ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
নগদ বার্তা

সাক্ষাৎকার

স্বীকৃতি দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশন করছেন তরুণী

স্বীকৃতি দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশন করছেন তরুণী
স্বীকৃতি দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশন করছেন তরুণী

প্রেম, গোপন বিয়ে ও পরবর্তীতে তালাকের অভিযোগ—স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশন করছেন তরুণী

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার পাঁচপয়লা গ্রামের মোঃ এনামুলের মেয়ে কুলসুম জান্নাত (২৩) বর্তমানে মাদারগঞ্জ উপজেলার ২নং কডুইচুড়া ইউনিয়নের কুমারপাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে টানা দুই দিন ধরে অনশন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলসুম জান্নাত ২নং কডুইচুড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে এই অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। রাকিব কুমারপাড়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে।

শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকরা রাকিবের বাড়িতে গেলে ভুক্তভোগী কুলসুম জান্নাত জানান, রাকিবের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর তারা জামালপুর আদালতে গিয়ে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

তিনি আরও জানান, বিয়ের পর রাকিব ময়মনসিংহে পড়াশোনার জন্য অবস্থান করছিলেন এবং তিনি নিজ বাড়িতে থাকতেন। দীর্ঘদিন বিষয়টি দুই পরিবারের অজানাই ছিল। এ সময় তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক অব্যাহত থাকে।

পরবর্তীতে বিষয়টি দুই পরিবার জানতে পারলে কাবিননামা যাচাইয়ের জন্য বলা হয়। কুলসুমের পরিবার কাবিননামা দেখালে রাকিবের পরিবার সেটিকে ভুয়া বলে দাবি করে। এরপর থেকে রাকিব ফোন রিসিভ না করে কুলসুমের নম্বর ব্ল্যাকলিস্টে রাখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কুলসুম জানান, বাধ্য হয়ে তিনি গত ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার জেঠি ও চাচীকে সঙ্গে নিয়ে রাকিবের বাড়িতে যান। সেখানে শাশুড়ি তাকে অপমান করেন এবং মারতে উদ্যত হন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ওই সময় রাকিব বাড়ি থেকে চলে যান।

তিনি আরও বলেন, “আমি পরে জানতে পারি আমাকে তালাক দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো তালাকনামা আমি পাইনি।” এই পরিস্থিতিতে তিনি স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নিয়ে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন শুরু করেন।

এদিকে রাকিবের চাচা শামসুল দাবি করেন, “বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী ভাতিজা রাকিব কুলসুম জান্নাতকে তালাক দিয়েছে। প্রায় ৫–৬ দিন আগেই এই তালাক কার্যকর করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ স্নেহাশীষ রায় জানান, বিষয়টি তিনি মেলান্দহ থানা সূত্রে জেনেছেন। তিনি বলেন, তাদের বিয়ে হয়েছিল এবং ছেলেপক্ষ থেকে তালাক দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, মেয়েটার একটি সন্তানও রয়েছে।

বর্তমানে বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

নগদ বার্তা

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


স্বীকৃতি দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশন করছেন তরুণী

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

প্রেম, গোপন বিয়ে ও পরবর্তীতে তালাকের অভিযোগ—স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশন করছেন তরুণী


জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার পাঁচপয়লা গ্রামের মোঃ এনামুলের মেয়ে কুলসুম জান্নাত (২৩) বর্তমানে মাদারগঞ্জ উপজেলার ২নং কডুইচুড়া ইউনিয়নের কুমারপাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে টানা দুই দিন ধরে অনশন করছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলসুম জান্নাত ২নং কডুইচুড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে এই অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। রাকিব কুমারপাড়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে।


শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকরা রাকিবের বাড়িতে গেলে ভুক্তভোগী কুলসুম জান্নাত জানান, রাকিবের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর তারা জামালপুর আদালতে গিয়ে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।


তিনি আরও জানান, বিয়ের পর রাকিব ময়মনসিংহে পড়াশোনার জন্য অবস্থান করছিলেন এবং তিনি নিজ বাড়িতে থাকতেন। দীর্ঘদিন বিষয়টি দুই পরিবারের অজানাই ছিল। এ সময় তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক অব্যাহত থাকে।


পরবর্তীতে বিষয়টি দুই পরিবার জানতে পারলে কাবিননামা যাচাইয়ের জন্য বলা হয়। কুলসুমের পরিবার কাবিননামা দেখালে রাকিবের পরিবার সেটিকে ভুয়া বলে দাবি করে। এরপর থেকে রাকিব ফোন রিসিভ না করে কুলসুমের নম্বর ব্ল্যাকলিস্টে রাখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।


কুলসুম জানান, বাধ্য হয়ে তিনি গত ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার জেঠি ও চাচীকে সঙ্গে নিয়ে রাকিবের বাড়িতে যান। সেখানে শাশুড়ি তাকে অপমান করেন এবং মারতে উদ্যত হন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ওই সময় রাকিব বাড়ি থেকে চলে যান।


তিনি আরও বলেন, “আমি পরে জানতে পারি আমাকে তালাক দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো তালাকনামা আমি পাইনি।” এই পরিস্থিতিতে তিনি স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নিয়ে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন শুরু করেন।


এদিকে রাকিবের চাচা শামসুল দাবি করেন, “বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী ভাতিজা রাকিব কুলসুম জান্নাতকে তালাক দিয়েছে। প্রায় ৫–৬ দিন আগেই এই তালাক কার্যকর করা হয়েছে।”


এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ স্নেহাশীষ রায় জানান, বিষয়টি তিনি মেলান্দহ থানা সূত্রে জেনেছেন। তিনি বলেন, তাদের বিয়ে হয়েছিল এবং ছেলেপক্ষ থেকে তালাক দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, মেয়েটার একটি সন্তানও রয়েছে।


বর্তমানে বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


নগদ বার্তা

সম্পাদক :মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির (মঞ্জু) ll প্রকাশক: জাহিন ফয়সাল (শুভ)

২০২৬ © নগদ বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত