ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা

পাকিস্তানে জরুরি অবস্থার অজুহাতে মানবাধিকার হরণ মেনে নেওয়া যায় না: অ্যামনেস্টি


| প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তানে জরুরি অবস্থার অজুহাতে মানবাধিকার হরণ মেনে নেওয়া যায় না: অ্যামনেস্টি

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি, গভর্নরের শাসন প্রয়োগ এবং সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের কড়া সমলোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি জানিয়েছে, জাতীয় সংকট মোকাবিলার নামে এ ধরনের জরুরি পদক্ষেপ মানবাধিকারের কণ্ঠরোধ, ভিন্নমত দমন কিংবা ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার কোনো ‘ব্লাঙ্ক চেক’ বা ঢালাও সুযোগ হতে পারে না।

সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে উদ্ভূত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক বাবু রাম পন্ত বলেন, প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রীসহ প্রধান প্রধান নেতাদের ঢালাও ও স্বেচ্ছাচারী গ্রেফতার এবং সমগ্র প্রদেশ জুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত করার খবরগুলো এই জরুরি পদক্ষেপগুলোর আনুপাতিকতা নিয়ে গভীর প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। যদিও অত্যন্ত সীমিত ও বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসমূহ রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলার উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে মানবাধিকারসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা থেকে কিছুটা ছাড় নিতে পারে, তবে জরুরি পদক্ষেপের অর্থ এই নয় যে এর অজুহাতে মানবাধিকারের ওপর দমনপীড়ন চালানো হবে, ভিন্নমতকে স্তব্ধ করে দেওয়া হবে কিংবা সমস্ত ক্ষমতা একক কেন্দ্রমুখী করা হবে।

প্রদেশে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাবু রাম পন্ত। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সময় সশস্ত্র বাহিনীর দ্বারা গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে দীর্ঘ ও উদ্বেগজনক ইতিহাস রয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমানে সেখানে সেনা মোতায়েন প্রদেশটিকে আরও বেশি সামরিকীকরণের দিকে ঠেলে দেবে। এটি বলপ্রয়োগের বেআইনি ব্যবহারের মতো মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের উচিত সাধারণ পুলিশিং বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সামরিক সদস্যদের ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা এবং এটা নিশ্চিত করা যেন সামরিক বাহিনী জবাবদিহিতার আওতায় থাকে ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানদণ্ড মেনে চলে।

বিদ্যমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহিতা ও নজরদারির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি আরও যুক্ত করেন, এই সংকটময় মুহূর্তে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন জরুরি প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপের একটি স্বাধীন তদারকি থাকে। সেই সাথে জরুরি অবস্থার অধীনে গৃহীত যেকোনো ব্যবস্থা যেন পরিস্থিতির নিরিখে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং সম্পূর্ণ আনুপাতিক হয়, তাও নিশ্চিত করা আবশ্যক।

খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে নজিরবিহীন মাত্রার হিংসাত্মক সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধি এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বা স্বাভাবিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার অজুহাত তুলে গত ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২ এবং ২৩৪ অনুচ্ছেদের অধীনে যথাক্রমে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এসংক্রান্ত সুপারিশ অনুমোদন করেন। পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির এই জরুরি অবস্থা জারির ফলে কেন্দ্রীয় আইনসভা (জাতীয় পরিষদ ও সিনেট) এই প্রদেশ সম্পর্কিত আইন প্রণয়নের একক ক্ষমতা পায় এবং কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকদের মৌলিক অধিকার; যেমন সভা-সমাবেশ, সংগঠন গঠন এবং বাকস্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো স্থগিত করার সুযোগ লাভ করে।

প্রেসিডেন্টের জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, প্রাদেশিক পরিষদের যাবতীয় ক্ষমতা এখন থেকে কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট প্রয়োগ করবে। একই সাথে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল পদচ্যুত হন এবং তাঁদের কার্যকালের সমাপ্তি ঘটে। এর পাশাপাশি সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার অজুহাতে খাইবার পাখতুনখওয়া জুড়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে কেন্দ্রীয় সরকার।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৩ সাল থেকেই খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকার পরিচালনা করে আসছিল। এমনকি ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনেও তারা দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সেখানে নতুন করে সরকার গঠন করেছিল। সরকারের এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং এর প্রতিবাদে লাহোরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

বিষয় : পাকিস্তান

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

নগদ বার্তা

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


পাকিস্তানে জরুরি অবস্থার অজুহাতে মানবাধিকার হরণ মেনে নেওয়া যায় না: অ্যামনেস্টি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি, গভর্নরের শাসন প্রয়োগ এবং সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের কড়া সমলোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি জানিয়েছে, জাতীয় সংকট মোকাবিলার নামে এ ধরনের জরুরি পদক্ষেপ মানবাধিকারের কণ্ঠরোধ, ভিন্নমত দমন কিংবা ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার কোনো ‘ব্লাঙ্ক চেক’ বা ঢালাও সুযোগ হতে পারে না।

সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে উদ্ভূত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক বাবু রাম পন্ত বলেন, প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রীসহ প্রধান প্রধান নেতাদের ঢালাও ও স্বেচ্ছাচারী গ্রেফতার এবং সমগ্র প্রদেশ জুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত করার খবরগুলো এই জরুরি পদক্ষেপগুলোর আনুপাতিকতা নিয়ে গভীর প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। যদিও অত্যন্ত সীমিত ও বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসমূহ রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলার উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে মানবাধিকারসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা থেকে কিছুটা ছাড় নিতে পারে, তবে জরুরি পদক্ষেপের অর্থ এই নয় যে এর অজুহাতে মানবাধিকারের ওপর দমনপীড়ন চালানো হবে, ভিন্নমতকে স্তব্ধ করে দেওয়া হবে কিংবা সমস্ত ক্ষমতা একক কেন্দ্রমুখী করা হবে।

প্রদেশে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাবু রাম পন্ত। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সময় সশস্ত্র বাহিনীর দ্বারা গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে দীর্ঘ ও উদ্বেগজনক ইতিহাস রয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমানে সেখানে সেনা মোতায়েন প্রদেশটিকে আরও বেশি সামরিকীকরণের দিকে ঠেলে দেবে। এটি বলপ্রয়োগের বেআইনি ব্যবহারের মতো মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের উচিত সাধারণ পুলিশিং বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সামরিক সদস্যদের ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা এবং এটা নিশ্চিত করা যেন সামরিক বাহিনী জবাবদিহিতার আওতায় থাকে ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানদণ্ড মেনে চলে।

বিদ্যমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহিতা ও নজরদারির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি আরও যুক্ত করেন, এই সংকটময় মুহূর্তে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন জরুরি প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপের একটি স্বাধীন তদারকি থাকে। সেই সাথে জরুরি অবস্থার অধীনে গৃহীত যেকোনো ব্যবস্থা যেন পরিস্থিতির নিরিখে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং সম্পূর্ণ আনুপাতিক হয়, তাও নিশ্চিত করা আবশ্যক।

খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে নজিরবিহীন মাত্রার হিংসাত্মক সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধি এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বা স্বাভাবিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার অজুহাত তুলে গত ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২ এবং ২৩৪ অনুচ্ছেদের অধীনে যথাক্রমে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এসংক্রান্ত সুপারিশ অনুমোদন করেন। পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির এই জরুরি অবস্থা জারির ফলে কেন্দ্রীয় আইনসভা (জাতীয় পরিষদ ও সিনেট) এই প্রদেশ সম্পর্কিত আইন প্রণয়নের একক ক্ষমতা পায় এবং কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকদের মৌলিক অধিকার; যেমন সভা-সমাবেশ, সংগঠন গঠন এবং বাকস্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো স্থগিত করার সুযোগ লাভ করে।

প্রেসিডেন্টের জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, প্রাদেশিক পরিষদের যাবতীয় ক্ষমতা এখন থেকে কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট প্রয়োগ করবে। একই সাথে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল পদচ্যুত হন এবং তাঁদের কার্যকালের সমাপ্তি ঘটে। এর পাশাপাশি সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার অজুহাতে খাইবার পাখতুনখওয়া জুড়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে কেন্দ্রীয় সরকার।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৩ সাল থেকেই খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকার পরিচালনা করে আসছিল। এমনকি ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনেও তারা দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সেখানে নতুন করে সরকার গঠন করেছিল। সরকারের এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং এর প্রতিবাদে লাহোরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল



নগদ বার্তা

সম্পাদক: মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির (মঞ্জু)
সহ-সম্পাদক: মেহজাবীন মাহবুব পাভেল
প্রকাশক: জাহিন ফয়সাল (শুভ) 

২০২৬ © নগদ বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
পাকিস্তানে জরুরি অবস্থার অজুহাতে মানবাধিকার হরণ মেনে নেওয়া যায় না: অ্যামনেস্টি
0:00 0:00
1.0x
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream