ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
পেনাংয়ের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার

পেনাংয়ের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার

পেনাংয়ের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজারবাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়ার বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়া কক্সবাজার ও মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ তথ্য জানিয়েছেন।তবে কক্সবাজার-পেনাং রুটে ঠিক কবে থেকে ফ্লাইট চালু হবে এবং সপ্তাহে কতটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। ফলে আপাতত এটি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের একটি পরিকল্পনা হিসেবে রয়েছে।আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কক্সবাজারসরকার কক্সবাজারকে শুধু দেশীয় পর্যটকদের গন্তব্য হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এ লক্ষ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর জন্য বিভিন্ন বিদেশি এয়ারলাইনসকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মন্ত্রী জানিয়েছেন, এয়ার এশিয়ার পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাকেও কক্সবাজারে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে দেশের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে আঞ্চলিক পর্যটন যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।নেপাল ও চীনের সঙ্গে নতুন রুটের উদ্যোগকক্সবাজার-পেনাং রুটের পাশাপাশি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর সঙ্গেও সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের সঙ্গে কক্সবাজারের সরাসরি আকাশপথ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।সরকারের প্রত্যাশা, এসব রুট চালু হলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে কক্সবাজারে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে। বিশেষ করে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে পর্যটক আকর্ষণের ক্ষেত্রে কুনমিং রুটকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটকদেরও নজরে রাখা হচ্ছেআন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের কক্সবাজারে আসার সময় ও যাতায়াতের জটিলতা কমতে পারে।বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে এর প্রভাব শুধু হোটেল ও পর্যটনকেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন, রেস্তোরাঁ, ট্যুর অপারেটর, বিনোদন এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবসাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রস্তুতিকক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের আওতায় আনতে বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও এগিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে বিদেশি এয়ারলাইনসকে সরাসরি এখানে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি করা হবে। এ মাসেই বিমানবন্দরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী।বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধা রাখার পাশাপাশি যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।বাড়ানো হয়েছে রানওয়ের সক্ষমতাকক্সবাজার বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো রানওয়ে সম্প্রসারণ। বঙ্গোপসাগর থেকে ভূমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে রানওয়ের দৈর্ঘ্য বাড়ানো হয়েছে, যাতে তুলনামূলক বড় উড়োজাহাজ পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়।নতুন অবকাঠামোর মাধ্যমে বিমানবন্দরটির যাত্রী পরিচালনা সক্ষমতাও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে এই অতিরিক্ত সক্ষমতা পর্যটন মৌসুমে যাত্রী চাপ সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।পর্যটনে নতুন সম্ভাবনাকক্সবাজার-পেনাং সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পর্যটন যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। একই সঙ্গে কাঠমান্ডু, কুনমিং ও মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য রুটগুলো চালু হলে কক্সবাজারের সঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারের সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে।তবে এসব রুট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ফ্লাইট পরিচালনার তারিখ, ফ্রিকোয়েন্সি, বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসহ বেশ কিছু বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এয়ার এশিয়ার পেনাং রুটের ঘোষণা তাই কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream