মুম্বাইয়ে সিইসি জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে ঠাকরে ভাইদের মিছিল, পুরোনো মামলার তদন্তও শুরু
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ে বড় ধরনের মিছিল করেছেন শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) নেতা উদ্ধব ঠাকরে ও মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার (এমএনএস) প্রধান রাজ ঠাকরে। একই সময়ে কেরালায় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রায় দুই দশক আগের একটি মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার মুম্বাইয়ে আয়োজিত মিছিলের পাশাপাশি কেরালার পুরোনো মামলার তদন্ত ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে মামলার অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ে মিছিল
গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে যে রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় রোববার মুম্বাইয়ে মিছিল করেন ‘ঠাকরে ব্রাদার্স’ হিসেবে পরিচিত উদ্ধব ও রাজ ঠাকরে।
‘বিরাট গর্জনা মোর্চা’ নামে আয়োজিত মিছিলটি দক্ষিণ মুম্বাইয়ের মেট্রো সিনেমা জংশন থেকে শুরু হয়ে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিছিলে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন এবং এর ফলে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
মিছিলে কংগ্রেস ও এনসিপি (শরদ)–এর কয়েকজন নেতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিও অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মিছিলের মূল দাবি ছিল জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিল করা।
নির্বাচন কমিশন নিয়ে ঠাকরে ভাইদের অভিযোগ
উদ্ধব ও রাজ ঠাকরে অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন বিজেপির স্বার্থে কাজ করছে। তাঁরা দাবি করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বা বিজেপির পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
কেরালায় পুরোনো মামলার তদন্ত নতুন করে
মুম্বাইয়ের আন্দোলনের পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে কেরালার প্রায় ২০ বছরের পুরোনো একটি মামলাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
২০০৬ সালের দিকে কেরালায় একটি দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের পাওনা অর্থ আটকে থাকার অভিযোগ ওঠে। ওই প্রকল্পে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানও যুক্ত ছিল।
প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত মালয়েশীয় প্রকৌশলী লি সি বিন পরে আত্মহত্যা করেন। তাঁর সুইসাইড নোটে তৎকালীন কেরালা সরকারের পূর্তসচিব জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত মাঝপথে বন্ধ হওয়ার অভিযোগ
ঘটনার পর কেরালা সরকার ভিজিল্যান্স বিভাগের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করেছিল। তবে কিছুদিন পর সেই তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়।
সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা মালয়ানকিজু বেনুগোপালের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন তদন্ত প্রভাবিত করা হয়েছিল এবং যথাযথভাবে এগোনো হয়নি। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে কেরালার পূর্তমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা পুরোনো ঘটনাটির তদন্ত নতুন করে শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোর পরিচালককে। তদন্তে আগের সময়ে কোনো প্রভাব বা অনিয়ম হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।
আইনি সুরক্ষা নিয়েও আলোচনা
ভারতের বর্তমান আইনি কাঠামোর অধীনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে। তবে কেরালা সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ঘটনার তদন্তে সেই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে না।
পুরোনো মামলার তদন্তের বিষয়ে জ্ঞানেশ কুমার কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুম্বাইয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন এবং কেরালায় পুরোনো মামলার তদন্ত—দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি চাপ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে পুরোনো মামলার অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার পরই জানা যাবে।
মতামত