ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
দেশ ত্যাগের নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাচ্ছেন ইমরান

দেশ ত্যাগের নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাচ্ছেন ইমরান

হিন্দি সিনেমার প্রখ্যাত অভিনেতা আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খানকে ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইমরান খানের আইনজীবী জুলফিকার মেমন, পারভেজ মেমন ও চিরাগ নায়েক জানিয়েছেন, আগামীকাল শুক্রবারই তাঁরা হাইকোর্টে যাবেন। ইমরানের কাছে ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড রয়েছে। ওই কার্ড প্রাপকদের এমন কোনো শর্ত মানতে হয় না যে তাঁরা কোনো বিক্ষোভে অংশ নিতে পারবেন না। নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করলে অতি দ্রুততার শুনানি শেষ করতে হবে। কারণ, দ্য ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ইমরানকে দেশ ত্যাগ করতে বলেছে। ইমরানের অপরাধ, বিদেশি নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। ওই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণে ইমরানকে আটক করা হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীদের ছেড়েও দেওয়া হয়। ইমরান খান (৪৩) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। দ্য ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ইমরানকে নোটিস পাঠিয়ে বলেছে, বিদেশি নাগরিক আইন বা ফরেনার্স অ্যাক্ট লঙ্ঘন করার জন্য তাঁকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছেড়ে চলে যেতে হবে। ইমরানের মা নুজহাত খান হলেন অভিনেতা আমির খানের আপন ফুফু বা পিসি। ১৯৮৩ সালের ১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন প্রদেশে তাঁর জন্ম। জন্মসূত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ইমরান বলেন, তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক বা ‘ওভারসিজ ইন্ডিয়ান সিটিজেন’ (ওসিআই)। তাঁর ‘ওসিআই’ পরিচয়পত্র আছে। মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, ইমরান খানের বিরুদ্ধে তাদের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তাতে বলা হয়, তিনি বিদেশি আইন ভঙ্গ করেছেন। মু্ম্বাই পুলিশ সেই অভিযোগপত্র এফআরআরওর কাছে পাঠিয়ে দেয়। ওই সংস্থাই তাঁকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেয়। ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকেরা ‘ওসিআই’ পরিচিতিপত্র পাওয়ার অধিকারী। ওসিআই কার্ডধারীরা আজীবন ভারতে আসার ভিসা পেয়ে থাকেন। তবে তাঁরা ভারতে কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। ভোটদানের অধিকারও তাঁদের নেই। ইমরানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে মুম্বাই পুলিশকে চিঠি লিখেছিলেন বিজেপি নেতা ও মহারাষ্ট্র বিজেপির সহসভাপতি কিরিট সোমাইয়া। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি নাগরিক হয়ে ইমরান ‘বেআইনি রাজনৈতিক বিক্ষোভে’ অংশ নিয়ে ওসিআই ভিসা আইন ভঙ্গ করেছেন। ইমরানকে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার পরেই বিজেপি সরকারের ‘দ্বিমুখী নীতি’র বিরুদ্ধে মুখ খোলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে। ‘এক্স’ হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘মেরি মিলবেন, আমেরিকান নাগরিক, বিজেপির পক্ষে কথা বলতে পারেন। অথচ ইমরান, যিনি একজন ওসিআই কার্ড হোল্ডার, বিজেপির বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবেন না !’ আটক করার পর পুলিশ ভ্যানে চাপিয়ে তাঁদের নিয়ে যাওয়ার এক ছবি ইমরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিয়েছিলেন। তাতে লেখা, ‘মনে হচ্ছে কোথাও ঘুরতে যাচ্ছি।’ একটা ভিডিও–ও ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে দেখা যায় ইমরান ‘জয় হিন্দ’ বলছেন। আরও এক ক্লিপিংয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘সত্যিই বুঝতে পারছি না কেন আমাকে এখানে আনা হয়েছে। ওরা (পুলিশ) আমাদের রাস্তা থেকে তুলে নেয় ও ভ্যানে বসতে বলে।’ এরপর ইমরান গণমাধ্যমকে জানান, মুম্বাইয়ের নাগরিক হিসেবে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। কোনো নির্দিষ্ট দাবি তাঁরা জানাননি। তিনি বলেন, ‘আমার কোনো দাবিদাওয়া নেই। একজন নাগরিক হিসেবে, এই শহরের বাসিন্দা হিসেবে এখানে এসেছি। দেখতে এসেছি কেন যাতায়াতের অধিকারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কেন মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। সিজেপির ডাকা সেদিনের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে মুম্বাই পুলিশ ৬০০ জনকে আটক করেছিল। তাঁদের মধ্যে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী ও তাঁর সংগঠন ‘হাম ভারত কে লোগ’ ও সিপিএমের কর্মী–সমর্থকেরাও ছিলেন। আমির খানের জনপ্রিয় সিনেমা ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ (১৯৮৮) ও ‘জো জিতা ওহি সিকন্দর’–এ (১৯৯২) ইমরান শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিলেন। বড় হওয়ার পর তাঁর প্রথম সিনেমা ‘জানে তু ইয়া জানে না’ প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয়। তাঁর অভিনীত ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’, ‘দিল্লি বেলি’ ও ‘মেরে ব্রাদার্স কি দুলহন’ও বেশ জনপ্রিয় হয়। তার পর কয়েকটি সিনেমা ফ্লপ হওয়ায় অভিনয় থেকে ক্রমে দূরে সরে যান। ইমরান খান আন্তর্জাতিক প্রাণী অধিকার রক্ষা সংগঠন ‘পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিমালস’–এর (পেটা) সক্রিয় সমর্থক।

জরুরি অবস্থা জারির পর খাইবার পাখতুনখাওয়ার রাজধানী পেশোয়ার হয়ে উঠেছে কনটেইনারের শহর

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ কয়েক দশক ধরে সহিংসতার মধ্যে দিয়ে গেলেও রাজধানী পেশোয়ার বেশির ভাগ সময় রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীলই ছিল। এ থেকে বোঝা যায় যে ইসলামাবাদ ও পেশোয়ারের মধ্যে সামান্য হলেও একধরনের বোঝাপড়া ছিল। তবে গতকাল রোববার প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি হওয়ার পর এ পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ক্ষমতায় রয়েছে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকার। আগের দিন গত শনিবার দিবাগত রাতে পেশোয়ারে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছিল। পুরো শহরের রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গিয়েছিল। তবে গতকাল সকাল ছিল উষ্ণ ও রৌদ্রোজ্জ্বল। তারপরও দিনের শুরুতেই শহরজুড়ে একধরনের চাপা আতঙ্কের আবহ ছিল। সকাল থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই। মুঠোফোনে কোনো সিগন্যাল নেই, আসন্ন বিপদের ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট। যদিও মাত্র কয়েক দিন আগেই পিটিআইয়ের লংমার্চের কারণে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পেশোয়ারে মুঠোফোনের সেবা বন্ধ ছিল। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ৪ অক্টোবর থেকে এ লংমার্চ শুরু হয়েছে। লংমার্চের গন্তব্য রাজধানী ইসলামাবাদ, যদিও বিক্ষোভ মিছিল এখনো প্রদেশের সীমানা অতিক্রম করেনি। ইমরানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে পিটিআই ও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে গতকাল রোববার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা এবং গভর্নরের শাসন জারির ঘোষণা দেয়। সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এর ফলে পিটিআই পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারের সব কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে। যদিও আসন্ন বিপদের আশঙ্কায় গতকাল সকাল থেকেই পেশোয়ার থমথমে ছিল। পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ডনের এক প্রতিনিধি গতকাল সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন। ওই প্রতিনিধি বলেন, বাইরে বেরিয়ে দেখা গেল, শহরের বিআরটি বাসস্টেশনগুলো বন্ধ। সাধারণত ভোরেই এসব বাস চলাচল শুরু করে। ফিরদৌস চকে শিপিং কনটেইনার রেখে জিটি রোডও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জিটি রোড দিয়ে শুধু পথচারীদের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল রোড থেকে ফিরদৌস চক পর্যন্ত জিটি রোডের বন্ধ দোকানগুলোর সামনে অনেক পুলিশ সদস্য বসে ছিলেন। জায়গাটি মালিক সাদ শহিদ চক নামেও পরিচিত। বালা হিসার দুর্গের ফটকও বন্ধ ছিল। সেখানে একদল পুলিশ সদস্য ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেখানে ফ্রন্টিয়ার কোরস নর্থের সদর দপ্তর। এখান থেকে কয়েক পা দূরেই সুরি চক। কাছেই খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রাদেশিক পরিষদ। এখান থেকে জিটি রোড ধরে যাওয়া যায় খাইবার রোডে। এ সড়কেই মূলত শহরের রেড জোনগুলো অবস্থিত। খাইবার রোডের দিকে যাওয়ার সড়কটি কনটেইনার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থাপন করা গেটটিও বন্ধ ছিল। সুরি পুল চত্বরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। নানা ধরনের ও নানা মতের বিক্ষোভকারীদের কাছে এ জায়গা সবচেয়ে পছন্দের সমাবেশস্থল। কেন্দ্রীয় কারাগারের কাছে জাস্টিস রুস্তম কিয়ানি রোডের শেষ প্রান্তে, যেখান থেকে সড়কটি শের শাহ সুরি রোডের দিকে গেছে, সেখানে একটি পুরোনো সাঁজোয়া যান রাখা ছিল। সেখানে দুই পুলিশ সদস্য পথচারীদের আর সামনে না এগোতে বলছিলেন। ডনের প্রতিনিধি পুলিশের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে কয়েকজনের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যান। কিন্তু এমপিএ হোস্টেলের ঠিক পাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ অবস্থান করছিল। পুলিশ সদস্যদের কয়েকজন চিৎকার করে তাঁদের ফিরে যেতে এবং শোবা বাজার হয়ে ঘুরে যেতে বলেন। শের শাহ সুরি রোডের সঙ্গে খাইবার বাজারের সংযোগকারী জেল পুলও বন্ধ ছিল। খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকারের প্রাণকেন্দ্র সিভিল সেক্রেটারিয়েট ছিল পুরোপুরি জনশূন্য। শুধু ‘চিফ সেক্রেটারি’র কার্যালয়ের বাইরে কয়েকটি গাড়ি পার্ক করা ছিল। সাহিবজাদা আবদুল কাইয়ুম রোডে গভর্নরের বাসভবন। সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল খুবই কড়া। গভর্নরের বাসভবনের দিকে যাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকে পুলিশ সদস্যরা তল্লাশি করছিলেন। দূর থেকে গভর্নরের বাসভবনের বাইরে বিপুলসংখ্যক গাড়ি পার্ক করে রাখা দেখা গেছে। উল্টো দিক দিয়ে খাইবার রোডের দিকে হাঁটতে গিয়ে দেখা গেল, একটি সাঁজোয়া যান (এপিসি), কারাগারের একটি ভ্যান ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ বহনকারী একটি ট্রাক মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাচ্ছে। হেঁটে কয়েক মিনিটের দূরত্বে আর্মি স্টেডিয়ামের কাছে খাইবার রোডে একটি ব্যারিকেড দেখা গেল। সড়কটি পুলিশ বন্ধ করে রেখেছে। সেখান দিয়ে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছিল না। ইউনিভার্সিটি রোড ও এয়ারপোর্ট রোডকে সংযুক্ত করা খাইবার রোডের অংশে আমন চক খোলা ছিল, তবে যান চলাচল ছিল খুবই কম। আমন চকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। স্টেডিয়াম চকেও কনটেইনার রাখা হয়েছিল। ফলে দুই দিকের গাড়ি এক লেনে চলাচল করছিল। মূল রোডের সঙ্গে সদর রোডকে সংযুক্ত করা আরবাব রোডেও একটি কনটেইনার রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রেজেন্টেশন কনভেন্ট স্কুলের বাইরে একটি গাছের নিচে কয়েকজন পুলিশ সদস্য অলসভাবে বসে ছিলেন। বহু বছর ধরে পেশোয়ার থেকে বিক্ষোভ মিছিল ইসলামাবাদে যাওয়ার কারণে পাকিস্তানের রাজধানী কনটেইনার দিয়ে দুর্গের মতো করে ফেলতে হতো। কিন্তু এবার ইসলামাবাদই পেশোয়ারে কনটেইনার পাঠিয়েছে। এসব কনটেইনার আর কত দিন এখানে থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। গতকাল বিকেলে ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ হয়ে গেছে।

জরুরি অবস্থা জারির পর খাইবার পাখতুনখাওয়ার রাজধানী পেশোয়ার হয়ে উঠেছে কনটেইনারের শহর

খাইবার পাখতুনখোয়ায় ইমরানের দলের শতাধিক নেতাকর্মী আটক

পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের নেতাকর্মী। পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রদেশটিতে রোববার জরুরি অবস্থা জারির পর থেকে এসব নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই কর্মকর্তা বলেন, পিটিআইয়ের অন্তত ২৭৮ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। পিটিআই-শাসিত এই প্রদেশে ইমরানের মুক্তি দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলে। এর জেরে রোববার জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলটিতে সম্প্রতি সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে। জরুরি অবস্থা জারির কয়েক ঘণ্টা পর প্রাদেশিক সরকারের প্রধান সোহেল আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, আফ্রিদিকে শুরুতে সরকারি বাসভবনে হেফাজতে রাখা হয়েছিল। পরে অন্য একটি স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই কর্মকর্তা নতুন স্থানটির নাম প্রকাশে রাজি হননি। খাইবার পাখতুনখোয়া মূলত ইমরান খানের দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রাদেশিক সরকার অকার্যকর থাকবে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, প্রাদেশিক সরকার জঙ্গি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। এটি জরুরি অবস্থা জারির কারণ। অন্যদিকে, সাংবিধানিক পদক্ষেপটির তীব্র বিরোধিতা করেছে পিটিআই। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে। ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে কারাবন্দি আছেন ইমরান খান। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি থেকে শুরু করে সহিংসতায় উসকানির বেশ কয়েকটি অভিযোগ আছে। তবে ইমরান ও তাঁর আইনজীবীরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের দাবি, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

খাইবার পাখতুনখোয়ায় ইমরানের দলের শতাধিক নেতাকর্মী আটক

পিটিআইয়ের লংমার্চ ঘিরে রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় ৩০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার নাদিম নাসির সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে এ ঘোষণা দেন। আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো স্থানে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। পাশাপাশি প্রকাশ্যে অস্ত্র, হাতে তৈরি বিস্ফোরক, পেরেকযুক্ত বস্তু, ভারী লাঠি, গুলতি, বল–বিয়ারিং, পেট্রলবোমা কিংবা শারীরিক ক্ষতি করতে পারে—এমন কোনো সরঞ্জাম বহন বা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ ছাড়া ড্রোন ব্যবহার এবং সমাবেশ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইসলামাবাদমুখী লংমার্চের মধ্যেই রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হলো; যদিও দলটির লংমার্চ এখনো খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বাইরে আসতে পারেনি। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী গতকালও বলেছেন, তাঁর নেতৃত্বে লংমার্চ ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হবে। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল জেলা গোয়েন্দা কমিটির (ডিআইসি) এক বৈঠকে ডেপুটি কমিশনারকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর ‘আসন্ন হুমকি’ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়। এসব হুমকি মানুষের জীবন, সরকারি-বেসরকারি সম্পদ এবং জেলার সার্বিক শান্তি–শৃঙ্খলার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিপুল জনসমাগম, বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খল জমায়েতের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো হতে পারে। এ লক্ষ্যে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী লোকজনকে সংগঠিত করছেন। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা কমিটি। পাকিস্তানের আরও কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে দুই মাসের জন্য এ ধারা কার্যকর করা হয়। একইভাবে লাহোরেও ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা কার্যকর রয়েছে। সেখানে জনশান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকির কথা উল্লেখ করে এ ধারা কার্যকর করা হয়।

পিটিআইয়ের লংমার্চ ঘিরে রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream