ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
হাসপাতাল থেকে সার্কিট হাউসে ফিরেই সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য

হাসপাতাল থেকে সার্কিট হাউসে ফিরেই সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আবারও সার্কিট হাউসে ফিরেছেন। সেখানে ফিরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে সার্কিট হাউসে ফেরেন। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চুয়েটের সিন্ডিকেট সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপাচার্য আজ সন্ধ্যা ৬টায় সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন। ভার্চ্যুয়ালি এই সভা হবে। আমি ছুটিতে আছি। যোগ দিতে পারব কি না নিশ্চিত নই।’ সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশলের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি মেসেজ পাঠিয়েছেন। মেসেজ পাঠিয়ে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা যায় কি না বা এটা নিয়মের মধ্যে কি না—তা জানি না। সাধারণত রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সভার চিঠি আসে।’ সিন্ডিকেট সভার বিষয়ে জানতে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তিনি সাড়া দেননি। মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনে তালা লাগিয়ে দেন তাঁরা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই আন্দোলনের মধ্যেই গত সোমবার সকাল নয়টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। তবে বিষয়টি জানতে পেরে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে কার্যালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য আলটিমেটাম দেন তাঁরা। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার পর তাঁরা ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। উপাচার্য ভবনের বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ভবনে তালা দেওয়ায় উপাচার্যসহ ভেতরে ১১ জন আটকে পড়েন। পরদিন অসুস্থ বোধ করছেন বলে জানান উপাচার্য। তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে যান দুই চিকিৎসক। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

চুয়েট উপাচার্যের চেয়ারে কেন সরকারের ছায়া!

চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত সহ–উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে শপথ পাঠ করিয়েছিলেন তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও শিক্ষার্থীরা (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, প্রথম আলো)। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আসেন অধ্যাপক ইয়াহ্‌ইয়া আখতার। গত বছরের জুলাইয়ে এই উপাচার্যের কার্যালয়ে এক শিক্ষকের পদোন্নতি আটকাতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতা গিয়ে হট্টগোল করেন। সে সময় তাঁদের বলতে শোনা যায়, ‘আপনি নিজ যোগ্যতায় (উপাচার্য পদে) বসেননি, আপনাকে আমরা বসিয়েছি, আপনি আমাদের কথা শুনতে বাধ্য।’ (৫ জুলাই ২০২৫, প্রথম আলো)। প্রায় এক বছর পর চট্টগ্রামেরই আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যকে বাতিল করে আগের উপাচার্যকে বহাল রাখার দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেই ১২ অক্টোবর ক্ষমতাসীন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম (১২ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো)। পরপর এ তিনটি উদাহরণ দেওয়ার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো নয়। তিনটি ঘটনায় তিনটি ভিন্ন সংগঠন, তিনটি ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি দুটি ভিন্ন সরকারের সময়। কিন্তু চিত্রের কোনো হেরফের হয়নি। ঠিক পুরোনো কাঠামোর মতোই উপাচার্যের চেয়ারে কে বসবেন, কীভাবে বসবেন, বসে কী করবেন, তা ঠিক করে দিচ্ছেন ছাত্রনেতারা। সরকার বদলায়, সংগঠনের নাম বদলায়, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ছাত্ররাজনীতির এই খবরদারির কোনো পরিবর্তন হয় না। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার আইন অনুযায়ী উপাচার্য নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে এর কার্যনির্বাহী প্রধান হলেন উপাচার্য। কিন্তু আমরা কী দেখছি? এক দল এসে উপাচার্যকে বলছে, আমরাই আপনাকে বসিয়েছি। আরেক দল শিক্ষার্থীদের চাওয়া–পাওয়ার বাইরে গিয়ে উপাচার্যকে চেয়ারে বসিয়ে দিচ্ছে। উপাচার্য কী করবেন আর কী করবেন না, তা ঠিক করার দায়িত্বও তারাই নিয়ে নিচ্ছে। কী অদ্ভুত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, কী অদ্ভুত আমাদের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো! একজন উপাচার্য যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রধান হন, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ভেতর থেকে তাঁর নির্দেশনায় সবকিছু হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের উপাচার্যদের চেয়ার এতটাই কাদামাটির ওপর বসানো থাকে যে কখন সেটি দেবে যায়, আবার কখন সেই চেয়ারের পায়া ভেঙে তিনি নিজেই পড়ে যান, তা কেউ জানে না। ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতি উপাচার্যদের নরম অবস্থান আজকের নয়। কয়েক দশক ধরে উপাচার্যেরা ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। যখনই উপাচার্য বিপদে পড়েন, সেটা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন ঠেকানো হোক কিংবা কর্মকর্তা–কর্মচারীদের আন্দোলন সামলানো, সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনগুলোকেই। অন্যদিকে এসব সংগঠনের নেতাদের খুশি রাখতে উপাচার্যেরা কখনো পছন্দের ব্যক্তিদের টেন্ডার পাইয়ে দেন, শিক্ষক–কর্মকর্তা–কর্মচারী নিয়োগ দেন, আবাসিক হলে তাঁদের আধিপত্যের সুযোগ করে দেন। আবার আধিপত্য বিস্তারে বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোকে দমন করতে তাঁদের প্রশাসনিক সহায়তাও দেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্ষমতা–চর্চার এই ভয়াবহ রূপ আমরা দেখেছি। তবে এই দেনা–পাওনার চিত্র কখনোই বদলায় না। ফলে দলীয় শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় আনা হয়, আর তাঁদের রক্ষার দায়িত্ব নেয় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনগুলো। এর মাশুল গুনতে হয় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে। যে উপাচার্য নিজের চেয়ারের জন্য কোনো ছাত্রসংগঠনগুলোর কাছে ঋণী হচ্ছেন, তিনি পরবর্তী সময় তাদের কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নৈতিক শক্তি রাখেন না। এই যে চুয়েটের কথাই ধরেন না। এখানে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা এক উপাচার্যের নিয়োগ বাতিলের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন পত্রিকাগুলোয় ফলাও করে নিউজ আসছে। কিন্তু দেখেন, আমাদের সরকার সেই খবরগুলো দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। গণমাধ্যমের খবরগুলো আমলেই নেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ব্যাপারটি এমন হয়ে গিয়েছে, ওই উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যক্রম করতে না পারলে চুয়েটের শিক্ষার বারোটা বেজে যাবে। শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে পেয়ে ধন্য ধন্য মনে করবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সরকার এখানে নিজেকে গুটিয়ে রেখে প্রমাণ করতে চেয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হলো ‘সরকার’, এখানে শিক্ষার্থীরা ভেসে আসা কোনো উপাখ্যান। অন্যদিকে যে ছাত্রসংগঠন শিক্ষার্থীদের নৈতিক আন্দোলনে শরিক হওয়ার কথা, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে ঐক্য দেখানো, সেখানে ছাত্রসংগঠনটি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। ফলে সরকারের পরামর্শে চুয়েটের নিয়ম ভেঙে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমকে অনলাইনে যোগদান করিয়েছে, শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করিয়েছে, এবার তাঁকে চেয়ারে বসানোর দায়িত্ব দিয়েছে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের কাঁধে। ফলে এই পুরো বিষয়টি সরকারের দৃষ্টির বাইরে ঘটেনি; বরং সরকারের প্রত্যক্ষ অবস্থানের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বন্ধ থাকলেও সরকারের দৃষ্টি সেই পর্যন্ত পড়েনি। আমরা উপাচার্যের চেয়ারে বসানোর নোংরা চেহারা দেখলাম। এখন প্রশ্ন হলো, আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কী হবে? ক্ষমতার দাপটে উপাচার্য এগিয়ে গেলেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌলিক অধিকার ও ক্ষমতা চর্চায় যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রাধান্য পাওয়ার কথা, সেখানে তাঁরা আজ এই উপাচার্যের আক্রোশের শিকার যে হবেন না, তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? যে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের চেয়ে ছাত্রনেতারা বড়, সেখানে জ্ঞানচর্চা ছোট হতে বাধ্য। চব্বিশে শিক্ষার্থীরা বৈষম্য আর দখলদারির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলেন। সেই আত্মত্যাগের প্রতি প্রকৃত সম্মান হবে এমন বিশ্ববিদ্যালয় গড়া, যেখানে উপাচার্যের চেয়ার কারও দয়ায় নয়, যোগ্যতায় পাওয়া যায়। কিন্তু সেটা আমরা দেখতে পাইনি; বরং অতীতের সব ধরনের রেকর্ড ভেঙে এবারের উপাচার্য নিয়োগে খেয়ালখুশিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কোন মানদণ্ডে, কাদের মধ্য থেকে, কার সুপারিশে একজন অধ্যাপক উপাচার্য হন, তা কখনো প্রকাশ্যে আসে না। প্রক্রিয়া যেখানে অস্বচ্ছ, সেখানে যোগ্যতার বদলে দলীয় আনুগত্য আর রাজপথের শক্তিই হয়ে ওঠে সিদ্ধান্তের মাপকাঠি। শিক্ষকরাজনীতিও এর বাইরে নয়। শিক্ষকদের একাংশ দলীয় পরিচয়কে পদ–পদবির সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেন, আর সেই সিঁড়িতে ওঠার জন্য তাঁদের প্রয়োজন হয় ছাত্রসংগঠনের সমর্থন। প্রশ্ন হলো, সরকার কি সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কথা শুনতে পায়? ক্ষমতায় গেলে কেন তারা বুঝতে পারে না, ছাত্রসংগঠন নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রকৃত ক্ষমতার মালিক সাধারণ শিক্ষার্থীরা? সাধারণ শিক্ষার্থীরা কী করতে পারে, তা তো অতীতে এই দেশ দেখেছে। এভাবে উচ্চশিক্ষার কাঠামো টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বিশেষ করে যেখানে উপাচার্যেরা চেয়ারের লোভে নিজেদের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর কথায় ওঠবস করার মানসিকতা তৈরি করে ফেলেন, সেখানে উচ্চশিক্ষার ম্যাজিক লণ্ঠন আলোহীন হয়ে পড়বে। ড. নাদিম মাহমুদ গবেষক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ই–মেইল: [email protected]

চুয়েট উপাচার্যের চেয়ারে কেন সরকারের ছায়া!

ছাত্রদল নেতারাসহ উপাচার্যকে ভেতরে রেখে ভবনে তালা দিলেন শিক্ষার্থীরা, বিদ্যুৎও বিচ্ছিন্ন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য ভবনের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্য। বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলছিল শিক্ষার্থীদের। বিকালে উপাচার্য ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। ‘আমাদের দাবি, আমাদের দাবি, মানতে হবে, মানতে হবে’, ‘প্রত্যাখ্যান-প্রত্যাখ্যান, নতুন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছান উপাচার্য। ফটকে তিনি কেবল ‘শিক্ষক’ পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন। পরে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের ফটকে দেওয়া তালা ভেঙে নিজের দফতরে প্রবেশ করেন উপাচার্য। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসার খবরে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে কার্যালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য আলটিমেটাম দেন তারা। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার পর তারা ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। উপাচার্য ভবনের বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন বলে জানান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন যন্ত্রকৌশল বিভাগের ছাত্রী মাহিরা তাজরীন বলেন, ‘উপাচার্য আমাদের দেওয়া তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছেন। আমরা আলটিমেটাম দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি শোনেননি। তাই আমরা আবারও তালা দিয়েছি।’ ফটকে তালা দেওয়ায় ভবনটির ভেতরে উপাচার্যের সঙ্গে আটকা পড়েছেন ছাত্রদল সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকর্মী। রাশেদ বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে তারা আন্দোলন করছেন। আজকে সকালেও ফুল নিয়ে আসার সময় আমাদের এক নেতাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।’ শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্য ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর ফুল ও খাবার নিয়ে তার দফতরে যাচ্ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের সময় বাধা দেন। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে ফুল ও খাবার নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় শেখ শরীফুল আলমকে। এর প্রতিবাদ এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এরই অংশ হিসেবে উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একই দাবিতে ওই দিন থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে এত দিন ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। তবে আজ সকালে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে তিনি নিজ দফতরে যান।  সকালে উপাচার্য ভবনে গিয়ে দেখা যায়, উপাচার্যের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসে রয়েছেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তার কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদল সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন রয়েছেন। 

ছাত্রদল নেতারাসহ উপাচার্যকে ভেতরে রেখে ভবনে তালা দিলেন শিক্ষার্থীরা, বিদ্যুৎও বিচ্ছিন্ন
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream