ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
চিৎকার শুনে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

চিৎকার শুনে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

বগুড়ার শেরপুরে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরে মো. সিরাজ (৬৪) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের নাকুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিরাজের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৪৩) বাদী হয়ে আজ শুক্রবার শেরপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আটক কাওসার আলী (২৬) ও তাঁর বাবা তোজাম সরকারকে (৫৫) আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি পাশের ধুনট উপজেলার গোয়ালভাগ গ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তোজাম সরকারের কাছ থেকে সিরাজের ছোট ভাই ছানোয়ার হোসেন (৫০) সুদে টাকা নিয়েছিলেন। সময়মতো সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছানোয়ারকে তাঁর ঘর থেকে বের করে বাড়ির আঙিনায় মারধর করতে থাকেন তোজাম ও তাঁর ছেলে কাওসার। এ সময় ছানোয়ারের চিৎকার শুনে বড় ভাই সিরাজ এগিয়ে আসেন। তখন তাঁকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত সিরাজ বাড়ির আঙিনায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মারধরে ছানোয়ারও আহত হন এবং তাঁকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল দিবাগত রাত দুইটার দিকে সিরাজের লাশ উদ্ধার করে। তাঁর বুকের ডান পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য আজ সকালে লাশটি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে এবং আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

অপরাধ প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ

অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সংঘটিত অপরাধের তুলনামূলক পরিসংখ্যান এবং উভয় বছরের তৃতীয় কোয়ার্টারের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়।  উপস্থাপিত পরিসংখ্যানে ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, দ্রুত বিচার, দাঙ্গা, ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপ, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, অপহরণ, চুরি, সিঁধেল চুরি, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানসংক্রান্ত অপরাধের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতির চিত্র উঠে আসে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এ উন্নতিতে বৈঠকে উপস্থিত কমিটির সদস্যবৃন্দ সন্তোষ প্রকাশ করেন। সারাদেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ দমনে পৃথক সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনসহ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম রাজধানী ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গৃহীত কার্যক্রম এবং এ সংক্রান্ত অগ্রগতি তুলে ধরেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, নূরুল ইসলাম এবং আব্দুল বাতেন অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অপরাধ প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ

জান্নাতুল হত্যার রহস্য উদঘাটন, পরিকল্পনা করে দ্বিতীয় স্বামী

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর শাখা শিকলবাহা খাল থেকে বস্তাবন্দি ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহত নারীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সাম্পান নৌকাও জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌসকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় করা মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। জানা গেছে, নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শিলকূপ ইউনিয়নের নুরুল ইসলামের মেয়ে। তিনি ‘ম্যাপ সুজ লিমিটেড’ নামের একটি জুতার কারখানায় চাকরি করতেন। সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার বাইরে সিগন্যাল এলাকার ব্যাপারীপাড়ায় নাছির উদ্দিনের ভাড়া বাসায় দ্বিতীয় স্বামী রাজা মিয়া ওরফে রাজুর সঙ্গে বসবাস করতেন। পিবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের প্রায় তিন বছর পর ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাজা মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে জান্নাতুলের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় রাজা মিয়া নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দেন। তবে তার আগে থেকেই রুবি আক্তার নামে একজন স্ত্রী ছিলেন, যিনি শিকলবাহায় নিজের বাড়িতে বসবাস করতেন। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, বিয়ের কিছুদিন পর রাজা মিয়ার প্রথম বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন জান্নাতুল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে জান্নাতুলকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন রাজা মিয়া। এ কাজে তিনি পূর্বপরিচিত মুসলিম উদ্দিনের সঙ্গে পরামর্শ করেন। তারা কালুরঘাট সেতু এলাকার এক কবিরাজের কাছেও ঝাড়ফুঁক ও তান্ত্রিক পদ্ধতির আশ্রয় নেন। এসব চেষ্টায় সমস্যার সমাধান না হওয়ায় জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনায় এগোতে থাকেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজা মিয়া জান্নাতুলকে বেড়ানোর কথা বলে কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ের ব্রিজঘাটা এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই মুসলিম উদ্দিন, রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুজুর আহম্মদ এবং আরও একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি একটি সাম্পান নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করেন। পরে জান্নাতুলকে নিয়ে তারা নৌকায় ওঠেন। নৌকাটি কর্ণফুলী সেতুর নিচ দিয়ে শিকলবাহা খালের দিকে যায়। নৌকাটি চালান মুসলিম উদ্দিন এবং শুজুর আহম্মদ নৌকা থেকে পানি সেচছিলেন। রাত ৮টার পর নৌকায় রাজা মিয়ার সঙ্গে জান্নাতুলের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাজা মিয়া জান্নাতুলের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেন। এরপর তার মুখ চেপে ধরা হয় এবং রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। জান্নাতুলের মৃত্যু হলে তার হাত-পা বেঁধে লাশ বস্তায় ভরা হয়। কর্ণফুলী থানার কালারপোল এলাকায় এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনের দিকে শিকলবাহা খালে লাশটি ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা নৌকাটি নিয়ে ব্রিজঘাটা এলাকায় ফিরে যান। এরপর তারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করলেও একপর্যায়ে আত্মগোপনে চলে যান। গত ২ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলী থানাধীন শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাটসংলগ্ন খালে ভাসমান অবস্থায় বস্তাবন্দি এক নারীর লাশ উদ্ধার করে সদরঘাট নৌপুলিশ। লাশটির হাত-পা বাঁধা ছিল। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা লাশটি নিখোঁজ জান্নাতুল ফেরদৌসের বলে শনাক্ত করেন। এ সময় তার স্বামী রাজা মিয়াকে হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্দেহ করেন পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় নিহতের মা ছায়রা খাতুন বাদী হয়ে ৩ আগস্ট রাজা মিয়া ওরফে রাজুসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন। পিবিআই জানায়, গত ৬ অক্টোবর মামলাটি তাদের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সদরঘাট নৌপুলিশের কাছ থেকে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়।  গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ অক্টোবর অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজারের টেকনাফ থানা এলাকায় আত্মগোপনে থাকা মুসলিম উদ্দিনকে (৩৯) গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুজুর আহমদকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পান নৌকাটি তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করে জব্দ করা হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেফতার মুসলিম উদ্দিনকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) আদালতে হাজির করা হয়। তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জান্নাতুল হত্যার রহস্য উদঘাটন, পরিকল্পনা করে দ্বিতীয় স্বামী

সাভারে মদ তৈরির কারখানা থেকে চীনা নাগরিকসহ নারী গ্রেফতার

ঢাকার সাভারে মদ তৈরির কারখানা থেকে চীনা নাগরিকসহ এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় কারখানা থেকে ১৫ লিটার বাংলা মদ ও তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সাভার মডেল থানার ট্যানারী ফাঁড়ির ইনচার্জ মহিদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, সোমবার দিবাগত রাতে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর পূর্বহাটি এলাকার ১০ তলা ভবনের চতুর্থ তলা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।   গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চীনা নাগরিক লি ডাম্পে (৫৩) ও চম্পা বেগম (৩৫)। পুলিশ জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর পূর্বহাটি গ্রীন টাওয়ারের চতুর্থ তলায় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বাংলা মদ তৈরির সরঞ্জাম ও ১৫ লিটার বাংলা মদ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত এক চীনা নাগরিক ও বাংলাদেশর এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাভার মডেল থানার ট্যানারী ফাঁড়ির ইনচার্জ মহিদ জানান, মদ তৈরির সরঞ্জাম ও ১৫ লিটার মদসহ দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন চীনা নাগরিক। গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সাভারে মদ তৈরির কারখানা থেকে চীনা নাগরিকসহ নারী গ্রেফতার

নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা চালাতে এক কোটি টাকায় ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ভাড়া

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা চালাতে এক কোটি টাকা দিয়ে ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ভাড়া করা হয়। ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম টাকার বিনিময়ে লোক পাঠিয়ে প্রকল্পে হামলা করেন। হামলায় মিরপুরের মামুন বাহিনীর লোকজনকেও যুক্ত করা হয়েছিল। এই হামলা মামলায় গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদ ও বিকাশ চন্দ্র সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, ঘটনার দিন দুপুরে ১৩ জন মিলে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বসে হামলার পরিকল্পনা করেন। সেখানে শাহরিয়ার ও বিকাশ উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর শাহরিয়ার ও বিকাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শাহরিয়ারকে লোক ভাড়া করে হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব পেয়ে তিনি ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের তালিকায় তাঁর নাম ‘কিলার ইব্রাহিম’। আবাসন প্রকল্পটির একটি ফটক ভেঙে দেওয়ার জন্য ইব্রাহিমকে এক কোটি দেওয়ার কথা ছিল শাহরিয়ারের। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, শাহরিয়ার জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছেন। ইব্রাহিম তাঁর অনুসারী যুবরাজকে এই হামলার জন্য লোক জোগাড়ের দায়িত্ব দেন। যুবরাজ লোক জোগাড় করেন। তাঁরা আবাসন প্রকল্পটিতে হামলা চালান। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলার সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর–লুটপাট করা হয়। রাতেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। হামলা–ভাঙচুরের ঘটনায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঘটনার দিন দুপুরে বৈঠক করে হামলার পরিকল্পনা করা হয়। বিকেলে দুই জায়গায় লোক জড়ো করা হয়। পাঁচটি পিকআপে করে ও হেঁটে ঘটনাস্থলে যায় প্রায় ২০০ হামলাকারী। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবাসন প্রকল্পের মূল ফটকে গুলি ছুড়ে হামলা শুরু করে তারা। হামলায় অংশ নেন ইব্রাহিম ও মামুন বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশের একটি সূত্রের ভাষ্য, হামলায় ইব্রাহিমের অনুসারী যুবরাজ, শাহেদ, শাকিল, রূপচান, বাবলু, বুকপোড়া সুমনও জড়িত ছিলেন। ভাষানটেক এলাকার নানা অপরাধের সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। হামলায় পল্লবী থানার ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সভাপতি মফিজুর রহমান মামুন বাহিনীর লোকজনকেও যুক্ত করা হয়। খুন, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গ্রেপ্তার আসামিদের ‘ডিভাইস’–এর ফরেনসিক করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে। ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া যে গাড়িগুলোতে করে হামলাকারীরা এসেছিল, সেগুলো শনাক্ত করে কারা তা ভাড়া করেছিল, সেই তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। প্রকল্পসংলগ্ন ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি হামলার তদন্তে উঠে এসেছে। এই জমি থেকে বের হওয়ার জন্য নিউগিনি প্রকল্পের রাস্তা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ৩৫ কাঠার মধ্যে মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীরও জমি আছে। তিনি এই জমিতে ‘কন্ডোমিনিয়াম’ তৈরির চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু জমি থেকে চলাচলের কোনো রাস্তা নেই। সেখানে আবাসিক ভবন করে কোনো লাভ হবে না যদি নিউগিনি প্রকল্পের মালিক চলাচলের জন্য রাস্তা না দেন। তাই নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মূল ফটক ভেঙে চলাচলের রাস্তা বের করতেই এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হামলা করে ফটক ভেঙে চলাচলের রাস্তা বের করে দেওয়ার দায়িত্ব শাহরিয়ারকে দেওয়া হয়। এ কাজের জন্য তাঁকে উপহার হিসেবে ওই জমিতে যে ভবন করার কথা, সেটির একটি ফ্ল্যাট উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল মহিউদ্দিন চৌধুরীর। এ ছাড়া ভবন তৈরিতে ইট–বালু সরবরাহের কাজও তাঁকে দেওয়ার কথা ছিল। এই হামলা মামলায় মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁকে রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। পরে তিনি জামিন পান। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরের একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি গুলশান বিভাগের পরিদর্শক জেহাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট আটজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা চালাতে এক কোটি টাকায় ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ভাড়া

চাঁদা না দেওয়ায় মারধরের পর উল্টো চাঁদাবাজ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদা আদায় নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজন মালিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের একজন ইয়াকুব আলীর অভিযোগ, প্রতিদিন একটি গাড়ি থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় ৬০ থেকে ৭০ জন মিলে তাঁকে মারধর করেছে। পরে তাঁকে চাঁদাবাজ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। মুক্তি পেয়ে হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। আজ শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ইয়াকুব আলী। তিনি বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি। হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানান তিনি। ইয়াকুব আলী বলেন, গত ৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর লেগুনার চালক গাড়িতে সমস্যার কথা জানালে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা প্রতি গাড়ি থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে বলেন। এতে আপত্তি জানালে তাঁকেসহ নজরুল ইসলাম ও বাবুল নামের আরও দুজন লেগুনার মালিককে মারধর করেন চাঁদা দাবিকারীরা। একপর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাঁদের গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরায় আগ্নেয়াস্ত্র বের করার দৃশ্য দেখা গেছে। নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে ইয়াকুব আলী বলেন, মারধরের পর তাঁকেই চাঁদাবাজ সাজিয়ে দারুস সালাম থানা–পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু চাঁদাবাজির অভিযোগের পক্ষে তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় তিনি মুক্তি পান। এরপর তিনি হামলার ঘটনায় দারুস সালাম থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও গ্রহণ করা হয়নি। পরে তিনি পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনারের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মারধরের সময় ইয়াকুব আলীকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। জামিনের পর থানায় অভিযোগ দিতে আসেন। তাঁর অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই বলে অভিযোগ নেওয়া হয়নি।’ পরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ইয়াকুব আলী। সেটা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান ওসি। লেগুনা মালিক–শ্রমিক ইউনিয়নের অভিযোগ, ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত একটি গোষ্ঠী মিরপুর–১ এলাকার পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁদের অভিযোগ, স্ট্যান্ডগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে এবং চাঁদা দিতে মালিকদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। মাসে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, ফারুক হোসেন, মহব্বত আলী, মাভেল ভূঁইয়া, তৈয়ব আলী, আলমগীর হোসেন, কানা পলাশ, রাসেল, শামীম, মজিবর রহমানসহ ৬০ থেকে ৭০ জন এই কাজের সঙ্গে জড়িত। নিজেকে বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে সাইদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বহিষ্কৃত নেতা। তাঁদের মধ্যে সোলেমান দেওয়ান শাহ আলী থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, মহব্বত আলী দারুস সালাম থানা শ্রমিক দলের বর্তমান সদস্যসচিব এবং মাভেল ভূঁইয়া শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। সাইদুর রহমানের অভিযোগ, লেগুনা স্ট্যান্ডের পাশাপাশি মিরপুর-১-এর কাঁচাবাজার, ফুটপাত, ভ্যানগাড়ি রাখার জায়গা এবং বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবসা থেকেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। সাইদুর রহমান আরও বলেন, ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ডে অবস্থান করে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁরা আক্রমণ করেন। এ কারণে সাধারণ মালিকেরা সেখানে যেতে পারছে না। তারা সরকার ও প্রশাসনের সহায়তা চান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোলেমান দেওয়ান প্রথম আলোকে বলেন, মারধরের ঘটনায় তিনি জড়িত নন। রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় বিতর্কিত হয়ে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। তিনি কাউন্সিলর নির্বাচন করবেন। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এ বিষয়ে এস এ সিদ্দিক সাজু প্রথম আলোকে বলেন, লেগুনাশ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে মারামারি সম্পর্কে তিনি শুনেছেন। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তাঁরা কেউ সম্পৃক্ত নন বলেও জেনেছেন। তিনি যেহেতু রাজনীতি করেন, তাঁর অনুসারী থাকতেই পারে। তবে কেউ লেগুনা ব্যবসা বা ওই ঘটনায় জড়িত নন।

চাঁদা না দেওয়ায় মারধরের পর উল্টো চাঁদাবাজ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ

স্বামীকে বেঁধে নারীকে ধর্ষণ, দুই আসামির যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক নারীকে ধর্ষণের দায়ে দুই জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়াও তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিনি বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিল।  সাজাপ্রাপ্তরা হলো- মধুপুর উপজেলার ব্রাহ্মনবাড়ী এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে আরিফ ও  আয়নালের ছেলে রুবেল।  রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) খন্দকার রোকুনুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালে ৪ সেপ্টেম্বর উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়ী এলাকার একটি পুকুর পাড়ের পাশে কাচারী ঘরের বারান্দার খুঁটির সঙ্গে স্বামীকে রশি দিয়ে বেঁধে ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে তারা। পরে ওই ভুক্তভোগী মধুপুর থানায় দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই মামলায় সমস্ত সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক দুই জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

স্বামীকে বেঁধে নারীকে ধর্ষণ, দুই আসামির যাবজ্জীবন

মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আসামির রায় যেকোনো দিন

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের  রায় যেকোনো দিন। উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বুধবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখে এই আদেশ দেন। এই মামলায় মাহবুব-উল আলম হানিফসহ আসামিরা হলেন-কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। আসামিদের সবাই পলাতক। এই মামলায় আসামি পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। গত বছরের ২ নভেম্বর এই মামলার চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। সূত্র : বাসস বিডি প্রতিদিন/এমআই

মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আসামির রায় যেকোনো দিন

‘পাঁচ, পাঁচ–ই লাগবে, এটা ভিপি নুরের নির্দেশ’ বলা সেই বহিষ্কৃত যুব অধিকার নেতা গ্রেপ্তার, চাঁদাবাজির মামলা

‘পাঁচ, পাঁচ–ই লাগবে, এটা ভিপি নুরের নির্দেশ’—এমন কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত সভাপতি ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এর এক দিনের মাথায় আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং ১০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে মামলা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলাটি করেন জেলা গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী। মামলায় ফারুক হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। সোলাইমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ভিপি নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠায় তাঁর ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। ফারুক হোসেনের অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে ভিপি নুরের ১০ কোটি টাকার মানহানি হয়। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মামলা করেছেন। লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল ছড়িয়ে পড়া ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ডে ফারুক হোসেনকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক এক ব্যক্তির কাছে পাসপোর্টের কাজ, ভিসা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও বিএমইটি কার্ড বাবদ প্রাথমিক খরচের জন্য টাকা দাবি করতে শোনা যায়। দলীয় একটি সূত্র জানায়, তিনি এসব কাজে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল রাতে ফারুক হোসেনকে সাংগঠনিক সব দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নাঈম হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাদিম হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলামের নির্দেশে তাঁকে সাংগঠনিক সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। এদিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার নাম বলে ধান্দাবাজি করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে (এসপি) বলা হয়েছে।’ তবে ফারুক হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর কণ্ঠ সম্পাদনা করে অডিওটি তৈরি করেছে। তিনি পাঁচ লাখ টাকা চাননি; পাসপোর্ট করে দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। ওই ‘পাঁচ হাজার’ টাকার কথাই বিকৃত করে ‘পাঁচ লাখ’ বানানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর। যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা অডিওটি শুনেছেন এবং যাচাই করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা করে ফারুক হোসেনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘পাঁচ, পাঁচ–ই লাগবে, এটা ভিপি নুরের নির্দেশ’ বলা সেই বহিষ্কৃত যুব অধিকার নেতা গ্রেপ্তার, চাঁদাবাজির মামলা

সকালে আমগাছে মিলল বৃদ্ধের নিথর দেহ

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় একটি আমগাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের লাউদত্ত গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম হযরত আলী (৬০)।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বাড়ির পাশের একটি আমগাছে ওই বৃদ্ধকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার গলায় রশি বাঁধা ছিল বলে জানা গেছে। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।খবর পেয়ে ইসলামপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনার ফল—সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন, হযরত আলী দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামে বসবাস করছিলেন। তবে কী কারণে তার এমন পরিণতি হলো, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সকালে আমগাছে মিলল বৃদ্ধের নিথর দেহ
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream