মারেসকা বলেন, ‘আমার দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে পারি, এই আলোচনা-সমালোচনার পর সমর্থক, ক্লাব ও দলকে আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ মনে হচ্ছে। আমার চার সন্তান। তারাও ইতোমধ্যে আমার কাছে কলা চেয়েছে। আগামীকাল তারা স্টেডিয়ামে থাকবে। দেখা যাক কী হয়।’ মাঠের বাইরের পরিস্থিতিতে কোনো চাপ নেই বলেও জানিয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান কোচ, ‘আমি অনেকবার বলেছি, বাইরের পরিস্থিতি নিয়ে আমি কোনো ধরনের চাপ অনুভব করি না। কারণ বিষয়টি আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। আমি শুধু পরবর্তী ম্যাচটি কীভাবে জেতা যায়, সেদিকেই মনোযোগ দিই। আসন্ন ম্যাচটিও তিন পয়েন্টের লড়াই, অ্যানফিল্ডের ম্যাচের মতোই। তাই আমাদের জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং আরেকটি জয় পাওয়ার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ।’

বিসিবির ভ্যান থেকে চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা উদ্ধার

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাভার্ড ভ্যান থেকে চুরি হওয়া ক্রিকেটার এসএম মেহরব হাসানের তিন লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সন্ধ্যায় রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে মোজাম্মেল হক জানান, চুরি হওয়া লাগেজ থেকে নেওয়া তিন লাখ টাকা তার ভাড়া বাসায় আছে। পরে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল রাজশাহী নগরের কাজলা মৃধাপাড়ায় তাঁর ভাড়া বাসার ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে টাকাগুলো উদ্ধার করে। জাতীয় ক্রিকেট লিগ শেষে গত বুধবার ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরে বিভাগীয় ক্রিকেট টিম। তাদের ৫৪টি লাগেজ কাভার্ডভ্যানে পাঠানো হয়েছিল। সকালে কাভার্ড ভ্যান থেকে মালামাল নামানোর সময় আটটি লাগেজ কম পাওয়া যায়। এ নিয়ে মেহরব হাসান থানায় একটি জিডি করেন। গতকাল ভোরে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা রাজশাহীর পুঠিয়া এলাকায় মোটরসাইকেলের মাধ্যমে চলন্ত কাভার্ড ভ্যানে উঠে দরজার তালা ভেঙে আটটি লাগেজ নামিয়ে নিয়েছিলেন। পুলিশ ওই লাগেজগুলোও উদ্ধার করে। এতে অন্যান্য মালামাল পাওয়া গেলেও তখন টাকাগুলো পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে একটি মামলা হলে গতকালই আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতে রুবেল আহমেদ (৩৮) নামের এক আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন।

বিসিবির ভ্যান থেকে চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা উদ্ধার

‘আমাকে এমনভাবে ঘৃণা করে, আমি যেন তাদের শত্রু’

বাংলাদেশ দলে কোচ হিসেবে টমাস ডুলি পেয়েছেন মাত্র চার ম্যাচ। বেশি ম্যাচের সুযোগ পাবেনই বা কী করে! এসেছেন মাত্র পাঁচ মাস আগে। তবে এই অল্প সময়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক কিছু বুঝতে পেরেছেন তিনি। এ বছরের মে মাসে ডুলি বাংলাদেশের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। দেশের মানুষদের আন্তরিকতা দেখে মুগ্ধ তিনি। আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের আতিথেয়তার যেমন প্রশংসা করেছেন, তেমনি তিনি মজার ছলে নেটিজেনদের কথাও উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আসলে অনেক ভালো মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। আমি যে হোটেলগুলোতে থেকেছি, সেখানকার মানুষ, রাস্তায় দেখা হওয়া মানুষ-অনেকেই এগিয়ে এসে কথা বলেছেন। ছবি তুলেছেন। সবাই খুব আন্তরিক। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ আমাদের এমনভাবে ঘৃণা করে, যেন আমরা তাদের শত্রু (হাসি)!’ শিশুরা তো বটেই, অবসরে দেশের আনাচে-কানাচে ফুটবল নিয়ে যুবকেরাও মেতে ওঠেন। স্টাম্প, ব্যাট, বল নিয়ে অনেকে ক্রিকেট খেলতেও নেমে যান। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজদের খেলা দেখে অনেকেই ক্রিকেট নিয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে থাকেন। মেজর কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা না জিতলেও মনে রাখার মতো অনেক কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ডুলি অবশ্য ক্রিকেট পছন্দ করেন না। এমনকি এই খেলা সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণাই নেই। বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘না (ক্রিকেট পছন্দ করার ব্যাপার)। ক্রিকেট সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই! জার্মানিতে ক্রিকেট নেই। যুক্তরাষ্ট্রে আমি যেখানে ছিলাম, সেখানেও ক্রিকেট ছিল না। তাই ক্রিকেট সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।’ হামজা চৌধুরী, ফাহামিদুল ইসলাম, শুকি ইতফুসা, শমিত সোম, জিদান ইউসুফ—বাংলাদেশের ফুটবলে এখন প্রবাসীদের ছড়াছড়ি। তা দেখে দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের ফুটবল নিয়ে আগ্রহ অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে হামজাকে দেখলেই গ্যালারি ‘হামজা, হামজা’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। স্থানীয়, প্রবাসী খেলোয়াড়দের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে ডুলি বলেন, ‘এ ধরনের খেলোয়াড় নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে বুঝতে হবে—নাগরিকত্ব পরিবর্তন করে খেলা খেলোয়াড় আর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার। আমি সব সময় এ ধরনের খেলোয়াড়দের সমর্থন করি। কারণ, আমিও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলেছি। জার্মানিতে থাকতাম, জার্মানির নাগরিকত্বও ছিল, কিন্তু জন্মসূত্রে আমি আমেরিকান। আমার যদি দুটি দেশের নাগরিকত্ব থাকে এবং আমি সেই দুই দেশের যেকোনো একটির হয়ে খেলতে না পারি, তাহলে সেটা তো অন্যায় হবে। কিন্তু শুধু নাগরিকত্ব পরিবর্তন করে জাতীয় দলে খেলার বিষয়টি সমর্থন করি না।’

‘আমাকে এমনভাবে ঘৃণা করে, আমি যেন তাদের শত্রু’

রেফারিদের ধুয়ে দিলেন ভিনি

রিয়াল মাদ্রিদে একের পর এক গোল করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ভেঙেচূড়ে দিয়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। জিতেছেন অনেক শিরোপাও। কিন্তু মুদ্রার অপর পিঠও দেখতে হয়েছে তাঁকে। গ্যালারিতে ভক্ত-সমর্থকদের দুয়োধ্বনি তো রয়েছেই। এমনকি রেফারিদের হাত থেকেও নিস্তার পাচ্ছেন না তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে গত রাতে রোমার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের ৪-৩ গোলের নাটকীয় জয় ছাপিয়ে ভিনির ঘটনা বেশি আলোড়ন তুলেছে। বিশেষ করে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লা লিগায় তাঁর লাল কার্ডের ঘটনার জেরে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা হচ্ছে বেশি। প্রতিপক্ষ সমর্থকদের দুয়োধ্বনি নিয়ে ভিনির কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু রেফারিদের ওপর তিনি বেজায় চটেছেন। ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে বলেন, ‘প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকেরা আমাকে দুয়ো দেবে। এটাই স্বাভাবিক। কারণ, আমি তাদের দলের বিপক্ষে গোল করতে নামি। কিন্তু রেফারিদের আচরণ আমি বুঝতে পারি না।’ রোমার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে এমন এক পরিসংখ্যানের কথা ভিনি উল্লেখ করেছেন, যা চোখ কপালে ওঠার মতোই। ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমি একটি পরিসংখ্যানে দেখেছি যে আমাকে ৫০০ বার ফাউল করা হয়েছে। বিপরীতে মাত্র পাঁচ লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া কতগুলো হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। অথচ হলুদ কার্ড সব সময় আমাকেই দেখানো হয়। আমি এটা বুঝতে পারি না।’ অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে গত রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ভিনি জানতে পারেন তাঁর চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার ঘটনা। কোচ জোসে মরিনিও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে। ভিনি নিজেও এই ঘটনায় হতভম্ব, ‘আমার মতে, শাস্তি দেওয়ার সময়টা ঠিক ছিল না। তারা চাইলে সারাদিনের যেকোনো সময় সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করতে পারত। কিন্তু যখন স্টেডিয়ামে পৌঁছাই, তখনই এ বিষয়ে জানতে পারি। নিয়মটি নতুন। আর লা লিগার কর্মকর্তারা সাধারণত নতুন সংশোধনীগুলোর ব্যাপারে আমাদের জানাতে আসেন। কিন্তু এই নির্দিষ্ট নিয়মটি সম্পর্কে তাঁরা কিছুই আমাদের জানাননি।’ ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় চার ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন ভিনি। গতকাল রাতে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। শনিবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নাথান সালিবার চুল টানার কারণে অসদাচরণের জন্য তিনি পেয়েছেন দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। পাশাপাশি লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানোয় আরও দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি। গত রাতে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমি কখনোই কোনো প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে সহিংস আচরণ করিনি। আমাকে অনেক ফাউল করা হয়। অথচ মনে হয়, রেফারিরা খুব সহজেই আমাকে কার্ড দেখান।’ চ্যাম্পিয়নস লিগে গত রাতে প্রথম ৫৮ মিনিটে ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় রোমা। রোমার দোনিল মালেন করেন জোড়া গোল। অপর গোল করেন মার্তেন দে রুন। রিয়ালের গোলটি করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। শেষ ৭ মিনিটে সবকিছু বদলে যায়। ৮৩ মিনিটে গোল করেন কার্লোস এসপি। সমতাসূচক গোল ৮৫ মিনিটে করেন এনদ্রিক। ৯০ মিনিটে জয়সূচক গোল করেন আন্তোনিও রুদিগার।

রেফারিদের ধুয়ে দিলেন ভিনি

মেসি ও তাঁর স্ত্রীকে বেনিন দলের বিশেষ উপহার

আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির অধ্যায় শেষ হয়েছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে। ৩৭ দিন আগে সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিলেও আজ ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে থেকে বিদায় নিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার। বাংলাদেশ সময় ভোরে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা-বেনিন ম্যাচটার তাৎপর্য তাই বলে শেষ করা যাবে না। প্রতিপক্ষ দলের কাছ থেকে আর্জেন্টাইন তারকা বিশেষ উপহারও পেয়েছেন। বিদায়ী ম্যাচ উপলক্ষে মেসি ও তাঁর স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোকে বিশেষ উপহার দেওয়া হয়েছে বেনিন ফুটবল দলের পক্ষ থেকে। বেনিন মিডফিল্ডার সেসি দি আলমেদা আজ মাঠেই মেসির এই তারকার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলারকে উপহার দেন দাহোমের অ্যামাজনের একটি ক্ষুদ্র প্রতিকৃতি। মেসিকে বোঝাতে স্প্যানিশ ভাষায় অ্যামাজনের প্রতিকৃতি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন দি আলমেদা। আর্জেন্টিনার ফুটবলারের কাছে উপহার দেওয়ার পর বেনিন মিডফিল্ডার বলেন, ‘এটি অ্যামাজনের এক প্রতিকৃতি। এই উপহার আপনার স্ত্রীর জন্য। কারণ, বেনিনে বিশ্বাস করা হয়, এটি মহান শক্তির প্রতীক।’ এখানেই শেষ নয়। পরে বেনিন দল মেসিকে একটি গোলাপ, ম্যাচের আগে জাতীয় দলগুলোর মধ্যে প্রচলিত সেই ঐতিহ্যবাহী পেন্যান্ট এবং সবশেষে ফুটবলারদের পক্ষ থেকে মেসিকে হাতে লেখা একটা চিঠি উপহার দেন। সব উপহার হাতে নিয়ে মেসি রেফারিদের সঙ্গে দুই অধিনায়কের ঐতিহ্যবাহী ছবির জন্য দাঁড়ান। তারপরই শুরু হয় আর্জেন্টিনা-বেনিন ম্যাচ। এবার জেনে যাওয়া যাক এই অ্যামাজন আসলে কী। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি অ্যামাজন নয়। এই অ্যামাজনরা ছিল সম্পূর্ণ নারীদের নিয়ে গঠিত একটি সেনাবাহিনী, যাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। তারা রাজ্যের হয়ে বহু যুদ্ধে লড়াই করেছে, এমনকি ফ্রান্সের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করেছে। তারা বিশেষভাবে সাহসী, নির্ভীক ও দুর্ধর্ষ যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিল। আর্জেন্টিনা-বেনিন ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই আজ শেষ হয় মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলের ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। বিদায়ী ভাষণ দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বয়ং মেসি। আবেগ সামলে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ৩৯ বছর বয়সী ফুটবলার। কোচ লিওনেল স্কালোনি, এনসো ফের্নান্দেসকেও কাঁদতে দেখা গেছে। মেসির সঙ্গে ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ, ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ের স্মৃতি রয়েছে ফের্নান্দেসের। আজ দর্শকপূর্ণ স্টেডিয়ামে তারকা ফুটবলারের বিদায়ী ম্যাচ শেষে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফের্নান্দেস। ২৫ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার বলেন, ‘আসলেই দিনটা খুব আবেগঘন। আশা করছি, লিও এই রাতটা উপভোগ করছেন। তাঁকে খুব মিস করব আমরা।’ বিদায়ী ম্যাচে দলের তিনটি গোলেই অবদান রেখেছেন মেসি। নিকো পাস, নিকোলাস ওতামেন্দিকে দিয়ে গোল করিয়েছেন। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে করেন গোল। তাঁর বিদায়ী ভাষণ লিওনেল স্কালোনিসহ মনুমেন্তালের দর্শকেরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছেন। ফের্নান্দেসসহ কয়েক জন ফুটবলারের চোখে দেখা গেছে অশ্রু। আতশবাজি আর মেসিকে ঘিরে নাচানাচিতে হয়ে গেল তাঁর বিদায়। মেসির মতো ওতামেন্দিও আজ আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। বন্ধু মেসির বিদায়ী ম্যাচে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আনহেল দি মারিয়াও।

মেসি ও তাঁর স্ত্রীকে বেনিন দলের বিশেষ উপহার
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream