ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
পিটিআইয়ের লংমার্চ ঘিরে রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি

পিটিআইয়ের লংমার্চ ঘিরে রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় ৩০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার নাদিম নাসির সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে এ ঘোষণা দেন। আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো স্থানে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। পাশাপাশি প্রকাশ্যে অস্ত্র, হাতে তৈরি বিস্ফোরক, পেরেকযুক্ত বস্তু, ভারী লাঠি, গুলতি, বল–বিয়ারিং, পেট্রলবোমা কিংবা শারীরিক ক্ষতি করতে পারে—এমন কোনো সরঞ্জাম বহন বা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ ছাড়া ড্রোন ব্যবহার এবং সমাবেশ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইসলামাবাদমুখী লংমার্চের মধ্যেই রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হলো; যদিও দলটির লংমার্চ এখনো খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বাইরে আসতে পারেনি। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী গতকালও বলেছেন, তাঁর নেতৃত্বে লংমার্চ ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হবে। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল জেলা গোয়েন্দা কমিটির (ডিআইসি) এক বৈঠকে ডেপুটি কমিশনারকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর ‘আসন্ন হুমকি’ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়। এসব হুমকি মানুষের জীবন, সরকারি-বেসরকারি সম্পদ এবং জেলার সার্বিক শান্তি–শৃঙ্খলার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিপুল জনসমাগম, বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খল জমায়েতের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো হতে পারে। এ লক্ষ্যে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী লোকজনকে সংগঠিত করছেন। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা কমিটি। পাকিস্তানের আরও কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে দুই মাসের জন্য এ ধারা কার্যকর করা হয়। একইভাবে লাহোরেও ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা কার্যকর রয়েছে। সেখানে জনশান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকির কথা উল্লেখ করে এ ধারা কার্যকর করা হয়।

হঠাৎ বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন তারেক রহমান, কী নিয়ে আলোচনা

সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। এর মধ্যেই হঠাৎ বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা ছয়টায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ সভা হবে। দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সভায় আলোচনা হতে পারে বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন। সাধারণত সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার দু–এক দিন আগে বা অধিবেশনের মধে৵ সংসদীয় দলের সভা হয়; কিন্তু এবার সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ নির্ধারণের আগেই সভা ডাকা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের অধিবেশন শুরু হতে পারে। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের ধারণা, নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এই সভা ডাকার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডেকেছেন, তিনি নিশ্চয়ই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়ে ইনস্ট্রাকশন (নির্দেশনা) দেবেন।’ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিএনপির সংসদীয় দলের নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এই সভা ডাকার পেছনে দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন বিএনপির নেতারা। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভায় সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলোচনায় আসতে পারে। দলের সাংগঠনিক বিষয়েও দিকনির্দেশনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ এখন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা। এ ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি) পদত্যাগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন। ঘটনাটির পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিনটি কমিটি বিলুপ্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। রাজনৈতিক দল, সংবিধানবিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সংসদীয় দলের বৈঠকে এ বিষয়ে দলের অবস্থান ও সংসদ সদস্যদের করণীয় নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও বিএনপির জন্য বড় সাংগঠনিক পরীক্ষা। জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা ও ক্ষোভ সামলানো, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই—সবই দলের জন্য চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা তৃণমূলের অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া ক্ষমতায় আসার পর সরকারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা বিএনপির জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে। কমিটি পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং নেতা-কর্মীদের শৃঙ্খলা—এসব বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।

হঠাৎ বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন তারেক রহমান, কী নিয়ে আলোচনা
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream