ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
জয়াবর্ধনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে পোলার্ড-দ্রাবিড়

জয়াবর্ধনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে পোলার্ড-দ্রাবিড়

হঠাৎ করেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে। ৪৯ বছর বয়সী জয়াবর্ধনে ২০১৭ সালে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত হন এবং নিজের প্রথম মৌসুমেই ফাইনালে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসকে হারিয়ে শিরোপা জেতেন। এরপর ২০১৯ ও ২০২০ সালে দলের জোড়া সাফল্যের সময়ও তিনি কোচিং স্টাফের দায়িত্বে ছিলেন। টানা দুই বছর কোনো শিরোপা না জেতার পর, ২০২২ মৌসুম শেষে তিনি কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে তিনি দলের সঙ্গেই ছিলেন এবং নেপথ্যে থেকে বিভিন্ন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে কাজ করেছেন। ২০২৪ সালে মুম্বাইয়ের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দলটি তাদের পুরোনো কোচের শরণাপন্ন হয়। এই পদক্ষেপটি কার্যকরও হয়েছিল। জয়াবর্ধনের নেতৃত্বে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা প্লে-অফে জায়গা করে নেয় এবং ফাইনালের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে আইপিএলের সর্বশেষ আসরে দলটি পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে থেকে আরও একটি শোচনীয় মৌসুম শেষ করে। জয়াবর্ধনে চলে যাওয়ায়, দলটি এখন নতুন প্রধান কোচের সন্ধানে রয়েছে। দলটি নতুন মুখের অধীনে সঙ্গে কাজ করে তাদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চাইছে। নতুন কোচের ওপর দায়িত্ব থাকবে অধিনায়কত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া জটিল সমস্যার সমাধান করা এবং হার্দিক পান্ডিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। নিচে এমন পাঁচজনের নাম দেওয়া হলো, যারা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পরবর্তী কোচ হতে পারেন কাইরন পোলার্ড মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি অত্যন্ত অনুগত হিসেবে পরিচিত কাইরন পোলার্ডকে আইপিএলের পরবর্তী আসরের জন্য প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার তার পুরো আইপিএল ক্যারিয়ারই কাটিয়েছেন ‘মেন ইন ব্লু অ্যান্ড গোল্ড’ (মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স)-এর হয়ে, তাই দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো সম্পর্কে তিনি ভালোভাবেই অবগত। তিনি নিজের মতামত অত্যন্ত সততার সঙ্গে প্রকাশ করার জন্য পরিচিত। পোলার্ড এখনও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছেন, তবে কোচ হওয়ার সুযোগটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই সাবেক তারকার জন্য বেশ আকর্ষণীয় হতে পারে। মাইকেল হাসি অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি মাইকেল হাসিকে সম্প্রতি চেন্নাই সুপার কিংস তাদের ব্যাটিং কোচের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে; স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের বিদায়ের পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাসি ২০১৪ সালে এমআই ‍মুম্বাইয়ের এর হয়ে এক মৌসুম খেলেছিলেন এবং সেই টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে বেশ ভালো পারফর্ম করেছিলেন। ‘মিস্টার ক্রিকেট’ নামে পরিচিত অস্ট্রেলিয়ার এই সাবেক তারকা খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে প্রচুর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। আইপিএল শিরোপা পুনরায় জয়ের জন্য ঠিক কী প্রয়োজন, তা তার ভালোভাবেই জানা আছে। অ্যাডাম ভোজেস অস্ট্রেলিয়ার আরেক সাবেক ব্যাটার অ্যাডাম ভোজেস, যিনি অবসর গ্রহণের পর কোচ হিসেবে নিজের নাম উজ্জ্বল করেছেন। তিনিও একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। ৪৭ বছর বয়সী ভোজেস ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দারুণ সফল। তার অধীনে দলটি শেফিল্ড শিল্ডসহ ঘরোয়া ওয়ানডে টুর্নামেন্টগুলোতে জয়লাভ করেছে। এছাড়া, পার্থ স্কোরচার্সকে তিনটি বিগ ব্যাশ লিগ শিরোপা জেতাতেও তিনি কোচ হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, যার সর্বশেষটি এসেছে এই মৌসুমেই। তার দলগুলো আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার জন্য এবং ম্যাচের ওপর আধিপত্য বজায় রাখার জন্য পরিচিত। রবিন পিটারসন দক্ষিণ আফ্রিকার এই সাবেক তারকা ২০১০-এর দশকের শুরুর দিকে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছিলেন। বর্তমানে তিনি মেজর লিগ ক্রিকেটে ‘এমআই নিউ ইয়র্ক’ এবং এসএ২০ লিগে ‘এমআই কেপ টাউন’-এর কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পিটারসন উভয় দলকেই শিরোপা জিতিয়েছেন এবং এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে। আম্বানি-পরিচালিত এই ফ্র্যাঞ্চাইজি যদি ৪৭ বছর বয়সী পিটারসনকে তাদের ষষ্ঠ আইপিএল শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে দলের দায়িত্ব দেয়, তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। রাহুল দ্রাবিড় রোহিত শর্মার পুনরায় অধিনায়ক হিসেবে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন রাহুল দ্রাবিড়ের প্রধান কোচ হিসেবে ফিরে আসাটা যৌক্তিক হতে পারে। ৫৩ বছর বয়সী দ্রাবিড় প্রায় তিন বছর ধরে সাবেক ভারতীয় অধিনায়কের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তাদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া গড়ে উঠেছিল। এই জুটি বেশ সফল ছিল; তাদের অধীনে দলটি ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল এবং ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় করে দীর্ঘদিনের আইসিসি শিরোপা খরা কাটিয়েছিল।

‘আমাকে এমনভাবে ঘৃণা করে, আমি যেন তাদের শত্রু’

বাংলাদেশ দলে কোচ হিসেবে টমাস ডুলি পেয়েছেন মাত্র চার ম্যাচ। বেশি ম্যাচের সুযোগ পাবেনই বা কী করে! এসেছেন মাত্র পাঁচ মাস আগে। তবে এই অল্প সময়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক কিছু বুঝতে পেরেছেন তিনি। এ বছরের মে মাসে ডুলি বাংলাদেশের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। দেশের মানুষদের আন্তরিকতা দেখে মুগ্ধ তিনি। আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের আতিথেয়তার যেমন প্রশংসা করেছেন, তেমনি তিনি মজার ছলে নেটিজেনদের কথাও উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আসলে অনেক ভালো মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। আমি যে হোটেলগুলোতে থেকেছি, সেখানকার মানুষ, রাস্তায় দেখা হওয়া মানুষ-অনেকেই এগিয়ে এসে কথা বলেছেন। ছবি তুলেছেন। সবাই খুব আন্তরিক। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ আমাদের এমনভাবে ঘৃণা করে, যেন আমরা তাদের শত্রু (হাসি)!’ শিশুরা তো বটেই, অবসরে দেশের আনাচে-কানাচে ফুটবল নিয়ে যুবকেরাও মেতে ওঠেন। স্টাম্প, ব্যাট, বল নিয়ে অনেকে ক্রিকেট খেলতেও নেমে যান। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজদের খেলা দেখে অনেকেই ক্রিকেট নিয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে থাকেন। মেজর কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা না জিতলেও মনে রাখার মতো অনেক কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ডুলি অবশ্য ক্রিকেট পছন্দ করেন না। এমনকি এই খেলা সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণাই নেই। বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘না (ক্রিকেট পছন্দ করার ব্যাপার)। ক্রিকেট সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই! জার্মানিতে ক্রিকেট নেই। যুক্তরাষ্ট্রে আমি যেখানে ছিলাম, সেখানেও ক্রিকেট ছিল না। তাই ক্রিকেট সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।’ হামজা চৌধুরী, ফাহামিদুল ইসলাম, শুকি ইতফুসা, শমিত সোম, জিদান ইউসুফ—বাংলাদেশের ফুটবলে এখন প্রবাসীদের ছড়াছড়ি। তা দেখে দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের ফুটবল নিয়ে আগ্রহ অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে হামজাকে দেখলেই গ্যালারি ‘হামজা, হামজা’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। স্থানীয়, প্রবাসী খেলোয়াড়দের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে ডুলি বলেন, ‘এ ধরনের খেলোয়াড় নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে বুঝতে হবে—নাগরিকত্ব পরিবর্তন করে খেলা খেলোয়াড় আর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার। আমি সব সময় এ ধরনের খেলোয়াড়দের সমর্থন করি। কারণ, আমিও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলেছি। জার্মানিতে থাকতাম, জার্মানির নাগরিকত্বও ছিল, কিন্তু জন্মসূত্রে আমি আমেরিকান। আমার যদি দুটি দেশের নাগরিকত্ব থাকে এবং আমি সেই দুই দেশের যেকোনো একটির হয়ে খেলতে না পারি, তাহলে সেটা তো অন্যায় হবে। কিন্তু শুধু নাগরিকত্ব পরিবর্তন করে জাতীয় দলে খেলার বিষয়টি সমর্থন করি না।’

‘আমাকে এমনভাবে ঘৃণা করে, আমি যেন তাদের শত্রু’

বিতর্ক ছাপিয়ে হাজার গোলের পথে রোনালদো

বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে আসা, কোচের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনসহ নানা আলোচনা ঘিরে রেখেছে তাকে। তবে মাঠে ফিরেই গোল করে সব আলোচনার জবাব দিচ্ছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। তার সামনে এখন ক্যারিয়ারে এক হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক। ৪১ বছর বয়সেও গোলের ক্ষুধা কমেনি রোনালদোর। বরং ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ছুটছেন আল নাসরের এই ফরোয়ার্ড। পেশাদার ক্যারিয়ারে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৯৮১। অর্থাৎ, হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে আর প্রয়োজন ১৯ গোল। জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন রোনালদো। গত ২৭ সেপ্টেম্বর নেশন্স কাপে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের জয়ের ম্যাচে পুরো সময় বেঞ্চে কাটাতে হয় তাঁকে। এরপর জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান এই তারকা। পরে কোচ হোর্হে জেসুসের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে মাঠের বাইরের এসব ঘটনা গোল করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। আল নাসরের জার্সিতে ফিরেই আল দিরিয়াহর বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে দলের প্রথম গোলটি করেন রোনালদো। ম্যাচের ২৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। এরপর পরের ম্যাচেও গোলের দেখা পান পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার। সেই ম্যাচে আল নাসর জয় পায় ৩-১ ব্যবধানে। টানা দুই ম্যাচে গোল করে হাজার গোলের লক্ষ্যের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যান রোনালদো। মাঠে রোনালদোর পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সমর্থকদের ভালোবাসাও ছিল চোখে পড়ার মতো। গ্যালারিতে তাঁর সাত নম্বর জার্সি, বিশাল ব্যানার আর প্রিয় তারকার নামে স্লোগানে মুখর ছিলেন সমর্থকেরা। মাঠের বাইরের বিতর্ক ছাপিয়ে তাঁদের সমর্থনই যেন ফুটে উঠেছে এসব আয়োজনে। জাতীয় দলের হয়েও রোনালদোর অর্জন ঈর্ষণীয়। পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে তাঁর গোল ১৪৬টি, যা পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। বিতর্ক, সমালোচনা কিংবা বয়স কোনো কিছুই আপাতত থামাতে পারছে না রোনালদোকে। হাজার গোলের মাইলফলক ছুঁতে তাঁর সামনে এখন ১৯ গোলের অপেক্ষা। ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ, কবে ইতিহাসের এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবেন পর্তুগিজ মহাতারকা। বিডি-প্রতিদিন/এআইডি

বিতর্ক ছাপিয়ে হাজার গোলের পথে রোনালদো
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream