ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
ইউক্রেনে ইন্টারনেটের গতি কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প

ইউক্রেনে ইন্টারনেটের গতি কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প

যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ ও ড্রোন অভিযান পরিচালনায় ইউক্রেনের ব্যবহৃত স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত করার নির্দেশ হোয়াইট হাউসের ভেতর থেকেই এসেছিল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও একজন পশ্চিমা কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত স্পেসএক্সের স্টারশিল্ড সেবা ধীর করার বার্তা পেয়েছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, হোয়াইট হাউসের ঠিক কে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কিংবা কে তা বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। স্টারলিংকের সামরিক সংস্করণ স্টারশিল্ডের সবচেয়ে বড় ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগন। এ সপ্তাহে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, দ্রুতগতিতে চলমান যানে স্থাপন করা সামরিক মানের স্টারলিংক রিসেপ্টরগুলো কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। এর ফলে ইউক্রেনের আকাশসীমায় ড্রোনের অনবোর্ড গাইডেন্স ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। এসব ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে রিসেপ্টরগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা থাকায় অভিযানের কার্যকারিতাও ব্যাহত হয়। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, রিসেপ্টরগুলো এখন চলন্ত অবস্থায় আবার কাজ করছে। তবে এগুলোর কার্যকর গতিসীমা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ মাইল বা প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রয়েছে। তেল শোধনাগারে হামলা নিয়ে ইউক্রেনকে চাপ যুক্তরাষ্ট্রের  গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে সীমিত করার পদক্ষেপ এসেছে এমন সময়, যখন রুশ শোধনাগারে হামলা বন্ধে কিয়েভকে চাপ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জ্বালানির আকাশছোঁয়া দামের জন্য তিনি এসব হামলাকে দায়ী করছেন। এ দাম নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার রিপাবলিকান দলের সম্ভাবনায় আঘাত হানছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খরচ বাড়ার মূল কারণ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ, যাতে ইরান জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি মূলত বন্ধ হয়ে গেছে। স্টারশিল্ড সীমিত করার আদেশ নিয়ে মন্তব্য চাইলে একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট কখনও এমন অনুরোধ করেননি। প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা অনুরোধ করেছেন কিনা, এ প্রশ্নের জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউস। স্পেসএক্স সরকারি ও জাতীয় নিরাপত্তা ক্রেতাদের জন্য, বিশেষ করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য বিশেষভাবে স্টারশিল্ড তৈরি করেছে। এর মেরুদণ্ড স্টারলিংক নক্ষত্রপুঞ্জ। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, এসব বিধিনিষেধ দখলকৃত এলাকায় রুশ বাহিনী ও লজিস্টিকসের বিরুদ্ধে হামলা অভিযান জটিল করেছে এবং ইউক্রেনের দিকে আসা রুশ শাহেদ ড্রোন ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ড্রোনকে ধীর করেছে। স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক বুধবার এক্সে বলেন, স্টারশিল্ড ব্যবস্থার মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সরকারের হাতে থাকায় গতি বা ব্যবহারের যেকোনও সীমা ঠিক করে মার্কিন সামরিক বাহিনী বা প্রেসিডেন্ট। মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি স্পেসএক্স। প্রতিরক্ষা বিভাগ ও ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের দূতাবাসও সাড়া দেয়নি।

ভারতের ‘উগ্রপন্থী’দের স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবহারের দাবি নাকচ করলেন ইলন মাস্ক

স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক বলেছেন, ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বিম বন্ধ রয়েছে। তাই দেশটিতে ‘উগ্রপন্থীরা’ স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে-এমন দাবি সঠিক নয়। বুধবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন মাস্ক। স্টারলিংক স্পেসএক্সের একটি টেলিযোগাযোগ সেবা। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, এক্সে ডজডিজাইনার নামের একটি অ্যাকাউন্টের পোস্টের জবাবে মাস্ক বলেন, ‘ভারতের ওপর স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বিম বন্ধ রয়েছে। তাই যেকোনো ব্যক্তি, যেকোনো কারণে এটি ব্যবহার করেছে- এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ ডজডিজাইনারের ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, মিয়ানমার সীমান্তের কাছে ভারতের মণিপুরে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তা বাহিনী স্টারলিংকের টার্মিনাল উদ্ধার করেছে। ডজডিজাইনার বলেছে, ভারতে উগ্রপন্থীরা স্টারলিংক ব্যবহার করেছে-এমন দাবি যুক্তিসংগত নয়। কারণ, ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বিম বন্ধ রয়েছে। ফলে কোনো স্টারলিংক যন্ত্রই সেখানে সংযোগ পাওয়ার কথা নয়। ভারতে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর চেষ্টা করছে স্টারলিংক। এর মধ্যেই মাস্কের এই মন্তব্য এলো। এর আগে ভারত নিয়ে স্টারলিংকের পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন মাস্ক। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ‘কয়েকজন অলিগার্ক’ ভারতে স্টারলিংকের সেবা চালু হতে বাধা দিচ্ছেন। ডজডিজাইনারের একটি পোস্টের জবাবে মাস্ক বলেন, ‘ভারতীয় জনগণের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে কিছু অলিগার্ক আমাদের (স্টারলিংক) আটকে দিচ্ছেন। তারা কারা, তা আপনারা অনুমান করতে পারেন... এটি ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ।’ ডজডিজাইনারের ওই পোস্টে বলা হয়, ভারতের প্রত্যন্ত অনেক এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সেবা নেই। এসব এলাকায় ফাইবার বা মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো কঠিন। তাই স্টারলিংক সেখানে উচ্চগতির ইন্টারনেট দিতে পারে। পোস্টে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ভারতের ১১ হাজার ২৫৬টি তালিকাভুক্ত গ্রামে চতুর্থ প্রজন্মের (৪জি) মোবাইল নেটওয়ার্ক ছিল না। এতে আরো বলা হয়, ২০২৬ সালের মার্চে ভারতে মোট ইন্টারনেট সংযোগ ছিল ১০৯ কোটি ৩০ লাখ। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে ছিল ৪৪ কোটি ৮ লাখ ৭০ হাজার সংযোগ। গ্রামাঞ্চলে প্রতি ১০০ জনের বিপরীতে ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যা ছিল ৪৮ দশমিক ৩১। শহরাঞ্চলে এই সংখ্যা ছিল ১২৬ দশমিক ৮০। ওই সময় ভারতের মোট ইন্টারনেট সংযোগের মাত্র ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ ছিল তারযুক্ত সংযোগ। তাই পর্যাপ্ত সেবা নেই—এমন এলাকায় স্টারলিংক উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড পৌঁছানোর আরেকটি সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে পোস্টে বলা হয়। স্টারলিংকের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রাম, পাহাড় ও দ্বীপ এলাকায় ইন্টারনেট দেওয়া সম্ভব। এসব জায়গায় ফাইবার বা মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো কঠিন। ভালো ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলো অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারবে। ক্লিনিকগুলো দূর থেকে চিকিৎসা পরামর্শ দিতে পারবে। ছোট ব্যবসাগুলোও আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবে। দুর্যোগের সময়ও স্টারলিংকের সেবা কাজে লাগতে পারে বলে পোস্টে বলা হয়। বন্যা, ভূমিকম্প বা ঝড়ে স্থলভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বহনযোগ্য স্টারলিংক টার্মিনাল জরুরি সেবাদানকারী দলগুলোকে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা দিতে পারে। স্টারলিংকের সরাসরি মোবাইল সংযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ ৪জি ফোনও মোবাইল টাওয়ারের আওতার বাইরে সংযোগ পেতে পারে। তবে এ জন্য ভারতের অনুমোদন এবং মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে অংশীদারত্ব প্রয়োজন। ভারত সরকারও দুর্গম এলাকা, কম বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাকে ইন্টারনেট সংযোগের ঘাটতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়। বাণিজ্যিক সেবা চালু করতে স্টারলিংকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের প্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বানও জানানো হয়। এতে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১০০ শতাংশ সংযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্টারলিংক সহায়তা করতে প্রস্তুত। ভারতের সবচেয়ে দুর্গম এলাকার মানুষও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট পাওয়ার অধিকার রাখে। ৭ অক্টোবর ভারতের মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬-এ বক্তব্য দেন স্টারলিংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার। তিনি বলেন, ভারতের নিরাপত্তা ও অন্যান্য নিয়মকানুন মেনে স্টারলিংক দেশটির জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করেছে। ভারতে ২০টি গেটওয়ে সাইটও তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ড্রেয়ার বলেন, ‘ভারতের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং অন্যান্য নিয়মকানুন বিবেচনায় নিয়ে আমরা ভারতের জন্য বিশেষভাবে আমাদের স্টারলিংক কার্যক্রম তৈরি করেছি। প্রতিটি স্তরেই ভারতের জন্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভারতীয় ব্যবহারকারীদের তথ্যও ভারতের মধ্যেই রাখা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করেছি এবং প্রয়োজনীয় স্থলভিত্তিক অবকাঠামো তৈরি করেছি। ২০টি গেটওয়ে সাইটে শত শত অ্যান্টেনা রয়েছে। ভারতকে সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও আমরা প্রস্তুত করেছি।’ ভারতের ডিজিটাল খাতে অগ্রগতির প্রশংসা করে ড্রেয়ার বলেন, ‘ডিজিটাল ক্ষেত্রে ভারত যা অর্জন করেছে, তা অসাধারণ।’ তিনি জানান, গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে কাজ করছে স্টারলিংক। ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের কার্যক্রম সাজাতেই তারা এভাবে কাজ করছে। ড্রেয়ার বলেন, পুরো ভারতে ১০০ শতাংশ সংযোগ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী মোদির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করতে স্টারলিংক প্রস্তুত। প্রত্যন্ত এলাকার শ্রেণিকক্ষকে ইন্টারনেটের আওতায় আনা, টেলিমেডিসিন সেবায় সহায়তা এবং দুর্যোগের পর যোগাযোগব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে স্টারলিংকের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ড্রেয়ার বলেন, ‘স্টারলিংকের মাধ্যমে মানুষ কয়েক বছরের মধ্যে নয়, কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংযুক্ত হতে পারে।’ এ বছরের জুনে ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারত স্টারলিংকের অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে-এমন খবরও নাকচ করেন ড্রেয়ার। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর বিষয়ে স্টারলিংক এখনো ভারত সরকারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে। সূত্র:  এএনআই নিউজ বিডি-প্রতিদিন/টিএ

ভারতের ‘উগ্রপন্থী’দের স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবহারের দাবি নাকচ করলেন ইলন মাস্ক
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream