ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
১২ বছর পর খুলল চীন-কোরিয়াকে সংযুক্তকারী সেতু

১২ বছর পর খুলল চীন-কোরিয়াকে সংযুক্তকারী সেতু

চীন ও উত্তর কোরিয়াকে সংযুক্তকারী একটি সেতু দীর্ঘ ১২ বছর পর খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে সেতুটি চালু হলো। চীন উত্তর কোরিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির কারণে দেশটির ওপর আরোপিত কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে চীন তাদের জন্য একটি জীবনরেখা হিসেবে কাজ করছে। ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ চীনের সীমান্ত শহর দানদং থেকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের প্রধান স্থলপথ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে সেতুটি চালু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বেইজিংয়ের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কের অবনতি ঘটলে উত্তর কোরিয়া তাদের অংশে অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করে দেয়। ফলে সেতুটির চালু হওয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেন, এই সেতুটি ‘চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের একটি নতুন প্রতীক’। তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে দুই দেশ তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘একটি নতুন অধ্যায়’ উন্মোচন করছে। ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ কয়েক দশক পুরনো চীন-কোরিয়া মৈত্রী সেতুর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। পুরনো সেতুটি ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সালের মধ্যে নির্মাণ করেছিল জাপান। আরও পড়ুনআরও পড়ুনইসরাইলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে বাংলাদেশের ওয়াকআউট চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বুধবার বলেন, নতুন সেতুটি দুই দেশের মধ্যে ‘যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম’। তিনি বলেন, এই পথটি ‘বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদানকে আরও সহজ করবে’। গত বছর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২.৭ বিলিয়ন ডলার, যার বেশির ভাগ রপ্তানিই করেছিল চীন। তবে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর থাকায়, সীমান্ত দিয়ে হঠাৎ করেই বাণিজ্যের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন হানকুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের চীনা অধ্যয়ন বিষয়ক অধ্যাপক কাং জুন-ইয়ং। তিনি বলেন, ‘পিয়ংইয়ং নিজেও চীনা পণ্যের হঠাৎ বড় ধরনের আমদানি নিয়ে সতর্ক; কারণ এতে তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে চীনের প্রভাব অনেক বেড়ে যেতে পারে। চীনও এই উদ্বেগের বিষয়টি ভালোভাবেই জানে, তাই বাণিজ্য ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’ বেইজিং ও পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিনের মিত্র। তাদের মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে—এটিই একমাত্র দেশ যার সঙ্গে চীনের এমন কোনো চুক্তি আছে। তবে এই মিত্রতায় যে কোনো টানাপোড়েন নেই, তা কিন্তু নয়। ২০১০-এর দশকের বড় একটি সময়জুড়ে দুই দেশের সম্পর্ক ছিল বেশ শীতল; কারণ পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির বিষয়ে বেইজিংয়ের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছিল। ২০১৭ সালে কিম জং উন একটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালান এবং এরপর থেকে নিষিদ্ধ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও বাড়িয়ে দেন। এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে তাদের সামরিক জোটকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। তবে ইদানীং চীনের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এডওয়ার্ড হাওয়েল বলেন, ‘মাত্র এক দশক আগেও বেইজিং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিকীকরণের কঠোর সমালোচনা করত, এমনকি পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের আহ্বানও জানিয়েছিল। কিন্তু এখন চীন এ বিষয়ে প্রায় কিছুই বলছে না।’ সূত্র: বিবিসি

১২ বছর অপেক্ষার পর চালু হলো চীন-উত্তর কোরিয়া সংযোগ সেতু

অবশেষে ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উন্মুক্ত করা হলো চীন ও উত্তর কোরিয়াকে যুক্তকারী বহুল প্রতীক্ষিত সড়ক সেতু ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে সেতুটি চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদং থেকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু পর্যন্ত বিস্তৃত ৩ কিলোমিটার (১.৯ মাইল) দীর্ঘ সেতুটি চালু হওয়ায় এটি দুই দেশের প্রধান স্থল বাণিজ্য রুটে পরিণত হতে যাচ্ছে। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেতুটি প্রথম ২০১৪ সালে উদ্বোধনের কথা ছিল। তবে উত্তর কোরিয়া তাদের অংশের সড়ক ও কাস্টমস অবকাঠামো নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি বেইজিংয়ের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এতে করে সেতুটির কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেন, ‘সেতুটি চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে এক নতুন মাইলফলক। এর মাধ্যমে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করছে।’ সেতুটি মূলত ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে জাপানি সাম্রাজ্যের সময়ে নির্মিত বহু পুরোনো ‘সিনো-কোরিয়ান ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’-এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সীমান্ত বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গত বছর উত্তর কোরিয়া ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বেড়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা মহামারিপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়। তবে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় সেতু চালুর পরও সীমান্ত বাণিজ্যে আকস্মিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সাউথ কোরিয়ার হানকুক ইউনিভার্সিটির চীনা বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কাং জুন-ইয়ং বিবিসিকে জানান, বেইজিংয়ের পণ্য যেন নিজ দেশের বাজারে একচ্ছত্র প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে উত্তর কোরিয়াও সতর্ক। তাই বাণিজ্য ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। দীর্ঘদিনের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কে গত এক দশকে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই আঞ্চলিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়াও তাদের প্রথম সড়ক সেতু উদ্বোধন করেছে। ফলে পিয়ংইয়ংকে মস্কোর দিকে ঝুঁকে পড়া ঠেকাতে ও নিজস্ব প্রভাব ধরে রাখতে বেইজিং সম্পর্ক জোরদারে গতি এনেছে। চলতি বছরের মার্চে বেইজিং-পিয়ংইয়ং ফ্লাইট ও যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালু করা হয় এবং গত জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উত্তর কোরিয়া সফর করে কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিফ-এরিক ইজলি বলেন, ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজের সূচনা এটিই প্রমাণ করে যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি ঘটছে। জুন মাসে সি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর কেবলই আনুষ্ঠানিকতা ছিল না।’

১২ বছর অপেক্ষার পর চালু হলো চীন-উত্তর কোরিয়া সংযোগ সেতু
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream