ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা

ইলহান ওমরের বাড়িতে এফবিআইয়ের তল্লাশি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ

ইলহান ওমরের বাড়িতে এফবিআইয়ের তল্লাশি
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ফেডারেল অপরাধ তদন্তের অংশ হিসেবে এ তল্লাশি চালানো হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।

তল্লাশির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইলহান ওমর বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে তাকে ‘চুপ করানো যাবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে ওমরের বাড়ির বাইরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) সদস্যদের দেখা গেছে। বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, সোমবার ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় বিচার বিভাগের নেওয়া অনুমোদিত তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। এটি চলমান একটি কেন্দ্রীয় অপরাধ তদন্তের অংশ।

তবে কী অভিযোগে তল্লাশি পরোয়ানা নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি বিচার বিভাগ। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এ তল্লাশি চালানো হয়েছে। শৈশবে তার প্রয়াত বাবা এসব কাগজপত্র পূরণ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুনআরও পড়ুনইরানকে সহায়তা করছে চীন-রাশিয়া, বিশ্বাস করেন না ট্রাম্প

ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইলহান ওমরের পরিবারের অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছেন। তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার এবং নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর কথাও বলেছেন তারা। তবে ওমর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

সোমবার তল্লাশি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তদন্তের বিষয়টি বিচার বিভাগের এখতিয়ার। ওমর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তাকে খুব সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’ একই সঙ্গে ওমরকে ‘অসৎ’ বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

তল্লাশির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ওমর বলেন, ‘আমি ভালো আছি। ভুল বুঝবেন না, রাজনৈতিক শত্রুদের নিশানা করা এবং কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা এটি।’

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প বছরের পর বছর ধরে ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে তাকে নিশানা করেছেন। ওমরের ভাষায়, ‘এটি তার রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের প্রচারণার সর্বশেষ ধাপ। আমাকে চুপ করানো যাবে না।’

গত কয়েক মাসে ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা কথা বলেছেন। গত শনিবার এক সমাবেশে ওমরকে আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ওমর তার ভাইকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া উচিত। অভিযোগটি ছিল, ওমর তার সাবেক স্বামীকে অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র পেতে সহায়তা করার জন্য ভুয়া বিয়ে করেছিলেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ওমর দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

গত মার্চে ভ্যান্স ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমের এক ব্যক্তিত্বকে বলেছিলেন, তাদের ধারণা ওমর অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন। এ বিষয়ে ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের সঙ্গে প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলার কথাও জানান তিনি। গত মাসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন বলেন, তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে কিছু একটা ঘটবে।

মুলিন অভিযোগ করেন, ওমর তার ভাইকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার উদ্দেশ্যে বিয়ে করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা তদন্তের বিষয়ে বক্তব্য দিলেও তদন্তের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তল্লাশির ভিত্তি এখনো স্পষ্ট নয়।

ইলহান ওমর ২০১৯ সালে রাশিদা তালিবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্যের একজন হিসেবে দায়িত্ব নেন। সোমালি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিক বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের আক্রমণের মুখে পড়েছেন।

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

নগদ বার্তা

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


ইলহান ওমরের বাড়িতে এফবিআইয়ের তল্লাশি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ফেডারেল অপরাধ তদন্তের অংশ হিসেবে এ তল্লাশি চালানো হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।

তল্লাশির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইলহান ওমর বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে তাকে ‘চুপ করানো যাবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে ওমরের বাড়ির বাইরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) সদস্যদের দেখা গেছে। বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, সোমবার ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় বিচার বিভাগের নেওয়া অনুমোদিত তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। এটি চলমান একটি কেন্দ্রীয় অপরাধ তদন্তের অংশ।

তবে কী অভিযোগে তল্লাশি পরোয়ানা নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি বিচার বিভাগ। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এ তল্লাশি চালানো হয়েছে। শৈশবে তার প্রয়াত বাবা এসব কাগজপত্র পূরণ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুনআরও পড়ুনইরানকে সহায়তা করছে চীন-রাশিয়া, বিশ্বাস করেন না ট্রাম্প

ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইলহান ওমরের পরিবারের অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছেন। তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার এবং নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর কথাও বলেছেন তারা। তবে ওমর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

সোমবার তল্লাশি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তদন্তের বিষয়টি বিচার বিভাগের এখতিয়ার। ওমর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তাকে খুব সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’ একই সঙ্গে ওমরকে ‘অসৎ’ বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

তল্লাশির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ওমর বলেন, ‘আমি ভালো আছি। ভুল বুঝবেন না, রাজনৈতিক শত্রুদের নিশানা করা এবং কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা এটি।’

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প বছরের পর বছর ধরে ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে তাকে নিশানা করেছেন। ওমরের ভাষায়, ‘এটি তার রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের প্রচারণার সর্বশেষ ধাপ। আমাকে চুপ করানো যাবে না।’

গত কয়েক মাসে ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা কথা বলেছেন। গত শনিবার এক সমাবেশে ওমরকে আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ওমর তার ভাইকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া উচিত। অভিযোগটি ছিল, ওমর তার সাবেক স্বামীকে অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র পেতে সহায়তা করার জন্য ভুয়া বিয়ে করেছিলেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ওমর দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

গত মার্চে ভ্যান্স ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমের এক ব্যক্তিত্বকে বলেছিলেন, তাদের ধারণা ওমর অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন। এ বিষয়ে ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের সঙ্গে প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলার কথাও জানান তিনি। গত মাসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন বলেন, তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে কিছু একটা ঘটবে।

মুলিন অভিযোগ করেন, ওমর তার ভাইকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার উদ্দেশ্যে বিয়ে করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা তদন্তের বিষয়ে বক্তব্য দিলেও তদন্তের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তল্লাশির ভিত্তি এখনো স্পষ্ট নয়।

ইলহান ওমর ২০১৯ সালে রাশিদা তালিবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্যের একজন হিসেবে দায়িত্ব নেন। সোমালি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিক বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের আক্রমণের মুখে পড়েছেন।


নগদ বার্তা

সম্পাদক: মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির (মঞ্জু)
সহ-সম্পাদক: মেহজাবীন মাহবুব পাভেল
প্রকাশক: জাহিন ফয়সাল (শুভ) 

২০২৬ © নগদ বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ইলহান ওমরের বাড়িতে এফবিআইয়ের তল্লাশি
0:00 0:00
1.0x
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream