ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অনলাইন আক্রমণের শিকার আর্জেন্টিনা!

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অনলাইন আক্রমণের শিকার আর্জেন্টিনা!

বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের পাশাপাশি অনলাইনে আক্রমণ কিংবা বিদ্বেষের বড় লক্ষ্যবস্তু ছিল আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। রেফারির পক্ষপাত, দুর্নীতি ও ভিনদেশি হিসেবে বিদ্বেষের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছে ২০২২ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। ৯ অক্টোবর প্রকাশিত ফিফার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। ফিফার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সুরক্ষা পরিষেবা (এসএমপিএস) ৯ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও টিকটকে প্রকাশিত ১ কোটি ৭১ লাখের বেশি পোস্ট ও মন্তব্য বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৭৭ হাজার পোস্ট ও মন্তব্য মানুষের মাধ্যমে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। সেগুলোর মধ্যে ২ লাখ ৪০ হাজারকে নিশ্চিতভাবে আপত্তিকর বলে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনলাইনে সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার দলের তালিকায় আর্জেন্টিনার পরেই রয়েছে ইংল্যান্ড। এরপর স্পেন, ব্রাজিল ও নরওয়ে। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের আগে ৯ অক্টোবর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ফিফা। টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলোয়াড়, কোচ, দলের প্রতিনিধি ও ম্যাচ অফিশিয়ালদের বিরুদ্ধে অনলাইনে বিদ্বেষ ছড়ানোর ব্যাপকতা তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ নেয় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। আর্জেন্টিনাকে লক্ষ্য করে ছড়ানো বিদ্বেষের বড় অংশজুড়ে ছিল তাদের রেফারি, ফিফা ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ। পাশাপাশি সাধারণ গালিগালাজ ও বিদেশিবিদ্বেষমূলক মন্তব্যও ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে দলভিত্তিক তালিকার সঙ্গে ব্যক্তিগত খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে অনলাইন আক্রমণের পরিসংখ্যানে পার্থক্য রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন ফ্রান্সের ফুটবলাররা। এরপর রয়েছেন ইংল্যান্ড ও পর্তুগালের খেলোয়াড়েরা। এ তালিকায় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের অবস্থান চতুর্থ। টুর্নামেন্ট ঘিরে বৈষম্যমূলক বক্তব্যের ব্যাপকতাও তুলে ধরেছে ফিফার প্রতিবেদন। শ্রেণিবদ্ধ বিদ্বেষমূলক কনটেন্টের ২০ শতাংশ ছিল বর্ণবাদী মন্তব্যে ভরা। এছাড়া ১৪ শতাংশ ছিল সহিংসতার হুমকি এবং ১২ শতাংশ ভিনদেশিবিদ্বেষমূলক আক্রমণ। অনলাইন আক্রমণের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিলেন ম্যাচ অফিশিয়ালরা। সবচেয়ে গুরুতর ধরনের বিদ্বেষমূলক ঘটনার ৭১ শতাংশের শিকার হয়েছেন তারা। তাদের কেউ কেউ ডক্সিংয়েরও শিকার হয়েছেন। সাধারণত ব্যক্তিগত বা গোপন তথ্য বিদ্বেষমূলকভাবে প্রকাশ করে কাউকে আরও হয়রানি কিংবা হুমকির ঝুঁকিতে ফেলার প্রক্রিয়াকে ডক্সিং বলা হয়। ফিফা জানিয়েছে, তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সুরক্ষা পরিষেবার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের অর্ধেকেরও বেশি অন্তত একটি বিদ্বেষমূলক বার্তা পেয়েছেন। গুরুতর বা হুমকিমূলক কনটেন্ট প্রকাশকারী অ্যাকাউন্টগুলোও শনাক্ত করে পরবর্তী তদন্তের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় কিছু ঘটনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি মূলত ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনলাইনে বিদ্বেষ ছড়ানোর ব্যাপকতা তুলে ধরেছে। 

Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream