ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
নগদ বার্তা

বিএনপির দুঃসময়ে পাশে ছিলেন ফাহাদ, এখন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের প্রত্যাশা

পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা ফাহাদ হোসেন ২০০৬ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার দাবি করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মামলা, হামলা, নির্যাতন ও কারাভোগসহ নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও দল ও আদর্শ থেকে সরে যাননি বলে জানিয়েছেন তিনি।মাদারগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফাহাদ হোসেনের ওপর হামলা এবং তাঁর বাবা ও ভাইকে মারধরের ঘটনায় ২০২৩ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন জামালপুর জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছিল। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ফাহাদের পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট এবং তাঁর বাবা ও ভাইয়ের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।ফাহাদ হোসেন জানান, ছোটবেলা থেকেই বিএনপির রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে দলটির প্রতি তাঁর আস্থা ও রাজনৈতিক বিশ্বাস তৈরি হয়। তবে পারিবারিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ২০০৬ সাল থেকে মাঠপর্যায়ে সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন তিনি।তাঁর ভাষ্য, ২০০৬ সাল থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় বিএনপি বিরোধী দলে থাকাকালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সহজ ছিল না। এ সময়ে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের মামলা, হামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কয়েক দফা কারাভোগও করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।হামলা ও পরিবারের সদস্যদের আহত করার অভিযোগফাহাদ হোসেনের দাবি, ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট বিএনপির পূর্বনির্ধারিত লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাঁর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা তাঁকে সেখানে না পেয়ে তাঁর বাবাকে মারধর করেন এবং এতে তাঁর বাবার হাত ভেঙে যায় বলে দাবি করেন তিনি।এ সময় তাঁর ছোট ভাইয়ের মাথা ও কপালেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলে জানান ফাহাদ।সংযুক্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও তাঁর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর বাবা ও ভাইয়ের ওপর হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় তৎকালীন জামালপুর জেলা ছাত্রদলের নেতারা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং সংশ্লিষ্টদের মুক্তির দাবি করেন।ফাহাদ বলেন, ওই দিনের ঘটনা তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। হামলার পর তাঁর ছোট ভাই জামালপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলেও জানান তিনি।গ্রেপ্তার ও প্রায় দুই মাস কারাভোগফাহাদের দাবি, ভাই চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁকেও জামালপুর থেকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একই সময়ে তাঁর এক ফুফাতো ভাই ও রকি চাচাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকার পর মুক্তি পান বলে জানান তিনি। কারাগারের সেই সময় এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন অধ্যায় হয়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ফাহাদ।তবে এসব প্রতিকূলতা তাঁকে বিএনপির রাজনীতি থেকে দূরে সরাতে পারেনি। বরং দুঃসময়ের অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে বলে জানান তিনি।‘অন্য দলের প্রস্তাব এলেও বিএনপি ছাড়িনি’ফাহাদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন সময়ে অন্য রাজনৈতিক দল থেকে তাঁকে প্রস্তাব ও নানা সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে যাননি। তাঁর কাছে রাজনীতি শুধু ক্ষমতা, পদ-পদবি কিংবা ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের বিষয় নয়; বরং এটি একটি আদর্শ, বিশ্বাস এবং মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয়।জিয়া পরিবারের প্রতি নিজের আস্থা ও ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, দেশ ও জনগণের স্বার্থে জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রতিকূল সময়ে এই রাজনৈতিক বিশ্বাস তাঁকে দৃঢ় থাকতে সাহস দিয়েছে বলে জানান তিনি।এখন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের প্রত্যাশাদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে ফাহাদ বলেন, সুসময়ে দলের পাশে থাকা সহজ হলেও দুঃসময়ে ঝুঁকি নিয়ে দলের আদর্শের পক্ষে অবস্থান করাই একজন কর্মীর প্রকৃত পরীক্ষা।তাঁর মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে বিএনপির জন্যও নতুন সময় এসেছে। এখন দীর্ঘদিনের ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা দলীয়ভাবে কতটা মূল্যায়ন পান, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।ফাহাদ বলেন, তাঁর প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ এবং তাঁর পরিবারের ওপর দিয়ে যাওয়া কঠিন সময়গুলো যেন ভুলে যাওয়া না হয়—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।ভবিষ্যতে মানুষের সেবা করার সুযোগ পেলে সেটিকে নিজের সৌভাগ্য হিসেবে গ্রহণ করে সততা, ন্যায়, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি। নিজের ও পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে ফাহাদ বলেন, জীবনের দীর্ঘ পথচলায় পাওয়া কষ্ট, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতাকে মানুষের সেবার মাধ্যমে অর্থবহ করে তুলতে চান।

বিএনপির দুঃসময়ে পাশে ছিলেন ফাহাদ, এখন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের প্রত্যাশা