ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা

ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মাল্টার চাহিদা বাড়ায় বাজারে দাম বেড়েছে; বিদেশি মাল্টা ৪৮০–৫০০ ও দেশি মাল্টা ১২০–১৩০ টাকা কেজি

ডেঙ্গুর মৌসুমে চট্টগ্রামে মাল্টার চড়া দাম


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ

 ডেঙ্গুর মৌসুমে চট্টগ্রামে মাল্টার চড়া দাম

ডেঙ্গুর মৌসুমে চট্টগ্রামে মাল্টার চড়া দাম

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের বাজারে মাল্টার চাহিদাও বেড়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য ফল কিনতে গিয়ে অনেক পরিবার মাল্টাকে খাদ্যতালিকায় রাখছেন। এর প্রভাব পড়েছে ফলটির বাজারে। নগরের বিভিন্ন বাজারে দেশি ও বিদেশি মাল্টা বিক্রি হলেও দুই ধরনের ফলের দামে রয়েছে বড় ব্যবধান।

চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ও মানভেদে বিদেশি মাল্টা প্রতি কেজি ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দেশি মাল্টা পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে।

ডেঙ্গুর মৌসুমে বেড়েছে চাহিদা

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সময় মাল্টার চাহিদা সাধারণ সময়ের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য ফল কিনতে আসা ক্রেতাদের একটি অংশ মাল্টা কিনছেন।

চট্টগ্রাম নগরের কদমতলী, স্টেশন সড়ক ও নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন দোকানে দেশি ও বিদেশি মাল্টা বিক্রি করতে দেখা গেছে। দোকানগুলোতে আকার, মান ও উৎসভেদে আলাদা করে ফল সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ফল কেনার প্রবণতা বাড়ায় মাল্টার বিক্রিও বেড়েছে। চাহিদার এই পরিবর্তন বাজারে ফলটির উপস্থিতি ও দামের ওপরও প্রভাব ফেলছে।

দেশি-বিদেশি মাল্টার দামে বড় ব্যবধান

চট্টগ্রামের বাজারে দেশি ও বিদেশি মাল্টার দামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। বিদেশি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে। বিপরীতে দেশি মাল্টার দাম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।

অর্থাৎ একই পরিমাণ মাল্টা কিনতে বিদেশি জাতের জন্য ক্রেতাকে দেশি মাল্টার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। ফলে কম দামের কারণে অনেক ক্রেতা দেশি মাল্টার দিকেই ঝুঁকছেন।

তবে আকার, রং ও বাহ্যিক আকর্ষণের কারণে কিছু ক্রেতার কাছে বিদেশি মাল্টার চাহিদাও রয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।

বাজারে নানা রকমের মাল্টা

চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফলের বাজারে দেশি মাল্টা বস্তায় করে এনে বিক্রি করতে দেখা গেছে। কোথাও ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে, আবার কোনো কোনো দোকানে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মাল্টা পিরামিডের মতো করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরা দোকানগুলোতেও মাল্টা বিক্রিতে ব্যস্ততা দেখা গেছে। কিছু দোকানে কেটে রাখা দেশি মাল্টাও বিক্রি করতে দেখা যায়।

বিক্রেতাদের কেউ কেউ জানান, ডেঙ্গুর মৌসুমে রোগীর জন্য ফল কিনতে আসা ক্রেতারা মাল্টার বিষয়ে বেশি খোঁজ নিচ্ছেন। এতে বিক্রির পরিমাণও কিছুটা বেড়েছে।

ডেঙ্গু রোগীর খাবারে মাল্টা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ ও পুষ্টিকর খাবার গুরুত্বপূর্ণ হলেও নির্দিষ্ট কোনো ফলকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের তালিকা ঠিক করা উচিত।

তাই ডেঙ্গু রোগীর জন্য ফল কেনার ক্ষেত্রে শুধু প্রচলিত ধারণার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিরাপদ ও তাজা ফল খাওয়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

চট্টগ্রামের কদমতলী, স্টেশন সড়ক ও নিউমার্কেট এলাকার বাজারচিত্রে ডেঙ্গুর মৌসুমে মাল্টার বাড়তি চাহিদার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে দাম কতদিন এমন থাকবে, তা নির্ভর করছে সরবরাহ, আমদানি ও বাজারের চাহিদার ওপর।

ছবি: সৌরভ দাশ, চট্টগ্রাম

বিষয় : মাল্টার বাজারদর

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

নগদ বার্তা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


ডেঙ্গুর মৌসুমে চট্টগ্রামে মাল্টার চড়া দাম

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ডেঙ্গুর মৌসুমে চট্টগ্রামে মাল্টার চড়া দাম



দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের বাজারে মাল্টার চাহিদাও বেড়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য ফল কিনতে গিয়ে অনেক পরিবার মাল্টাকে খাদ্যতালিকায় রাখছেন। এর প্রভাব পড়েছে ফলটির বাজারে। নগরের বিভিন্ন বাজারে দেশি ও বিদেশি মাল্টা বিক্রি হলেও দুই ধরনের ফলের দামে রয়েছে বড় ব্যবধান।

চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ও মানভেদে বিদেশি মাল্টা প্রতি কেজি ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দেশি মাল্টা পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে।

ডেঙ্গুর মৌসুমে বেড়েছে চাহিদা

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সময় মাল্টার চাহিদা সাধারণ সময়ের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য ফল কিনতে আসা ক্রেতাদের একটি অংশ মাল্টা কিনছেন।

চট্টগ্রাম নগরের কদমতলী, স্টেশন সড়ক ও নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন দোকানে দেশি ও বিদেশি মাল্টা বিক্রি করতে দেখা গেছে। দোকানগুলোতে আকার, মান ও উৎসভেদে আলাদা করে ফল সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ফল কেনার প্রবণতা বাড়ায় মাল্টার বিক্রিও বেড়েছে। চাহিদার এই পরিবর্তন বাজারে ফলটির উপস্থিতি ও দামের ওপরও প্রভাব ফেলছে।

দেশি-বিদেশি মাল্টার দামে বড় ব্যবধান

চট্টগ্রামের বাজারে দেশি ও বিদেশি মাল্টার দামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। বিদেশি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে। বিপরীতে দেশি মাল্টার দাম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।

অর্থাৎ একই পরিমাণ মাল্টা কিনতে বিদেশি জাতের জন্য ক্রেতাকে দেশি মাল্টার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। ফলে কম দামের কারণে অনেক ক্রেতা দেশি মাল্টার দিকেই ঝুঁকছেন।

তবে আকার, রং ও বাহ্যিক আকর্ষণের কারণে কিছু ক্রেতার কাছে বিদেশি মাল্টার চাহিদাও রয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।

বাজারে নানা রকমের মাল্টা

চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফলের বাজারে দেশি মাল্টা বস্তায় করে এনে বিক্রি করতে দেখা গেছে। কোথাও ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে, আবার কোনো কোনো দোকানে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মাল্টা পিরামিডের মতো করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরা দোকানগুলোতেও মাল্টা বিক্রিতে ব্যস্ততা দেখা গেছে। কিছু দোকানে কেটে রাখা দেশি মাল্টাও বিক্রি করতে দেখা যায়।

বিক্রেতাদের কেউ কেউ জানান, ডেঙ্গুর মৌসুমে রোগীর জন্য ফল কিনতে আসা ক্রেতারা মাল্টার বিষয়ে বেশি খোঁজ নিচ্ছেন। এতে বিক্রির পরিমাণও কিছুটা বেড়েছে।

ডেঙ্গু রোগীর খাবারে মাল্টা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ ও পুষ্টিকর খাবার গুরুত্বপূর্ণ হলেও নির্দিষ্ট কোনো ফলকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের তালিকা ঠিক করা উচিত।

তাই ডেঙ্গু রোগীর জন্য ফল কেনার ক্ষেত্রে শুধু প্রচলিত ধারণার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিরাপদ ও তাজা ফল খাওয়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

চট্টগ্রামের কদমতলী, স্টেশন সড়ক ও নিউমার্কেট এলাকার বাজারচিত্রে ডেঙ্গুর মৌসুমে মাল্টার বাড়তি চাহিদার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে দাম কতদিন এমন থাকবে, তা নির্ভর করছে সরবরাহ, আমদানি ও বাজারের চাহিদার ওপর।

ছবি: সৌরভ দাশ, চট্টগ্রাম


নগদ বার্তা

সম্পাদক: মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির (মঞ্জু)
সহ-সম্পাদক: মেহজাবীন মাহবুব পাভেল
প্রকাশক: জাহিন ফয়সাল (শুভ) 

২০২৬ © নগদ বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডেঙ্গুর মৌসুমে চট্টগ্রামে মাল্টার চড়া দাম
0:00 0:00
1.0x
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream