প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার
প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রবীণদের জন্য বয়স্ক ভাতার আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’ (The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives)।
দীর্ঘায়ুর সঙ্গে বাড়ছে নতুন চ্যালেঞ্জ
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গড় আয়ু ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘায়ু মানুষের সামনে নতুন সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি করলেও দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং পারিবারিক সহায়তার বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রবীণদের কল্যাণ ও স্বার্থরক্ষায় সরকার সচেতন। তাঁদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বয়স্ক ভাতা
প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রবীণদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবীণদের অবহেলা না করে তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার কাজও অব্যাহত রয়েছে।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র, পিছিয়ে থাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তা জোরদারের যে উদ্যোগ চলছে, প্রবীণদের জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলোও তার অংশ বলে বাণীতে উল্লেখ করা হয়।
পরিবার ও সমাজে প্রবীণদের গুরুত্ব
প্রবীণদের পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার প্রতি সম্মান জানান।
তিনি বলেন, প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁদের প্রতি যত্নশীল, সহানুভূতিশীল ও সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা প্রয়োজন।
পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব
প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—তিন পর্যায়েই অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবীণ বয়সে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি করা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।
মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতের লক্ষ্য
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেশের প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি এমন একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন, যেখানে বয়সের কারণে কোনো মানুষ নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত না হন।
প্রবীণদের আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তাঁদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই সরকারের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য বলে বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মতামত