ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
তিন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল করলো আমেরিকান এয়ারলাইন্স

তিন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল করলো আমেরিকান এয়ারলাইন্স

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যাত্রী মন্দার কারণে এ বছর তিনটি প্রধান গন্তব্যে ফ্লাইট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ সংস্থা আমেরিকান এয়ারলাইন্স। এই তালিকার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম দীর্ঘতম দূরত্বের নন-স্টপ ফ্লাইটও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক এই এয়ারলাইন্সটি চলতি বছরে তাদের অভ্যন্তরীণ একটি এবং আন্তর্জাতিক দুটি রুটে সেবা বন্ধের ঘোষণা দেয়। বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মারিয়া (এসএমএক্স) এবং গত আগস্টে মেক্সিকোর টিজুয়ানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালানো বন্ধ করে সংস্থাটি। তবে তাদের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত ছিল কাতারের দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সেবা স্থগিত করা। মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং আশানুরূপ ব্যবসা না হওয়ায় গত মার্চে ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দোহার ১৪.৫ ঘণ্টার দীর্ঘ নন-স্টপ সেবাটি বাতিল করে সংস্থাটি। ৬ হাজার ৭৯৮ মাইলের এই রুটটি ফিলাডেলফিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া দীর্ঘতম ফ্লাইট ছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের জোট সঙ্গী কাতার এয়ারওয়েজ আগস্ট থেকে ফিলাডেলফিয়া-দোহা রুটে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। মূলত ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক রুট বন্ধে একা আমেরিকান এয়ারলাইন্সই নয়; সেবা স্থগিত করেছে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সও। এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দর থেকে তাবিভগামী ফ্লাইট বন্ধ করেছিল আমেরিকান এয়ারলাইন্স, যা ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়িক অলাভজনকতার কারণে ফিনিক্স থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মারিয়ায় অভ্যন্তরীণ রুট দুটি বন্ধ করা হয়। ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত চলা সান্তা মারিয়া রুটটি পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে তিনটি রুট বন্ধ করলেও ২০২৭ সাল থেকে নতুন সাতটি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট শুরুর কথা জানিয়েছে আমেরিকান এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে ফিলাডেলফিয়া থেকে পর্তুগালের পোর্তো, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবং আইসল্যান্ডের রেইকিয়াভিক রুটে নতুন করে সেবা যুক্ত হতে যাচ্ছে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট

দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ডলারের দর

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত এবং চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বিশ্ববাজারে ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দরের কাছাকাছি অবস্থান করছে মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবে হামলা জোরদার করার পর তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি ০.৫ শতাংশ কমে ১০৪ ডলারে নেমে এসেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেন-রাশিয়া ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’র ঘোষণার কারণে দাম কিছুটা কমলেও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তা এখনো প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি রয়েছে। ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের সূচক সামান্য কমে ১০২.১৬ পয়েন্টে দাঁড়ালেও এটি গত সপ্তাহে অর্জিত দেড় বছরের শীর্ষ অবস্থানের কাছাকাছিই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজার নিয়ামক সংস্থার তথ্য অনুসারে, ৭ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে ডলারের ওপর বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক বাজি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে, যা তিন সপ্তাহ আগেও ছিল ৮৪০ কোটি ডলার। এমইউএফজি-এর কারেন্সি স্ট্র্যাটেজিস্ট লি হার্ডম্যান বলেন, বিদেশি নেতিবাচক পরিস্থিতির কারণে সম্প্রতি মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে, যা এর আবেদন বাড়িয়েছে। আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রতিবেদন চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভের নীতি নির্ধারণী বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও সুদের হারের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। গত মাসে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়ায় ফেড। এ বিষয়ে পেপারস্টোনের গবেষণা প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, অক্টোবরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কম। তবে মূল্যস্ফীতির তথ্য বেশি এলে প্রশ্ন উঠবে তারা আবার জানুয়ারিতে সুদের হার বাড়াবে কি না। অন্যদিকে ইউরো স্থিতিশীল হয়ে ১.১২ ডলারে লেনদেন হলেও ফ্রান্সের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আর্থিক পরিস্থিতির কারণে এটি টানা পঞ্চম সপ্তাহে লোকসানের মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে ওসিবিসি ব্যাংকের ফরেক্স কৌশলবিদরা জানান, ঋণের চড়া মূল্য ফরাসি সরকারের ওপর বৃহত্তর রাজকোষীয় শৃঙ্খলা আরোপের জন্য যথেষ্ট হবে কি না, তা এখনই বলা কঠিন। জাপানে ছুটির কারণে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর ১৫৮.৪১ ইয়েনে স্থির থাকলেও পাউন্ডের দর ০.১ শতাংশ বেড়ে ১.৩২৪৪ ডলার হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৫.৭ রুপিতে পৌঁছেছে।

দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ডলারের দর

ইসাইয়াসের আঘাতে নি/হত চার, বিদ্যুৎহীন প্রায় ৭ লাখ

স্থলভাগে আঘাত হানার পর ঝড়টি দুর্বল হয়ে পোস্ট-ট্রপিক্যাল সাইক্লোনে পরিণত হলেও শনিবার হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ পর্যবেক্ষণ সেবার তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডা, আলাবামা, জর্জিয়া ও মিসিসিপির প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার বাসিন্দা এখনও বিদ্যুৎহীন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুজনের মৃত্যু হয়েছে বাড়ির ওপর গাছ পড়ে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস জানান, স্থলভাগে আঘাতের কিছুক্ষণ পর পর্যন্ত রাজ্যের কর্তৃপক্ষ কোনও অনুসন্ধান ও উদ্ধারের অনুরোধ পায়নি, যা সীমিত ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত। তবে বিপজ্জনক পরিস্থিতি রয়ে গেছে। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু অংশে জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, ক্ষতিকর বাতাস এবং টর্নেডোর ঝুঁকি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এনএইচসি জানায়, শনিবার ফ্লোরিডা প্যানহ্যান্ডল, জর্জিয়া ও ক্যারোলাইনার কিছু অংশে টর্নেডোর হুমকি অব্যাহত থাকবে। ফ্লোরিডায় বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। মহাসড়ক, সেতু ও বিমানবন্দর আবার খুলে দেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে। তালাহাসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিস্যান্টিস বলেন, তারা আজ সকালে মূল্যায়ন করবে। আমার মনে হয়, এতে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার কত দ্রুত হবে, সে সম্পর্কে ভবিষ্যতের একটা ভালো ধারণা পাওয়া যাবে। তিনি জানান, ঝড় মোকাবিলায় প্রায় ১৬ হাজার বিদ্যুৎ লাইনকর্মী প্রস্তুত ছিলেন। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন এক্সে জানান, ফ্লোরিডা ও আলাবামায় আইসাইয়াস মোকাবিলায় ফেডারেল সম্পদ পাওয়া নিশ্চিত করতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা অনুমোদন করা হয়েছে। ফক্স নিউজকে ডিস্যান্টিস বলেন, ঝড়-পরবর্তী অনেক বিপদও আছে, যে বিষয়ে মানুষের সতর্ক থাকা উচিত। তবে এ পর্যন্ত আমরা অনেক সম্পদ প্রস্তুত রেখেছি, যেগুলো ব্যবহারের প্রয়োজন পড়েনি। উপকূলীয় শহর পেনসাকোলায় পানীয় জলের অভাব সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান মেয়র। ফ্লোরিডার দশম বৃহত্তম পেনসাকোলা বিমানবন্দর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ থাকবে।

ইসাইয়াসের আঘাতে নি/হত চার, বিদ্যুৎহীন প্রায় ৭ লাখ

হরমুজ প্রণালিতে বিধ্বস্ত ২৪ কোটি ডলারের মার্কিন নজরদারি ড্রোন

পারস্য উপসাগর এলাকায় নজরদারির সময় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত ৯ এপ্রিল, যা নিশ্চিত করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা সংস্থা।বিধ্বস্ত ড্রোনটি ছিল MQ-4C Triton মডেলের, যা দীর্ঘ সময় আকাশে থেকে উচ্চমাত্রার নজরদারি চালাতে সক্ষম। উন্নত প্রযুক্তির কারণে এটি সামরিক মহলে ‘ডানাযুক্ত স্যাটেলাইট’ নামেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান Northrop Grumman এই ড্রোনটি নির্মাণ করেছে। প্রতিটি ইউনিটের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৪ কোটি মার্কিন ডলার।মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্যমতে, ড্রোনটি ইতালির সিসিলি দ্বীপে অবস্থিত সিগোনেল্লা নৌঘাঁটি থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। হরমুজ প্রণালিতে নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে প্রায় তিন ঘণ্টার একটি মিশনে পাঠানো হয়েছিল এটিকে।মিশন শেষে ঘাঁটিতে ফেরার পথে ড্রোনটি হঠাৎ জরুরি সংকেত পাঠাতে শুরু করে। এরপর সেটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় ড্রোনটি হঠাৎ কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায় এবং এরপর আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।এই ঘটনাকে মার্কিন নৌবাহিনী “ক্লাস-এ দুর্ঘটনা” হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা সাধারণত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা সম্পূর্ণ ধ্বংসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।তবে ড্রোনটি শত্রুপক্ষের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র দুই দিনের মাথায় এই ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে বিধ্বস্ত ২৪ কোটি ডলারের মার্কিন নজরদারি ড্রোন
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream