ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
বগুড়ায় তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে দেবীর রূপ, উৎসবের অপেক্ষা

বগুড়ায় তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে দেবীর রূপ, উৎসবের অপেক্ষা

দুয়ারে কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে বগুড়ার বিভিন্ন মণ্ডপে অপরূপ সাজে ফুটে উঠছেন দেবী দুর্গা। কোথাও চলছে প্রতিমার শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা, কোথাও প্যান্ডেল নির্মাণ, আবার কোথাও চলছে বর্ণিল আলোকসজ্জার কাজ। সব মিলিয়ে দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো জেলা। এবার বগুড়ায় ৭৩২টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুর্গাপূজা। উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া বগুড়া মহানগরের মণ্ডপগুলোতে যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জানা যায়, জেলায় ৭৩২টি মন্ডপে দুর্গাপূজার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর ২০২৫ সালে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছিল ৬৮১টি মন্ডপে। গত বছরের চেয়ে এবার বগুড়ায় ৫১টি বেশি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বগুড়ার বিভিন্ন প্রতিমা তৈরির কারখানা ও মণ্ডপে এখন শেষ মুহূর্তের কর্মযজ্ঞ। মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর দেবীর মুখাবয়ব, পোশাক, অলংকার ও অন্যান্য সাজসজ্জায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। তাঁদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় খড়, বাঁশ ও মাটির কাঠামো ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে পূজার আরাধ্য দেবী দুর্গায়। প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপে রয়েছে শিল্পীদের শ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার পরিচয়। বছরের এই সময়টিতে প্রতিমা তৈরির কারখানাগুলোতে বাড়ে কর্মচাঞ্চল্য। শেষ মুহূর্তে দেবীর রূপ দেখতে কারখানাগুলোতেও ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। একই সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দেবীকে বরণ করে নেওয়ার নানা আয়োজন। প্রতিমাশিল্পীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমা তৈরিতে খরচ বেড়েছে। মাটি, খড়, বাঁশ, রং ও সাজসজ্জার উপকরণের দাম বাড়ায় প্রতিমা তৈরির ব্যয়ও বেড়েছে। এতে পূজার আয়োজকদের বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রতিমা তৈরির খরচ বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে প্রতিমার দামেও। অন্যদিকে দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ। পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় করছেন অনেকে।  দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। মণ্ডপে মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বগুড়া মহানগর শাখার সভাপতি শ্রী পরিমল প্রসাদ রাজ জানান, দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবার জেলায় ৭৩২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর  সপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাঅষ্টমী ও ২০ আক্টোবর মহানবমী ও ২১ অক্টোবর দশমী অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবার সহযোগিতায় নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে।  বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান জানান, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলায় পূজা মণ্ডপগুলোতে থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা। প্রায় দেড় হাজার পুলিশের পাশাপাশি  ও আনসার বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। থাকবে গোয়েন্দা নজরদারিও। বিডি-প্রতিদিন/এআইডি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে মহালয়া উদযাপন

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবী পক্ষের শুভ সূচনায় গতকাল শনিবার জেলাজুড়ে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র মহালয়া। ভোরের আলো ফুটতেই মহালয়ার মাহেন্দ্রক্ষণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিববাড়ীস্থ পুষ্পাঞ্জলি সংসদ পূজা মন্ডপ এবং মধ্যপাড়া রাধামাধব মন্দিরসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে চন্ডীপাঠ ও দেবী দুর্গার আগমনী সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শঙ্খের ধ্বনি, উলুধ্বনি আর চন্ডীপাঠে মুখরিত হয়ে ওঠে। সনাতনী শিল্পগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় দেবী দুর্গার আগমনী সঙ্গীতে এদিন মেতে ওঠেন ভক্তরা। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নারী-পুরুষের পরনে ছিল লাল-সাদা রঙের বর্ণিল শাড়ি ও পাঞ্জাবি, যা উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দেয়। শাস্ত্র মতে, এ বছর দেবী দুর্গার মর্ত্যধামে আগমন ঘটছে ঘোটকে (ঘোড়া) এবং গমন হবে নৌকায়। আগামী পাঁচ দিন ভক্তদের মাঝে থেকে বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে তিনি আবার স্বামীগৃহ কৈলাশে ফিরে যাবেন। মহালয়া অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া অন্বেষা পাল নামের এক ভক্ত বলেন, মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী পক্ষের শুভ সূচনা হলো। মায়ের আগমনী বার্তায় আমরা পুলকিত। মা যেন আমাদের সবাইকে ও দেশবাসীকে শান্তিতে ও ভালো রাখেনÑআজ মায়ের কাছে এই প্রার্থনাই করেছি। পুষ্পাঞ্জলি সংসদের আয়োজক নয়ন কর জানান, চন্ডীপাঠ ও আগমনী গানের মাধ্যমে মাকে বরণ করে নিয়েছি। মায়ের কাছে প্রার্থনা, পৃথিবীতে যেন সব অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটে এবং সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে।  শিববাড়ী মন্দিরের পুরোহিত নন্দ কিশোর চক্রবর্তী মহালয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মহালয়া হলো মূলত পিতৃপক্ষ এবং দেবীপক্ষের সন্ধিক্ষণ। বিশ্বাস করা হয়, এই তিথিতেই দেবী দুর্গা মর্ত্যে অবতীর্ণ হন। আজ পিতৃপক্ষে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে তর্পণ বা জলদান করা হয়েছে। সনাতন ধর্মে এই তিথিতে অসহায় মানুষদের দান করলে পুণ্য লাভ হয়। শহরের শিববাড়ী, মধ্যপাড়া ইসকন মন্দির, ঐতিহাসিক কাল ভৈরব মন্দিরসহ জেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপে মহালয়া উপলক্ষে দিনব্যাপী বিশেষ পূজার্চনা, মহাপ্রসাদ বিতরণ ও ধর্মীয় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলাজুড়ে মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের তুলির আঁচড় আর সাজসজ্জার ধুম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে মহালয়া উদযাপন
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream