ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে মহালয়া উদযাপন
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবী পক্ষের শুভ সূচনায় গতকাল শনিবার জেলাজুড়ে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র মহালয়া।
ভোরের আলো ফুটতেই মহালয়ার মাহেন্দ্রক্ষণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিববাড়ীস্থ পুষ্পাঞ্জলি সংসদ পূজা মন্ডপ এবং মধ্যপাড়া রাধামাধব মন্দিরসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে চন্ডীপাঠ ও দেবী দুর্গার আগমনী সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শঙ্খের ধ্বনি, উলুধ্বনি আর চন্ডীপাঠে মুখরিত হয়ে ওঠে।
সনাতনী শিল্পগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় দেবী দুর্গার আগমনী সঙ্গীতে এদিন মেতে ওঠেন ভক্তরা। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নারী-পুরুষের পরনে ছিল লাল-সাদা রঙের বর্ণিল শাড়ি ও পাঞ্জাবি, যা উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দেয়। শাস্ত্র মতে, এ বছর দেবী দুর্গার মর্ত্যধামে আগমন ঘটছে ঘোটকে (ঘোড়া) এবং গমন হবে নৌকায়। আগামী পাঁচ দিন ভক্তদের মাঝে থেকে বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে তিনি আবার স্বামীগৃহ কৈলাশে ফিরে যাবেন।
মহালয়া অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া অন্বেষা পাল নামের এক ভক্ত বলেন, মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী পক্ষের শুভ সূচনা হলো। মায়ের আগমনী বার্তায় আমরা পুলকিত। মা যেন আমাদের সবাইকে ও দেশবাসীকে শান্তিতে ও ভালো রাখেনÑআজ মায়ের কাছে এই প্রার্থনাই করেছি।
পুষ্পাঞ্জলি সংসদের আয়োজক নয়ন কর জানান, চন্ডীপাঠ ও আগমনী গানের মাধ্যমে মাকে বরণ করে নিয়েছি। মায়ের কাছে প্রার্থনা, পৃথিবীতে যেন সব অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটে এবং সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে।
শিববাড়ী মন্দিরের পুরোহিত নন্দ কিশোর চক্রবর্তী মহালয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মহালয়া হলো মূলত পিতৃপক্ষ এবং দেবীপক্ষের সন্ধিক্ষণ। বিশ্বাস করা হয়, এই তিথিতেই দেবী দুর্গা মর্ত্যে অবতীর্ণ হন। আজ পিতৃপক্ষে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে তর্পণ বা জলদান করা হয়েছে। সনাতন ধর্মে এই তিথিতে অসহায় মানুষদের দান করলে পুণ্য লাভ হয়।
শহরের শিববাড়ী, মধ্যপাড়া ইসকন মন্দির, ঐতিহাসিক কাল ভৈরব মন্দিরসহ জেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপে মহালয়া উপলক্ষে দিনব্যাপী বিশেষ পূজার্চনা, মহাপ্রসাদ বিতরণ ও ধর্মীয় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলাজুড়ে মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের তুলির আঁচড় আর সাজসজ্জার ধুম।