ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
‘ভবিষ্যতের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ জ্বালানি বা এআই নয়, আস্থা’

‘ভবিষ্যতের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ জ্বালানি বা এআই নয়, আস্থা’

পানি, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কিংবা তথ্য—ভবিষ্যৎ বিশ্বে এগুলোর কোনোটি একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ নয়। বরং জনগণ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থাকেই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে দেখছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। তার মতে, বিনিয়োগ আকর্ষণ, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পেছনে আস্থার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি প্রকাশিত তার নতুন বই ‘লেসনস ফ্রম লাইফ’-এর দ্বিতীয় খণ্ড ‘দ্য লেটার্স’-এ থাকা একটি খোলা চিঠিতে এ বিষয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন শেখ মোহাম্মদ। ‘ভবিষ্যতের মুদ্রা বিষয়ক একটি চিঠি’ শিরোনামের লেখাটিতে তিনি ছয় দশকের অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্বজুড়ে আস্থার সংকটের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে একটি দেশের অর্জিত অন্যতম প্রধান সম্পদ হিসেবে আস্থাকে তুলে ধরেন তিনি। চিঠিতে একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে দুবাই শাসক জানান, ভবিষ্যতে সবচেয়ে মূল্যবান উপাদান কোনটি—এ নিয়ে বন্ধু ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল। কারও মতে, সেটি পানি; কারণ পানির সংকট ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে যুদ্ধও হতে পারে। কেউ আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এগিয়ে রাখেন, কারণ প্রযুক্তি ও অর্থনীতির গতিপথ বদলে দিচ্ছে এআই। অন্যদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে শক্তি বা জ্বালানি—কারণ এআইসহ আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশও এর ওপর নির্ভরশীল। তবে শেখ মোহাম্মদ তাদের সঙ্গে একমত হননি। তার বক্তব্য, ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘মুদ্রা’ পানি, শক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়; সেটি হলো ‘আস্থা’। দুবাই শাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউএইর প্রতি মানুষের গভীর আস্থাই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী ও দক্ষ জনশক্তিকে দেশটির দিকে আকৃষ্ট করছে। এই আস্থার ফলেই প্রযুক্তি, পুঁজি ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, বর্তমান বিশ্বে আস্থা অত্যন্ত দুর্লভ হয়ে উঠেছে। আর কোনো কিছু যত বেশি দুর্লভ হয়, তার মূল্যও তত বাড়ে। তার মতে, একটি দেশ যদি এই আস্থা হারায়, তাহলে জাতীয় জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদও হারিয়ে ফেলবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার প্রসঙ্গও চিঠিতে তুলে ধরেছেন শেখ মোহাম্মদ। তিনি ২০২৬ সালের ‘এডেলম্যান ট্রাস্ট বারোমিটার’-এর তথ্য উল্লেখ করে বলেন, জরিপে অংশ নেওয়া ২৮টি দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের গড় আস্থা ৫৩ শতাংশ। অন্যদিকে, ওইসিডির ৩০টি দেশের আরেক জরিপে মাত্র ৩৯ শতাংশ নাগরিক নিজ দেশের সরকারের ওপর উচ্চ বা মাঝারি মাত্রার আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন। তবে এডেলম্যান ট্রাস্ট সূচকে ইউএই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। আস্থার গুরুত্ব বোঝাতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বছর আগের কনফুসিয়াসের একটি বক্তব্যও উদ্ধৃত করেন দুবাই শাসক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজন খাদ্য, অস্ত্র ও জনগণের আস্থা। কোনো একটি ত্যাগ করতে হলে অস্ত্র ও পরে খাদ্য ত্যাগ করা যেতে পারে; কিন্তু আস্থা ছাড়া রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না। শেখ মোহাম্মদের মতে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি শুধু পরিসংখ্যান বা অর্থনৈতিক সূচক নয়; এর শুরু মানুষের মনস্তত্ত্ব থেকে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হলে বাজারে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। একইভাবে, মানুষ তখনই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে, যখন তারা মনে করে আইন সবার জন্য সমান। সংকটের সময়ও জনগণ সরকারের নির্দেশ মেনে চলে, যখন তাদের বিশ্বাস থাকে যে সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই কাজ করছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকেই আস্থা তৈরি হয়—এমন ধারণাকেও ভুল বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বরং তার বক্তব্য, আস্থাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি করে। চিঠিতে একটি সাম্প্রতিক ঘটনার কথাও তুলে ধরেন শেখ মোহাম্মদ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সময় একটি বড় দেশের সরকারের এক প্রতিনিধি অভিযোগ করেছিলেন, নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে পাঠানো বিমানগুলো খালি ফিরে এসেছে। যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেও শত শত প্রবাসী পরিবার নিজ দেশে না ফিরে আমিরাতে নিরাপদে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। শেখ মোহাম্মদের মতে, এর পেছনে ছিল গত ৫০ বছরে আমিরাত সরকারের গড়ে তোলা দীর্ঘস্থায়ী আস্থা। চিঠির শেষদিকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে শেখ মোহাম্মদ বলেন, আসল গল্প কোনো সম্পদের নয়; বরং মানসিকতার। যে মানসিকতা নিয়ে মানুষ জীবনযাপন করে এবং যে মানসিকতা দিয়ে একটি দেশ পরিচালিত হয়, শেষ পর্যন্ত সেই আস্থাই একটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। সূত্র : গালফ নিউজ।

কোডিং ছাড়াই এআই দিয়ে গেম তৈরি করা যাবে গুগলের প্লেগ্রাউন্ড প্ল্যাটফর্মে

নিজেদের পছন্দের গেম তৈরি করতে প্রোগ্রামিং জানা বা জটিল সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে না আর। নিজের পছন্দের গেমটি কেমন হবে, তা সাধারণ ভাষায় লিখে জানালেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে গেম তৈরি করে দেবে গুগল ল্যাবসের তৈরি ‘প্লেগ্রাউন্ড’। প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে গেম তৈরির পাশাপাশি সেগুলো খেলা ও অন্যদের সঙ্গে শেয়ারও করা যাবে বলে জানিয়েছে গুগল। গুগলের তথ্যমতে, গেম তৈরিতে আগ্রহী, কিন্তু প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষ নন, এমন ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে প্লেগ্রাউন্ড প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। প্ল্যাটফর্মে কোড লেখার পরিবর্তে টেক্সট নির্দেশনার মাধ্যমে গেম তৈরি করা যাবে। পরে চ্যাটের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়েই গেমের বিভিন্ন উপাদান ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আনার সুযোগ মিলবে। গুগল প্লেগ্রাউন্ডে গেম তৈরির কাজ শুরু করা যাবে একেবারে খালি ক্যানভাস থেকে। চাইলে প্ল্যাটফর্মে দেওয়া নমুনা নির্দেশনাও ব্যবহার করা যাবে। গেম তৈরির পর এর খেলার নিয়ম, চরিত্র, গতিবিধি ও পরিবেশে পরিবর্তন আনার জন্য নতুন নির্দেশনা দেওয়া যাবে। পরিবর্তনগুলো সরাসরি ওয়েব ব্রাউজারেই পরীক্ষা করে দেখা যাবে। প্রথমবার গেম তৈরির পর কোনো অংশে পরিবর্তন আনতে চাইলে নতুন করে শুরু করার প্রয়োজন নেই। গেমের কোন অংশে কী পরিবর্তন দরকার, তা লিখে জানালেই হবে। এভাবে ধাপে ধাপে নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করা কিংবা বিদ্যমান উপাদানগুলো নিজের পছন্দ অনুযায়ী সাজিয়ে নেওয়া যাবে। প্লেগ্রাউন্ডে তৈরি গেম সরাসরি ওয়েব ব্রাউজারে খেলা যাবে। ফলে স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের মতো বিভিন্ন যন্ত্র থেকে এসব গেম খেলার সুযোগ মিলবে। তৈরি করা গেম ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণ করা, লিংকের মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা কিংবা প্লেগ্রাউন্ডের ‘এক্সপ্লোর’ গ্যালারিতে প্রকাশ করা যাবে। তবে গেমের ধরন অনুযায়ী এসব সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ ভিন্ন হতে পারে। গুগল জানিয়েছে, প্রচলিত গেম তৈরির সফটওয়্যারের বিকল্প হিসেবে প্লেগ্রাউন্ড তৈরি করা হয়নি। প্ল্যাটফর্মটিতে গেম তৈরির সুবিধা ব্যবহার করতে গুগল ওয়ান মেম্বারশিপ প্রয়োজন হবে। পর্যায়ক্রমে প্ল্যাটফর্মটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। গেম তৈরির সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিটির সঙ্গেও কাজ করছে গুগল। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্লেগ্রাউন্ডের সঙ্গে ইউনিটি স্পার্কের সংযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সূত্র: নিউজ ১৮

কোডিং ছাড়াই এআই দিয়ে গেম তৈরি করা যাবে গুগলের প্লেগ্রাউন্ড প্ল্যাটফর্মে

এআই দিয়ে গান বানিয়ে বট দিয়ে ৮০ লাখ ডলারের স্ট্রিমিং জালিয়াতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় বট ব্যবহার করে গান স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে ৮০ লাখ ডলারের বেশি রয়্যালটি হাতিয়ে নেওয়ার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তিকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সংগীত স্ট্রিমিং জালিয়াতির ঘটনায় এটি দেশটির প্রথম কোনো ফৌজদারি দণ্ডের ঘটনা বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম বিলবোর্ড। বুধবার (৭ অক্টোবর) স্কাই নিউজ জানায়, নর্থ ক্যারোলিনার ৫৪ বছর বয়সী মাইকেল স্মিথ নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে প্রতারণার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ৮০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার নথি অনুযায়ী—স্মিথ এআই ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক গান তৈরি করে স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিকসহ বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে আপলোড করেন। এরপর বট ব্যবহার করে তাঁর গানগুলো কোটি কোটি বার স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ট্রিম করানো হয়। এর মাধ্যমে প্রকৃত শ্রোতা ছাড়াই তিনি বিপুল পরিমাণ রয়্যালটি আয় করেন। সাধারণত একজন শিল্পী একটি গান স্ট্রিম হলে প্রায় ০.০০৩ থেকে ০.০০৫ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন। স্মিথের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন, তাঁর কর্মকাণ্ডে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বাস্তবিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হননি। তবে সরকারি কৌঁসুলিরা বলেন, স্মিথ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পুরো রয়্যালটি ব্যবস্থাকেই প্রতারণার মাধ্যমে শোষণ করেছেন। প্রসিকিউটর জেমি ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ভোক্তাদের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় বট এবং সৃজনশীলতার পরিবর্তে ভুয়া গান ব্যবহার করে স্মিথ প্রকৃত শিল্পী ও তাঁদের ভক্তদের প্রাপ্য রয়্যালটির কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন। ২০২৪ সালে স্মিথের বিরুদ্ধে স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বট দিয়ে গান স্ট্রিম করানোর অভিযোগে তিনটি ধারায় মামলা হয়। তিনি শেষ পর্যন্ত ওয়্যার ফ্রড ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। সংগীতশিল্পে স্ট্রিমিং জালিয়াতি দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও এআইয়ের ব্যবহার এ সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফরাসি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ডিজার জানিয়েছে, চলতি বছরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯০ হাজার এআই-নির্মিত গান তাদের প্ল্যাটফর্মে আপলোড হচ্ছে। মিউজিক শিল্পের সংগঠন রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা বলেছে, স্ট্রিমিং জালিয়াতি শিল্পীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ভক্তদেরও বিভ্রান্ত করে। শিল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এ ধরনের জালিয়াতির কারণে বিশ্বব্যাপী সংগীতশিল্পে বছরে ২২০ কোটি ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে।

এআই দিয়ে গান বানিয়ে বট দিয়ে ৮০ লাখ ডলারের স্ট্রিমিং জালিয়াতি
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream