ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
স্বামীর পরকীয়া নিয়ে কথা বলায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

স্বামীর পরকীয়া নিয়ে কথা বলায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

নরসিংদীর মাধবদীতে পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে রেহানা বেগম (৩৮) নামে এক নারীকে মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মহিষাসুরা ইউনিয়নের হামটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রেহানা বেগম অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনের স্ত্রী। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জসিম উদ্দিনের সঙ্গে অন্য এক নারীর সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। পাশাপাশি জসিম উদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে বেকার থাকায় সংসারের খরচ চালানো নিয়েও তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের দুই মেয়ে মক্তবে পড়তে গেলে বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী একা ছিলেন। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জসিম উদ্দিন তাঁর স্ত্রীর মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই রেহানা বেগমের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। স্থানীয় ছাত্রদল নেতা মাজহারুল ইসলাম প্রিন্স জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই পরিবারে কলহ চলছিল। শান্তিপ্রিয় এলাকায় এ ধরনের হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, জসিম উদ্দিনের সঙ্গে এক নারীর সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যে ঝামেলা ও কথা-কাটাকাটি হতো। মঙ্গলবার সকালে মেয়েরা মক্তবে গেলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জসিম উদ্দিন তাঁর স্ত্রীর মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ওসি আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ

কুষ্টিয়ায় সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিল জনতা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে সোহান হোসেন (২৬) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিন থেকে চারজন পালিয়ে যান। আটক সোহানের কাছ থেকে দুটি ধারালো হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার খলিসাকুণ্ডি ইউনিয়নের পিপুলবাড়ীয়া-বালিডাঙ্গা মাঠে এ ঘটনা ঘটে। আটক সোহান উপজেলার তারাগুনিয়া এলাকার গঙ্গারামপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন কালুর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে পিপুলবাড়ীয়া-বালিডাঙ্গা মাঠে একদল দুর্বৃত্ত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন—এমন খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে যান। পরে তাঁদের ধাওয়া করে সোহানকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন সোহানকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে দুটি ধারালো হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সজিব হোসেন বলেন, ‘রাতে সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতি চলছে—এমন খবর পেয়ে আমরা এলাকাবাসী সেখানে যাই। তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া করলে একজনকে আটক করতে পারি। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যান।’ স্থানীয় আশিক বলেন, ‘এই মাঠের মধ্যে মাঝেমধ্যে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয়রা নজরদারি করছিলাম। আজ তাঁদের একজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছি।’ দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পিপুলবাড়ীয়া-বালিডাঙ্গা মাঠে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় স্থানীয় লোকজন একজনকে আটক করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়ায় সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিল জনতা

ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়ায় বাবার জানাজা-দাফনে মেয়ের বাধা

জীবদ্দশায় ছেলেকে জমি লিখে দেওয়া এবং মেয়েদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফন আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার দাবি তুলে জানাজায় আপত্তি জানান তাঁর মেয়ে। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে দিনভর এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন ব্যাপারী (৭০)। তাঁর চার বিঘা জমি ছেলে ইদ্রিস আলীর (৪০) নামে লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে নাজির উদ্দিন তাঁর সমুদয় চার বিঘা জমি একমাত্র ছেলে ইদ্রিস আলীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এতে বাবা ও ভাইয়ের ওপর ক্ষুব্ধ হন মেয়ে হালিমা বেগম (৫০)। গতকাল রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে নাজির উদ্দিন মারা যান। আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাঁর জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলে জমি থেকে বঞ্চিত মেয়ে হালিমা বেগম তাতে বাধা দেন। ফলে জানাজা ও দাফন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দরবার-সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে বোন হালিমা বেগমকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন ইদ্রিস আলী। তবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় নাজির উদ্দিনের লাশ দাফন করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে মেয়ে হালিমা বেগম বলেন, ‘আমি আমার বাবার সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার চাই। বিষয়টির সুষ্ঠু মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত আমি ছাড় দেব না।’ তবে এ বিষয়ে ছেলে ইদ্রিস আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম মিষ্টি বলেন, ‘নাজির উদ্দিনের মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধটি প্রকাশ্যে এসেছে। আমরা সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।’ ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘উভয় পক্ষ ও গ্রামবাসীকে নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা চাই দ্রুত এ বিরোধের নিষ্পত্তি করে মৃত নাজির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন করা হোক।’ ধাপেরহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ ইস্তেকার হাসান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। যেহেতু এটি পারিবারিক বিষয়, তাই স্থানীয়দের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়ায় বাবার জানাজা-দাফনে মেয়ের বাধা

সোনারগাঁয়ে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক মোশাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মসলন্দপুর এলাকা থেকে এলাকাবাসী তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এর আগে বিকেলে শিশুটির মা বাদী হয়ে এ ঘটনায় অভিযোগ করেন। আজ সোমবার দুপুরে মোশাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার মোশাহিদুল ইসলাম হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার বড়াইল গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মোশাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগের পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সোনারগাঁয়ে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। সময়মতো চিকিৎসক না পাওয়া এবং সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে বিলম্বসহ চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন পৃথক দুটি পরিবারের স্বজনরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) উপজেলা সদরের শরৎনগরে অবস্থিত ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেড হাসপাতালে পৃথক এ ঘটনা ঘটে। একই দিনে দুই পরিবারে সন্তান জন্মের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মাসুদ রানা (৪০) ও তাঁর স্ত্রী অন্তরা খাতুনের (২৫) ক্ষেত্রে। স্বজনদের ভাষ্য, শনিবার ভোরে অন্তঃসত্ত্বা অন্তরার প্রসবব্যথা শুরু হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাঁকে নাজিম উদ্দিন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মা ও সন্তান সুস্থ আছেন জানানো হলেও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসক না থাকায় সকাল ১০টার দিকে তাঁকে ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অন্তরার স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক আসার আশ্বাস দিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়। এভাবে প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর একজন নার্সের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়। কিন্তু সন্তান জন্মের পর নবজাতকের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উম্মে হুরাইরা নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। সন্তান হারিয়ে শোকাহত অন্তরা খাতুন ও তাঁর ভাই কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, প্রসবের মতো জরুরি সময়ে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা এ ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দোষীদের শাস্তি দাবি করেন। একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রসবব্যথা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন উপজেলার চৌবাড়িয়া দক্ষিণপাড়ার তারেক আলীর স্ত্রী মুসলিমা আক্তার মনা। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করা হলেও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সার্জন না থাকায় তাঁকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরে চিকিৎসক এসে অস্ত্রোপচার করলেও নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর শিশুটিকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়। দ্বিতীয় নবজাতকের চাচা মাসুদ রানা আক্ষেপ করে বলেন, রক্তের ব্যবস্থা করার পরও চিকিৎসকের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। সময়মতো সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা গেলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলে তাঁদের ধারণা। এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার হাসপাতালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁদের হাসপাতালে নিয়ম মেনেই স্বাভাবিক প্রসব ও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অবহেলার ঘটনা ঘটেনি। ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি আগে অবহিত ছিলাম না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অতিরিক্ত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত দামে পাইকারি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডার ২ হাজার টাকা দরে বিক্রির রশিদ পাওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার চৌমুহনী চৌরাস্তা ও মীরওয়ারিশপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাদাত হোসেন। অভিযানে সহযোগিতা করে বেগমগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক মাহফুজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। অভিযান সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের বাজারে অস্থিরতার মধ্যে বেগমগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। এর বিপরীতে পাইকারি ক্রয়মূল্য ১ হাজার ৭৪২ টাকা। লোড-আনলোড, শ্রমিক, পরিবহন ও মুনাফাসহ পাইকারি বিক্রয়মূল্য ১ হাজার ৯০২ টাকা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর রশিদে ২ হাজার টাকা করে মূল্য দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৮ ও ৪০ ধারায় মূল্যতালিকা সংরক্ষণ না করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রির অপরাধে সালমা ট্রেডার্সকে ২৫ হাজার টাকা এবং তাহির কর্পোরেশনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাদাত হোসেন জানান, ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ ও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অতিরিক্ত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

উত্তরপ্রদেশে মসজিদ-মাদ্রাসা টার্গেট করে উচ্ছেদ অভিযান

রাজ্য সরকারের দাবি, সরকারি জমিতে তৈরি সেসব মাদ্রাসা ও ধর্মীয় স্থান সিল করে দেওয়া বা ভেঙে ফেলা হচ্ছে, যাদের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।ওই রাজ্যের সাত জেলায় চালানো এই অভিযানের ফলে বহু মাদ্রাসায় পড়াশোনাও থমকে গেছে বলে অভিযোগ।রাজ্য সরকার নেপাল সীমান্তের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ধর্মীয় স্থান ও মাদ্রাসা পরিদর্শন করছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ১৪ মে পর্যন্ত ২২৫টা মাদ্রাসা, ৩০ মসজিদ, ২৫টি মাজার ও ছয়টি ঈদগাহের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।উত্তরপ্রদেশের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর বিবিসিকে বলেছেন, মাদ্রাসা খুললে সেখানে শিক্ষাদান করেন, সেটাকে হোটেল বা আবাসস্থল বানিয়ে ফেলবেন না। সেখানে বিদেশিরা এসে বাস করলে আশঙ্কা তো সৃষ্টি হবেই।শিক্ষাদানের পরিবর্তে সেখানে অন্য কাজ করা হলে তার তদন্ত হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। যারা নিরপরাধ, যারা সেখানে শুধু শিক্ষকতা করছেন, তারা নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন।কী বলছে উত্তরপ্রদেশ সরকার?উত্তর প্রদেশ সরকার সন্দেহ করছে, যথাযথ কাগজপত্র ছাড়া যেসব মাদ্রাসা চালানো হচ্ছে, সেখানে বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কাজ হয়।সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর বলেছেন, এই রাজ্যের দু-একটা মাদ্রাসায় জাল নোট ছাপানো হচ্ছিল। সেগুলো পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছে।তবে মাদ্রাসা সঞ্চালনকারীদের দাবি, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।উত্তরপ্রদেশের শ্রাবস্তী জেলার বাঙ্গাইয়ের মাদ্রাসার সঞ্চালক মেরাজ আহমেদ বলেন, এই এলাকায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মোটামুটি। তবে দারিদ্র্য খুব বেশি। মাদ্রাসায় বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া হয় যাতে লোকে লেখাপড়া করতে পারে। কিন্তু সরকারের উদ্দেশ্য ভিন্ন।অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির অভিযোগ- শুধু রাজনৈতিক কারণে সংখ্যালঘুদের নিশানা করছে সরকার।সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র ফখরুল হাসান বলেন, যেখানেই বিজেপি সরকার রয়েছে, সেখানেই সংখ্যালঘু এবং তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশানা করা হচ্ছে। এটা সংবিধানের লঙ্ঘন।সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবও বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন।কয়েকদিন আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র না থাকলে তার সমাধান অন্যভাবে হতে পারত।পাশাপাশি, তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, যেসব মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজ নেই বলে এখন অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যখন সেগুলো নির্মাণ হচ্ছিল সেই সময় কর্মকর্তারা কোথায় ছিলেন?বাহরাইচে চিহ্নিত ৪৯৫টি স্থাননেপালের সঙ্গে কয়েকশ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে উত্তর প্রদেশের। এটা উন্মুক্ত সীমান্ত যা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব রয়েছে সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর ওপর।প্রতিদিন নেপাল ও ভারতের হাজার হাজার মানুষ এই সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়া আসা করেন।উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ জেলা থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রূপাইডিহা সীমান্ত থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ নেপালগঞ্জে (নেপালের একটি শহর) যাতায়াত করেন। এখানে এসএসবির তরফে শুধু পরিচয়পত্র দেখে এবং তল্লাশির পর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।এই এলাকায় ৪৯৫টি জবরদখল করা জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ১২টার বেশি মাদ্রাসা সিল করে দেওয়া হয়েছে।নানপাড়ার তহশিলদার অম্বিকা চৌধুরি বলেন, রাজস্ব বিভাগের দল জমির মাপঝোঁক করছে। সরকারি জমিতে যে সমস্ত বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠেছিল, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাজস্ব ও সংখ্যালঘু বিভাগের দল প্রতিদিন পরিদর্শনের জন্য গ্রামে গ্রামে যাচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র না থাকলে মাদ্রাসাগুলো সিল করে দেওয়া হচ্ছে।রূপাইডিহা থেকে থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে রয়েছে রঞ্জিতবোঝা গ্রাম। এই গ্রাম নেপাল সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

উত্তরপ্রদেশে মসজিদ-মাদ্রাসা টার্গেট করে উচ্ছেদ অভিযান
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream