ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা

অর্থনীতি ও বাণিজ্য

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে মূল্যস্ফীতির চাপ ও দারিদ্র্য: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে মূল্যস্ফীতির চাপ ও দারিদ্র্য: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী চাপে থাকলেও সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার পাশাপাশি নতুন করে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এর আগে সকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ড. তিতুমীর বলেন, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাবও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার এসব চাপ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ যতটা সম্ভব সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অতীতের দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মনে করছে। ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বড় দুর্বলতা ছিল উপকারভোগী বাছাইয়ে ত্রুটি। যাদের সহায়তা পাওয়ার কথা, তাদের অনেকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। অন্যদিকে, যাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা নয়, তারাও তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এ সমস্যা সমাধানে সরকার ডিজিটাল জনপরিকাঠামো ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো যায়। তিনি বলেন, স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে দারিদ্র্য প্রায় ৫ শতাংশ কমতে পারে। সরকারের এসব কর্মসূচি কোনো কল্পনাপ্রসূত পরিকল্পনা নয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কারও জরুরি। সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং কর ফাঁকি, কর জালিয়াতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা। এ লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, গত অর্থবছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা কাজের ফলাফলের মাধ্যমেই প্রমাণিত হচ্ছে। আইএমএফের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন পূর্বাভাসের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শর্ত ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হলে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, আইএমএফের পূর্বাভাসকে সেই প্রেক্ষাপটেও দেখতে হবে। অতীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার সংস্কারের মাধ্যমে তা দূর করতে চায়। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের কারণে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারছেন। আমানত উত্তোলনের পাশাপাশি অনেকেই অর্থ জমা রাখছেন, যা আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে আসাও আর্থিক খাতে পরিবর্তনের একটি ইতিবাচক লক্ষণ। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সারের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সংকটের কারণে সৃষ্ট বাড়তি ব্যয়ের হিসাব করলেই অর্থনীতির ওপর এর পূর্ণ প্রভাব বোঝা যাবে না। কৃষকদের ওপর চাপ কমাতে ডিজেলের দাম না বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। সংকট সৃষ্টিতে বাংলাদেশের ভূমিকা না থাকলেও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সরকার এর প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করছে। তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করা। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কুইন সিরিকিত জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতি, উন্নয়ন অর্থায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও আর্থিক খাতের সংস্কার সভার আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এ সভা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন ও নিজস্ব অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

১২০ কোটি তরুণের বিপরীতে চাকরি মাত্র ৪০ কোটি, সতর্ক করলো বিশ্বব্যাংক

আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বিশ্বের শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন ১২০ কোটি তরুণ। কিন্তু এ সময়ে সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে মাত্র ৪০ কোটি। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের চাহিদা ও সম্ভাব্য সুযোগের মধ্যে প্রায় ৮০ কোটি ব্যবধান তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিকে আগামী প্রজন্মের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার মূল অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। উন্নয়নের আগামী ৫০ বছরের রূপরেখা তুলে ধরে বাঙ্গা বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, সংঘাত অব্যাহত রয়েছে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ বেড়েছে, ঋণের বোঝা ভারী হয়েছে। একইসঙ্গে জ্বালানি ও সারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যার কাঠামোয় বড় পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে উন্নয়ন অর্থায়নের প্রচলিত পদ্ধতিকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। কর্মসংস্থানই উন্নয়নের মূল চ্যালেঞ্জ অজয় বাঙ্গা বলেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ১২০ কোটি তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করবেন। অথচ তাদের জন্য সম্ভাব্য চাকরির সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি। ফলে কর্মসংস্থানের চাহিদা ও সুযোগের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ব্যবধানের পেছনে থাকা বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এর অর্থ এমন একজন তরুণী, যার ডিগ্রি আছে কিন্তু চাকরি নেই; কিংবা এমন একজন তরুণ, যার পেশাগত দক্ষতা রয়েছে কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। একটি প্রজন্ম তখন প্রশ্ন করবে, তাদের জন্য কী কোনও সুযোগ রয়েছে? বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, চাকরি শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটি মর্যাদার বিষয়। কর্মসংস্থান একজন তরুণকে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ দেয়। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো না গেলে তার নেতিবাচক প্রভাব এক দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিপরীতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে তার সুফলও বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়বে। তার মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি তাই কেবল একটি দেশের উন্নয়নের বিষয় নয়; বরং এটি সম্মিলিত ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। সরকারি অর্থের সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ উন্নয়ন অর্থায়নের ভবিষ্যৎ কাঠামো তুলে ধরে অজয় বাঙ্গা বলেন, সরকারি অর্থ, বেসরকারি বিনিয়োগ, দাতব্য অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। তবে সব দেশের জন্য একই ধরনের অর্থায়ন কাঠামো কার্যকর হবে না। দেশের প্রয়োজন, সক্ষমতা ও ঝুঁকির ধরন অনুযায়ী অর্থায়নের সমন্বয় পরিবর্তন করতে হবে। তিনি বলেন, যেসব দেশে প্রয়োজন বেশি এবং ঝুঁকি বেশি, সেখানে সরকারি অর্থায়ন ও স্বল্পসুদে উন্নয়ন অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশগুলোর অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে হবে। বিশ্বব্যাংকের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে দেশগুলো নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে একসময় উন্নয়ন সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে। বাঙ্গার বক্তব্য অনুযায়ী, উন্নয়ন অর্থায়নে সরকারি অর্থের ভূমিকা থাকবে যেখানে বাজার এখনও কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারেনি। অন্যদিকে বেসরকারি পুঁজি ব্যবহার করতে হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে। নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনের প্রাথমিক ঝুঁকি নিতে পারে দাতব্য অর্থায়ন। আর প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি ডলারের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। তিন বছরে বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ তিন গুণ বেসরকারি খাত থেকে অর্থ সংগ্রহে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অগ্রগতির তথ্যও তুলে ধরেন অজয় বাঙ্গা। তিনি জানান, ২০২২ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ করা হয়েছিল। গত অর্থবছরে এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহের পরিমাণ তিন গুণের বেশি হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নের সঙ্গে এই অর্থ যুক্ত করে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের মোট অর্থায়নের পরিমাণ ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে বলে ভাষণে উল্লেখ করেন তিনি। অজয় বাঙ্গা বলেন, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ প্রায় তিন গুণ হয়েছে। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে তা চার গুণ হয়েছে। আফ্রিকাজুড়েও এই অর্থায়ন দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। তার বক্তব্যে উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগের ভূমিকা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে এই অর্থায়ন কীভাবে বিভিন্ন দেশে বাস্তব কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে, তার ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন অর্থায়নে নতুন বাজার তৈরির উদ্যোগ উন্নয়ন অর্থায়নের পরিধি বাড়াতে ছয়টি বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক যৌথভাবে নতুন একটি কাঠামো তৈরির কাজ করছে বলে জানান বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ প্রকল্প মূল্যায়ন, নথিভুক্তকরণ, বিনিয়োগের উপযোগী করে সাজানো এবং এক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে অন্য বিনিয়োগকারীর কাছে হস্তান্তরের জন্য অভিন্ন পদ্ধতি তৈরি করা। বাঙ্গার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনও প্রকল্পে একটি উন্নয়ন ব্যাংক অর্থায়ন করার পর সেটি অন্য বিনিয়োগকারীর কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হলে প্রথম প্রতিষ্ঠানটির অর্থ নতুন প্রকল্পে ব্যবহার করা যাবে। এর ফলে একই মূলধন দিয়ে আরও বেশি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাজারে এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে উদীয়মান বাজারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ঘিরে নতুন একটি বিনিয়োগযোগ্য সম্পদশ্রেণি গড়ে উঠতে পারে। এতে উন্নয়ন অর্থায়নের পরিমাণ শুধু কোনও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী প্রজন্মের চাহিদা পূরণে নতুন মডেল ভাষণের শেষাংশে অজয় বাঙ্গা বলেন, গত প্রজন্মের উন্নয়ন কাঠামো হুবহু অনুসরণ করার পরিবর্তে আগামী প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ, দাতব্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তিকে সমন্বিতভাবে ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাঙ্গা বলেন, কর্মসংস্থানের ঘাটতি নিয়ে যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, সেটিই যে ভবিষ্যতের অনিবার্য বাস্তবতা হবে, তা নয়। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ইতোমধ্যে নতুন অর্থায়ন কাঠামোর সম্ভাবনা দেখাতে শুরু করেছে। এখন প্রয়োজন সেটিকে আরও বড় পরিসরে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করা। বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যে উন্নয়ন অর্থায়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য উৎপাদনশীল কাজের সুযোগ তৈরি করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

১২০ কোটি তরুণের বিপরীতে চাকরি মাত্র ৪০ কোটি, সতর্ক করলো বিশ্বব্যাংক

টিকে আছে তিন প্রজন্মের ব্যবসা

ছোট দোকান। জায়গার তুলনায় মাটির হাঁড়ি, পাতিল, ঢাকনা আর মটকা বেশি। সারিবদ্ধভাবে একটির পাশে আরেকটি সাজানো। পটিয়ার থানার হাটের পাশে এই দোকানে বসে আছেন মো. নাসির উদ্দিন। পরিবারের প্রায় এক শ বছরের ঐতিহ্যে ব্যবসার দায়িত্ব এখন তাঁর হাতে। দোকানের ঠিকানার গল্প বলতে গিয়ে নাসির ফিরে গেলেন পুরোনো থানার হাটে। একসময় পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে বটগাছের নিচে বসত হাট। পাশেই ছিল তাঁদের দোকান। দাদা আবদুল হাকিম সেখানে নিজের হাতে মাটির হাঁড়ি-পাতিল বানাতেন, বিক্রিও করতেন। দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসতেন তাঁর তৈরি জিনিস কিনতে। সময়ের সঙ্গে হাটের ঠিকানা বদলেছে। দোকানও এসেছে নতুন হাটের পাশে। দাদার পর ব্যবসার হাল ধরেন নাসিরের বাবা সগির আহমদ। ১৯৯৩ সালে আবদুল হাকিমের মৃত্যুর পর তিনি ব্যবসা চালিয়ে যান। ২০১৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেন নাসির। তিন প্রজন্মের ব্যবসা ধরে রেখেছেন নাসির, তবে কাজের ধরন আগের মতো নেই। দাদা নিজেই হাঁড়ি-পাতিল বানাতেন। নাসির এখন আর মাটি দিয়ে পাত্র তৈরি করেন না। গ্রামের কারিগরদের কাছ থেকে কিনে এনে দোকানে বিক্রি করেন। বললেন, মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়। খরচ বাদে আয় ভালো থাকে। তাই যত দিন পারেন, এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান। নাসিরের বাড়ি পটিয়ার কেলিশহরের ফোরকানিয়া পাড়ায়। এলাকার পুরোনো নাম কুমারপাড়া। ৮ অক্টোবর সেখানে গিয়ে দেখলাম, তাঁর দোকানে সাজানো মাটির পাত্রগুলোর একটি অংশ তৈরি হয় এই গ্রামেই। গ্রামে ঢুকতেই দেখা হলো নোয়া মিয়ার সঙ্গে। বয়স ৭০ বছর। তিনি মাটি পোড়ানোর আয়োজন করছিলেন। পাশে ছিলেন স্ত্রী নেসা বেগম। নোয়া মিয়া কানে শুনতে পান না; নেসা বেগমই বললেন, কয়েক বছর আগেও মাটির হাঁড়ি-পাতিল বানিয়ে চাহিদা পূরণ করতে পারতেন না। এখন মেলামাইনের থালাবাসনের কারণে কাজ কমেছে। কোনো কোনো মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকার অর্ডার পান। খরচ বাদে হাতে থাকে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা। গ্রামের ভেতর হাঁটতে গিয়ে দেখা হলো পাখিজা বেগমের সঙ্গে। চার দশক ধরে মাটির পণ্য তৈরি করছেন তিনি। মাসে গড়ে আয় ১০ হাজার টাকা। তাঁর তৈরি পণ্যও যায় থানার হাটে। পাখিজার ভাষ্য, আগে গ্রামে শতাধিক ঘরে মাটির তৈজসপত্র তৈরি হতো। এখন এ কাজ করেন হাতে গোনা কয়েকজন। এই কারিগরদের কাছ থেকেই পণ্য সংগ্রহ করেন নাসির। তাঁর দোকানের বেচাকেনা তাই শুধু তাঁর পরিবারের পুরোনো ব্যবসার ধারাবাহিকতা নয়; কুমারপাড়ার কারিগরদের তৈরি পণ্যও পৌঁছে দেয় ক্রেতার কাছে। গ্রাম থেকে ফিরে আবারও হাজির হলাম মাটির পণ্যের ব্যবসায়ী নাসিরের দোকানে। ছোট জায়গাটিতে সাজানো হাঁড়ি-পাতিলের দিকে তাকিয়ে মনে হলো, পরিবারের ব্যবসাটি বদলেছে দুইভাবে—হাটের সঙ্গে বদলেছে ঠিকানা, আর নিজে তৈরির কাজ থেকে নাসির এসেছেন কারিগরের কাছ থেকে পণ্য কেনাবেচায়। দাদার শুরু করা ব্যবসা এখন চলছে তাঁর হাতেই।

টিকে আছে তিন প্রজন্মের ব্যবসা

ফের পুরোদমে চালু ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যাংকিং সেবা

পুনরায় পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড। এর ফলে গ্রাহকেরা এখন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই ব্যাংকের সব শাখা থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ টাকা তুলতে ও লেনদেন করতে পারবেন। এর আগে তারল্য সংকট সামাল দিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে কেবল বড় অঙ্কের আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা তোলার লিখিত আবেদন নেওয়া শুরু করেছিল ব্যাংকটি। ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেলিতা মেহজাবীন জানিয়েছিলেন, ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাংকটির সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা চালু হবে। একই সঙ্গে সব শাখা ও এটিএম বুথে পর্যাপ্ত তারল্য নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, ‘১১ অক্টোবর থেকে বড় অঙ্কের আমানতকারীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া শুরু করব।’ অনিয়ম ও দুর্বল সুশাসনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ন্যাশনাল ব্যাংক পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছিল না বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দিয়েছে। গ্রাহকেরা এখন সব ধরনের ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারবেন। পাশাপাশি চেক, আরটিজিএস, এনপিএসবি ও অন্যান্য বিদ্যমান সেবার মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবেন।’ মেহজাবীন জানান, ন্যাশনাল ব্যাংক দেশের প্রথম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক। ব্যাংকটির রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। একসময় এর আমানতের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এখনো গ্রাহকদের ব্যাংকটির ওপর আস্থা রয়েছে। ১৫ অক্টোবর থেকে সব সেবা পাওয়া যাচ্ছে-এটি দেখার পর গ্রাহকেরা আবারও আমাদের কাছে টাকা জমা দেওয়া শুরু করবেন বলে আশা করছি।’ তিনি আরও জানান, আগের মতো সেবা দিতে ব্যাংকটির ২২১টি শাখা, ৬৫টি উপশাখা ও ৫৩টি এটিএম বুথ প্রস্তুত রাখা হবে। ন্যাশনাল ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক জানান, ১৫ অক্টোবর থেকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে সব শাখা ও এটিএম বুথে প্রস্তুতি চলছে।

ফের পুরোদমে চালু ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যাংকিং সেবা

নভোএয়ার ও গোল্ড’স জিম বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

নভোএয়ার ও গোল্ড’স জিম বাংলাদেশ পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে গ্রাহকসেবার পরিধি সম্প্রসারণ, ব্র্যান্ডের পরিচিতি বৃদ্ধি এবং নতুন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হবে। বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত গোল্ড’স জিমের কার্যালয়ে নভোএয়ারের পরিচালক (বিক্রয় ও বিপণন) সোহেল মজিদ এবং গোল্ড’স জিম বাংলাদেশের হেড অব অপারেশন আনিসুল ইসলাম ববি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, নভোএয়ারের ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার প্রোগ্রাম ‘স্মাইলস’-এর সদস্যরা গোল্ড’স জিমের সদস্যপদ গ্রহণের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ছাড় পাবেন। পাশাপাশি, শারীরিক সুস্থতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে তাঁদের জন্য থাকছে বিশেষায়িত ফিটনেস সুবিধা। গোল্ড প্যাকেজের আওতায় নভোএয়ারের স্মাইলস সদস্যরা রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং পান্থপথে অবস্থিত বসুন্ধরা সিটি শাখাসহ গোল্ড’স জিম বাংলাদেশের উভয় শাখা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, গোল্ড’স জিম বাংলাদেশের সদস্যরা নভোএয়ারে ভ্রমণের ক্ষেত্রে টিকিটের মূল্যে ১০ শতাংশ ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। উল্লেখ্য, সম্মানিত যাত্রীদের জন্য বিশেষ সেবা ও বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নভোএয়ার ২০১৩ সালে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে প্রথমবারের মতো ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার প্রোগ্রাম ‘স্মাইলস’ চালু করে এবং সম্মানিত যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। নভোএয়ার ও গোল্ড’স জিম বাংলাদেশের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ অংশীদারত্ব গ্রাহকসেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও উন্নত জীবনযাপনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে নভোএয়ার ঢাকা থেকে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে প্রতিদিন নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। নভোএয়ার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কল করুন ১৩৬০৩ অথবা ভিজিট করুন www.flynovoair.com বিডি-প্রতিদিন/এমএল

নভোএয়ার ও গোল্ড’স জিম বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় খাদ্যসংকটের শঙ্কা, জাতিসংঘের সমঝোতার প্রস্তাব

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি অঞ্চলে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে আরও বেড়ে যেতে পারে খাদ্যের দাম। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির প্রস্তাব, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন করা হোক। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা গতকাল বুধবার এ কথা বলেছেন। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের মধ্যে রয়টার্সকে তিনি এ কথা বলেন। হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা বলেন. বীজ বপনের মৌসুম ঘনিয়ে আসায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাবে সম্মত হওয়া ‘অত্যন্ত জরুরি’। বীজ বপনের মৌসুম চলে গেলে বিপদ। এ সময় কৃষকেরা সার না পেলে উৎপাদন অনেকটা কমে যাবে। একই সঙ্গে খাদ্যের দামও অনেক বেড়ে যাবে। জাতিসংঘের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ওমানে জাতিসংঘের কর্মীদের পরিচালনায় সমন্বয়কেন্দ্র করা হবে। এই কেন্দ্রের কাজ হবে জাহাজের নিবন্ধন করে এই প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল তদারকি করা। খবর আল–জাজিরার এদিকে সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) খাদ্যমূল্য সূচক প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। গত মাসে এই সূচকের মান ছিল ১৩৬। সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ও আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার বিশেষ পরিস্থিতি এল নিনোর তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বেড়ে ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য কার্যত ভেঙে পড়ায় গত মাসের শুরুতে গমের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর মধ্যে সারের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। কৃষি আবাদের নির্দিষ্ট সময় আছে। ফলে বীজ বপনে সামান্য দেরি হলেও ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইরান এ প্রণালিতে চলাচালকারী জাহাজে হামলা করছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে ইউরিয়া সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ইউরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ সার। এ ছাড়া সারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সালফার পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ইউরিয়া পরিবহনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত সালফারের প্রায় অর্ধেক হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। সংকটের মধ্যেও কিছু জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারছে। তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, এসব জাহাজে পরিবহন করা পণ্যের মধ্যে সারের অংশ ‘খুবই নগণ্য’। হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা বলেন, জাতিসংঘের সমর্থিত সার পরিবহনব্যবস্থার পরিকল্পনা গত মার্চে তৈরি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্মত হলে মাত্র ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এটি চালু করা সম্ভব। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো কেন এই পরিকল্পনায় সম্মত হয়নি, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। দা সিলভা আরও বলেন, প্রতিদিন মাত্র পাঁচটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারলেও যেসব দেশে জরুরি ভিত্তিতে সার প্রয়োজন, সেসব দেশে সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় খাদ্যসংকটের শঙ্কা, জাতিসংঘের সমঝোতার প্রস্তাব

আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পেতে শর্ত পূরণ করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ সহায়তা পেতে হলে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, ঋণের জন্য শর্ত থাকবে এবং তা পূরণও করতে হবে। কিছু বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো হবে। নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তবে এই কর্মসূচির আওতায় কী ধরনের শর্ত থাকবে এবং সেগুলো কীভাবে পূরণ করা হবে, তা নিয়ে আরও আলোচনা হবে। কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো হবে। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাত, কর-জিডিপি অনুপাত, ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইএমএফের পর্যবেক্ষণ রয়েছে এবং এসব বিষয়ে বাংলাদেশেরও সম্মতি রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলবে। সংস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আইএমএফের কোনো প্রশ্ন রয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদেরও কিছু অবজারবেশন আছে। ব্যাংক ও ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত নিয়ে তাদের যে অবজারবেশন রয়েছে, আমরা সেগুলোর সঙ্গে একমত। ইতিমধ্যে অনেকগুলো পূরণও হয়ে গেছে। শুধু আইএমএফ নয়, বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গেও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে বাংলাদেশ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এসব সংস্থার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পেতে শর্ত পূরণ করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময় কেন বাড়লো

আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনা ও তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬-এ দরপত্র জমা দেওয়ার সময় চার মাস বাড়িয়েছে সরকার। একইসঙ্গে বিডিং রাউন্ডের ডাটা সেলস প্যাকেজ সহজলভ্য করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এই তথ্য জানায়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়া যাবে। আগে এ সময়সীমা ছিল ৩০ নভেম্বর। মন্ত্রণালয় জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানির (আইওসি) সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনা এবং তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সময়সীমা বৃদ্ধি ও ডাটা প্যাকেজ সহজলভ্য করার ফলে বিডিং রাউন্ডে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়। এই বিডিং রাউন্ডে বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে অগভীর সমুদ্রের ১১টি এবং গভীর সমুদ্রের ১৫টি ব্লক। গত ২৪ মে দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিদেশি কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে এবার নতুন উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তির (পিএসসি) আওতায় গ্যাসের দাম নির্ধারণ ও করছাড়সহ বিভিন্ন শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ১০ মার্চ অফশোর বিডিং রাউন্ডের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। ওই দফায় ২৪টি ব্লকের জন্য সাতটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি দরপত্রের কাগজ কিনলেও কোনও প্রস্তাব জমা দেয়নি। পরে আরও তিন মাস সময় বাড়ানো হলেও কোনও দরদাতা পাওয়া যায়নি।

সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময় কেন বাড়লো

চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১২.৯ শতাংশ বেড়ে ৯.৯৯৭ বিলিয়ন ডলার

চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯.৯৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে পাওয়া ৮.৮৫৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১২.৯ শতাংশ বেশি। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশে ১.৪০৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সে এসেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ১.২৭০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১০.৬ শতাংশ বেশি। শুধু ১৩ অক্টোবর প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১১৫ মিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় শক্তিশালী করতে এবং চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে বৈদেশিক খাতকে সহায়তা করছে।

চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১২.৯ শতাংশ বেড়ে ৯.৯৯৭ বিলিয়ন ডলার

এক বছরে বিদেশি ব্যাংকের মুনাফা কমেছে ৫০০ কোটি টাকা

বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত ও মুনাফা দুটোই কমেছে। এক বছরে এসব ব্যাংকের মোট আমানত ১১১ কোটি টাকা ও মুনাফা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বা সাড়ে ১৭ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আজ বুধবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকের কার্যক্রম: প্রবণতা ও পরিচালনাগত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটিতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত, ঋণ, বিনিয়োগ, মুনাফাসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অর্থাৎ জুনের শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আমানত কমে হয়েছে ৮৭ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৮৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত ১১১ কোটি টাকা কমেছে। এ ছাড়া গত জুনের শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত মুনাফার পরিমাণ কমে ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকায় নেমে আসে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা। এর মানে, এক বছরে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মুনাফা ৪৯৪ কোটি টাকা কমেছে। তবে মুনাফা ও আমানত কমে যাওয়ার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি প্রতিবেদনটিতে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৯টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৬৭টি শাখা ও ৬টি উপশাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংকগুলো হলো দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি), স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ (এসসিবি), সিটিব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও ব্যাংক আলফালাহ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের বড় অংশই কম সুদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের অর্থ। গত জুনের শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে যে আমানত ছিল তার মধ্যে ৩২ হাজার ৮০১ কোটি টাকা এ ধরনের হিসাবে রয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমানত রয়েছে বিদেশি মুদ্রায় খোলা হিসাবে। এ ধরনের হিসাবে রয়েছে ১৭ হাজার ৮৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া মেয়াদি বা স্থায়ী আমানত রয়েছে ১২ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। সাধারণত ব্যাংকে স্থায়ী বা মেয়াদি আমানতের সুদহার বেশি থাকে। কিন্তু বিদেশি ব্যাংকে এই ধরনের আমানত কম রাখা হয়। কম সুদের আমানত বেশি থাকার পরও বিদেশি ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বেশ সংযত। গত জুনের শেষে এসব ব্যাংকের সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা গত বছরের জুন শেষে ছিল ৪৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে বিদেশি ব্যাংকের দেওয়া ঋণ এক বছরে বেড়েছে ৩৪৯ কোটি টাকা। তাদের দেওয়া ঋণের বড় অংশই গেছে শিল্প খাতে। গত জুনে এই খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে কম ঋণ পরিবহন ও নির্মাণ খাতে। পরিবহন খাতে গত জুনের শেষে তাদের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি টাকা। একই সময়ে নির্মাণ খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৪২৮ কোটি টাকা।

এক বছরে বিদেশি ব্যাংকের  মুনাফা কমেছে ৫০০ কোটি টাকা

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হারের সিদ্ধান্ত কেমন হতে পারে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই দরপতন দেখা গেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২১ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪০ দশমিক ৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬২ দশমিক ৮০ ডলারে নেমে এসেছে। ফরেক্স ডট কমের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘দিনের শেষের দিকে প্রকাশ হতে যাওয়া মূল্যস্ফীতির তথ্যে অপেক্ষায় বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই মূলত নিষ্ক্রিয় বসে আছেন। এর ফলে মার্কিন ডলার, স্বর্ণের দাম এবং ডলারের ওপর নির্ভরশীল অন্য সবকিছুর গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব পড়ছে।’ রাজাকজাদা আরও যোগ করেছেন, ‘একবার মার্কিন ডলারের দর ঊর্ধ্বমুখী হয়ে শীর্ষ সীমায় পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি চলে এলে ঠিক তখনই স্বর্ণের বাজার ফের চাঙা হবে। আমার ধারণা, বছরের শেষের দিকে এই ধাতুর দাম আবারও ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ ডলারের কাছাকাছি উঠতে পারে।’ স্বর্ণ সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হলেও উচ্চ সুদের হার সুদবিহীন এই মূল্যবান ধাতুর আকর্ষণ কমিয়ে দেয়। অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৫৭ ডলার এবং প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫৩ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৩২ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে। এদিকে দেশের বাজারে এখন ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

এলপিজি ব্যবসায়ীদের দু’দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ঘোষিত দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এলজিপির দাম নির্ধারণে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে গত ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীরা বৃহস্পতি ও শুক্রবার (১৫ ও ১৬ অক্টোবর) দেশজুড়ে সব এলপিজি দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে কমিশন বৃদ্ধি, কোম্পানির ইচ্ছামতো দাম পরিবর্তন বন্ধসহ সাত দফা দাবি জানায় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।  এর আগে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ঘোষিত ধর্মঘট প্রত্যাহার না করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় সরকার।  সকালে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

এলপিজি ব্যবসায়ীদের দু’দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার

ব্যালেন্স লোনে দ্বিগুণ করের অভিযোগ, তদন্তের দাবি মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের

মোবাইল ব্যালেন্স লোনের ওপর একাধিক পর্যায়ে করের বোঝা চাপানো হচ্ছে অভিযোগ এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলেছে, ব্যালেন্স লোনের সার্ভিস চার্জ, প্রযোজ্য কর ও অন্যান্য কর্তনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব ঋণ নেওয়ার আগেই গ্রাহককে জানাতে হবে। আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানান সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। বিবৃতিতে বলা হয়, মোবাইল অপারেটরগুলো গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালেন্স লোন দেওয়ার সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে। এ জন্য ১০ টাকা সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। জরুরি মুহূর্তে এ সুবিধা কাজে এলেও ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের বিভিন্ন পর্যায়ে কর আরোপের কারণে গ্রাহকের প্রকৃত ব্যয় বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মোবাইল অপারেটরদের বক্তব্য অনুযায়ী বর্তমানে ১০০ টাকার মোবাইল সেবায় ৫৮ টাকা কর আদায় করা হয়। সে হিসাবে ৫০০ টাকার বিপরীতে প্রথম ধাপে ২৯০ টাকা করের হিসাব আসে। এর সঙ্গে রয়েছে ১০ টাকা সার্ভিস চার্জ। ব্যালেন্স লোন নেওয়ার সময় একবার এবং পরিশোধের সময় আবার কর কাটা হলে গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন মহিউদ্দিন আহমেদ। মোবাইল ব্যালেন্স লোনকে গ্রাহকের সাময়িক যোগাযোগসংকট মোকাবিলার সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সার্ভিস চার্জের পাশাপাশি কর আরোপ এবং ঋণ সমন্বয়ের সময় পুনরায় কর কাটা হলে গ্রাহকের ব্যয় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেড়ে যেতে পারে। নিম্ন আয়ের মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবীদের জন্য এ ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় উদ্বেগজনক। বিবৃতিতে বলা হয়, একজন গ্রাহক ৫০০ টাকা ব্যালেন্স লোন নিলে নির্ধারিত শর্তে ওই অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন—এটাই তাঁর প্রত্যাশা। তবে ঋণ গ্রহণ, সার্ভিস চার্জ ও ঋণ সমন্বয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে কীভাবে মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক ও অন্যান্য কর হিসাব করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট না হলে সেবাটিকে স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব বলা যায় না। প্রতিটি পর্যায়ে কর কাটলেই আইনগতভাবে একই কর একাধিকবার আদায় করা হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঋণ হিসেবে দেওয়া ব্যালেন্স, সার্ভিস চার্জ, ব্যবহৃত টেলিযোগাযোগ সেবা এবং পরবর্তী রিচার্জ থেকে ঋণ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কোন খাতে কী হারে কর প্রযোজ্য হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের যৌথ পর্যালোচনাও চেয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির দাবি, ৫০০ টাকা লোনের বিপরীতে সার্ভিস চার্জ, প্রযোজ্য কর ও অন্যান্য কর্তনসহ মোট কত টাকা আদায় করা হবে, তা ঋণ নেওয়ার আগেই গ্রাহককে জানাতে হবে। জরুরি যোগাযোগের জন্য দেওয়া ব্যালেন্স লোনকে অপারেটরদের অতিরিক্ত আয়ের মাধ্যম না বানিয়ে স্বচ্ছ, যুক্তিসংগত ও গ্রাহকবান্ধব সেবা হিসেবে পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। প্রযোজ্য আইন ও বিধির বাইরে কোনো চার্জ বা কর আদায় করা হলে তা বন্ধ এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে গ্রাহককে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থার দাবিও জানানো হয়। মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মোবাইল ফোন এখন শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং ও জরুরি যোগাযোগের অপরিহার্য মাধ্যম। ব্যালেন্স লোনের মতো সাময়িক আর্থিক সুবিধায় অতিরিক্ত চার্জ ও অস্পষ্ট করের কারণে গ্রাহকের ব্যয় বাড়লে তা প্রকৃত অর্থে গ্রাহকবান্ধব সেবা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। বিবৃতিতে ব্যালেন্স লোনের পূর্ণাঙ্গ ব্যয় ও করকাঠামো প্রকাশ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং গ্রাহকের আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ব্যালেন্স লোনে দ্বিগুণ করের অভিযোগ, তদন্তের দাবি মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের

অপ্রচলিত বাজারে বাড়ছে পোশাক রপ্তানি, পাঁচ দেশেই ৫৬.৫৮ শতাংশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বা নতুন বাজারের মধ্যে শীর্ষ পাঁচ দেশেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে রপ্তানির প্রায় ৫৭ শতাংশ। দেশগুলো হলো—জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়া। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এই পাঁচ দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১০২ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ৯.৬২ শতাংশ। পর্যালোচনাধীন সময়ে সব অপ্রচলিত বাজার মিলিয়ে মোট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৮১ কোটি ডলারের। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটিতে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এটি মোট অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির ১৮.৯৭ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ২.৬১ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ায় তিন মাসে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২০ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.০২ শতাংশ বেশি। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তবে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে একমাত্র ভারতেই রপ্তানি কমেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৫.৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে তুরস্কে। দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১২৩.১৪ শতাংশ বেড়ে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। দক্ষিণ কোরিয়ায় পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৮.৮১ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারে। প্রথম তিন মাসের সামগ্রিক চিত্রের পাশাপাশি একক মাস হিসেবেও সেপ্টেম্বরে রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। মাসটিতে শীর্ষ পাঁচ দেশে পোশাক রপ্তানি ১৬.৭৭ শতাংশ বেড়ে ৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই মাসে এর পরিমাণ ছিল ২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। সেপ্টেম্বরেও প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল তুরস্ক। দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২২৪.৯৩ শতাংশ, যার পরিমাণ ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৭.৮৮ শতাংশ এবং জাপানে ৫.১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে এ সময়ে ভারতে রপ্তানি কমেছে ০.৮৬ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ০.১৪ শতাংশ। তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ও ভয়েস অব অ্যাপারেলের প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির অংশ ও প্রবৃদ্ধি বাড়া অত্যন্ত ইতিবাচক। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রচলিত বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে নতুন বাজার সম্প্রসারণ জরুরি। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ অপ্রচলিত বাজারগুলোতে যাচ্ছে। এই অংশ বাড়াতে পারলে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য। দেশটিতে আরও বেশি পোশাক রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। একইভাবে ভারতের বাজারেও রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও তা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। অস্ট্রেলিয়ার ক্রয়ক্ষমতা ভালো হওয়ায় সেখানেও বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে পণ্যের গুণগত মানের পাশাপাশি এফওবি মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এসব বাজারে শুধু পণ্যের পরিমাণ নয়, বৈচিত্র্য, মান ও মূল্যের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই মূল্য সংযোজিত ও উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানি বাড়াতে নতুন বাজারগুলোতে আরও মনোযোগ দিতে হবে। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

অপ্রচলিত বাজারে বাড়ছে পোশাক রপ্তানি, পাঁচ দেশেই ৫৬.৫৮ শতাংশ

রাতারাতি ধনী হওয়ার ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান

রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই ভবনে সোমবার ‘ডিজিটাল প্রতারণা ও সতর্কতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার ও সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহারকে পুঁজি করে ছড়িয়ে পড়া ডিজিটাল প্রতারণা, ভুয়া প্রচারণা ও গুজবের ফাঁদ থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পুঁজিবাজারের অংশীজন ও নীতিনির্ধারকরা। রাতারাতি বড়লোক হওয়ার অবাস্তব লোভ ও চটকদার প্রলোভনে না পড়ে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত নগদ প্রবাহসহ মৌলভিত্তি যাচাই করে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এই সেমিনারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের সমাপনী আয়োজন। সমাপনী অনুষ্ঠান যৌথভাবে আয়োজন করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ডিএসইর ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, বিনিয়োগকারী সচেতনতা পুলিশের বিশেষ সপ্তাহের মতো কেবল এক সপ্তাহের বিষয় নয়; বছরব্যাপী বজায় রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ার পেছনে মানুষের রাতারাতি ধনী হওয়ার লোভ কাজ করে।  কোম্পানিগুলোর আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বিএসইসি চেয়ারম্যান সতর্ক করে বলেন, মুনাফা একটি ধারণা মাত্র, কিন্তু নগদ টাকাই হলো প্রকৃত সত্য। তাই নিছক হিসাবের খাতার মুনাফা না দেখে কোম্পানির পরিচালন নগদপ্রবাহ ইতিবাচক কিনা, তা দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ঘোড়াকে টেনে পানির কাছে নেওয়া গেলেও জোর করে পানি খাওয়ানো যায় না– এমন প্রচলিত প্রবাদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা যত উদ্যোগই নিক না কেন, বিনিয়োগকারীদের নিজেদেরও জানার ও শেখার মানসিকতা তৈরি করা ছাড়া প্রতারণা কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। মাসুদ খান জানান, আগামী ৩০ নভেম্বর পুঁজিবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। তহবিলের মেয়াদ এবং আকার বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক সমাধানের প্রত্যাশা রয়েছে।  আইপিও সংস্কার বিষয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, আইপিও বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তা জনমতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। অডিট প্রক্রিয়ায় বিশেষ স্ক্রিনিং বা নিরীক্ষকদের মাধ্যমে বাড়তি যাচাইয়ের ব্যবস্থা রেখে আইপিও অনুমোদনের সময়সীমা দুই মাসে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো ও ভারী শিল্পের ক্ষেত্রে পুঞ্জীভূত লোকসানের বিদ্যমান শর্ত শিথিল করা এবং আইপিওর অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধের সীমা ৩০ শতাংশ থেকে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারের মূল চালিকাশক্তি হলো সময়মতো, সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যের অবাধ প্রবাহ। তবে বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে ডিজিটাল প্রতারণা একটি বিরাট সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ বা পেজে স্টক এক্সচেঞ্জ, বিএসইসি কিংবা ব্রোকারেজ হাউসের নকল লোগো ব্যবহার করে নিজেদের ভুয়া বিশেষজ্ঞ দাবি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। দুই সপ্তাহে টাকা দ্বিগুণ করার চটকদার ফাঁদ পেতে মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই প্রতারণা রুখতে ডিএসই সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড মনিটরিং প্রযুক্তি আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।  বিএসইসির কমিশনার নাফিজ আল তারিক বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দ্রুত মুনাফার লোভেই স্ক্যামারদের ফাঁদ সফল হয়। মার্কিন ইতিহাসের আলোচিত প্রতারক বার্নার্ড ম্যাডফের পঞ্জি স্কিমের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, চরম অস্থিতিশীল বাজারেও যদি কোনো ফান্ড অস্বাভাবিকভাবে ধারাবাহিক স্থিতিশীল মুনাফা দেখাতে থাকে, তবে সেটিই সবচেয়ে বড় বিপদের লক্ষণ। তিনি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের দুটি মূল নীতি স্মরণ করিয়ে দেন– প্রথম নিয়ম কখনও পুঁজি হারানো যাবে না, দ্বিতীয় নিয়ম হলো কখনও প্রথম নিয়মটি ভুলে যাওয়া যাবে না। বিএসইসির কমিশনার নাহিদ মাহতাব বলেন, ডিজিটাল প্রতারণা কেবল সাইবার অপরাধের বিষয় নয়; এটি সরাসরি বিনিয়োগকারী সুরক্ষা, বাজারের স্বচ্ছতা ও সামগ্রিক আস্থার ওপর আঘাত। কমিশনার হোসেন সাদাত বাজারসংশ্লিষ্ট পেশাদারদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাজারে সেবা দিতে হলে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে– প্রথমত জানতে হবে, দ্বিতীয়ত বুঝতে হবে এবং তৃতীয়ত নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আরেক কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান পুঁজিবাজারে আর্থিক সুশাসন, হিসাবের স্বচ্ছতা ও সঠিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেন। ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজারের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্রোকারদের যেমন নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি বিনিয়োগকারীদেরও ন্যূনতম আর্থিক সাক্ষরতা অর্জন করে নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে বিনিয়োগ করতে হবে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএসইর আইসিটি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবু নূর মোহাম্মদ হাসানুল করিম।  বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

রাতারাতি ধনী হওয়ার ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream