ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
মালয়েশিয়ায় ১০ মাসে আটক ৬৫ হাজার বিদেশি

মালয়েশিয়ায় ১০ মাসে আটক ৬৫ হাজার বিদেশি

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযানে তাদের আটক করা হয়।  এ সময়ে ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অব্যাহত অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশটির অভিবাসন ডিপোগুলোর ধারণক্ষমতা নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৮৭ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৩৮টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে দৈনিক গড়ে ৫১১ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই এবং ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। লোকমান এফেন্দি বলেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন লঙ্ঘন প্রতিরোধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে যেসব অপরাধ বেশি শনাক্ত হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে বৈধ ভ্রমণ নথি বা মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং পাস বা ওয়ার্ক পারমিটের অপব্যবহার। তিনি জানান, অভিযানে আটক ও দেশে ফেরত পাঠানো বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাগরিক উল্লেখযোগ্য। নির্মাণ, সেবাসহ বিভিন্ন খাতের কর্মস্থলে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। লোকমান এফেন্দি জানান, কেলান্তান রাজ্যের কুবাং কেরিয়ানে ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়ার বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণস্থলে অভিযান চালিয়ে ৫৭ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৫৫ জনকে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ পথে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় মিয়ানমারের ১১ নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে অন্য ১০ জনকে অবৈধ পথে দেশ থেকে বের করে নেওয়ার কাজে যুক্ত পরিবহণকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকাফ চে ইয়ে এলাকার একটি হোটেলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। অন্য ১০ জন জোহর বাহরু ও কুয়ালালামপুর থেকে এসে ওয়াকাফ চে ইয়েতে অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। লোকমান এফেন্দি বলেন, প্রত্যেকের কাছ থেকে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার জন্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নেওয়ার কথা জানা গেছে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাদের গতিবিধি শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আরও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ধারণক্ষমতার চাপে অভিবাসন ডিপো এদিকে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনার ফলে দেশটির অভিবাসন ডিপোগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। বর্তমানে দেশজুড়ে এসব ডিপোর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার জন। কিন্তু ধারাবাহিক অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সেখানে রাখার কারণে বিভিন্ন ডিপোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান শনাক্ত করতে অভিবাসন বিভাগ তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশেষ এলাকাভিত্তিক মানচিত্র তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে বিদেশিরা কোথায় বসবাস করেন, অবস্থান করেন কিংবা একত্র হন, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ পাস ব্যবহার, অনুমতিপত্রের অপব্যবহার এবং শরণার্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তবে প্রত্যেকের আইনগত অবস্থান ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। সাইফুদ্দিন নাসুতিওন বলেন, অভিবাসন আইন প্রয়োগের এসব অভিযানে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষও অংশ নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনগত অবস্থান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তরুণদের মধ্যে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ উদ্বেগজনক এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার ৪১টি কারাগারে প্রায় ৯০ হাজার বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে আনুমানিক ৭৫ শতাংশ মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত। তিনি বলেন, বন্দিদের বড় একটি অংশ বিপজ্জনক মাদক আইন, ১৯৫২-এর ১৫(১), ১২ ও ৩৯ ধারায় সংশ্লিষ্ট অপরাধে দণ্ডিত বা আটক রয়েছেন। কেলান্তান রাজ্যের কোটা ভারুর পেঙ্গকালান চেপা কারাগার দেশটির অতিরিক্ত ভিড়ের মুখে থাকা কারাগারগুলোর একটি। কারাগারের বন্দিদের বয়সভিত্তিক তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সিরা সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। এমনকি ১৫ বছরের কম বয়সিদের মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক। বেকার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদকের অপব্যবহারের প্রবণতা বেশি বলেও তথ্য তুলে ধরেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার বেশি দেখা যাচ্ছে। পশ্চিম উপকূলে কৃত্রিম ও অ-কৃত্রিম—উভয় ধরনের মাদকের ব্যবহার রয়েছে। সহজলভ্যতার কারণে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, কেলান্তান, কেদাহ, পারলিস ও তেরেঙ্গানু রাজ্যে প্রতি এক লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। কেদাহর পেনদাং জেলায় এ হার সর্বোচ্চ এবং কেলান্তানের কুয়ালা ক্রাই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া কেলান্তানের তুমপাত, তানাহ মেরাহ ও বাচোক এবং তেরেঙ্গানুর বেসুত জেলায় প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় এ হার এক হাজারের বেশি। সাইফুদ্দিন নাসুতিওন বলেন, এসব তথ্যের ভিত্তিতে মাদক প্রতিরোধ ও আইন প্রয়োগের কার্যক্রম আরও লক্ষ্যভিত্তিক করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থা, পুলিশ ও রাজ্য সরকারগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়ায় একদিকে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে আটক ব্যক্তিদের রাখার অবকাঠামো এবং কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

মালয়েশিয়ায় ১০ মাসে আটক ৬৫ হাজার বিদেশি

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযানে তাদের আটক করা হয়।  এ সময়ে ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অব্যাহত অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশটির অভিবাসন ডিপোগুলোর ধারণক্ষমতা নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৮৭ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৩৮টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে দৈনিক গড়ে ৫১১ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই এবং ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। লোকমান এফেন্দি বলেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন লঙ্ঘন প্রতিরোধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে যেসব অপরাধ বেশি শনাক্ত হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে বৈধ ভ্রমণ নথি বা মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং পাস বা ওয়ার্ক পারমিটের অপব্যবহার। তিনি জানান, অভিযানে আটক ও দেশে ফেরত পাঠানো বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাগরিক উল্লেখযোগ্য। নির্মাণ, সেবাসহ বিভিন্ন খাতের কর্মস্থলে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। লোকমান এফেন্দি জানান, কেলান্তান রাজ্যের কুবাং কেরিয়ানে ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়ার বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণস্থলে অভিযান চালিয়ে ৫৭ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৫৫ জনকে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ পথে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় মিয়ানমারের ১১ নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে অন্য ১০ জনকে অবৈধ পথে দেশ থেকে বের করে নেওয়ার কাজে যুক্ত পরিবহণকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকাফ চে ইয়ে এলাকার একটি হোটেলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। অন্য ১০ জন জোহর বাহরু ও কুয়ালালামপুর থেকে এসে ওয়াকাফ চে ইয়েতে অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। লোকমান এফেন্দি বলেন, প্রত্যেকের কাছ থেকে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার জন্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নেওয়ার কথা জানা গেছে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাদের গতিবিধি শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আরও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ধারণক্ষমতার চাপে অভিবাসন ডিপো এদিকে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনার ফলে দেশটির অভিবাসন ডিপোগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। বর্তমানে দেশজুড়ে এসব ডিপোর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার জন। কিন্তু ধারাবাহিক অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সেখানে রাখার কারণে বিভিন্ন ডিপোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান শনাক্ত করতে অভিবাসন বিভাগ তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশেষ এলাকাভিত্তিক মানচিত্র তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে বিদেশিরা কোথায় বসবাস করেন, অবস্থান করেন কিংবা একত্র হন, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ পাস ব্যবহার, অনুমতিপত্রের অপব্যবহার এবং শরণার্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তবে প্রত্যেকের আইনগত অবস্থান ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। সাইফুদ্দিন নাসুতিওন বলেন, অভিবাসন আইন প্রয়োগের এসব অভিযানে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষও অংশ নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনগত অবস্থান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তরুণদের মধ্যে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ উদ্বেগজনক এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার ৪১টি কারাগারে প্রায় ৯০ হাজার বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে আনুমানিক ৭৫ শতাংশ মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত। তিনি বলেন, বন্দিদের বড় একটি অংশ বিপজ্জনক মাদক আইন, ১৯৫২-এর ১৫(১), ১২ ও ৩৯ ধারায় সংশ্লিষ্ট অপরাধে দণ্ডিত বা আটক রয়েছেন। কেলান্তান রাজ্যের কোটা ভারুর পেঙ্গকালান চেপা কারাগার দেশটির অতিরিক্ত ভিড়ের মুখে থাকা কারাগারগুলোর একটি। কারাগারের বন্দিদের বয়সভিত্তিক তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সিরা সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। এমনকি ১৫ বছরের কম বয়সিদের মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক। বেকার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদকের অপব্যবহারের প্রবণতা বেশি বলেও তথ্য তুলে ধরেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার বেশি দেখা যাচ্ছে। পশ্চিম উপকূলে কৃত্রিম ও অ-কৃত্রিম—উভয় ধরনের মাদকের ব্যবহার রয়েছে। সহজলভ্যতার কারণে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, কেলান্তান, কেদাহ, পারলিস ও তেরেঙ্গানু রাজ্যে প্রতি এক লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। কেদাহর পেনদাং জেলায় এ হার সর্বোচ্চ এবং কেলান্তানের কুয়ালা ক্রাই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া কেলান্তানের তুমপাত, তানাহ মেরাহ ও বাচোক এবং তেরেঙ্গানুর বেসুত জেলায় প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় এ হার এক হাজারের বেশি। সাইফুদ্দিন নাসুতিওন বলেন, এসব তথ্যের ভিত্তিতে মাদক প্রতিরোধ ও আইন প্রয়োগের কার্যক্রম আরও লক্ষ্যভিত্তিক করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থা, পুলিশ ও রাজ্য সরকারগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়ায় একদিকে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে আটক ব্যক্তিদের রাখার অবকাঠামো এবং কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

মালয়েশিয়ায় ১০ মাসে আটক ৬৫ হাজার বিদেশি

নিজ বাসা থেকে আটক ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে

ভারতের দিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ (জাতীয় পতাকা ওড়াও) মিছিল শুরুর কয়েক মিনিট আগে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিজ বাড়ি থেকে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এনডিটিভি জানিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দীপকের দ্বিতীয়বার আটক হওয়ার ঘটনা। এর আগে, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে আটক করা হয়েছিল। এবারের মিছিল আয়োজনের অন্যতম কারণ ছিল সিজেপির দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার গ্রেপ্তার। গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে তাঁরা দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। এর এক দিন আগে ঐতিহাসিক স্থানটিকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মিছিলের আগে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে কর্মসূচি পালন না করার বিষয়ে একটি নোটিশ দেয়। এরপর তাঁকে আটক করা হয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএস) ১৬৩ ধারায় জারি করা নোটিশে বলা হয়—দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসের আশপাশে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত ‘তিরঙ্গা যাত্রা’র জন্য নয়াদিল্লি পৌর পরিষদ (এনডিএমসি) অনুমতি দেয়নি। এ অবস্থায় ককরোচ জনতা পার্টি মিছিল নিয়ে এগোলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। নোটিশে আরও বলা হয়, জাতীয় পতাকা ওড়ানো আইনবিরুদ্ধ নয়। তবে অনুমতি ছাড়া মিছিল করা এবং জনসমাগম ঘটানো নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনি পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে ‘ফ্ল্যাগ কোড’-এর বিধিনিষেধ সম্পর্কেও ৩১ বছর বয়সী এই নেতাকে অবহিত করা হয়। গায়ে গান্ধীর ছবি আঁকা সাদা টি-শার্ট ও জিনস পরা দীপকের কাঁধে ছিল ছোট একটি জাতীয় পতাকা। নিজের বসার ঘরে হলুদাভ রঙের সোফায় বসে পুলিশের দেওয়া নোটিশের কাগজপত্র পরীক্ষা করার সময় তিনি পুলিশের এক সদস্যকে প্রশ্ন করেন, ‘ক্যা আরোপ লাগা দিয়া হ্যায় আপনে মেরে ওপর?’ অর্থাৎ, ‘আপনারা আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ এনেছেন?’ জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের এই পদক্ষেপের পর দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের স্বাধীনতা এবং জনসমাবেশের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নিজ বাসা থেকে আটক ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে

চিৎকার শুনে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

বগুড়ার শেরপুরে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরে মো. সিরাজ (৬৪) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের নাকুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিরাজের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৪৩) বাদী হয়ে আজ শুক্রবার শেরপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আটক কাওসার আলী (২৬) ও তাঁর বাবা তোজাম সরকারকে (৫৫) আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি পাশের ধুনট উপজেলার গোয়ালভাগ গ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তোজাম সরকারের কাছ থেকে সিরাজের ছোট ভাই ছানোয়ার হোসেন (৫০) সুদে টাকা নিয়েছিলেন। সময়মতো সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছানোয়ারকে তাঁর ঘর থেকে বের করে বাড়ির আঙিনায় মারধর করতে থাকেন তোজাম ও তাঁর ছেলে কাওসার। এ সময় ছানোয়ারের চিৎকার শুনে বড় ভাই সিরাজ এগিয়ে আসেন। তখন তাঁকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত সিরাজ বাড়ির আঙিনায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মারধরে ছানোয়ারও আহত হন এবং তাঁকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল দিবাগত রাত দুইটার দিকে সিরাজের লাশ উদ্ধার করে। তাঁর বুকের ডান পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য আজ সকালে লাশটি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে এবং আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

চিৎকার শুনে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান, ১৯৯ বাংলাদেশিসহ আটক ৬৩০

মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যের কুলিম এলাকার পাদাং মেহায় নির্মাণাধীন এক ভবনে বড় অভিযান চালিয়ে ৬৩০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। আটকদের মধ্যে ১৯৯ জনই বাংলাদেশি। সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ‘অপস মেগা’ নামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের কেদাহ রাজ্য শাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। এতে অভিবাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ কেদাহ, পারলিস, পেরাক, কুয়ালালামপুর ও নেগেরি সেম্বিলানের মোট ১৫৯ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। অভিযান চলাকালে ৬৯৭ জনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৬৩০ জন বিদেশিকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে ৬২২ জন পুরুষ এবং আটজন নারী। জাতীয়তা অনুযায়ী আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চীনের ৩৯৬ জন (৩৯১ পুরুষ ও পাঁচ নারী)। এরপর বাংলাদেশের ১৯৯ জন (১৯৮ পুরুষ ও এক নারী)। এছাড়া পাকিস্তানের ১০, মিয়ানমারের সাত, ভারতের পাঁচ, ঘানার চার, নাইজেরিয়ার তিন, কেনিয়ার দুই, ইন্দোনেশিয়ার দুই নারী, নিউজিল্যান্ডের এক এবং সেনেগালের একজন পুরুষ রয়েছেন। আটকদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ছয়টি সমনও জারি করা হয়েছে। অভিযানের সময় কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লুকিয়ে পড়েন, কেউ আবার নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে উঠে যান। কিছু আটক ব্যক্তির উসকানিমূলক আচরণে কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তেজনাও তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়। অভিবাসন বিভাগ নিয়োগকর্তা, প্রধান ঠিকাদার ও উপ-ঠিকাদারদের সতর্ক করে বলেছে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের সময় সবার বৈধ ভ্রমণ নথি ও অনুমোদিত ওয়ার্ক পারমিট নিশ্চিত করতে হবে। অভিবাসন বিভাগের সব শর্তও মেনে চলতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিবাসন আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান, ১৯৯ বাংলাদেশিসহ আটক ৬৩০

ফটক টপকে যন্তর মন্তরে গিয়ে আবার আটক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস ও জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাকে আজ মঙ্গলবার সকালে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। তালাবদ্ধ ফটক টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করার পর তাঁদের আটক করা হয়। আশুতোষ রাঙ্কা এ নিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি, সৌরভ ও অজিঙ্ক শিন্ডে যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে ঢুকছেন। সেখানে ঢুকে জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন তাঁরা। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাঁদের বাধা দেন ও আটক করেন। ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আর কাউকে বিক্ষোভ সমাবেশ বা ধরনায় বসতে দেওয়া হবে না। গত রোববার দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়। যন্তর মন্তরের পরিবর্তে বিক্ষোভ-সমাবেশের জন্য অন্য তিনটি জায়গা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো, পুরান দিল্লির রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারির মাঠ ও পূর্ব দিল্লির সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট বা ‘সিবিডি’ ময়দান। এ নির্দেশিকা জারি করে দিল্লি পুলিশ বলেছে, এবার থেকে বিক্ষোভ দেখাতে হলে এ তিনটি জায়গার কোনো একটি বেছে নিতে হবে। অর্থাৎ সেন্ট্রাল বা মধ্য দিল্লির কোথাও আর বিক্ষোভের অনুমতি থাকল না।

ফটক টপকে যন্তর মন্তরে গিয়ে আবার আটক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা

কুষ্টিয়ায় সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিল জনতা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে সোহান হোসেন (২৬) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিন থেকে চারজন পালিয়ে যান। আটক সোহানের কাছ থেকে দুটি ধারালো হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার খলিসাকুণ্ডি ইউনিয়নের পিপুলবাড়ীয়া-বালিডাঙ্গা মাঠে এ ঘটনা ঘটে। আটক সোহান উপজেলার তারাগুনিয়া এলাকার গঙ্গারামপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন কালুর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে পিপুলবাড়ীয়া-বালিডাঙ্গা মাঠে একদল দুর্বৃত্ত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন—এমন খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে যান। পরে তাঁদের ধাওয়া করে সোহানকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন সোহানকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে দুটি ধারালো হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সজিব হোসেন বলেন, ‘রাতে সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতি চলছে—এমন খবর পেয়ে আমরা এলাকাবাসী সেখানে যাই। তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া করলে একজনকে আটক করতে পারি। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যান।’ স্থানীয় আশিক বলেন, ‘এই মাঠের মধ্যে মাঝেমধ্যে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয়রা নজরদারি করছিলাম। আজ তাঁদের একজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছি।’ দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পিপুলবাড়ীয়া-বালিডাঙ্গা মাঠে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় স্থানীয় লোকজন একজনকে আটক করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়ায় সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিল জনতা

খাইবার পাখতুনখোয়ায় ইমরানের দলের শতাধিক নেতাকর্মী আটক

পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের নেতাকর্মী। পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রদেশটিতে রোববার জরুরি অবস্থা জারির পর থেকে এসব নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই কর্মকর্তা বলেন, পিটিআইয়ের অন্তত ২৭৮ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। পিটিআই-শাসিত এই প্রদেশে ইমরানের মুক্তি দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলে। এর জেরে রোববার জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলটিতে সম্প্রতি সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে। জরুরি অবস্থা জারির কয়েক ঘণ্টা পর প্রাদেশিক সরকারের প্রধান সোহেল আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, আফ্রিদিকে শুরুতে সরকারি বাসভবনে হেফাজতে রাখা হয়েছিল। পরে অন্য একটি স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই কর্মকর্তা নতুন স্থানটির নাম প্রকাশে রাজি হননি। খাইবার পাখতুনখোয়া মূলত ইমরান খানের দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রাদেশিক সরকার অকার্যকর থাকবে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, প্রাদেশিক সরকার জঙ্গি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। এটি জরুরি অবস্থা জারির কারণ। অন্যদিকে, সাংবিধানিক পদক্ষেপটির তীব্র বিরোধিতা করেছে পিটিআই। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে। ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে কারাবন্দি আছেন ইমরান খান। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি থেকে শুরু করে সহিংসতায় উসকানির বেশ কয়েকটি অভিযোগ আছে। তবে ইমরান ও তাঁর আইনজীবীরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের দাবি, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

খাইবার পাখতুনখোয়ায় ইমরানের দলের শতাধিক নেতাকর্মী আটক

পার্কে বসে ছিলেন বিজেপি নেতার মেয়ে, আন্দোলনকারী ভেবে আটক

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অভিযানের মধ্যে পার্কে বসে থাকা অবস্থায় আটক হন বিজেপির সাবেক বিধায়ক বিক্রম সিংয়ের মেয়ে যশস্বিনী রাজে সিং। শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলা সাহিব গুরুদুয়ারার কাছে একটি পার্ক থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে কেশবপুরম থানায় নেওয়া হয় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে জানান যশস্বিনী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। কে এই যশস্বিনী রাজে সিং?যশস্বিনী উত্তর প্রদেশের বিজেপির সাবেক বিধায়ক বিক্রম সিংয়ের মেয়ে। তার বাবা রাজ্যটির ফতেহপুর সদর আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এর আগে জুন ও জুলাইয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেও অংশ নেন যশস্বিনী। ওই আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। সে সময় সিজেপির কর্মসূচির প্রতিও সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি। বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক আটকশনিবার যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। কর্মসূচি ঠেকাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তিন হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৪০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের চলাচল সীমিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থানে ব্যারিকেড এবং স্পাইক স্ট্রিপ বসানো হয়। এ ছাড়া যোগাযোগব্যবস্থা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। আটক হন চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীওসিজেপির বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে বিরোধী দলের চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও পুলিশের হাতে আটক হন। তারা হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং বামপন্থী নেতা পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার। দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে আটক হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ তাকে বিক্ষোভস্থলে যেতে বাধা দিলে তিনি একটি বাসস্ট্যান্ডে বসে পড়েন। পরে তাকে ও দলের পাঁচ সংসদ সদস্যকে পুলিশের বাসে তুলে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন। 

পার্কে বসে ছিলেন বিজেপি নেতার মেয়ে, আন্দোলনকারী ভেবে আটক

সবাই পুরুষ জেনেও উড়োজাহাজে সিজেপি নেতাদের ধরতে কেন নারী পুলিশ পাঠানো হলো

ভারতের রাজধানী দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ শনিবার এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রস্তাবিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট অবতরণের পরপরই ভেতরে ঢুকে দলের শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে এই বিশেষ অভিযানে পুলিশের একটি বড় নারী দলকে উড়োজাহাজে পাঠায় স্থানীয় প্রশাসন। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে আসছিলেন সিজেপি নেতারা। তবে কর্মসূচিটির কোনো অনুমতি না থাকলেও তা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় শহরজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে মোদি সরকার। পুলিশ সদস্যরা বিমানে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই উইন্ডো সিটে বসে থাকা সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে মোবাইলে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। তাঁর পাশে মাঝের আসনে বসেছিলেন সৌরভ দাস এবং অন্য পাশে আশুতোষ রাঙ্কা। পুলিশ দেখেই তাঁরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অন্তত এক ডজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদের ঘিরে রেখেছেন। বিমানেই এভাবে কেন আটক করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, দেশ কোন দিকে যাচ্ছে। বিমান থেকে সরাসরি আমাদের গ্রেপ্তার করতে এসেছে পুলিশ। ইন্দিরা গান্ধীর আমলেও এমন ঘটনা ঘটেনি। এটা স্রেফ একনায়কতন্ত্র।’ তিনি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, ‘আমি এখানে গ্রেপ্তার হতেই এসেছি, আমাকে গ্রেপ্তার করুন।’ এ সময় নারী পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত সংযতভাবে দীপকে ও তাঁর সঙ্গীদের শান্ত থাকার এবং সহযোগিতার অনুরোধ জানান। পরে তাঁদের আলাদা আলাদা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। উড়োজাহাজের ভেতরে পুরুষ কর্মকর্তাদের বদলে নারী সদস্য পাঠানোর পদক্ষেপকে পুলিশের অত্যন্ত কৌশলগত একটি চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছে ইন্ডিয়া টুডে। প্রথমত, সংকীর্ণ স্থানে সংঘর্ষ এড়ানো। বিমানের ভেতরের চলাচলের পথ বা আইল অত্যন্ত সংকীর্ণ। পুরুষ পুলিশ সদস্যরা গেলে হাতাহাতি বা সামান্য বাগ্‌বিতণ্ডাও দ্রুত বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারত। ধাক্কাধাক্কি বা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতেই নারী পুলিশ সদস্যদের সামনে রাখা হয়। দ্বিতীয়ত, জুলাইয়ের বিতর্কের নেতিবাচক ভাবমূর্তি কাটানো। গত ২০ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার সময় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনার পর সিজেপির অভিযোগ ছিল—পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তারা আন্দোলনকারী তরুণী ও কিশোরীদের বেধড়ক মারধর করেছেন এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলেছেন। তৃতীয়ত, জেন-জিদের সহানুভূতি ঠেকানো। সিজেপির সমর্থকগোষ্ঠীর সিংহভাগই তরুণ ও জেন-জি প্রজন্মের। তাই পুরুষ পুলিশ দিয়ে তাঁদের ওপর বলপ্রয়োগের নেতিবাচক ছবি ছড়াক, তা চায়নি প্রশাসন। নারী সদস্যদের দিয়ে অভিযান চালানোয় আন্দোলনকারীদের সেই প্রচারণার ধার অনেকটাই কমে গেছে। দিনের শুরুতে সিজেপির আইনি সেলের প্রধান রত্না সিং এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। রত্না সিং দাবি করেন, তিনি গাড়িতে ওঠার পরপরই পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি তাঁকে ঘিরে ফেলে। সব মিলিয়ে দিল্লিজুড়ে ইতিমধ্যে ২ হাজারের বেশি মানুষকে প্রতিরোধমূলক হিসেবে আটক করা হয়েছে। এদিকে সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে গোটা দিল্লি রাতারাতি একটি সুরক্ষিত দুর্গে পরিণত হয়েছে। পুরো রাজধানীতে মেট্রো রেল ও ট্রেন চলাচলে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। দিল্লির অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান গেট বন্ধ করা হয়েছে এবং নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকা ২৫০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। গত শুক্রবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যাতায়াত ব্যবস্থা ও ট্রেন বন্ধে সরকারের বিরুদ্ধে নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, সিজেপির এই বিক্ষোভে যোগ দিতে এসে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ থেকে বেশ কয়েকজন দলীয় সংসদ সদস্যসহ আটক করা হয়। পুলিশের বাধার মুখে তিনি একটি বাস স্ট্যান্ডেই ধরনায় বসে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনসহ অন্য এমপিদের সঙ্গে তাঁকে একটি পুলিশ বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেন্ট্রাল সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২৩ হাজারের বেশি সদস্য রাজধানী জুড়ে মোতায়েন রয়েছে। এর আগে সিজেপির জুলাই মাসের আন্দোলন কিংবা ২০২০-২১ সালের কৃষক আন্দোলনের চেয়েও এবার বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই আগাম আটকের কারণে এবার শহরে বড় ধরনের সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি দিল্লি পুলিশের।

সবাই পুরুষ জেনেও উড়োজাহাজে সিজেপি নেতাদের ধরতে কেন নারী পুলিশ পাঠানো হলো
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream