ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
জাপানে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আভাস

জাপানে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আভাস

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে বৃদ্ধি হওয়া জ্বালানির দাম পরিবারগুলোর ওপর পড়ায় সেপ্টেম্বরে জাপানের মূল ভোক্তা মূল্যস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। শুক্রবার প্রকাশিত রয়টার্সের এক জরিপে এ ইঙ্গিত মিলেছে। জ্বালানিযুক্ত কিন্তু তাজা খাদ্যপণ্য বাদ দিয়ে হিসাব করা দেশব্যাপী মূল ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে বলে ১৫ অর্থনীতিবিদের জরিপে প্রত্যাশা করা হয়েছে। আগস্টে এটি ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ। এটি সত্য হলে ডিসেম্বরের পর এই প্রথম মূল মূল্যস্ফীতি ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে উঠবে। মিজুহো সিকিউরিটিজের বাজার অর্থনীতিবিদ রিওসুকে কাতাগি বলেন, ইরানের পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে চাল বাদে অন্যান্য খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামের বৃদ্ধি বাড়বে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত আলাদা তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে জাপানের পাইকারি মূল্যস্ফীতি বার্ষিক ভিত্তিতে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। আগের মাসের তুলনায় এটি কম হলেও মূল্যচাপ অব্যাহত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে, যা বিওজের সুদের হার শিগগির আবার বাড়ানোর বাজার-প্রত্যাশাকে উসকে দিচ্ছে। এ মাসেই বিওজে ইঙ্গিত দিতে পারে, মৌলিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ২ শতাংশ লক্ষ্যে পৌঁছেছে, যা আগামী কয়েক মাসে আবার সুদের হার বাড়াতে তাদের প্রস্তুতির কথাই তুলে ধরবে। তবে ২৯-৩০ অক্টোবরের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে আবার হার বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনেকেই সতর্ক।

১২ বছর অপেক্ষার পর চালু হলো চীন-উত্তর কোরিয়া সংযোগ সেতু

অবশেষে ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উন্মুক্ত করা হলো চীন ও উত্তর কোরিয়াকে যুক্তকারী বহুল প্রতীক্ষিত সড়ক সেতু ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে সেতুটি চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদং থেকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু পর্যন্ত বিস্তৃত ৩ কিলোমিটার (১.৯ মাইল) দীর্ঘ সেতুটি চালু হওয়ায় এটি দুই দেশের প্রধান স্থল বাণিজ্য রুটে পরিণত হতে যাচ্ছে। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেতুটি প্রথম ২০১৪ সালে উদ্বোধনের কথা ছিল। তবে উত্তর কোরিয়া তাদের অংশের সড়ক ও কাস্টমস অবকাঠামো নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি বেইজিংয়ের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এতে করে সেতুটির কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেন, ‘সেতুটি চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে এক নতুন মাইলফলক। এর মাধ্যমে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করছে।’ সেতুটি মূলত ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে জাপানি সাম্রাজ্যের সময়ে নির্মিত বহু পুরোনো ‘সিনো-কোরিয়ান ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’-এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সীমান্ত বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গত বছর উত্তর কোরিয়া ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বেড়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা মহামারিপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়। তবে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় সেতু চালুর পরও সীমান্ত বাণিজ্যে আকস্মিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সাউথ কোরিয়ার হানকুক ইউনিভার্সিটির চীনা বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কাং জুন-ইয়ং বিবিসিকে জানান, বেইজিংয়ের পণ্য যেন নিজ দেশের বাজারে একচ্ছত্র প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে উত্তর কোরিয়াও সতর্ক। তাই বাণিজ্য ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। দীর্ঘদিনের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কে গত এক দশকে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই আঞ্চলিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়াও তাদের প্রথম সড়ক সেতু উদ্বোধন করেছে। ফলে পিয়ংইয়ংকে মস্কোর দিকে ঝুঁকে পড়া ঠেকাতে ও নিজস্ব প্রভাব ধরে রাখতে বেইজিং সম্পর্ক জোরদারে গতি এনেছে। চলতি বছরের মার্চে বেইজিং-পিয়ংইয়ং ফ্লাইট ও যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালু করা হয় এবং গত জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উত্তর কোরিয়া সফর করে কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিফ-এরিক ইজলি বলেন, ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজের সূচনা এটিই প্রমাণ করে যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি ঘটছে। জুন মাসে সি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর কেবলই আনুষ্ঠানিকতা ছিল না।’

১২ বছর অপেক্ষার পর চালু হলো চীন-উত্তর কোরিয়া সংযোগ সেতু

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে মৃত্যু বেড়ে ২৮

পাকিস্তানের পেশোয়ারের আফ্রিদিাবাদ এলাকায় আল-খাইর নামের একটি বেসরকারি স্কুলের ভবন ধসে নিহতে সংখ্যা বেড়ে ২৭ জন শিক্ষার্থী এবং ১ জন শিক্ষিকাসহ অন্তত ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ডনের এক প্রতিবেদনে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম ডনকে নিশ্চিত করেছেন, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে পৌঁছেছে এবং ১৯ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরপরই হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির জিও নিউজকে জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে সবাইকে বের করে আনা হয়েছে। ক্যাপিটাল সিটি পুলিশ অফিসার ড. মিয়ান সাইদ আহমেদ জানান, দুর্বল কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্মাণের কারণে দোতলা ভবনটির ছাদ ধসে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6ad0947335aff" ) ); এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি। নেতৃবৃন্দ আহতদের উন্নত চিকিৎসা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা মান জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তানে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও দুর্বল অবকাঠামোগত নিরাপত্তার কারণে প্রায়শই এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। চলতি বছরেই লাহোর, উমরকোট, ডেরা গাজী খান ও ইসলামাবাদ সহ বিভিন্ন স্থানে স্কুল ও ভবনের ছাদ ধসে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সূত্র: ডন

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে মৃত্যু বেড়ে ২৮

দিল্লিতে আটক সিজেপি নেতারা কারাগারে

ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির অনুমোদিত প্রতিবাদ স্থলের তালিকা থেকে সদ্য বাদ পড়া যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের অপরাধে অনাধিকার প্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) দুই শীর্ষ নেতাকে পাঁচ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার ভারতীয় গণমাধ্যম পিটিআই ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, আটক হওয়া সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কাকে দিল্লির বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান। তবে তাদের সঙ্গে আটক হওয়া আরেক সক্রিয়কর্মী অজিঙ্ক শিণ্ডেকে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক ডিঙিয়ে ও ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশের পর পুলিশ দাস, রঙ্কা ও শিণ্ডেকে গ্রেফতার করে। জেন-জি পরিচালিত এ আন্দোলনটি মূলত নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ এবং নির্বাচনি সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে রাজপথে সরব রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা ভোট জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ ক্ষোভ তৈরি হয়, যদিও কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারের পর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এই গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে কাপুরুষোচিত কাজ বলে অভিহিত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ রাহুল লিখেছেন, ছাত্র, যুবক, সাংবাদিক ও ‘ইন্ডিয়া’ জোট;  চিহ্ন ভিন্ন হলেও লক্ষ্য এক। সব প্রতিবাদই মূলত এক: নাগরিকরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার দাবি করছে। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও সিজেপি নেতাদের সমর্থনের হাত বাড়িয়ে এই গ্রেফতারের নিন্দা জানান। আটকের পর দিল্লি অভিমুখে রওয়ানা হওয়া সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, সরকার ভিন্নমত দমন করছে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার চ্যালেঞ্জ জানান। তার এই বক্তব্য ১৯৭০-এর দশকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আমলে আরোপিত জরুরি অবস্থার কথা মনে করিয়ে দেয়। সিজেপির আইনজীবী রত্না সিং অভিযোগ করেন, নেতাদের গ্রেফতারের পর কয়েক ঘণ্টা কোনও আইনি সহায়তার সুযোগ দেওয়া হয়নি। চলতি বছরের মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানির সময় কিছু বেকার যুবকদের ককরোচ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করলে ব্যঙ্গাত্মক এই ককরোচ জনতা পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আন্দোলন থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই প্রেসার গ্রুপটি বড় ধরনের ভূমিকা রেখে আসছে।

দিল্লিতে আটক সিজেপি নেতারা কারাগারে

করাচিতে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি

জনগণের ভোগান্তি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ বন্ধে রবিবার মহানগরী করাচিতে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছেন করাচির কমিশনার। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) এই ধারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে র‍্যালি, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচির মতো জনসমাগম এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেয়। করাচির কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভির জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধান সড়ক, মোড় ও চত্বরে বিক্ষোভ, সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি ও র‍্যালি হওয়ায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সড়ক অবরোধের কারণে নিত্যদিনের জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে, জরুরি সেবার চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং হাসপাতালে যাতায়াত সীমিত হয়ে পড়ছে। তাই করাচি বিভাগের সীমানার মধ্যে বিক্ষোভ, সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি, র‍্যালি এবং পাঁচ জনের বেশি মানুষের জমায়েতে সিআরপিসির ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ ধরনের জমায়েত, র‍্যালি, বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন বা সহায়তায় জনপথ ও সড়ক অবরুদ্ধ হতে পারে, স্বাভাবিক নাগরিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে, সাধারণ মানুষ ভোগান্তি ও যানজটে পড়তে পারে, হাসপাতালে যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এরূপ যুক্তিসংগত আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে, জননিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে, নাগরিকদের জানমাল রক্ষা করতে এবং সাধারণ মানুষ ও অত্যাবশ্যক সেবার নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রতিরোধমূলক বিধিনিষেধ আরোপ প্রয়োজনীয় ও সমীচীন বিবেচিত হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এর ভিত্তিতে ১১ অক্টোবর (রবিবার) থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ জনের বেশি মানুষের বিক্ষোভ, সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি, র‍্যালি, মিছিল বা অন্য যেকোনও জনসমাগম আয়োজন, আহ্বান, সহায়তা ও অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছেন করাচির কমিশনার।

করাচিতে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি

রাহুল গান্ধীদের আবেদনে ১৪ ত্রুটি, সুপ্রিম কোর্টে শুনানি স্থগিত

ভারতের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও কাজের বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ১১ জন শীর্ষ নেতার দায়ের করা রিট আবেদনে ১৪টি ত্রুটি চিহ্নিত করায় সুপ্রিম কোর্টে এর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, আইনজীবী দল সব ভুল সংশোধন করার পর বিষয়টি বুধবার আদালতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছে। রেজিস্ট্রি বিভাগ কর্তৃক চিহ্নিত ভুলগুলোর মধ্যে ২২০০ রুপি কোর্ট ফি কম দেওয়া, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের অস্পষ্ট অনুলিপি এবং ১১ জনের মধ্যে ৯ জন আবেদনকারীর ওকালতনামা জমা না দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যাদের ওকালতনামা বাকি রয়েছে তাদের মধ্যে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব, এনসিপি নেতা সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনার সঞ্জয় রাউত এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায় অন্যতম। আইনজীবী এস প্রসন্নর মাধ্যমে দাখিল করা এই রিট আবেদনে নির্বাচন কমিশন ছাড়াও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীকে বিবাদী করা হয়েছে।  jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6acda67d64d4d" ) ); আবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের জুন মাসে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) পরিচালনার সিদ্ধান্তসহ ১০ মাসে অন্তত ১৪টি ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার বিরুদ্ধে অন্য দুই কমিশনার আপত্তি জানিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনকে একটি যৌথ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করানোর তাগিদ দিয়ে এবং সার্বজনীন ভোটাধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যেই তারা শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে বিরোধী নেতারা উল্লেখ করেন। এর আগে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ নাকচ করে দিয়ে আদালতের মাধ্যমে দ্রুত শুনানির আশ্বাস প্রদান করেছিলেন। সোমবারে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ বা গণতন্ত্রের জন্য পদযাত্রাটি সুপ্রিম কোর্টের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় এবং পরবর্তীতে শীর্ষ নেতারা গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনটি দাখিল করেন। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

রাহুল গান্ধীদের আবেদনে ১৪ ত্রুটি, সুপ্রিম কোর্টে শুনানি স্থগিত

দিল্লিতে রাহুলের পদযাত্রায় নজর কাড়লো ‘ব্যাটম্যান’ মাস্ক

সাধারণত কাল্পনিক শহর গোথাম-এর সুরক্ষায় ব্যাটম্যানকে দেখা গেলেও এবার ভারতের রাজনীতিতে দেখা মিললো তার মাস্কের। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের ‘চলো দিল্লি’ পদযাত্রায় হঠাৎই নজর কেড়েছে ব্যাটম্যানের মাস্ক। সুপ্রিম কোর্টের দিকে বিরোধীদের পদযাত্রা চলাকালে যুব কংগ্রেসের কর্মীরা অংশ নেওয়া নেতাদের মাঝে ব্যাটম্যানের মাস্ক বিতরণ করেন। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী নিজেও একটি মাস্ক হাতে ছবি তোলেন। ছবিটি এনএসইউআই তাদের এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছে: ‘ব্যাটম্যান মোড: অন; জ্ঞানেশ তো গেলো। এ ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও একটি মাস্ক পরেছেন, যা পরতে তাকে সরাসরি সাহায্য করেন রাহুল গান্ধী। রাজনৈতিক লড়াই ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীকে একজন ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করতেই কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া টিম দীর্ঘদিন ধরে এই ‘ব্যাটম্যান’ থিম ব্যবহার করে আসছে। এমনকি রাজপথের এই পদযাত্রায় অংশ নেওয়া এক সমর্থক বলেন, ভারতকে শয়তানের বিরুদ্ধে লড়তে রাহুল গান্ধী নামের এক ব্যাটম্যান দরকার। বাস্তব ও কাল্পনিক চরিত্রের মধ্যে তুলনার সীমাবদ্ধতা থাকলেও কিছু সমর্থকের মতে এর পেছনে একটি পারিবারিক মিল রয়েছে। ১৯৯১ সালে রাহুল গান্ধীর বাবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী আততায়ীর হাতে নিহত হন। অন্যদিকে কাল্পনিক ব্যাটম্যান বা ব্রুস ওয়েন ছোটবেলায় তার বাবা-মায়ের হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তাকে অপরাধ দমনে অনুপ্রেরণা জোগায়। চলতি বছরের আগস্টে এক ইনস্টাগ্রাম ‘আস্ক মি এনিথিং’ সেশনে রাহুল গান্ধীকে পরিহাস করে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তিনি ব্যাটম্যান কি না। জবাবে রাহুল রসিকতা করে বলেছিলেন, শুধু এটুকুই বলি, আমাকে এবং ব্যাটম্যানকে কখনও কেউ একই ঘরে একসঙ্গে দেখেনি। পরবর্তীতে এই ঠাট্টাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় কংগ্রেস। একটি ১৩ সেকেন্ডের ইনস্টাগ্রাম রিলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রায় সাদা পোলো শার্ট ও খাকি প্যান্ট পরা রাহুলের হলুদ ব্যারিকেডে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্যকে ব্যাটম্যানের উঁচু ভবনে দাঁড়িয়ে গোথাম শহর পাহারা দেওয়ার দৃশ্যের সঙ্গে মেলানো হয়। এর আগে দিল্লির রাস্তায় কংগ্রেস সদর দফতর ইন্দিরা ভবনের কাছে ও মধ্য দিল্লিতেও রাহুলের ছবিসংবলিত ব্যাটম্যানের পোস্টার দেখা গিয়েছিল। যেখানে তাকে ‘দ্য সাইলেন্ট গার্ডিয়ান’ এবং ‘অ্যা ওয়াচফুল প্রটেক্টর’ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়। তবে পোস্টার আর রিলসের সীমানা পেরিয়ে এবার খোদ পদযাত্রার রাজপথ ও খাড়গের মাস্ক পরার মধ্য দিয়ে এই তুলনা নতুন মাত্রা পেলো। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

দিল্লিতে রাহুলের পদযাত্রায় নজর কাড়লো ‘ব্যাটম্যান’ মাস্ক

ইয়েমেন কি পাকিস্তানের ‘ভিয়েতনামে’ পরিণত হবে?

১৯৬৭ সালে মিসরের প্রভাবশালী নেতা গামাল আবদেল নাসের কায়রোতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে এক বিস্ময়কর স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি ইয়েমেনে একটি কোম্পানি (প্রায় ২০০ সেনা) পাঠিয়েছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত ৭০ হাজার সেনা পাঠাতে হয়েছিল।’ মিসরীয় যুদ্ধবিমান, ট্যাংক এবং এক-তৃতীয়াংশ সামরিক শক্তি পাঠিয়েও সৌদি সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জয়ী হতে পারেনি মিসর। প্রায় ছয় দশক পর পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে মিসরের সেই ‘ভিয়েতনাম’-এর ইতিহাস নতুন করে পর্যালোচনা করতে হচ্ছে। তার মিত্র সৌদি আরব ১৯৯০ সালে কুয়েত দখলের পর সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি। রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সৌদি তেলের সরবরাহ পঙ্গু করে দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক ঝটিকা অভিযানে লোহিত সাগরের পুরো উপকূল দখল করে বাব আল মানদেব প্রণালিতে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে তারা। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবকে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে ৬ লক্ষাধিক সেনা রয়েছে এবং দুটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে তারা সৌদি আরবকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং চলতি বছরের ৭ আগস্ট তুরস্কসহ স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল শর্ত হলো, ‘একজনের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ সবার ওপর আক্রমণ’ হিসেবে গণ্য হবে। গত ৫ অক্টোবর মক্কা প্যাক্টের অংশীদার তুরস্ক ও পাকিস্তান সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের ৭ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান বিমানবাহিনী হুথিদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান তথ্য মন্ত্রণালয় এই রিপোর্টকে ‘ভুয়া ও বানোয়াট’ বলে আখ্যা দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান জানান, হুমকি পর্যবেক্ষণ করে নিজস্ব ম্যান্ডেট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসিম মুনির নিজেও দেশের ভেতরে মারাত্মক সংকটে রয়েছেন। দেশটিতে দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলছে। ইমরান খানের সমর্থকদের ব্যাপক বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে গত ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সরকার স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান বেঁচে থাকার জন্য আইএমএফের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। রিয়াদের ক্ষমতায় থাকা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়ন হুথিদের হামলায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর জবাবে পার্লামেন্টের অনুমতি ছাড়াই গত ৮ অক্টোবর সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন মুনির। তবে হুথিদের মূল পৃষ্ঠপোষক ইরানকে ক্ষুব্ধ করার ঝুঁকিতে কতজন সেনা পাঠানো হয়েছে তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন যেকোনও হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। আবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে হুথিদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘পাকিস্তান যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তবে তাদের সঙ্গেও সৌদির মতো আচরণ করা হবে।’ হুথিদের কাছে থাকা ২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ‘ফিলিস্তিন-২’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের আওতায় রয়েছে পাকিস্তানের ভূখণ্ড এবং আরব সাগরে পাকিস্তানি পণ্যবাহী জাহাজ। ১৯৬০-এর দশকে মিসরের জনপ্রিয় নেতা নাসেরের ঐতিহ্য ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল উত্তর ইয়েমেনের পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা অপ্রতিরোধ্য গেরিলা যোদ্ধাদের হাতে। ইয়েমেন যুদ্ধে কোটি কোটি ডলার ক্ষয়ক্ষতি ও ১০ হাজারের বেশি সেনা হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে পড়েছিল মিসরের অর্থনীতি। দুর্বল হয়ে পড়া মিসরীয় সামরিক বাহিনী ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েলের কাছে পরাজিত হয়। নাসেরের চেয়েও সাধারণ সামরিক অর্জনের অধিকারী আসিম মুনির ইয়েমেনের এই ইতিহাসের পূর্বাভাসে কান দেবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ইয়েমেন কি পাকিস্তানের ‘ভিয়েতনামে’ পরিণত হবে?

ইয়েমেন কি পাকিস্তানের ‘ভিয়েতনামে’ পরিণত হবে?

১৯৬৭ সালে মিসরের প্রভাবশালী নেতা গামাল আবদেল নাসের কায়রোতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে এক বিস্ময়কর স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি ইয়েমেনে একটি কোম্পানি (প্রায় ২০০ সেনা) পাঠিয়েছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত ৭০ হাজার সেনা পাঠাতে হয়েছিল।’ মিসরীয় যুদ্ধবিমান, ট্যাংক এবং এক-তৃতীয়াংশ সামরিক শক্তি পাঠিয়েও সৌদি সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জয়ী হতে পারেনি মিসর। প্রায় ছয় দশক পর পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে মিসরের সেই ‘ভিয়েতনাম’-এর ইতিহাস নতুন করে পর্যালোচনা করতে হচ্ছে। তার মিত্র সৌদি আরব ১৯৯০ সালে কুয়েত দখলের পর সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি। রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সৌদি তেলের সরবরাহ পঙ্গু করে দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক ঝটিকা অভিযানে লোহিত সাগরের পুরো উপকূল দখল করে বাব আল মানদেব প্রণালিতে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে তারা। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবকে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে ৬ লক্ষাধিক সেনা রয়েছে এবং দুটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে তারা সৌদি আরবকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং চলতি বছরের ৭ আগস্ট তুরস্কসহ স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল শর্ত হলো, ‘একজনের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ সবার ওপর আক্রমণ’ হিসেবে গণ্য হবে। গত ৫ অক্টোবর মক্কা প্যাক্টের অংশীদার তুরস্ক ও পাকিস্তান সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের ৭ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান বিমানবাহিনী হুথিদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান তথ্য মন্ত্রণালয় এই রিপোর্টকে ‘ভুয়া ও বানোয়াট’ বলে আখ্যা দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান জানান, হুমকি পর্যবেক্ষণ করে নিজস্ব ম্যান্ডেট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসিম মুনির নিজেও দেশের ভেতরে মারাত্মক সংকটে রয়েছেন। দেশটিতে দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলছে। ইমরান খানের সমর্থকদের ব্যাপক বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে গত ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সরকার স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান বেঁচে থাকার জন্য আইএমএফের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। রিয়াদের ক্ষমতায় থাকা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়ন হুথিদের হামলায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর জবাবে পার্লামেন্টের অনুমতি ছাড়াই গত ৮ অক্টোবর সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন মুনির। তবে হুথিদের মূল পৃষ্ঠপোষক ইরানকে ক্ষুব্ধ করার ঝুঁকিতে কতজন সেনা পাঠানো হয়েছে তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন যেকোনও হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। আবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে হুথিদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘পাকিস্তান যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তবে তাদের সঙ্গেও সৌদির মতো আচরণ করা হবে।’ হুথিদের কাছে থাকা ২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ‘ফিলিস্তিন-২’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের আওতায় রয়েছে পাকিস্তানের ভূখণ্ড এবং আরব সাগরে পাকিস্তানি পণ্যবাহী জাহাজ। ১৯৬০-এর দশকে মিসরের জনপ্রিয় নেতা নাসেরের ঐতিহ্য ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল উত্তর ইয়েমেনের পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা অপ্রতিরোধ্য গেরিলা যোদ্ধাদের হাতে। ইয়েমেন যুদ্ধে কোটি কোটি ডলার ক্ষয়ক্ষতি ও ১০ হাজারের বেশি সেনা হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে পড়েছিল মিসরের অর্থনীতি। দুর্বল হয়ে পড়া মিসরীয় সামরিক বাহিনী ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েলের কাছে পরাজিত হয়। নাসেরের চেয়েও সাধারণ সামরিক অর্জনের অধিকারী আসিম মুনির ইয়েমেনের এই ইতিহাসের পূর্বাভাসে কান দেবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ইয়েমেন কি পাকিস্তানের ‘ভিয়েতনামে’ পরিণত হবে?

জনগন একদিকে মোদি-শাহ-দোভাল অন্যদিকে: রাহুল গান্ধী

ভারতের জনগণ একদিকে আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অন্যদিকে অবস্থান করছেন বলে মন্তব্য করেছেন রাহুল গান্ধী। সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লির বিক্ষোভ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই কথা জানান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ঘোষণা দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে বেলা ৩টায় ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন দাখিল করা হবে। তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, এই ইস্যুতে দিল্লিতে গত চার-পাঁচ দিন ধরে ‘চলো দিল্লি’ ও ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ নামে সাধারণ মানুষের গণআন্দোলন গড়ে উঠেছে। তিনি পুরো দিল্লিকে অবরুদ্ধ করে রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল ও রক্ষা করার চেষ্টা করছে। রাহুল গান্ধী বলেন, সরকার এই কাজ করে মারাত্মক ভুল করছে, কারণ প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে যত বেশি সুরক্ষা দেওয়া হবে, মূল নিয়ন্ত্রণকারীর সন্ধান তত সহজ হবে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

জনগন একদিকে মোদি-শাহ-দোভাল অন্যদিকে: রাহুল গান্ধী

দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনে ১২ সাংবাদিক আটক

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হিন্দুস্তান টাইমসের সহযোগী প্রকাশনা হিন্দুস্তানের এক প্রতিবেদকসহ কমপক্ষে ১২ সাংবাদিককে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। রবিবার এ ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর জানিয়েছে। আটকের বর্ণনা দিয়েছেন হিন্দুস্তানের ২৭ বছর বয়সী প্রতিবেদক আশিস সিং। তিনি জানান, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) ডাকা বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের সময় বিকেল আড়াইটার দিকে আরকে আশ্রম মার্গ থেকে তাকে আটক করা হয়। সংবাদকর্মী হিসেবে স্পষ্ট শনাক্তকারী পরিচয়পত্র পরা থাকা সত্ত্বেও তাকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং তিনি আহত হন। আশিস সিং বলেন, আমি ক্যামেরায় আটকের দৃশ্য ধারণ করছিলাম, তখন টের পেলাম পুলিশ আমাকে ধাক্কা দিচ্ছে। তারা কোনও ধারালো জিনিস দিয়ে, হয়তো নাকলের মতো কিছু দিয়ে, আমাকে আঘাতও করেছে। আমি ঘুরে একবার নয়, বহুবার তাদের বলেছি, আমি এইচটির প্রতিবেদক। আমার গলায় আইডি কার্ডও ছিল, যা আমি তাদের দেখিয়েছি। কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি। এরপর এক আলোকচিত্রীর সঙ্গে তাকে বাসে তুলে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আমি বিক্ষোভকারীদের থেকে অনেক দূরে ছিলাম, পুলিশের কাজেও বাধা দিচ্ছিলাম না, তবু তারা আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। প্রায় ২০-৩০ মিনিট বাসে থাকার পর বাসটি মন্দির মার্গ এলাকায় পৌঁছালে অন্য সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি বাস থেকে লাফিয়ে নামেন। তিনি বলেন, আমার ভয় ছিল, পুলিশ আমাদের ফোন কেড়ে নিয়ে সব তথ্য মুছে দেবে। একটি জাতীয় সংবাদ সংস্থার এক আলোকচিত্রী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আটক ব্যক্তিদের ছবি তোলার সময় তাকে আটক করা হয়। পুলিশ পথচারীদের সরিয়ে দিচ্ছিলো এবং সাংবাদিকদের আটক করছিল। তিনি বলেন, তারা হঠাৎ চিৎকার করে বলল, ওকে ভেতরে নাও আর আমাকেও ধাক্কা দিল। আমাকে মেমোরি কার্ড লুকিয়ে ফেলতে হয়েছে, কারণ আমার ভয় ছিল তারা আমার জিনিসপত্র কেড়ে নিয়ে সব ছবি মুছে দেবে। আটক অন্য সাংবাদিকদের মধ্যে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস হিন্দির তিন প্রতিবেদক, দ্য হিন্দুর একজন এবং ডিজিটাল সংবাদ প্ল্যাটফর্মের ক্যামেরাকর্মীরা ছিলেন। দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা আটকের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এক্সে এক পোস্টে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট আটক সাংবাদিকদের শাশ্বত, সিয়া ও বিজয় হিসেবে শনাক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের কনট প্লেস থেকে আটক করে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর যেখান থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, তার প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে দ্য হিন্দুর এক নারী সাংবাদিককেও বাসে ঠেলে তুলে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আটক করা হয়। তিনি সাংবাদিক বলে জোর দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কনট প্লেসে তিনি বলেন, আমি নিজের ভিডিও রেকর্ড করছিলাম, তখন পুলিশ সদস্যরা এসে জিজ্ঞেস করতে শুরু করলেন, আপনি কী করছেন। তারা আমাকে শুধু আটক করে ফেলল। কীভাবে তারা সংবাদমাধ্যমকে আটক করতে পারে?

দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনে ১২ সাংবাদিক আটক

এক সময় ছিল সিআইএ’র এয়ারফিল্ড, এখন চীনের সামরিক ঘাঁটি

ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কার সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএর একটি বিমানঘাঁটিতে লাওসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন একটি সামরিক কেন্দ্র চালু করেছে চীনের সামরিক বাহিনী। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালায় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে। রাজধানী ভিয়েনতিয়েনের প্রায় ৪০ মাইল উত্তরে এবং থাইল্যান্ডের নিকটতম সীমান্ত থেকে মাত্র ২৫ মাইল দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে রয়েছে বান কিউন বিমানবন্দরে চীন-লাওস যৌথ সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং চীন-লাওস মৈত্রী বিমান একাডেমি। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যক্রম শুরু করেছে। গোয়েন্দা ও স্যাটেলাইট চিত্র প্ল্যাটফর্ম ভ্যান্টরের স্যাটেলাইট ছবি পেয়েছে সিএনএন। ছবিতে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর থেকে ঘাঁটিতে ৬ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে এবং ২২টি বিমান রাখার উপযোগী জায়গা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই স্থাপনা লাওসের বিমানবাহিনীর পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন জোরদারে সহায়তার উদ্দেশ্যে তৈরি এবং দুই পক্ষ যৌথভাবে এর রক্ষণাবেক্ষণ করবে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এটি কোনও তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে হুমকির জন্য নয় এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বাস্তব সহযোগিতা আরও জোরদার ও আঞ্চলিক শান্তি-স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক। এখন পর্যন্ত চীনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক বিদেশি ঘাঁটি উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার জিবুতিতে, যা ২০১৭ সালে চালু হয়। এ ছাড়া থাইল্যান্ড উপসাগরে কম্বোডিয়ার রিয়াম নৌঘাঁটির বড় সম্প্রসারণেও অর্থায়ন করেছে চীন, যা তারা কম্বোডিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করে। সেখানে নতুন নির্মিত একটি জেটি এতটাই বড়, পিএলএ নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীও ভিড়তে পারবে। এতে এই অঞ্চলে বেইজিংয়ের পকিল্পনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে কম্বোডিয়া সরকার বলছে, রিয়াম অন্যদের জন্যও উন্মুক্ত। জানুয়ারিতে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজ সেখানে নোঙর করেছিল। লাওসের বান কিউন ঘাঁটি ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় সিআইএ পরিচালিত এয়ার আমেরিকা ব্যবহার করত। অঞ্চলটিতে গোপন অভিযানের জন্য এটি ছিল রসদ ও সহায়তা কেন্দ্র। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রতীকী হলেও লাওসে চীনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র-চীন ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়। সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ফেলো ড্রু থম্পসন বৃহস্পতিবার বলেন, এই ঘাঁটি থেকে অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীর জন্য কোনও হুমকি দেখা কঠিন। তিনি বলেন, এই রানওয়ে কোনও কিছুর কেদ্র বরাবার তাক করা ছুরি নয়। এখান থেকে বিমান অভিযান চালানোর কোনও পরিস্থিতি আমি কল্পনা করতে পারছি না। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক র‍্যাচেল ভ্যান্ডেনব্রিংক রয়টার্সকে বলেন, বান কিউন বেছে নেওয়া সুস্পষ্ট কোনও অপারেশনাল প্রয়োজন মেটানোর চেয়ে সুযোগকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য থেকেই বেশি হয়েছে বলে মনে হয়। তিনি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে সীমান্ত ও রেলপথসহ অবকাঠামোগত সংযোগের কারণে মূল ভূখণ্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সহজে পৌঁছানো যায় এমন একটি ঘাঁটি হিসেবে লাওসের কিছু ভূকৌশলগত মূল্য রয়েছে।

এক সময় ছিল সিআইএ’র এয়ারফিল্ড, এখন চীনের সামরিক ঘাঁটি

পেট্রোল লিটারে ১.৮২ রুপি বাড়ালো পাকিস্তান, কমালো ডিজেলের দাম

জ্বালনি তেলের নতুন দর নির্ধারণ করেছে পাকিস্তান সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লিটারপ্রতি পেট্রোলের দাম ১.৮২ রুপি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং হাই-স্পিড ডিজেলের (এইচএসডি) দাম লিটারপ্রতি ০.৯১ রুপি কমানো হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নিশ্চিত করা হয়, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে নতুন এই মূল্য তালিকা কার্যকর হচ্ছে। মূল্য সংশোধনের পর প্রতি লিটার পেট্রোলের খুচরা বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৯৬.৬৫ রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩৯৪.৯৪ রুপি। এর পাশাপাশি পেট্রোলে লিটারপ্রতি ১১৪ রুপি এবং ডিজেলে ১০০ রুপি শুল্ক ও কর ধার্য রাখা হয়েছে। গত ৩ এপ্রিলে ডিজেলের দাম সর্বোচ্চ ৫২০.৩৫ রুপি এবং পেট্রোলের দাম ৪৫৮.৪১ রুপিতে পৌঁছেছিল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দর অস্থির থাকায় সরকার আবার সাশ্রয়ী ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে রাত ৯টার মধ্যে বাজার ও দোকানপাট বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ তিন মাসের জন্য ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ঘন ঘন দর পরিবর্তনের কারণে গত ১৭ জুলাই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক জানান, মন্ত্রিসভা ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সিদ্ধান্তে তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (ওগ্রা) প্রতিদিনের আন্তর্জাতিক বাজার দর পর্যালোচনা করে দৈনিক ভিত্তিতে জ্বালানির দাম নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।  এছাড়া গত ১৩ সেপ্টেম্বর মোটরসাইকেল, অটো এবং ৮০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির মালিকদের জন্য একটি বিশেষ আর্থিক ত্রাণ প্রকল্পের ঘোষণা দেন শেহবাজ শরিফ। সাধারণত ব্যক্তিগত পরিবহন ও ছোট যানবাহনে পেট্রোল ব্যবহার করায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে ভারী পরিবহন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বড় জেনারেটরে ডিজেল ব্যবহৃত হওয়ায় এর মূল্য পরিবর্তন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলে। দেশে কেরোসিনের মাসিক চাহিদা ১০ হাজার টন হলেও পেট্রোল ও ডিজেলের সমন্বিত মাসিক বিক্রি প্রায় ৭ লাখ থেকে ৮ লাখ টন যা সরকারের রাজস্ব আয়ের মূল উৎস। সূত্র: ডন

পেট্রোল লিটারে ১.৮২ রুপি বাড়ালো পাকিস্তান, কমালো ডিজেলের দাম
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream