ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

নেতা

নেতা

ডাকসাইটে রাজনীতিবিদ মশিউর রহমান কঠিন রোগে ভুগছেন। চিকিৎসক জবাব দিয়ে দিয়েছেন, আর বড়জোর ছয় মাস। আগামী নির্বাচনে তাঁর দলের জয়লাভের সমূহ সম্ভাবনা এবং দল নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এখন ভবিষ্যৎটা আঁধার দেখছেন ভদ্রলোক। মনে মনে মেনে নিয়েছেন, তাঁর আর এ জন্মে স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। ঢাকা থেকে গাড়ি নিয়ে বেড়াতে যাচ্ছেন নেতা। ঘুরে আসবেন মাওয়া থেকে। নিত্যকার ঝুটঝামেলা থেকে আজকাল দূরে থাকতে চান তিনি। মৃত্যুচিন্তা করবেন না বলে ঠিক করলেন। তবু ঠিকই ঘাই মারল চিন্তাটা। আচ্ছা, তাঁর জন্য কি কেউ দুঃখ করবে? রাজনীতি করেন, শত্রু তো কম নেই। তারা বরং খুশিই হবে। কিন্তু তাঁর পরিবার? কত দিন নাতি-নাতনিদের দেখেন না। মুঠোফোনটা তুলে নিলেন। ফোন করলেন মেয়ে ফারজানাকে। বাবার ফোন পেয়ে কিছুটা চমকে গেছে সে। ‘কাল তোর বাচ্চাদের দিস,’ বললেন নেতা। ‘জাদুঘরে নিয়ে যাব।’ আরও বিস্মিত হলো ফারজানা, তবে খুশিও হলো। পরদিন নাতি-নাতনি মুক্তি ও নিপ্পনকে নিয়ে জাদুঘরে গেলেন মশিউর রহমান। বাচ্চারা মহা উত্তেজিত। হাজারো প্রশ্ন তাদের। অল্প কিছুরই জবাব জানা আছে নানার। যেগুলোর নেই, সেগুলো বানিয়ে বলে দেন। ডাইনোসরের বিশাল কঙ্কালটার সামনে এ মুহূর্তে নাতি-নাতনিসহ দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। লাখ লাখ বছর আগে অতিকায় এই প্রাণী দাপিয়ে বেড়াত পৃথিবীর বুকে। দর্শকদের কারও মুখে কথা নেই। হঠাৎই নিজেকে অতি তুচ্ছ ও গুরুত্বহীন মনে হলো নেতার। পরদিন মশিউর রহমান তাঁর অফিসে গেলেন। প্রচুর কাজ জমে আছে। বিরোধীদলীয় ঝানু নেতা তিনি, সংসদীয় কমিটিতে রয়েছেন। কাজে ডুবে গেলেন ভদ্রলোক। কোনো ব্যথাবেদনা অনুভব করেন না নেতা। তবে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন চিকিৎসকের কথা। হার্টের অসুখ তাঁর, বাঁচার আশা নেই। প্রায় রোজই মেয়ে-জামাই আসে নাতি-নাতনিদের নিয়ে। সবাই মিলে কোথাও বেড়াতে যাবেন—এমন পরিকল্পনা করছেন মশিউর রহমান। কিন্তু হাতে যে পরিমাণ কাজ, পারবেন কি না সন্দেহ। অফিসে দর্শনার্থীর তো অভাব নেই। তদবিরকারীদের উৎপাতে পাগল হওয়ার জোগাড়। সবাই জেনে গেছে, আর বেশি দিন নেই তিনি। এ–ই তো সুযোগ। নেতার মনটা নরম থাকবে, যতটা পারো বের করে নাও। একদিন বিশিষ্ট এক দর্শনার্থী এলেন। ড. রায়হান মারুফ। লম্বা-পাতলা ভদ্রলোক। তাঁকে অফিসে স্বাগত জানালেন নেতা। ‘কেমন আছেন, মারুফ সাহেব,’ বললেন তিনি। ‘হঠাৎ আপনি?’ ডক্টরকে ভালোমতোই মনে আছে নেতার। বেশ অনেক বছর আগে মশিউর রহমান যখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, তাঁর কাছে এসেছিলেন রায়হান মারুফ। বিশেষ ধরনের বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য অনুদান প্রার্থনা করেছিলেন। স্পেস মেডিসিনের ওপর রিসার্চ করতে চাইছিলেন ভদ্রলোক। সেদিনের কথা আজও স্পষ্ট মনে আছে মশিউর রহমানের। ডক্টরকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। রায়হান মারুফের দিকে তাকিয়ে আছেন নেতা। এত বছর বাদে ভদ্রলোকের আগমনের হেতু কী? একটি বিজ্ঞান পত্রিকার আর্টিকেল দেখালেন তাঁকে রায়হান মারুফ। স্পেস মেডিসিনের ওপর একটি হিন্দি জার্নাল। ‘আমি তো হিন্দি পড়তে পারি না,’ বললেন মশিউর রহমান। ‘কী লিখেছে এতে?’ ‘ভারতীয় স্যাটেলাইট হাসপাতালের ওপর একটি লেখা,’ ব্যাখ্যা করলেন ড. রায়হান মারুফ। ‘ভারতীয় চিকিৎসকদের ধারণা, হার্টের কঠিন কঠিন চিকিৎসা তাঁরা করতে পারবেন। মহাশূন্যে কোনো কিছুরই কোনো ওজন নেই। সেখানে শরীরের মাংসপেশির কাজ খুবই সামান্য। হার্টও একটি মাসল বা পেশি। কাজেই কেউ যখনই মহাশূন্যে যাচ্ছে, তার হার্টের কাজও কমে যাচ্ছে। তাই মহাশূন্যে হার্টের চিকিৎসা সফলভাবে করা সম্ভব। সেখানে হার্টের রোগীরা অনেক বেশি দিন বাঁচবে।’ রায়হান মারুফের সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎটির কথা স্মরণ করলেন মশিউর রহমান। বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করেননি তিনি সেদিন। দৃশ্যটা পরিষ্কার মনে পড়ে তাঁর। ডক্টরকে জেরা করেছিলেন নেতা: ‘এত টাকা দিয়ে কী করবেন, মারুফ সাহেব? লোকে কিন্তু আপনাদের রিসার্চ ভালো চোখে দেখছে না। মনে করছে ফালতু খরচ। স্পেসে এত লোক পাঠিয়ে হবেটা কী? এমনিতেই মহাশূন্যে পাঠাতে গিয়ে অনেক লোক মারা পড়েছে, প্রচুর সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে আমাদের। আমরা চাই না, আর কারও জীবন যাক।’ ড. মারুফ তাঁর পরিকল্পনার কথা সেদিন খুলে বলতে চেয়েছিলেন। স্পেস মেডিসিন সম্পর্কে আরও গবেষণা করতে আগ্রহী ছিলেন তিনি। কিন্তু কথাগুলো গুছিয়ে বলতে পারেননি। মন্ত্রী মশিউর রহমান তাঁর মুখের ওপর হেসেই উড়িয়ে দেন। বলা বাহুল্য, সরকার প্রস্তাবটি তখন গ্রহণ করেনি। সেদিনের কথা মনে করতেই গ্লানিতে ছেয়ে গেল মশিউর রহমানের অন্তর। ‘আমাকে এসব বলছেন কেন, ভাই?’ বললেন তিনি। ‘আমি শান্তিতে মরতে চাই।’ ‘বাঁচার আশা যখন আছে,’ বললেন রায়হান মারুফ, ‘হাল ছাড়বেন কেন? ভারতীয় চিকিৎসকেরা আপনাকে সারিয়ে তুলতে চান। আপনি বিখ্যাত মানুষ, আপনাকে দেশের প্রয়োজন আছে।’ অবশেষে নেতা ভারতে যেতে রাজি হলেন এবং গেলেনও। ভারতীয় স্যাটেলাইট হাসপাতালে আরও কয়েকজন চিকিৎসাপ্রার্থীকে ওয়েটিং রুমে বসে থাকতে দেখলেন তিনি। তাদের মধ্যে এক জোড়া তরতাজা যুবক-যুবতীও রয়েছে। দেখেই বোঝা যায়, পরস্পরের প্রতি গভীর ভালোবাসা তাদের। একে অন্যের সঙ্গে কথা বলছে তারা, চোখে টলমল করছে জল। তাদের মধ্যে মারা যাবে কোনজন? নিজেকে প্রশ্ন করলেন বাঙালি নেতা। তাদের জন্য গভীর দুঃখ বোধ করলেন তিনি। একদম ছোট মানুষ যে ওরা! এমন সময় সসম্মান তাঁকে চিকিৎসকের কেবিনে নিয়ে গেলেন এক নার্স। কদিন পর ঢাকায় ফিরলেন নেতা। বিমানবন্দরে সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফারদের ভিড়। সবাই প্রশ্ন করছে একসঙ্গে। ‘এখন কেমন বোধ করছেন, মশি ভাই?’ ‘কাজে ফিরছেন কবে?’ ‘ওখানে কি ঠিকমতো সেরে উঠবেন আপনি?’ মুহূর্তখানেক ভেবে নিলেন নেতা। তারপর ধীর ও সতর্ক কণ্ঠে বললেন, ‘ভারতীয় চিকিৎসকদের বিশ্বাস, আমাকে তাঁরা সারিয়ে তুলতে পারবেন। কিন্তু ব্যাপারটা শতভাগ নিশ্চিত নয়।’ ‘চিকিৎসা কত দিন চলবে?’ ‘হয়তো ছয় মাস বা আরও বেশি।’ ‘তার মানে আগামীবার আপনি প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন না? কিন্তু পাঁচ বছর পর ইলেকশনের জন্য তো তৈরি থাকছেন?’ একমুহূর্ত বিরতি নিয়ে জবাব দিলেন মশিউর রহমান। ‘এর উত্তর দিতে হলে আরও সময় নিয়ে ভাবতে হবে,’ বললেন তিনি। ‘আপনাদের আমি এখন কিছুই বলতে পারছি না।’ ঘুরে দাঁড়াতেই দেখলেন, মেয়ে-জামাই-নাতি-নাতনি অপেক্ষা করছে। মুক্তি ও নিপ্পন—তাঁর আদরের নাতি-নাতনি ছুটে এসে নানাকে জড়িয়ে ধরল। অন্তরে জবাবটা ইতিমধ্যেই জানা হয়ে গেছে মশিউর রহমানের। কদিন বাদে তাঁর সঙ্গে ড. রায়হান মারুফ ও ভারতীয় স্যাটেলাইট হাসপাতালের ডিরেক্টরের কথা হলো। অফিসের স্ক্রিনে দুজনকেই দেখতে পাচ্ছেন তিনি। স্ক্রিনের ডান প্রান্ত থেকে প্রথমে কথা বলে উঠলেন ড. রায়হান মারুফ। ‘সব রেডি আছে, রহমান সাহেব। স্যাটেলাইট হাসপাতালে আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন তাঁরা।’ মাথা নেড়ে স্ক্রিনের বাঁ প্রান্তে মুখ ফেরালেন নেতা। কথা বললেন ভারতীয় প্রফেসরের সঙ্গে। ‘প্রফেসর, একটি প্রশ্ন করতে পারি? আপনার হাসপাতালে তো অনেকেই চিকিৎসা করাতে চায়। তাদের মধ্য থেকে আপনারা রোগী বাছাই করেন কীভাবে? মোট কয়জনকে চিকিৎসাসেবা দিতে পারেন আপনারা?’ ‘এই ধরুন,’ আস্তে করে বললেন ভারতীয় প্রফেসর, ‘দশজন।’ মশিউর রহমান ড. রায়হান মারুফ ও ভারতীয় চিকিৎসকের মনোভাব উপলব্ধি করলেন। মারুফ সাহেব বাংলাদেশের মানুষকে দেখাতে চান যে স্পেস মেডিসিন কতখানি আধুনিক ও জরুরি। তাঁর উদ্দেশ্য, বাংলাদেশ সরকার যাতে তাঁকে গবেষণার জন্য বিপুল পরিমাণ অনুদান দেয়। অন্যদিকে ভারতীয় চিকিৎসক সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী, বিখ্যাত বাঙালি নেতাটির অসুখ সারিয়ে তুলতে চান, যাতে গোটা বিশ্ব ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়। ভারতীয় বিজ্ঞানসংক্রান্ত গবেষণার কৃতিত্ব প্রকাশ করতে চাইছেন তিনি বিশ্বজনতার সামনে। কিন্তু বাঙালি জনদরদি নেতার মনে অন্য ভাবনা খেলা করছে। ওয়েটিং রুমে বসে থাকা ওই তরুণ যুগলের কথা ভাবছেন তিনি। তাদের মধ্য থেকে একজন মারা পড়বে, তিনি যদি স্যাটেলাইট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। ‘আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ,’ বললেন তিনি। ‘স্যাটেলাইট হাসপাতালে যাচ্ছি না আমি। আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’ স্ক্রিনের সুইচ অফ করে দিলেন তিনি। আহ্‌! পরম প্রশান্তি অনুভব করছেন। কয়েক মাস পর। মেয়ে ও নাতি-নাতনিকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বেড়াতে গেলেন মশিউর রহমান। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এসেছেন। মেহমানদের প্রতিটি কামরা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাতে নিয়ে গেলেন তিনি। মশিউর রহমান খানিক পরে ক্লান্ত বোধ করায় একটি কামরায় একাকী বসে রইলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শখ আর নেই তাঁর। শান্তির সন্ধান পেয়েছেন তিনি। স্রষ্টার প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। চুপ করে বসে আছেন মশিউর রহমান, বিন্দুমাত্র যন্ত্রণা কিংবা ভীতি বোধ করছেন না। আর তখনই নীরবে এসে তাঁকে বরণ করে নিল মৃত্যু।

কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জার্মানিতে রোবট জব্দ, আটক ২

জার্মানিতে এক কিশোরীকে যৌন হয়রানিতে রোবট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লাল ও সোনালি রঙের একটি রোবট জব্দ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর ও ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। দেশটির কোলন শহরে এ ঘটনা ঘটেছে। শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি একটি ফাস্ট ফুডের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগে বলা হয়, রোবটটি ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরীর শরীরে হাত রাখে এবং তাঁর শরীরের সঙ্গে ধাক্কা দিয়ে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ নড়াচড়া করে। এ সময় কিশোরী চিৎকার করে সরে যান। নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুজন ওই সময় ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন এবং এ নিয়ে মন্তব্য করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা ওই রোবটটি পরিচালিত করছিল বলেও অভিযোগে উঠে এসেছে। পুলিশের ফেসবুক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার মধ্যরাতের কিছু আগে এই ঘটনা ঘটে। কিশোরীটি তার বন্ধুদের সঙ্গে ছিল। তার পেছন দিক থেকে এগিয়ে আসে ১২০ সেন্টিমিটার (৩ দশমিক ৯ ফুট) লম্বা রোবটটি। এরপর তার কোমড়ের নিচের অংশে হাত রাখে। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। এর কিছুক্ষণ পর কাছের একটি সড়কের এক ব্লক দূরে ওই কিশোর ও ১৯ বছর বয়সী ব্যক্তিকে পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, কিশোরটি রোবটটি একটি গাড়ির পেছনে রেখেছিল। সেখান থেকেই সেটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রকাশ করা একটি ছবিতে রোবটটিকে কালো গোঁফ, সোনালি রঙের চেইন ও সাদা গেঞ্জি পরা অবস্থায় দেখা যায়। রোবটটির পাশাপাশি অভিযুক্ত দুজনের দুটি মুঠোফোনও জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রোবটটির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পরে ফেসবুকে দেওয়া আরেকটি পোস্টে পুলিশ এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা কিছু মন্তব্যের বিষয়ে সতর্ক করে। পুলিশ জানায়, কিছু মন্তব্য ‘সীমা লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে এবং সবচেয়ে খারাপ ক্ষেত্রে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।’

কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জার্মানিতে রোবট জব্দ, আটক ২

নতুন স্মার্টফোন সেটআপ করতে এত দেরি কেন? জানুন ৪ কারণ

নতুন স্মার্টফোন হাতে পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবহার শুরু করতে চান অনেকেই। কিন্তু ফোন চালু করে ভাষা নির্বাচন, ওয়াই-ফাই সংযোগ, গুগল বা অ্যাপল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন এবং পুরোনো ফোনের তথ্য স্থানান্তর করতে গিয়ে কেটে যায় অনেকটা সময়। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, স্মার্টফোনের সেটআপ প্রক্রিয়াতেও যুক্ত হচ্ছে নানা ধাপ। প্রশ্ন হলো, আধুনিক ফোনেও প্রথমবার সেটআপ করতে এত সময় লাগে কেন? শুধু ফোন চালু করলেই কাজ শেষ নয় নতুন ফোন প্রথমবার চালু করার পর অপারেটিং সিস্টেমকে ব্যবহারকারীর পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুত করতে হয়। এ জন্য ভাষা, অঞ্চল, তারিখ, সময় ও ইন্টারনেট সংযোগের মতো প্রাথমিক সেটিংস ঠিক করতে হয়। এরপর গুগল বা অ্যাপল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন, পরিচয় যাচাই, পরিষেবার শর্তে সম্মতি এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়ার ধাপ রয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। স্ক্রিন লক, আঙুলের ছাপ বা মুখ শনাক্তকরণের ব্যবস্থা চালু করতে হতে পারে। অ্যাকাউন্টে দুই ধাপে যাচাইকরণ চালু থাকলে পরিচয় নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। পুরোনো ফোনের তথ্য স্থানান্তরেই বেশি সময় সেটআপে দেরির অন্যতম কারণ পুরোনো ফোন থেকে নতুন ফোনে তথ্য স্থানান্তর। ছবি, ভিডিও, পরিচিতির তালিকা, বার্তা, অ্যাপ ও অন্যান্য ফাইলের পরিমাণ বেশি হলে সেগুলো কপি করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুই ফোনের কার্যক্ষমতা, তথ্যের পরিমাণ এবং স্থানান্তরের পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে তথ্য স্থানান্তরের সময় নেটওয়ার্কের গতি ও স্থিতিশীলতা প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, ক্লাউড ব্যাকআপ থেকে তথ্য ফিরিয়ে আনতে সময় নির্ভর করে ইন্টারনেটের গতি, ব্যাকআপের আকার এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবার অবস্থার ওপর। শুধু অ্যাপের তালিকা ফিরে এলেই সব তথ্য ও সেটিংস আগের মতো পাওয়া যায় না। কিছু অ্যাপে আবার নতুন করে সাইন ইন করতে হয়। সফটওয়্যার আপডেট ও নিরাপত্তা যাচাই নতুন ফোনে আগে থেকেই থাকা অপারেটিং সিস্টেমের সংস্করণ সর্বশেষ নাও হতে পারে। তাই সেটআপের সময় নিরাপত্তা আপডেট বা নতুন সংস্করণ ডাউনলোড ও ইনস্টল করার প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে অ্যাপগুলোও আপডেট হতে পারে। আপডেটের আকার বড় হলে কিংবা ইন্টারনেটের গতি কম থাকলে অপেক্ষার সময় বাড়ে। এ ছাড়া ফোনের পেছনে বিভিন্ন পরিষেবা চালু করা, অ্যাকাউন্টের তথ্য সমন্বয় এবং অ্যাপের প্রয়োজনীয় ফাইল প্রস্তুত করার কাজ চলতে পারে। এসব কাজের কিছু অংশ সেটআপ শেষ হওয়ার পরও চলতে থাকে। ফলে ফোন ব্যবহার শুরু করা গেলেও পেছনে একাধিক প্রক্রিয়া চলার কারণে শুরুতে কিছুটা ধীরগতি অনুভূত হতে পারে। যেভাবে সেটআপে সময় বাঁচাবেন নতুন ফোন সেটআপের আগে পুরোনো ফোনের ব্যাকআপ তৈরি করে রাখুন। দুই ফোনে পর্যাপ্ত চার্জ রাখুন এবং তথ্য স্থানান্তরের জন্য স্থিতিশীল ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবহার করুন। গুগল বা অ্যাপল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ও প্রয়োজনীয় যাচাইকরণ পদ্ধতি হাতের কাছে রাখলেও সুবিধা হবে। সব অ্যাপ ও ফাইল একসঙ্গে স্থানান্তর করা জরুরি না হলে প্রথমে প্রয়োজনীয় তথ্য স্থানান্তর করতে পারেন। পরে সুবিধামতো বাকি ফাইল ও অ্যাপ যুক্ত করা যাবে। এতে প্রাথমিক সেটআপের সময় কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। ফোনের গতি একমাত্র কারণ নয় নতুন স্মার্টফোন সেটআপে সময় লাগার পেছনে শুধু ফোনের গতি দায়ী নয়। তথ্য স্থানান্তর, সফটওয়্যার আপডেট, অ্যাকাউন্ট যাচাই ও নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ একাধিক ধাপ এতে ভূমিকা রাখে। তাই কয়েক মিনিটে সেটআপ শেষ না হলেই ফোনে ত্রুটি রয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সেটআপ আটকে থাকলে বা বারবার ব্যর্থ হলে ইন্টারনেট সংযোগ, আপডেটের অবস্থা ও প্রয়োজনীয় সেটিংস পরীক্ষা করা যেতে পারে। বিডি-প্রতিদিন/এআইএস

নতুন স্মার্টফোন সেটআপ করতে এত দেরি কেন? জানুন ৪ কারণ

পাঠ্যবইয়ের পুরোনো নিয়মকে বুড়ো আঙুল, আবিষ্কৃত হলো কোষ বিভাজনের নতুন কৌশল

স্কুলের বিজ্ঞানের বইয়ে আমরা সবাই কোষ বিভাজনের কথা পড়েছি। একটি কোষ মাঝখান থেকে ভাগ হয়ে দুটি কোষে পরিণত হয়। এটাই জীবনের বিকাশের সবচেয়ে আদিম এবং সাধারণ নিয়ম। কিন্তু জার্মানির ড্রেসডেন ইউনিভার্সিটির ফিজিকস অব লাইফ ক্লাস্টারের একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি এমন এক আবিষ্কার করেছেন, যা জীববিজ্ঞান বইয়ের এত দিনের চেনা হিসাবনিকাশ একেবারে উল্টে দিয়েছে! বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, ডিম পাড়া প্রাণীদের বড় ভ্রূণকোষগুলো আসলে পাঠ্যবইয়ে লেখা সাধারণ নিয়মে বিভাজিত হয় না; বরং তারা সম্পূর্ণ অজানা ও বিস্ময়কর এক কৌশল ব্যবহার করে। সাধারণ কোষগুলো বিভাজিত হওয়ার সময় তাদের ঠিক মাঝখানে অ্যাকটিন নামে প্রোটিন দিয়ে তৈরি একটি আংটি বা রিং তৈরি হয়। এটি অনেকটা প্যান্টের ফিতার মতো কাজ করে। চারপাশ থেকে টান দিয়ে কোষটিকে মাঝখান থেকে চেপে দুভাগ করে ফেলে। একে বলা হয় পার্স স্ট্রিং মডেল। কিন্তু হাঙর, প্লাটিপাস, পাখি বা সরীসৃপদের ডিমের ভ্রূণের কোষগুলো হয় অনেক বড়। এর ভেতর থাকে বিশাল আকৃতির কুসুম। কোষ এত বড় হওয়ার কারণে সেই অ্যাকটিন প্রোটিনের রিংটি পুরোপুরি বন্ধ হতে পারে না। তাহলে এই বিশাল কোষগুলো কীভাবে ভাগ হয়? বছরের পর বছর ধরে বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের উত্তর হাতড়ে বেড়িয়েছেন। এই রহস্য সমাধানে গবেষক দলের প্রধান অ্যালিসন কিকুথ বেছে নিলেন জেব্রাফিশের ভ্রূণ। কারণ এদের ভ্রূণ খুব দ্রুত বড় হয় এবং কোষের ভেতর প্রচুর কুসুম থাকে। অ্যালিসন লেজার রশ্মি ব্যবহার করে কোষের সেই অ্যাকটিনের ফিতাটি মাঝখান থেকে কেটে দিলেন। অবাক করা ব্যাপার হলো, ফিতাটি কেটে যাওয়ার পরও সেটি সংকুচিত হয়ে ভেতরের দিকে এগোতে থাকে! মানে ফিতাটি শুধু দুই প্রান্তে আটকে থাকে না, বরং পুরো পথজুড়েই সে কোনো না কোনো সমর্থন পায়। গবেষকেরা দেখলেন, কোষের কঙ্কাল বা সাইটোস্কেলিটনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ মাইক্রোটিবিউল এই ফিতাকে চারপাশ থেকে ধরে রাখে। এটি প্রমাণ করার জন্য তাঁরা রাসায়নিক পদার্থ এবং ছোট্ট তেলের বিন্দু ব্যবহার করে মাইক্রোটিবিউলগুলোর কাজে বাধা দেন। দেখা গেল, মাইক্রোটিবিউলের সাহায্য ছাড়া অ্যাকটিনের ফিতাটি মুহূর্তেই ভেঙে পড়ছে! অর্থাৎ, কোষ বিভাজনের সময় এই মাইক্রোটিবিউলগুলোই মেকানিক্যাল সাপোর্ট বা যান্ত্রিক খুঁটি হিসেবে কাজ করে। কোষ বিভাজনের চক্রটি মূলত দুটি ধাপে ঘটে—এম-ফেজ এবং ইন্টারফেজ। যখন ডিএনএ আলাদা হয় তখন এম-ফেজ। আর যখন কোষটি বড় হয় এবং ডিএনএর অনুলিপি তৈরি করে তখন ইন্টারফেজ। বিজ্ঞানীরা কোষের ভেতর চৌম্বকীয় পুঁতি ঢুকিয়ে একটি দারুণ বিষয় আবিষ্কার করেন। তাঁরা দেখলেন, ইন্টারফেজ দশায় কোষের ভেতরের জেলি বা সাইটোপ্লাজম বেশ শক্ত হয়ে যায়, যা অ্যাকটিনের ফিতাকে শক্তভাবে ধরে রাখে। কিন্তু এম-ফেজ দশায় সাইটোপ্লাজম একেবারে তরল হয়ে যায়, যাতে ফিতাটি সহজেই ভেতরের দিকে ঢুকতে পারে কিন্তু সাইটোপ্লাজম তরল হয়ে গেলে তো ফিতাটির ধসে পড়ার কথা। বিজ্ঞানীরা দেখলেন, এম-ফেজ দশায় ফিতাটি আসলেই একটু অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং কিছুটা পিছিয়ে আসে। কিন্তু ভ্রূণকোষের বিভাজন এত দ্রুত ঘটে যে, ফিতাটি পুরোপুরি ধসে পড়ার আগেই কোষটি আবার ইন্টারফেজ দশায় চলে যায় এবং সাইটোপ্লাজম শক্ত হয়ে ফিতাটিকে আটকে ফেলে! এই পুরো প্রক্রিয়াটি মেকানিকদের ব্যবহৃত র‍্যাচেট টুলের মতো কাজ করে। র‍্যাচেট দিয়ে নাট খোলার সময় যেমন একটু ঘুরিয়ে আবার আটকে রাখা যায়, কোষটিও ঠিক সেভাবেই কাজ করে। এক টানে বা এক চক্রে বিভাজিত না হয়ে, কোষটি সাইটোপ্লাজমের কখনো শক্ত, কখনো নরম হওয়ার এই অদ্ভুত চক্র ব্যবহার করে ধাপে ধাপে বিভাজনের কাজ শেষ করে। এই গবেষণার অন্যতম লেখক জ্যান ব্রুগেস বলেন, ‘এই র‍্যাচেট কৌশলটি কোষ বিভাজন নিয়ে আমাদের এত দিনের ধ্যানধারণা একেবারেই পাল্টে দিয়েছে।’ এই আবিষ্কার শুধু জেব্রাফিশ নয়, বরং ডিম পাড়া সব বিশাল প্রাণীর ভ্রূণকোষ কীভাবে কাজ করে, তার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রকৃতি যে কত নিখুঁতভাবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোষের ভেতরের অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে, এটি তারই এক দুর্দান্ত প্রমাণ! কে জানে, এই গবেষণার সূত্র ধরে হয়তো ভবিষ্যতে আমাদের জীববিজ্ঞান বইয়ের পাতাগুলো নতুন করে লিখতে হবে।

পাঠ্যবইয়ের পুরোনো নিয়মকে বুড়ো আঙুল, আবিষ্কৃত হলো কোষ বিভাজনের নতুন কৌশল

বিমানে পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেওয়া যায়? যাত্রীদের যে নিয়মগুলো জানা জরুরি

ভ্রমণে বের হলে মুঠোফোনের চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা এড়াতে অনেকেই সঙ্গে রাখেন পাওয়ার ব্যাংক। দীর্ঘ যাত্রা, বিমানবন্দরে অপেক্ষা কিংবা ফ্লাইট দেরি হলে এই ছোট যন্ত্রটি বেশ কাজে আসে। কিন্তু বিমানে ওঠার সময় পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে নেওয়া, সেটি কোথায় রাখা যাবে এবং উড়োজাহাজে বসে তা দিয়ে মুঠোফোনে চার্জ দেওয়া যাবে কি না এসব বিষয়ে অনেক যাত্রীরই স্পষ্ট ধারণা নেই। অথচ নিরাপত্তার স্বার্থে পাওয়ার ব্যাংক বহন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ নিয়ম। পাওয়ার ব্যাংকে থাকে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, যা অল্প জায়গায় প্রচুর শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে পারে। ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে কিংবা বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি দেখা দিলে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে উড়োজাহাজে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। বিমানে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার কতটা নিরাপদ? পাওয়ার ব্যাংকের ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে দ্রুত তাপ ছড়াতে শুরু করলে আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ব্যাটারির এই বিপজ্জনক অবস্থাকে বলা হয় ‘থার্মাল রানঅ্যাওয়ে’। এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে বিমান সংস্থাগুলো পাওয়ার ব্যাংক বহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করে। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের কেএলএম রয়্যাল ডাচ এয়ারলাইনসের আমস্টারডাম থেকে কুরাসাওগামী একটি উড়োজাহাজে পাওয়ার ব্যাংকে আগুন লাগার ঘটনা এ বিষয়ে নতুন করে সতর্ক করেছে। ডাচ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজনেস শ্রেণির কেবিনে এক যাত্রীর পাওয়ার ব্যাংক চার্জে থাকা অবস্থায় আগুন ধরে যায়। পরে উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন সেটিকে বিমানবন্দরে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, ছোট একটি যন্ত্র থেকেও উড়োজাহাজে বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। উড়োজাহাজে বসে পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে চার্জ দেওয়া যাবে? পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি থাকলেও সেটি ব্যবহার করে মুঠোফোন বা অন্য কোনও যন্ত্রে চার্জ দেওয়ার অনুমতি সব বিমান সংস্থায় নেই। নিরাপত্তার কারণে অনেক সংস্থা উড়োজাহাজে থাকা অবস্থায় পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার নিষিদ্ধ বা সীমিত করেছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার নির্দেশনায় উড়োজাহাজ চলাচলের সময়, উড্ডয়ন ও অবতরণের পর্যায়ে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করে অন্য যন্ত্রে চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। আবার কিছু বিমান সংস্থা আসনের পাশে থাকা বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেওয়ার অনুমতিও দেয় না। যেমন, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের নিয়ম অনুযায়ী, আসনের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের জন্য, পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেওয়ার জন্য নয়। তাই বিমানে ওঠার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি। অন্য যাত্রীর কাছ থেকে শোনা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংস্থার নিজস্ব নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ। কোথায় রাখবেন পাওয়ার ব্যাংক? বিমানে ভ্রমণের সময় পাওয়ার ব্যাংক কখনোই চেক-ইন করা লাগেজে রাখা উচিত নয়। এটি হাতব্যাগে রাখতে হবে, যাতে প্রয়োজনে সহজেই নাগালে পাওয়া যায়। অতিরিক্ত ব্যাটারি থাকলে সেগুলোও নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যেন ধাতব বস্তু বা অন্য কোনও সংযোগের কারণে শর্টসার্কিট না ঘটে। পাওয়ার ব্যাংক এমন জায়গায় রাখুন, যেখান থেকে সহজে বের করা যায় এবং ব্যাটারির তাপমাত্রা বা অবস্থার পরিবর্তন নজরে রাখা সম্ভব। এটি ক্ষতিগ্রস্ত, ফুলে যাওয়া বা অস্বাভাবিক গরম হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে ব্যবহার করবেন না। এমন অবস্থায় বিমানকর্মীদের দ্রুত জানানো উচিত। কতটি পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে নেওয়া যাবে? পাওয়ার ব্যাংকের সংখ্যা ও ধারণক্ষমতার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। অনেক বিমান সংস্থায় একজন যাত্রী সর্বোচ্চ দুটি পাওয়ার ব্যাংক বহন করতে পারেন, তবে অনুমোদিত সংখ্যা ও ধারণক্ষমতার সীমা সংস্থাভেদে আলাদা হতে পারে। কিছু সংস্থা ১০০ ওয়াট-আওয়ার পর্যন্ত ধারণক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক বহনের অনুমতি দেয়, আবার বেশি ধারণক্ষমতার ক্ষেত্রে আলাদা অনুমতি বা আরও কঠোর বিধিনিষেধ থাকতে পারে। পাওয়ার ব্যাংকের গায়ে সাধারণত এর ধারণক্ষমতা লেখা থাকে। শুধু মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ারের হিসাব দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রয়োজনে নির্মাতার দেওয়া তথ্য থেকে ওয়াট-আওয়ারের পরিমাণ যাচাই করুন। ধারণক্ষমতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নিন। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে যা মনে রাখবেন পাওয়ার ব্যাংক নিরাপদে হাতব্যাগে রাখুন, এর গায়ে উল্লেখ করা ধারণক্ষমতা যাচাই করুন এবং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিন। উড়োজাহাজে ওঠার পর পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার বা চার্জ দেওয়ার বিষয়ে বিমানকর্মীদের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কোনও ব্যাটারি অস্বাভাবিক গরম হয়ে গেলে, ধোঁয়া বের হলে বা পোড়া গন্ধ পাওয়া গেলে নিজে সেটি খোলার বা নাড়াচাড়া করার চেষ্টা না করে সঙ্গে সঙ্গে বিমানকর্মীদের জানান। ভ্রমণের সময় মুঠোফোন সচল রাখতে পাওয়ার ব্যাংক নিঃসন্দেহে উপকারী। তবে আকাশপথে নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে। তাই যাত্রার আগে নিয়ম জেনে নেওয়া এবং উড়োজাহাজে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারে সতর্ক থাকাই হতে পারে নির্বিঘ্ন ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।

বিমানে পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেওয়া যায়? যাত্রীদের যে নিয়মগুলো জানা জরুরি

কোডিং ছাড়াই এআই দিয়ে গেম তৈরি করা যাবে গুগলের প্লেগ্রাউন্ড প্ল্যাটফর্মে

নিজেদের পছন্দের গেম তৈরি করতে প্রোগ্রামিং জানা বা জটিল সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে না আর। নিজের পছন্দের গেমটি কেমন হবে, তা সাধারণ ভাষায় লিখে জানালেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে গেম তৈরি করে দেবে গুগল ল্যাবসের তৈরি ‘প্লেগ্রাউন্ড’। প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে গেম তৈরির পাশাপাশি সেগুলো খেলা ও অন্যদের সঙ্গে শেয়ারও করা যাবে বলে জানিয়েছে গুগল। গুগলের তথ্যমতে, গেম তৈরিতে আগ্রহী, কিন্তু প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষ নন, এমন ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে প্লেগ্রাউন্ড প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। প্ল্যাটফর্মে কোড লেখার পরিবর্তে টেক্সট নির্দেশনার মাধ্যমে গেম তৈরি করা যাবে। পরে চ্যাটের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়েই গেমের বিভিন্ন উপাদান ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আনার সুযোগ মিলবে। গুগল প্লেগ্রাউন্ডে গেম তৈরির কাজ শুরু করা যাবে একেবারে খালি ক্যানভাস থেকে। চাইলে প্ল্যাটফর্মে দেওয়া নমুনা নির্দেশনাও ব্যবহার করা যাবে। গেম তৈরির পর এর খেলার নিয়ম, চরিত্র, গতিবিধি ও পরিবেশে পরিবর্তন আনার জন্য নতুন নির্দেশনা দেওয়া যাবে। পরিবর্তনগুলো সরাসরি ওয়েব ব্রাউজারেই পরীক্ষা করে দেখা যাবে। প্রথমবার গেম তৈরির পর কোনো অংশে পরিবর্তন আনতে চাইলে নতুন করে শুরু করার প্রয়োজন নেই। গেমের কোন অংশে কী পরিবর্তন দরকার, তা লিখে জানালেই হবে। এভাবে ধাপে ধাপে নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করা কিংবা বিদ্যমান উপাদানগুলো নিজের পছন্দ অনুযায়ী সাজিয়ে নেওয়া যাবে। প্লেগ্রাউন্ডে তৈরি গেম সরাসরি ওয়েব ব্রাউজারে খেলা যাবে। ফলে স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের মতো বিভিন্ন যন্ত্র থেকে এসব গেম খেলার সুযোগ মিলবে। তৈরি করা গেম ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণ করা, লিংকের মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা কিংবা প্লেগ্রাউন্ডের ‘এক্সপ্লোর’ গ্যালারিতে প্রকাশ করা যাবে। তবে গেমের ধরন অনুযায়ী এসব সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ ভিন্ন হতে পারে। গুগল জানিয়েছে, প্রচলিত গেম তৈরির সফটওয়্যারের বিকল্প হিসেবে প্লেগ্রাউন্ড তৈরি করা হয়নি। প্ল্যাটফর্মটিতে গেম তৈরির সুবিধা ব্যবহার করতে গুগল ওয়ান মেম্বারশিপ প্রয়োজন হবে। পর্যায়ক্রমে প্ল্যাটফর্মটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। গেম তৈরির সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিটির সঙ্গেও কাজ করছে গুগল। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্লেগ্রাউন্ডের সঙ্গে ইউনিটি স্পার্কের সংযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সূত্র: নিউজ ১৮

কোডিং ছাড়াই এআই দিয়ে গেম তৈরি করা যাবে গুগলের প্লেগ্রাউন্ড প্ল্যাটফর্মে

পেন্টাগনের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বাড়াতে ২১ উপগ্রহ পাঠাল স্পেসএক্স

পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ২১টি উপগ্রহ পাঠিয়েছে স্পেসএক্স। ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স ঘাঁটি থেকে ফ্যালকন ৯ রকেটে এগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়। উপগ্রহগুলো তৈরি করেছে নর্থরপ গ্রুম্যান। এটি পেন্টাগনের স্পেস ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি বা এসডিএর ‘ট্র্যাঞ্চ ১’ কর্মসূচির চতুর্থ তথ্য পরিবহন অভিযান। এতে ব্যবহৃত বি১১০৩ বুস্টারটি ষষ্ঠবার উড়েছে। উৎক্ষেপণের জন্য আবহাওয়া অনুকূল থাকার সম্ভাবনা ছিল ৮০ শতাংশ। ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি ও পরিচালিত ফ্যালকন ৯ দুই ধাপের আংশিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট। এটি উপগ্রহ, মালামাল ও নভোচারী মহাকাশে পাঠায়। স্পেসএক্সের তথ্য অনুযায়ী, রকেটটির উচ্চতা প্রায় ৭০ মিটার, ব্যাস ৩ দশমিক ৭ মিটার। জ্বালানিসহ উৎক্ষেপণকালীন ভর প্রায় ৫৪৯ টন। নিম্ন পৃথিবীকক্ষপথে এটি সর্বোচ্চ ২২ হাজার ৮০০ কিলোগ্রাম বহন করতে পারে। তবে অভিযানের ধরন ও বুস্টার ফেরত আনা হবে কি না, তার ওপর প্রকৃত বহনক্ষমতা নির্ভর করে। প্রথম ধাপের নয়টি মার্লিন ইঞ্জিন তরল অক্সিজেন ও রকেটের উপযোগী কেরোসিন ব্যবহার করে। এই ধাপ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণপাখনা ও অবতরণপায়ের সাহায্যে বুস্টারটি খাড়াভাবে নামতে পারে। দ্বিতীয় ধাপের একটি মার্লিন ভ্যাকুয়াম ইঞ্জিন উপগ্রহ বা মালামাল নির্ধারিত কক্ষপথের দিকে নিয়ে যায়। প্রয়োজনে ইঞ্জিনটি একাধিকবার চালু করা যায়। কার্বন কম্পোজিটের তৈরি আবরণ উৎক্ষেপণের সময় মালামালকে তাপ ও বায়ুর চাপ থেকে রক্ষা করে। আবরণটিও পুনর্ব্যবহারের জন্য উদ্ধার করা হয়। ফ্যালকন ৯ নিয়মিত স্টারলিংকসহ বিভিন্ন উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে। ড্রাগন মহাকাশযানে মালামাল ও নভোচারী পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কার্যক্রমেও সহায়তা করে। উদ্ধার করা বুস্টার পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের পর আবার ব্যবহার করা হয়। এতে প্রতিবার নতুন বুস্টার তৈরির প্রয়োজন কমে। উৎক্ষেপণের সামগ্রিক ব্যয়ও কমতে পারে।

পেন্টাগনের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বাড়াতে ২১ উপগ্রহ পাঠাল স্পেসএক্স
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream