যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন ফেডারেল গোয়েন্দারা। তার আর্থিক বিবরণী নিয়েও পৃথক তদন্ত চলছে। এর মধ্যে সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রকাশ্যে জবাব চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ওমরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার খবর পাওয়া যায়নি।
সোমবার ভোরের আগে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের সদস্যরা তল্লাশি চালান। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, চলমান ফৌজদারি তদন্তে আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানায় এ তল্লাশি অভিযান হয়েছে। সূত্রের বরাতে ফক্স নিউজ বলেছে, তদন্তটি ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে।
তবে তদন্তের পরিধি জানায়নি বিচার বিভাগ। ওমরের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করতে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো জানান, তার দপ্তর ওমরের আর্থিক বিবরণী তদন্ত করছে। এর সঙ্গে বাড়িতে তল্লাশির সম্পর্ক আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
আর্থিক তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে ওমরের স্বামী টিম মাইনেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো। জমা দেওয়া হিসাবে সেগুলোর সর্বোচ্চ মূল্য ২০২৩ সালের ৫১ হাজার ডলার থেকে ২০২৪ সালে ৩ কোটি ডলারে ওঠে। এপ্রিলে সংশোধিত বিবরণীতে দম্পতির সম্মিলিত সম্পদ দেখানো হয় ১৮ হাজার ৪ থেকে ৯৫ হাজার ডলার।
সেপ্টেম্বরে কংগ্রেসের আচরণবিষয়ক নজরদারি দপ্তর ৫–১ ভোটে ওমরের বিরুদ্ধে ভুল বা অসম্পূর্ণ আর্থিক তথ্য দেওয়ার অভিযোগ খারিজের সুপারিশ করে। আইন বা প্রতিনিধি পরিষদের বিধি লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি পায়নি তারা। তবু তদন্ত চালাবেন বলে জানিয়েছেন পিরো। রিপাবলিকান জেমস কোমারও ব্যবসাগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, ওমর কেন সর্বোচ্চ ৩ কোটি ডলারের নিট সম্পদ পরে প্রায় ১ লাখ ডলার দেখালেন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি ইঙ্গিত দেন, বড় অঙ্কটি মিনেসোটার প্রতারণার অর্থ হতে পারে।
মিনেসোটায় সরকারি অর্থসংক্রান্ত প্রতারণা নিয়ে একাধিক তদন্ত চলছে। সেগুলোর কোনোটিতেই ওমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি। তার বিরুদ্ধে চলমান দুই ফেডারেল তদন্তের পরিধিও অস্পষ্ট।
মতামত