গিটারকে যাত্রী ভেবে মামলা, এআই ক্যামেরার ভুল শনাক্তকরণ
গিটারকে যাত্রী ভেবে মামলা, এআই ক্যামেরার কাণ্ডকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্তের ক্ষেত্রে এবার ঘটেছে বেশ অস্বাভাবিক এক ঘটনা। ভারতের বেঙ্গালুরুতে একটি এআই-চালিত ট্রাফিক ক্যামেরা স্কুটারচালকের পিঠে থাকা গিটারকে হেলমেটবিহীন পিলিয়ন যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করে ৫০০ রুপির চালান তৈরি করেছে।ঘটনাটি সামনে আসে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা সুভিক দত্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করার পর। তাঁর দাবি, তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন এবং মাথায় হেলমেটও ছিল। পিঠে শুধু একটি গিটার বাঁধা ছিল। কিন্তু স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থায় সেটিকেই দ্বিতীয় একজন যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।কীভাবে ঘটল ভুল শনাক্তকরণপ্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুর হেব্বাল থেকে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাওয়ার সময় দত্তের স্কুটারের ছবি একটি এআই ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে তার স্ত্রীর মোবাইলে ট্রাফিক চালানের বার্তা আসে। চালানে অভিযোগ করা হয়, স্কুটারের পেছনে থাকা পিলিয়ন যাত্রী হেলমেট পরেননি।চালানের সঙ্গে যুক্ত ছবিটি দেখার পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ছবিতে দত্তকে হেলমেট পরা অবস্থায় স্কুটার চালাতে দেখা যায়। তাঁর পিঠে বাঁধা ছিল গিটারের ব্যাগ। সেখানে অন্য কোনো যাত্রী ছিলেন না।চালানটি ছিল ৫০০ রুপির। দত্ত পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিসহ ঘটনাটি তুলে ধরে বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের কাছে চালানটি বাতিল বা সংশোধনের অনুরোধ জানান।ট্রাফিক পুলিশের প্রতিক্রিয়াঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশ দত্তের পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানায়। তাকে চালানটি সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়।এর ফলে বিষয়টি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হাস্যরসের ঘটনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভুল শনাক্ত হলে সেটি কীভাবে যাচাই ও সংশোধন করা হবে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।এআই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ক্যামেরা ব্যবহারের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিপুলসংখ্যক যানবাহন দ্রুত পর্যবেক্ষণ করা এবং মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা। কিন্তু ছবি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ক্যামেরার কোণ, আলো, বস্তুর আকৃতি ও অবস্থানের কারণে কোনো কোনো পরিস্থিতিতে ভুল শনাক্তকরণ ঘটতে পারে।বেঙ্গালুরুর ঘটনাটিও এমন একটি উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা সম্পর্কে সামগ্রিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাইয়ের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।মানবিক যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাএআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত হওয়ার পর যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জরিমানা বা চালান তৈরি হয়, তাহলে ভুল শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জন্য তা সংশোধনের সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।বেঙ্গালুরুর ঘটনাটি সেই বিষয়টিই সামনে এনেছে। কোনো ছবি বা ভিডিওতে এআইয়ের শনাক্তকরণ এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য থাকলে মানবিক যাচাইয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন বলে এ ঘটনা থেকে প্রশ্ন উঠেছে।প্রযুক্তি যত বাড়বে, যাচাইও তত গুরুত্বপূর্ণবিশ্বের বিভিন্ন শহরে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ছে। হেলমেট, সিটবেল্ট, গতি, সিগন্যাল অমান্যসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্তে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।বেঙ্গালুরুর গিটার-কাণ্ড দেখিয়ে দিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারলেও সব পরিস্থিতিতে তার শনাক্তকরণ নিখুঁত নাও হতে পারে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ভুল শনাক্তকরণ চিহ্নিত, যাচাই ও সংশোধনের কার্যকর ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।