জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিক ঘিরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা সামনে এসেছে। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় যেখানে প্রতিদিন ভিড় করেন অসংখ্য রোগী, সেই ক্লিনিকের পাশের একটি ডোবায় মিলেছে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধের স্তূপ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে স্থানীয়রা প্রথমে লক্ষ্য করেন, ক্লিনিক সংলগ্ন ডোবায় ট্যাবলেট, সিরাপ ও ক্যাপসুল ভাসছে। অল্প সময়ের মধ্যেই খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করেন। উদ্ধার হওয়া ওষুধের প্যাকেটে স্পষ্টভাবে ‘সরকারি সম্পত্তি, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ’ লেখা থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা জমিলা খাতুন অভিযোগ করেন, ওষুধের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে এসে প্রায়ই খালি হাতে ফিরতে হয় তাদের। তিনি বলেন, “মাইলের পর মাইল হেঁটে ক্লিনিকে আসি, কিন্তু বলা হয় ওষুধ নেই। অথচ আজ দেখি সেই ওষুধই ডোবায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে।”
আরেক বাসিন্দা রোকেয়া খাতুন জানান, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রায়ই দাবি করে যে সরকারি বরাদ্দ নেই। তবে ডোবায় বিপুল পরিমাণ ওষুধ পাওয়া যাওয়ায় সেই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি না থাকা এবং ওষুধ সঠিকভাবে বিতরণ না করার কারণে এসব ওষুধ দীর্ঘদিন জমে ছিল। পরে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে সেগুলো ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে তারা সন্দেহ করছেন।
এ বিষয়ে ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারী মো. মিস্টার জানান, তিনি সম্প্রতি অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য, “আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। এখানে আরও দুজন কাজ করেন। ওষুধগুলো কীভাবে এখানে এল, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।”
অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ. এ. এম আবু তাহের জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তদন্তে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান।
এদিকে সরকারি সম্পদের এমন অপচয় এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম আর না ঘটে।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিক ঘিরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা সামনে এসেছে। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় যেখানে প্রতিদিন ভিড় করেন অসংখ্য রোগী, সেই ক্লিনিকের পাশের একটি ডোবায় মিলেছে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধের স্তূপ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে স্থানীয়রা প্রথমে লক্ষ্য করেন, ক্লিনিক সংলগ্ন ডোবায় ট্যাবলেট, সিরাপ ও ক্যাপসুল ভাসছে। অল্প সময়ের মধ্যেই খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করেন। উদ্ধার হওয়া ওষুধের প্যাকেটে স্পষ্টভাবে ‘সরকারি সম্পত্তি, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ’ লেখা থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা জমিলা খাতুন অভিযোগ করেন, ওষুধের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে এসে প্রায়ই খালি হাতে ফিরতে হয় তাদের। তিনি বলেন, “মাইলের পর মাইল হেঁটে ক্লিনিকে আসি, কিন্তু বলা হয় ওষুধ নেই। অথচ আজ দেখি সেই ওষুধই ডোবায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে।”
আরেক বাসিন্দা রোকেয়া খাতুন জানান, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রায়ই দাবি করে যে সরকারি বরাদ্দ নেই। তবে ডোবায় বিপুল পরিমাণ ওষুধ পাওয়া যাওয়ায় সেই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি না থাকা এবং ওষুধ সঠিকভাবে বিতরণ না করার কারণে এসব ওষুধ দীর্ঘদিন জমে ছিল। পরে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে সেগুলো ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে তারা সন্দেহ করছেন।
এ বিষয়ে ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারী মো. মিস্টার জানান, তিনি সম্প্রতি অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য, “আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। এখানে আরও দুজন কাজ করেন। ওষুধগুলো কীভাবে এখানে এল, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।”
অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ. এ. এম আবু তাহের জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তদন্তে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান।
এদিকে সরকারি সম্পদের এমন অপচয় এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম আর না ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন