ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা শিবিরে গুলির ঘটনায় হেড কনস্টেবল আটক; ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কোর্ট অব ইনকোয়ারি

জম্মু-কাশ্মীরে সহকর্মীর গুলিতে নিরাপত্তাবাহিনীর ৪ সদস্য নিহত


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ

জম্মু-কাশ্মীরে সহকর্মীর গুলিতে নিরাপত্তাবাহিনীর ৪ সদস্য নিহত

জম্মু-কাশ্মীরে সহকর্মীর গুলিতে নিরাপত্তাবাহিনীর ৪ সদস্য নিহত

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় সহকর্মীর গুলিতে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) চার সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট, একজন সাব-ইন্সপেক্টর এবং দুই কনস্টেবল রয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাসোহলি এলাকার মাশকা গ্রামে সেওয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা শিবিরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পান্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং এবং কনস্টেবল সঞ্জীব কুমার ও মোহাম্মদ রফিক। গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাদের কাছের এনএইচপিসি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনেরই মৃত্যু হয়।

দায়িত্ব পরিবর্তনের সময় গুলির ঘটনা

কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে দায়িত্ব পরিবর্তনের সময় সিআইএসএফ সদস্যদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এক হেড কনস্টেবল নিজের সার্ভিস রাইফেল দিয়ে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত হিসেবে হেড কনস্টেবল অবদেশ কুমার সিংয়ের নাম এসেছে। গুলির পর ঘটনাস্থলে থাকা অন্য সদস্যরা তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে তাকে কাঠুয়া পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ব্যবহৃত সার্ভিস অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিরোধের কারণ নিয়ে তদন্ত

ঘটনার পেছনে কী কারণে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে পরবর্তী তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত হেড কনস্টেবল ও তার স্ত্রী একই প্রকল্প এলাকায় কর্মরত ছিলেন। প্রকল্প এলাকায় তাদের শিশুসন্তানকে নিয়ে আসার বিষয়টি নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তবে এই বিরোধই গুলির ঘটনার একমাত্র কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ ও সিআইএসএফ ঘটনাটির পুরো প্রেক্ষাপট এবং গুলির আগে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে।

‘ফ্র্যাট্রিসাইড’ হিসেবে তদন্ত

একই বাহিনীর সদস্যের গুলিতে সহকর্মীদের নিহত হওয়ার কারণে ঘটনাটিকে কর্মকর্তারা ‘ফ্র্যাট্রিসাইড’ বা অভ্যন্তরীণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছেন। ঘটনাটি এমন একটি নিরাপত্তা শিবিরে ঘটেছে, যেখানে সিআইএসএফ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

ঘটনার পরপরই ঊর্ধ্বতন সিআইএসএফ কর্মকর্তা ও স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুরো এলাকা নিরাপত্তার আওতায় নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কোর্ট অব ইনকোয়ারি গঠন

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পুরো ঘটনাক্রম জানতে সিআইএসএফ সদর দপ্তর ‘কোর্ট অব ইনকোয়ারি’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে কাঠুয়া জেলা পুলিশও পৃথকভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।

সিআইএসএফের মহাপরিচালক ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তদন্ত শেষ হলে গুলির ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

নগদ বার্তা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


জম্মু-কাশ্মীরে সহকর্মীর গুলিতে নিরাপত্তাবাহিনীর ৪ সদস্য নিহত

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জম্মু-কাশ্মীরে সহকর্মীর গুলিতে নিরাপত্তাবাহিনীর ৪ সদস্য নিহত

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় সহকর্মীর গুলিতে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) চার সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট, একজন সাব-ইন্সপেক্টর এবং দুই কনস্টেবল রয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাসোহলি এলাকার মাশকা গ্রামে সেওয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা শিবিরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পান্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং এবং কনস্টেবল সঞ্জীব কুমার ও মোহাম্মদ রফিক। গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাদের কাছের এনএইচপিসি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনেরই মৃত্যু হয়।

দায়িত্ব পরিবর্তনের সময় গুলির ঘটনা

কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে দায়িত্ব পরিবর্তনের সময় সিআইএসএফ সদস্যদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এক হেড কনস্টেবল নিজের সার্ভিস রাইফেল দিয়ে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত হিসেবে হেড কনস্টেবল অবদেশ কুমার সিংয়ের নাম এসেছে। গুলির পর ঘটনাস্থলে থাকা অন্য সদস্যরা তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে তাকে কাঠুয়া পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ব্যবহৃত সার্ভিস অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিরোধের কারণ নিয়ে তদন্ত

ঘটনার পেছনে কী কারণে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে পরবর্তী তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত হেড কনস্টেবল ও তার স্ত্রী একই প্রকল্প এলাকায় কর্মরত ছিলেন। প্রকল্প এলাকায় তাদের শিশুসন্তানকে নিয়ে আসার বিষয়টি নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তবে এই বিরোধই গুলির ঘটনার একমাত্র কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ ও সিআইএসএফ ঘটনাটির পুরো প্রেক্ষাপট এবং গুলির আগে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে।

‘ফ্র্যাট্রিসাইড’ হিসেবে তদন্ত

একই বাহিনীর সদস্যের গুলিতে সহকর্মীদের নিহত হওয়ার কারণে ঘটনাটিকে কর্মকর্তারা ‘ফ্র্যাট্রিসাইড’ বা অভ্যন্তরীণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছেন। ঘটনাটি এমন একটি নিরাপত্তা শিবিরে ঘটেছে, যেখানে সিআইএসএফ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

ঘটনার পরপরই ঊর্ধ্বতন সিআইএসএফ কর্মকর্তা ও স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুরো এলাকা নিরাপত্তার আওতায় নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কোর্ট অব ইনকোয়ারি গঠন

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পুরো ঘটনাক্রম জানতে সিআইএসএফ সদর দপ্তর ‘কোর্ট অব ইনকোয়ারি’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে কাঠুয়া জেলা পুলিশও পৃথকভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।

সিআইএসএফের মহাপরিচালক ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তদন্ত শেষ হলে গুলির ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।


নগদ বার্তা

সম্পাদক: মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির (মঞ্জু)
সহ-সম্পাদক: মেহজাবীন মাহবুব পাভেল
প্রকাশক: জাহিন ফয়সাল (শুভ) 

২০২৬ © নগদ বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
জম্মু-কাশ্মীরে সহকর্মীর গুলিতে নিরাপত্তাবাহিনীর ৪ সদস্য নিহত
0:00 0:00
1.0x
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream