ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি, আদালত ফি কম ২২০ রুপি

রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি, আদালত ফি কম ২২০ রুপি

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার (ইন্ডিয়া ব্লক) একাধিক নেতার দায়ের করা যৌথ আবেদনে ১৪টি ত্রুটি পেয়েছে আদালতের রেজিস্ট্রি অফিস। এর মধ্যে রয়েছে আদালত ফি বাবদ ২২০ রুপি কম জমা দেওয়া, নয়জন আবেদনকারীর অনুমোদনপত্র না থাকা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের অস্পষ্ট ফটোকপি জমা দেওয়া।  সোমবার এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। নির্বাচনী অনিয়ম ও ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এ আবেদন করা হয়। একই দিন দিল্লির কেন্দ্রস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল করেন। বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান। আদালতের রেজিস্ট্রি আবেদনে বেশ কয়েকটি ত্রুটি চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় কিছু ‘ওকালাতনামা’ বা আইনজীবী নিয়োগের লিখিত অনুমোদনপত্র জমা না দেওয়া, খাড়গের পরিচয়পত্রের স্পষ্ট কপি না থাকা, নথির ফন্ট ছোট হওয়া এবং দুটি নির্দিষ্ট নথির রঙিন কপি জমা না দেওয়ার বিষয় রয়েছে। এ ছাড়া কিছু নথির লেখা অস্পষ্ট বা পড়ার অনুপযোগী, কয়েকটি পৃষ্ঠা অনুপস্থিত, আঞ্চলিক ভাষায় লেখা পৃষ্ঠা নিয়ে সমস্যা এবং পৃষ্ঠার নম্বরের অসংগতিও পেয়েছে রেজিস্ট্রি। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সুগত রায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত, সিপিআই নেতা ডি রাজা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাঝি, সিপিআইএমের এম এ বেবি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের নেতা ই টি মোহাম্মদ বশির। আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই), প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশিকে। আদালতের রেজিস্ট্রির চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধন করার পরই আবেদনটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারে। আবেদনে ১০ দফা দাবি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ‘রাহুল গান্ধী বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন’ শিরোনামে আবেদনটি তালিকাভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। সংবাদমাধ্যমটি আবেদনের বিস্তারিত তথ্যও হাতে পেয়েছে। আবেদনে এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনের নেওয়া অন্যান্য সিদ্ধান্তের বিষয়ে ১০ ধরনের প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এসআইআর-সংক্রান্ত সব নথি ও রেকর্ড আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ, এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা পরীক্ষা, দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আবেদনকারীদের অভিযোগের প্রতিকার নিশ্চিত করা। এ ছাড়া পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় একটি স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে নিরীক্ষা চালানোর দাবিও জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা। সোমবার দিল্লিতে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিরোধী নেতারা মিছিল করেন। এ সময় কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, ইমরান প্রতাপগড়ি ও দীপেন্দর সিং হুডা, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবসহ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন। তাদের একটি অংশ বাসে করে সুপ্রিম কোর্টের দিকে যান। বিকেলে রাহুল গান্ধী সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছানোর আগে কংগ্রেসের আইনজীবী দল আদালতে আবেদনটি জমা দেয়। এর আগে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় বিরোধী জোট। বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কথিত ভোট চুরির অভিযোগ তুলে একটি স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, এসআইআর বন্ধ এবং কাগজের ব্যালটে ভোট গ্রহণ পুনরায় চালুর দাবিও জানাতে চেয়েছিলেন তাঁরা। তবে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন থাকায় প্রধান বিচারপতি তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি। এর আগে বিরোধী নেতারা কীভাবে তাঁদের অভিযোগ আদালতের কাছে তুলে ধরতে পারেন—এমন প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেছিলেন, সাধারণ নাগরিক হোক কিংবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সবার জন্যই সুপ্রিম কোর্টের দরজা খোলা।

দিল্লিতে রাহুলের পদযাত্রায় নজর কাড়লো ‘ব্যাটম্যান’ মাস্ক

সাধারণত কাল্পনিক শহর গোথাম-এর সুরক্ষায় ব্যাটম্যানকে দেখা গেলেও এবার ভারতের রাজনীতিতে দেখা মিললো তার মাস্কের। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের ‘চলো দিল্লি’ পদযাত্রায় হঠাৎই নজর কেড়েছে ব্যাটম্যানের মাস্ক। সুপ্রিম কোর্টের দিকে বিরোধীদের পদযাত্রা চলাকালে যুব কংগ্রেসের কর্মীরা অংশ নেওয়া নেতাদের মাঝে ব্যাটম্যানের মাস্ক বিতরণ করেন। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী নিজেও একটি মাস্ক হাতে ছবি তোলেন। ছবিটি এনএসইউআই তাদের এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছে: ‘ব্যাটম্যান মোড: অন; জ্ঞানেশ তো গেলো। এ ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও একটি মাস্ক পরেছেন, যা পরতে তাকে সরাসরি সাহায্য করেন রাহুল গান্ধী। রাজনৈতিক লড়াই ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীকে একজন ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করতেই কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া টিম দীর্ঘদিন ধরে এই ‘ব্যাটম্যান’ থিম ব্যবহার করে আসছে। এমনকি রাজপথের এই পদযাত্রায় অংশ নেওয়া এক সমর্থক বলেন, ভারতকে শয়তানের বিরুদ্ধে লড়তে রাহুল গান্ধী নামের এক ব্যাটম্যান দরকার। বাস্তব ও কাল্পনিক চরিত্রের মধ্যে তুলনার সীমাবদ্ধতা থাকলেও কিছু সমর্থকের মতে এর পেছনে একটি পারিবারিক মিল রয়েছে। ১৯৯১ সালে রাহুল গান্ধীর বাবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী আততায়ীর হাতে নিহত হন। অন্যদিকে কাল্পনিক ব্যাটম্যান বা ব্রুস ওয়েন ছোটবেলায় তার বাবা-মায়ের হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তাকে অপরাধ দমনে অনুপ্রেরণা জোগায়। চলতি বছরের আগস্টে এক ইনস্টাগ্রাম ‘আস্ক মি এনিথিং’ সেশনে রাহুল গান্ধীকে পরিহাস করে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তিনি ব্যাটম্যান কি না। জবাবে রাহুল রসিকতা করে বলেছিলেন, শুধু এটুকুই বলি, আমাকে এবং ব্যাটম্যানকে কখনও কেউ একই ঘরে একসঙ্গে দেখেনি। পরবর্তীতে এই ঠাট্টাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় কংগ্রেস। একটি ১৩ সেকেন্ডের ইনস্টাগ্রাম রিলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রায় সাদা পোলো শার্ট ও খাকি প্যান্ট পরা রাহুলের হলুদ ব্যারিকেডে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্যকে ব্যাটম্যানের উঁচু ভবনে দাঁড়িয়ে গোথাম শহর পাহারা দেওয়ার দৃশ্যের সঙ্গে মেলানো হয়। এর আগে দিল্লির রাস্তায় কংগ্রেস সদর দফতর ইন্দিরা ভবনের কাছে ও মধ্য দিল্লিতেও রাহুলের ছবিসংবলিত ব্যাটম্যানের পোস্টার দেখা গিয়েছিল। যেখানে তাকে ‘দ্য সাইলেন্ট গার্ডিয়ান’ এবং ‘অ্যা ওয়াচফুল প্রটেক্টর’ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়। তবে পোস্টার আর রিলসের সীমানা পেরিয়ে এবার খোদ পদযাত্রার রাজপথ ও খাড়গের মাস্ক পরার মধ্য দিয়ে এই তুলনা নতুন মাত্রা পেলো। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

দিল্লিতে রাহুলের পদযাত্রায় নজর কাড়লো ‘ব্যাটম্যান’ মাস্ক

জ্ঞানেশের পর প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহের পালা, আমরা থামব না: সুপ্রিম কোর্টমুখী মিছিলে রাহুল

ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আজ সোমবার বিরোধী দলের নেতারা আবেদন করেছেন। একই দাবিতে আজ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কয়েক হাজার মানুষ সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল করেন। রাহুলের সঙ্গে অন্যদের মধ্যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাও ছিলেন। তাঁরা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ও তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব। আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রক্রিয়াটিতে নানা অনিয়ম হয়েছে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে মিছিলটি তিলক মার্গ হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে যাচ্ছিল। তবে ভগবান দাস রোডে পুলিশ মিছিলকারীদের বাধা দেয়। ফলে মিছিলটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। হাজারো মানুষ তখনো ভগবান দাস রোড ও আশপাশ এলাকায় অবস্থান করছিলেন। মিছিল শুরুর আগে সাংবাদিকদের রাহুল গান্ধী বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আলাদা কোনো আন্দোলন হচ্ছে না। রাহুলের ভাষায়, ‘আলাদা কোনো প্রতিবাদ নেই। জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর জন্য একটিই প্রতিবাদ চলছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী, অমিত শাহের পালা। আমরা থামব না।’ কংগ্রেসের এ নেতা অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের চাপে কাজ করছেন। গতকাল রোববার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লি পুলিশের কাছে চিঠি দেন। ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য নতুন একটি তারিখ চেয়েছিলেন তাঁরা। দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের জন্য বিকল্প তিনটি স্থান নির্ধারণ করে। এগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড। আজ সোমবার কংগ্রেসের বিক্ষোভের আগে দিল্লির ছয়টি মেট্রোস্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বিকেল চারটা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্টেশনগুলো হলো জনপথ, মান্ডি হাউস, বারাখাম্বা রোড, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক ও প্যাটেল চক। দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন জানিয়েছে, এসব স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ বা এক লাইন থেকে অন্য লাইনে ট্রেন বদলের সুবিধা চালু ছিল। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিল নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। গতকাল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে দিল্লির মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা এবং ইন্টারনেট সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে তা সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদে জনশৃঙ্খলা রক্ষার যে বিধান রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

জ্ঞানেশের পর প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহের পালা, আমরা থামব না: সুপ্রিম কোর্টমুখী মিছিলে রাহুল

ইন্ডিয়া জোটের পদযাত্রায় দিল্লির রাজপথে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী

নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জমায়েত হয়েছেন।  বিরোধীদের জোট ‘ইন্ডিয়া’-র ব্যানারে আয়োজিত ‘চলো দিল্লি-মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে বিরোধী নেতারা ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে এক প্রতিবাদ পদযাত্রায় অংশ নেন। সোমবার দুপুরে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে একটি বাসে চেপে যাত্রা শুরু করেন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, খড়্গেরা। সঙ্গে ছিলেন নেহাও। বারাখম্বার কাছে বাস থেকে নেমে যান তারা। তার পরে ভিড়ের সঙ্গে হাঁটতে থাকেন। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুরো রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কনট প্লেস ও মান্ডি হাউসের মধ্যবর্তী সড়কে সাধারণ মানুষ ও প্রতিবাদকারীদের ঢল নামে।  বিরোধীরা জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে ভারতের প্রধান বিচারপতির (সিজেআই) সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সোমবার সুপ্রিম কোর্টে একটি আনুষ্ঠানিক পিটিশন জমা দেবেন। কংগ্রেস সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানান, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন, সংবিধান সুরক্ষা এবং নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, পদত্যাগ করুন, অপরাধ স্বীকার করে অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হন; আপনি ভুল করেছেন, তবে এই ভুলের পেছনের মূল মগজ আপনি নন। আরও পড়ুনআরও পড়ুনদিল্লির পর কলকাতার রাজপথে মমতা তিনি আরও দাবি করেন যে, এসব অভিযোগের কারণে জ্ঞানেশ কুমার চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন। রাহুল গান্ধী বলেন, আমরা জানি জ্ঞানেশ কুমার রাতে ঘুমাতে পারছেন না; আমি তাকে সরাসরি বলছি, আপনি সিইসি হিসেবে টিকে থাকতে পারবেন না। এদিকে লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর ডাকা এই পদযাত্রাকে সামনে রেখে সোমবার (১২ অক্টোবর) টানা তৃতীয় দিনের মতো দিল্লিতে হাজার হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।  ধাতব ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

ইন্ডিয়া জোটের পদযাত্রায় দিল্লির রাজপথে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream