ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
উড়োজাহাজে ছারপোকার উপদ্রব: ফ্লাইট বাতিল করলো কান্টাস

উড়োজাহাজে ছারপোকার উপদ্রব: ফ্লাইট বাতিল করলো কান্টাস

বিমানে ছারপোকার উপদ্রবের কারণে ইতালি থেকে অস্ট্রেলিয়াগামী কান্টাস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গত শুক্রবারের ফ্লাইটে যাত্রীদের কামড়ানোর অভিযোগ ওঠার পর শনিবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিডনি মর্নিং হেরাল্ড-এর তথ্য অনুযায়ী, পার্থ থেকে রোমের প্রায় ১৭ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রার সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী ছারপোকার কামড়ানোর অভিযোগ করেন। চুলকানি কমাতে তাদের অ্যান্টিহিস্টামিন দেওয়া হলেও একপর্যায়ে তার সরবরাহ ফুরিয়ে যায়। এর ফলে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটিকে গভীর পরিচ্ছন্নতার জন্য মাটিতে বসিয়ে রাখা হয়। এক বিবৃতিতে কান্টাসের এক মুখপাত্র বলেছেন, শনিবারের রোম-পার্থ ফ্লাইট বাতিলের জন্য আমরা গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। একটি ছোট সংখ্যার ইকোনমি সিটে সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পর আমাদের প্রকৌশলী ও রক্ষণাবেক্ষণ দলগুলোকে বিমানটিতে গভীর পরিচ্ছন্নতা চালানোর সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এয়ারলাইনসটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সব গ্রাহককে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মূল প্রস্থানের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিকল্প ফ্লাইটে পুনরায় বুকিং দেওয়া হয়েছে। ছারপোকা হলো ছোট, ডানাবিহীন পরজীবী যা কাপড়, আসবাবপত্র ও বিছানায় বাস করতে পারে। যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এদের কামড় চুলকানি সৃষ্টি করলেও সাধারণত গুরুতর কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করে না। তবে এগুলো নির্মূল করা বেশ কঠিন ও ব্যয়বহুল। ভ্রমণের ক্ষেত্রে ছারপোকার এমন বিশৃঙ্খলা নতুন নয়। এর আগে ইংল্যান্ডে সাউথইস্টার্ন ট্রেনের চালকদের ক্যাবে ছারপোকা পাওয়ার পর বেশ কিছু ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছিল। এ ছাড়া ২০১৭ সালে ভ্যানকুভার থেকে লন্ডনগামী ফ্লাইটে যাত্রীরা ছারপোকার কামড়ের শিকার হওয়ার ঘটনায় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ক্ষমা চেয়েছিল এবং গত বছর তুর্কি এয়ারলাইনসও তাদের বিমানে ছারপোকার উপদ্রব ও এ বিষয়ে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে বড় ধরনের সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

‘পশ্চিমা সভ্যতা’ নিয়ে বিপজ্জনক ভাবনা ছড়াচ্ছেন মার্কো রুবিও!

পশ্চিমা সভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে অতীতের অনুসন্ধান, বিজয় ও সম্প্রসারণের মানসিকতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তার মতে, পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের ঐতিহাসিক মূল্যবোধ নতুন করে ধারণ করতে না পারলে একসময় পতনের মুখে পড়তে পারে এবং বিশ্বে প্রাসঙ্গিকতা হারাতে পারে। তবে তার এ বক্তব্যের ঐতিহাসিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে সমালোচনা করেছেন লেখক টেড উইডমার। ৭ অক্টোবর গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে প্রাচীন অ্যাক্রোপলিসের পটভূমিতে দেওয়া এক ভাষণে রুবিও পশ্চিমা সভ্যতার অতীত গৌরব ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন। সূর্যাস্তের সোনালি আলোয় পার্থেনন মন্দিরকে পেছনে রেখে দেওয়া এ ভাষণে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। টেড উইডমারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রুবিওর বক্তব্যে গণতন্ত্রের ঐতিহ্যের চেয়ে অনুসন্ধান, বিজয়, সম্প্রসারণ এবং শক্তিমান ব্যক্তিদের নেতৃত্বের ধারণা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তার ভাষণে পশ্চিমা সভ্যতার অবক্ষয় নিয়ে এমন আক্ষেপ ফুটে উঠেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল চিন্তাধারার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আলোচনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। গণতন্ত্রের ঐতিহ্য বনাম বিজয়ের ধারণা রুবিওর বক্তব্যের সমালোচনা করে উইডমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা প্রাচীন গ্রিস ও রোমের সাহিত্য ও দর্শন থেকে গভীরভাবে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। তবে তাদের লক্ষ্য ছিল সমান অধিকারসম্পন্ন মানুষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, অন্য জাতি ও জনগোষ্ঠীর ওপর আধিপত্য বিস্তার নয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অন্যতম রচয়িতা টমাস জেফারসন রোমান দার্শনিক সিসেরোর চিন্তাধারার দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। সিসেরোর দর্শনে একই প্রজাতন্ত্রের নাগরিকদের সমান অধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গ্রিক গণিতবিদ ইউক্লিডের কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। ইউক্লিডের গাণিতিক যুক্তি ও সমতার ধারণা লিংকনের চিন্তায় প্রভাব ফেলেছিল বলে উল্লেখ করেছেন  টেড উইডমার। তার মতে, এসব ঐতিহাসিক উদাহরণ দেখায়, প্রাচীন সভ্যতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্য কেবল শক্তি ও বিজয়ের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা ছিল না; বরং স্বাধীনতা, যুক্তি ও সমতার ধারণাকেও তারা গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ‘পশ্চিমা সভ্যতা’ বলতে কী বোঝায় টেড উইডমার তার বিশ্লেষণে প্রশ্ন তুলেছেন, পশ্চিমা সভ্যতার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা কী। প্রাচীন গ্রিস ও রোমের উত্তরাধিকারকে পশ্চিমা পরিচয়ের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হলে রাশিয়ার মতো দেশকে সেই পরিসরের বাইরে রাখা কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। রুশ ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গেও প্রাচীন গ্রিস ও রোমের ঐতিহ্যের সম্পর্ক রয়েছে। একইভাবে, জার্মানির নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারও প্রাচীন গ্রিস ও রোমের সভ্যতার প্রতি গভীর আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। ১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকে তার এ আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছিল। নিজের বই মাইন কাম্ফ-এও তিনি প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা ও পারস্য যুদ্ধের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা তথাকথিত ‘উচ্চতর সংস্কৃতি’র প্রশংসা করেছিলেন। টেড উইডমারের যুক্তি, প্রাচীন সভ্যতার প্রতি শ্রদ্ধা কিংবা সেই সভ্যতার ঐতিহ্যকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করলেই কোনও রাজনৈতিক আদর্শের গণতান্ত্রিক চরিত্র নিশ্চিত হয় না। বরং ইতিহাসের এসব উপাদানকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বের অবদানও পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তি পশ্চিমা সভ্যতার বিকাশে অন্যান্য অঞ্চলের অবদানও তুলে ধরেছেন উইডমার। তার মতে, প্রাচীন গ্রিস ও রোমের জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশ বিচ্ছিন্নভাবে ঘটেনি। এর পেছনে পূর্বাঞ্চলীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। বর্তমান ইরাকের ভূখণ্ডে অবস্থিত প্রাচীন সুমের সভ্যতায় লেখার প্রাচীনতম ব্যবস্থাগুলোর বিকাশ ঘটেছিল। একইভাবে, গণিত ও বিজ্ঞানের বহু ধারণা বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করেছে। প্রাচীন গ্রিক ও পারসিকদের মধ্যে যুদ্ধ থাকলেও তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করেছিল। টেড উইডমারের মতে, পশ্চিমা সভ্যতার ইতিহাসকে কেবল ইউরোপীয় বিজয় ও সম্প্রসারণের ইতিহাস হিসেবে দেখলে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির বিকাশে অন্যান্য অঞ্চলের অবদান আড়ালে পড়ে যায়। ইরান যুদ্ধের বাস্তবতার সঙ্গে ভাষণের বৈপরীত্য রুবিও তার ভাষণে প্রাচীন গ্রিক যোদ্ধাদের একটি ছোট দলের বীরত্বের কাহিনি তুলে ধরেন, যারা পারসিক আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাক্রোপলিস রক্ষায় লড়েছিল। কিন্তু টেড উইডমারের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বীরত্বগাথা তুলে ধরার মধ্যে একধরনের বৈপরীত্য রয়েছে। তার নিবন্ধে যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিস্থিতি, বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সান ডিয়েগোতে ফিরে যাওয়া, ইংল্যান্ডের একটি ঘাঁটি থেকে ১২টি বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া এবং জাহাজ চলাচলে ইরানের হামলা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ এসেছে। একই সঙ্গে তেলের উচ্চমূল্যের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।  টেড উইডমারের মতে, আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, জুলিয়াস সিজার, শার্লেমেন ও এরনান কোর্তেসের মতো ঐতিহাসিক বিজেতাদের উদাহরণ দিয়ে শক্তি ও সম্প্রসারণের আদর্শ তুলে ধরা হলেও বর্তমান যুদ্ধের বাস্তবতা সেই আদর্শের সীমাবদ্ধতা সামনে আনছে। ‘মহান ব্যক্তি’ ও সাম্রাজ্যের পতনের ধারণা রুবিওর ভাষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে টেড উইডমার চিহ্নিত করেছেন ইতিহাসে ‘মহান ব্যক্তিদের’ ভূমিকার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা। তার মতে, রুবিওর বক্তব্যে এমন ধারণা ফুটে উঠেছে যে ইতিহাস নির্ধারিত হয় সেই নেতাদের হাতে, যারা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করেন এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীকে পরাজিত করেন। রুবিওর ভাষণে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, অদম্য উচ্চাকাঙ্ক্ষা, নতুন কিছু আবিষ্কার, ঝুঁকি গ্রহণ ও গৌরব অর্জনের আকাঙ্ক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। টেড উইডমারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের বক্তব্য কখনও কখনও ভিডিও গেমের কাহিনির মতো মনে হয়, যেখানে শক্তিশালী চরিত্ররা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের জন্য প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। টেড তবে উইডমার স্বীকার করেছেন, ইতিহাসে শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন, জাতীয় সাফল্য অর্জন এবং সাম্রাজ্যের পতন এড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারাও গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠাতা জন অ্যাডামস একবার লিখেছিলেন, “এখন পর্যন্ত এমন কোনও গণতন্ত্রের অস্তিত্ব ছিল না, যা আত্মহত্যা করেনি।” অর্থাৎ, গণতন্ত্রের ভেতর থেকেই তার পতনের কারণ তৈরি হতে পারে- এমন আশঙ্কা তার বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছিল। অতীতের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বক্তব্যও ছিল ভিন্ন মাত্রার ১৯১০ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট তার বিখ্যাত ‘ম্যান ইন দ্য অ্যারেনা’ বক্তব্যে এমন মানুষের প্রশংসা করেছিলেন, যিনি ব্যর্থতা ও ভুলের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সাহসের সঙ্গে চেষ্টা চালিয়ে যান। তার বক্তব্যে সাফল্যের পাশাপাশি চেষ্টা, অধ্যবসায় ও ব্যর্থতা থেকে শেখার গুরুত্বও ছিল। একইভাবে, ১৯৬১ সালে অভিষেক ভাষণে জন এফ. কেনেডি স্বাধীনতা রক্ষায় যেকোনও মূল্য দিতে, যেকোনও বোঝা বহন করতে এবং যেকোনও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতির কথা বলেছিলেন। টেড উইডমারের বিশ্লেষণে এসব বক্তব্যের সঙ্গে রুবিওর ভাষণের কিছু সাদৃশ্য থাকলেও মূল প্রশ্নটি থেকে যায়- পশ্চিমা সভ্যতার ভবিষ্যৎ কি সামরিক শক্তি, বিজয় ও আধিপত্যের আদর্শ পুনরুজ্জীবিত করার ওপর নির্ভরশীল, নাকি সমতা, গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করার ওপর? রুবিওর ভাষণকে ঘিরে এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে পশ্চিমা সভ্যতার পরিচয়, ইতিহাসের ব্যাখ্যা এবং বর্তমান বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

‘পশ্চিমা সভ্যতা’ নিয়ে বিপজ্জনক ভাবনা ছড়াচ্ছেন মার্কো রুবিও!

জেলেনস্কির ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান রাশিয়ার

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটাতে চায় তারা। একই সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ নিয়েও সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ক্রেমলিন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, মস্কো সাময়িক যুদ্ধবিরতি চায় না; বরং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে রাশিয়া প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। পেসকভ বলেন, “ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট পুতিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, আমরা যুদ্ধবিরতি চাই না। আমরা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চাই এবং তা অর্জনের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্রস্তুত।” রবিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাবের উদ্দেশ্য ছিল, যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ তৈরি করা। তবে রাশিয়া এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সাময়িকভাবে সংঘাত বন্ধের উদ্যোগটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে অবিশ্বাস অতীতেও দুই দেশের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সমঝোতা হলেও রাশিয়া তা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করে আসছে কিয়েভ। এ কারণে নতুন করে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে উদ্বেগ রয়েছে। অন্যদিকে, মস্কো বলছে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সমঝোতা প্রয়োজন, যা সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে পারে। তবে সেই শান্তিচুক্তির শর্ত কী হবে, সে বিষয়ে পেসকভের বক্তব্যে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ট্রাম্পের ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ নিয়ে নীরবতা এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ট্রাম্পের ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ নিয়েও পেসকভকে প্রশ্ন করা হয়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। জ্বালানি স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এ ধরনের যুদ্ধবিরতির আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে ক্রেমলিনের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন ও পরিধি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে মস্কো দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত বন্ধে নতুন কোনও সমঝোতা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

জেলেনস্কির ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান রাশিয়ার

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর ৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি

বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে প্রথমবারের মতো ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ফ্রান্স সরকার। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ৩ হাজার বাড়তি বদলি শিক্ষক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ প্রস্তাব দেন শিক্ষামন্ত্রী। হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের আরও একদিনের সহিংস বিক্ষোভ শেষে এ ঘোষণা এল। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, মাধ্যমিক শিক্ষাখাতে আরও বেশি বরাদ্দের দাবিতে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ৮৭৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের ৮৬ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের কম। ছাত্র ইউনিয়নগুলো তিন সপ্তাহের এই আন্দোলনের চতুর্থ পর্ব বলে অভিহিত করা বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে সারা দেশে প্রায় ৭১ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন। প্যারিসের বাস্তিলে জড়ো হন ২৪ হাজার মানুষ। পুলিশের ওপর পাথর ও হাতে তৈরি আতশবাজি নিয়ে হামলা চালানো দলগুলোকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। বোর্দোতে বিক্ষোভকারীরা একটি হাইস্কুলে ভাঙচুর চালায়। মার্সেইয়ে একজন উপপ্রধান শিক্ষককে মারধর করা হয়। শুক্রবার ৩ হাজার ৫০০ হাইস্কুলের মধ্যে প্রায় ১৪০টি পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ ছিলো, যা আগের কয়েক দিনের তুলনায় অনেক কম। তবে আগামী মঙ্গলবার আবার কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের বিষয়ে জেফ্রের ঘোষণাই প্রথম বাস্তব ছাড়। শিক্ষকের অনুপস্থিতি এবং বদলি কর্মী থাকা সত্ত্বেও তাদের জায়গায় কাউকে না দেওয়ায় অনেক ক্লাসের সময় নষ্ট হচ্ছে। ফরাসি শিক্ষাঙ্গনের সংশ্লিষ্ট সবাই দীর্ঘদিন ধরেই এটি স্বীকার করে আসছেন। মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ে নতুন সফটওয়্যার চালু হওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের তালিকায় থাকা প্রায় ৫০০ হাইস্কুলে ৩ হাজার বদলি শিক্ষক পাঠানো সম্ভব হবে। এর অনেকগুলোই অভিবাসী-অধ্যুষিত শহরতলিতে, যেখানে শিক্ষকের সংকট সবচেয়ে তীব্র। জেফ্রে আরও জানান, ঘাটতি পূরণে যেসব শিক্ষক বাড়তি সময় কাজ করতে চান, তাদের জন্য বিদ্যমান প্রকল্পের আওতায় আরও অর্থ বরাদ্দ করা হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ২০২৭ সালের রাষ্ট্রীয় বাজেটে শিক্ষাখাত নিয়ে আলোচনায় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিবেচনায় নেওয়া হবে। শিক্ষার্থী নেতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল অন্তত সতর্ক। তিনটি প্রধান হাইস্কুল ইউনিয়নের সবচেয়ে মধ্যপন্থী রনুভো স্কুলের প্রতিনিধি নাথানায়েল কমবারি বলেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কীভাবে পালিত হয়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন শিক্ষার্থীরা। তার ভাষ্য, আমাদের দাবির একটি অংশের সঙ্গে মেলে, এমন কিছু ঘোষণা এসেছে। তবে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ অর্থ ও আরও সুনির্দিষ্ট ফল দেখতে চায়। কয়েক বছরের মধ্যে ফ্রান্সে এটিই সবচেয়ে গুরুতর শিক্ষার্থী অন্দোলন। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ ও কৃষি খাতের দুর্দশাও বিক্ষোভের জন্ম দিতে পারে, এমন উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলন চলছে। আগামী শনিবার ১৭ অক্টোবর পুনরুজ্জীবিত ‘হলুদ জ্যাকেট’ আন্দোলন বিক্ষোভের দিন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর ৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি

ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বইমেলা শুরু হলো

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম বইমেলা শুরু হয়েছে। এই মেলা চলবে আগামী রবিবার (১১ অক্টোবর) পর্যন্ত। এবার এটি ৭৮তম আসর। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১৩০টি দেশের প্রায় চার হাজার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এবারের বইমেলার সম্মানিত অতিথি দেশ হলো চেক প্রজাতন্ত্র। তবে প্রতিবাদ, ক্ষুব্ধ দর্শকদের কটূক্তি এবং দাঁড়িয়ে অভিবাদনের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফ্রাঙ্কফুর্টে উদ্বোধন হয় ৭৮তম আন্তর্জাতিক বইমেলা। আজ বুধবার থেকে মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চেক প্রজাতন্ত্রের সংস্কৃতিমন্ত্রী ওতো ক্লেমপিরকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন দর্শকেরা। অন্যদিকে লেখক রাদকা ডেনেমারকোভা বক্তব্য দেওয়ার সময় বিপুল করতালি ও দাঁড়িয়ে অভিবাদনের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার ডায়ালগ স্টেজে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার পরিচালক ইউর্গেন বুস এবং জার্মান প্রকাশক ও বই বিক্রেতা সমিতির সেবাস্তিয়ান গুগোলজ। ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী প্রেস কনফারেন্সের ঠিক পরই, সম্মানিত অতিথি চেক প্রজাতন্ত্র প্যাভিলিয়নের একটি প্রেস ট্যুর অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার বিদায়ী পরিচালক ইউর্গেন বুস শেষবারের মতো প্রতীকী হাতুড়ির আঘাতের মাধ্যমে ২০২৬ সালের বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রতিবাদ ও ক্ষুব্ধ দর্শকদের কটূক্তির কারণ ছিল এবারের বইমেলার সম্মানিত অতিথি দেশ চেক প্রজাতন্ত্রের সংস্কৃতিমন্ত্রী ওতো ক্লেমপিরের বক্তব্য। তাঁকে ঘিরে আগে থেকেই ব্যাপক আগ্রহ ও বিতর্ক ছিল। তিনি দেশটির উগ্র ডানপন্থী ‘মোটরিস্টে’ দলের সদস্য। চেক প্রজাতন্ত্রের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিরুদ্ধে নীতিমালা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ও চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অর্থায়নকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগও তাঁকে সমালোচনার সম্মুখীন করেছে। তার প্রতিফলন দেখা যায় ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। চেক লেখক রাদকা ডেনেমারকোভা ছিলেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা। সংস্কৃতিমন্ত্রী ক্লেমপিরের বক্তব্যের পরপরই তিনি নিজের বক্তৃতা শুরু করেন। তাঁর প্রথম কথাতেই উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘যেসব রাষ্ট্রের মন্ত্রী সংস্কৃতিকে ধ্বংস করেন, তাঁরা আসেন আবার চলে যান—কিন্তু সাহিত্য থেকে যায়।’ ইউরোপের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে ডেনেমারকোভা প্রশ্ন করেন, ‘ইউরোপ যখন ক্রমশ উগ্র ডানপন্থার দিকে ঝুঁকছে, যখন চেক সরকারের দুই সাবেক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তা মন্ত্রিসভায় রয়েছেন, তখন রাজনীতি ও সাহিত্যকে আমি কীভাবে আলাদা করব?’ তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি তাঁকে ক্লান্ত ও বিরক্ত করেছে। দর্শকদের করতালির মধ্যে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের ক্ষমতাসীনদের জীবন কঠিন করে তুলতে হবে।’ সাহিত্যের শক্তির কথা তুলে ধরে ডেনেমারকোভা বলেন, ‘গ্রন্থাগার পুড়িয়ে দেওয়া হলো নির্বুদ্ধিতার সবচেয়ে সহজ পথ।’ এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন শান্ত মাথা, স্বচ্ছ চিন্তা, সৃজনশীল মনন এবং সাহসী, স্বাধীন প্রকাশনা সংস্থা।’ তাঁর বক্তব্যের পর দর্শকেরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ করতালি দিয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান। ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা হলো আন্তর্জাতিক প্রকাশনার বৃহত্তম বাণিজ্য মেলা। এটি শিক্ষা, চলচ্চিত্র, গেমস, বিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞ তথ্য ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের জন্য একটি আন্তসংস্কৃতি বা আন্তশিল্প মিলনস্থল। ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বইমেলা আয়োজনের পেছনে জার্মান প্রকাশকদের বড় অবদান রয়েছে। ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা জার্মান প্রকাশক ও বই বিক্রেতা সমিতির একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম বইমেলা। বইমেলার কারণে প্রতিবছর অক্টোবর মাসে মাইন নদীর তীরের ফ্রাঙ্কফুর্ট শহর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জগতের কেন্দ্রে পরিণত হয়। বছরের এই সময়ে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা হয়ে ওঠে বিশ্বের নতুন চিন্তা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতার মিলনকেন্দ্র। উপন্যাস থেকে শুরু করে শিশুতোষ বই এবং বৈজ্ঞানিক ডেটাবেজ—সব ধরনের উপাদানের জন্য এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র। এখানে বিশ্বব্যাপী প্রকাশনা জগতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রযুক্তি খাত এবং চলচ্চিত্র ও গেমসের মতো সংশ্লিষ্ট সৃজনশীল শিল্পের অংশীদারদের মিলন ঘটে। এখান থেকেই নতুন সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক মডেলের যাত্রা শুরু হয়। আজকের এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ব বইমেলার রয়েছে সুপ্রাচীন ইতিহাস। ষোড়শ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বইকে ঘিরে ইউরোপীয় বুদ্ধিজীবী অভিজাতদের মিলনের স্থল ছিল ফ্রাঙ্কফুর্ট। ইউরোপের অধ্যাপক, পণ্ডিত, আর্কাইভার এবং ধর্মযাজকেরা তাঁদের লেখা বই আকারে প্রকাশ করা বা প্রকাশক খুঁজতে কিংবা তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে মাইন নদীর তীরবর্তী শহর ফ্রাঙ্কফুর্টে একত্র হতেন। তবে সে সময় সাধারণ মানুষের জন্য বইপত্র নাগালের বাইরে ছিল। বইকে ঘিরে ফ্রাঙ্কফুর্টের ঘরানা যখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলো ছড়াতে শুরু করল, তখন সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ম্যাক্সিমিলিয়ান রাজতন্ত্রবিরোধী ‘তাত্ত্বিক লেখার’ বিস্তার রোধে সেন্সরশিপ আরোপ করেছিলেন। মধ্য ইউরোপের আধিপত্য নিয়ে ফরাসি-হাবসবার্গ রাজাদের ৩০ বছরের ধর্মযুদ্ধের ফলে ফ্রাঙ্কফুর্টের বইভিত্তিক চর্চাকেন্দ্র জার্মানির আরেক শহর লাইপজিগে কেন্দ্রীভূত হয়। লাইপজিগ তখন বুদ্ধিবৃত্তিক সাহিত্যচর্চা ও বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ ইয়োহান সেবাস্তিয়ান বাখ প্রমুখের কারণে সাহিত্য-সংগীতের আরেক চারণভূমিতে পরিণত হয়। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির পর আবারও ৩০০ বছর আগের ফ্রাঙ্কফুর্টের বইকেন্দ্রিক সংস্কৃতি ফিরে আসতে শুরু করে। ১৯৪৯ সালের ১৮-২৩ সেপ্টেম্বর ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত পাউল গির্জায় ২০৫টি প্রকাশনার ৮৪৪টি বই প্রদর্শনের মাধ্যমে বইমেলার যাত্রা শুরু হয়।

ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বইমেলা শুরু হলো
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream