ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
অভিযানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মুচলেকায় ছাড়া—মা ইলিশ শিকারে শিশুরা

অভিযানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মুচলেকায় ছাড়া—মা ইলিশ শিকারে শিশুরা

মা ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলাকালে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের নিয়মিত অভিযান এড়াতে জেলেরা এ কৌশল নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে মাছ শিকার করছেন একশ্রেণির অসাধু জেলে। আজ বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, দশমিনার তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী বাঁবাড়িয়া, গোলখালী, সৈয়দজাফর, সোবাহান বাজার, আউলিয়াপুর, চরঘূর্ণী ও পাতারচর এলাকায় জাল ফেলে ৫০ থেকে ৬০টি নৌকায় জেলেরা মাছ ধরার অপেক্ষায় রয়েছে। এসব নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের সবাই ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশু। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে উপজেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের অভিযানে মাছ ধরার সময় প্রাপ্তবয়স্ক জেলেদের আটক করা হচ্ছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হচ্ছে। অন্যদিকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু জেলে শিশুদের দিয়ে নদীতে জাল ফেলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন, ইলিশের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হলে ভবিষ্যতে এ মাছের উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন কিছু অসাধু জেলে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকারে তৎপর হয়ে ওঠেন। প্রাপ্তবয়স্ক জেলেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শিশুদের ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাঁদের মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। দশমিনা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফেরদাউস জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে তাঁদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকারের সময় ১১ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে মাছ শিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযান চলছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক কাউকে এ কাজে পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের ২২ দিন নদীতে মাছ ধরার সময় যাঁকে পাওয়া যাবে, তাঁকেই আইনের আওতায় আনা হবে। আজ বিভিন্ন স্থান থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকারের তথ্য পেয়েছি। অভিযান চলছে। বয়স বিবেচনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

চাঁদপুরে জেলেদের ৫ টন চাল গোপনে বিক্রির অভিযোগ, জব্দের পর তদন্তে কমিটি

মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ৫ টন চাল গোপনে বিক্রির পর পরিবহনের সময় জব্দ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ বাজার এলাকা থেকে চালগুলো জব্দ করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম। জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য মা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্যসহায়তা হিসেবে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আওতায় চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের ৪ হাজার ৯৭০ জন জেলের জন্য চাল বরাদ্দ ছিল সোয়া ১১ মেট্রিক টন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে এসব চাল জেলেদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। জব্দ করা চাল পরিবহনের দায়িত্বে থাকা পিকআপচালক শাহাদাত জানান, চাঁদপুর সিএসডি গোডাউন থেকে চালগুলো কুমিল্লার লাকসামে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভাড়া করা হয়েছিল। তবে তাঁকে চালের কোনো মালিকের নাম জানানো হয়নি। কেবল লাকসামে পৌঁছানোর পর মালিকের পরিচয় জানানো হবে বলা হয়েছিল। পথিমধ্যে হাজীগঞ্জ এলাকায় পৌঁছানোর পর চালগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ফোন পান তিনি। চাল বিক্রির টোকেনে পরিমাণ ৪ হাজার ৯৩০ কেজি লেখা থাকলেও সেখানে কোনো মালিকের নাম উল্লেখ ছিল না। এদিকে, চাল বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযানের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চালগুলো জব্দ করা হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, চালগুলো লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলেদের জন্য বরাদ্দ ছিল এবং এ ঘটনায় স্থানীয় এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে নির্ধারিত সময়ে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ না করার কারণ জানতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএমএন জামিউল হিকমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কথা না বলে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে জানান, চালগুলো সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হবে। তবে বিতরণে কেন বিলম্ব হলো, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

চাঁদপুরে জেলেদের ৫ টন চাল গোপনে বিক্রির অভিযোগ, জব্দের পর তদন্তে কমিটি

নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই মা ইলিশ আহরণ, ৩ জেলের কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর দশমিনায় মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরায় তিন জেলেকে আটক করেছে প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে জরিমানা করেছেন। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে তেঁতুলিয়া নদীর চরহাদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় মাছ ধরার জাল ও একটি ট্রলার জব্দ করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আবদুর রহিম হাওলাদারের ছেলে হাবিব হাওলাদার (৫৪), মৃত কাঞ্চন আলীর ছেলে মাহবুব খাঁ (৫২) ও আহমেদ হাওলাদারের ছেলে খোকন হাওলাদার। উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর ও নৌ পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধার আদালতে হাজির করা হয়। আদালত মৎস্য সংরক্ষণ আইনে প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে জরিমানা করেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. মনিরুল হক, উপজেলা মৎস্য উপসহকারী আমিনুল ইসলাম ও নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলী হোসেনসহ নৌ পুলিশের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সময় তিন জেলেকে আটক করা হয়। তাঁদের প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে জরিমানা করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। মা ইলিশ সংরক্ষণে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই মা ইলিশ আহরণ, ৩ জেলের কারাদণ্ড
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream