ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা

স্বাস্থ্য ও জীবনধারা

অনলাইন বে/টিং/য়ে/র আসল ফাঁদ কী, জানলে অবাক হবেন!

অনলাইন বে/টিং/য়ে/র আসল ফাঁদ কী, জানলে অবাক হবেন!

খেলার ফল কী হবে, তা নিয়ে বাজি ধরেছেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফল জানা গেল। কখনও জিতলেন, কখনও হারলেন। মনে হলো, আরেকবার চেষ্টা করলে হয়তো এবার জিতবেন। এভাবে ছোট অঙ্কের বাজি ধরতে ধরতে কখন যে বারবার বেটিং করার অভ্যাস তৈরি হয়ে যায়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। অনলাইন স্পোর্টস বেটিংয়ের জগতে এমনই এক প্রবণতা হলো ‘মাইক্রো-বেটিং’। এতে পুরো ম্যাচের ফলের বদলে খেলার ছোট ছোট ঘটনা নিয়ে বাজি ধরা হয়। যেমন, ক্রিকেটে পরের বলটি স্ট্রাইক হবে, নাকি বল—এমন ঘটনা নিয়েও বাজি ধরা যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফল জানা যায় বলে অল্প সময়েই বারবার বাজি ধরার সুযোগ তৈরি হয়। আর এই দ্রুতগতির চক্রই জুয়ার প্রতি আসক্তির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানের আলোচনায় দেখা যায়, এ ধরনের বেটিংয়ের আকর্ষণ শুধু টাকা জেতার সম্ভাবনায় সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মস্তিষ্কের পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা, উত্তেজনা এবং ডোপামিন নামের একটি রাসায়নিক বার্তাবাহক। জেতার আগেই মস্তিষ্কে উত্তেজনা ডোপামিনকে প্রায়ই আনন্দের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তবে এটি শুধু আনন্দ অনুভব করার বিষয় নয়; প্রেরণা, প্রত্যাশা ও পুরস্কার পাওয়ার তাগিদ তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। বাজি ধরার ক্ষেত্রে ফল জানার আগের মুহূর্তটিও তাই গুরুত্বপূর্ণ। কোনও বাজিতে জিতবেন কিনা, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। এই অনিশ্চয়তাই পরের ফল জানার আগ্রহ বাড়াতে পারে। কখনও জেতা, কখনও হারা—এভাবে অনিয়মিত পুরস্কার পাওয়ার অভিজ্ঞতা মানুষকে আবার চেষ্টা করতে উৎসাহিত করতে পারে। মাইক্রো-বেটিংয়ে এই চক্র খুব দ্রুত ঘটে। একটি বাজির ফল জানার পরপরই আরেকটি বাজি ধরার সুযোগ আসে। ফলে জেতার প্রত্যাশা, উত্তেজনা ও আবার চেষ্টা করার তাগিদ বারবার তৈরি হতে পারে। একসময় কেউ কেউ খেলাটি উপভোগ করার চেয়ে বাজি ধরার প্রক্রিয়াটির প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন? জুয়া খেলার অভ্যাস সমস্যায় পরিণত হলে মস্তিষ্কের পুরস্কারপ্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত নেওয়া ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত ব্যবস্থাগুলো প্রভাবিত হতে পারে। পুরস্কারপ্রাপ্তির সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশ আরও তীব্র উত্তেজনা খুঁজতে পারে। অপরদিকে, পরিকল্পনা করা, ঝুঁকি বিবেচনা করা ও তাৎক্ষণিক তাগিদ সামলানোর ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে কেউ আগের মতো উত্তেজনা পেতে ক্রমে বেশি টাকা বাজি ধরতে পারেন। হারানো টাকা ফিরে পাওয়ার আশায় আবার বাজি ধরতে পারেন। এমনকি ক্ষতির কথা বুঝতে পারলেও খেলা থামানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এই অভ্যাসের প্রভাব অর্থনৈতিক ক্ষতির বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক, কাজ কিংবা পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাজির পরিমাণ বা সময় নিয়ে মিথ্যা বলা, খেলা কমানোর চেষ্টা করলে অস্থিরতা অনুভব করা এবং ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য বারবার ফিরে যাওয়াও সমস্যাজনক জুয়া খেলার লক্ষণ হতে পারে। কীভাবে বেরিয়ে আসবেন এই চক্র থেকে? অনলাইন বেটিংয়ের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিজেকে দোষারোপ করাই সমাধান নয়। বরং কোন পরিস্থিতিতে বাজি ধরার তাগিদ বাড়ে, কোন আবেগের সময় বেশি বেটিং করা হয় এবং কীভাবে সেই তাগিদ সামলানো যায়—তা বোঝা জরুরি। মনোবিজ্ঞানের একটি পদ্ধতি হলো কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (সিবিটি)। এর মাধ্যমে বাজি ধরার পেছনে কাজ করা চিন্তা, আবেগ ও আচরণের ধরন শনাক্ত করে সেগুলো পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়। জুয়া-আসক্তি থেকে সেরে ওঠা মানুষের সহায়তা গোষ্ঠীও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি, উৎসাহ ও জবাবদিহির সুযোগ দিতে পারে। প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বেটিং অ্যাপ থেকে দূরে থাকা, বাজি ধরার সুযোগ সীমিত করা এবং যে পরিস্থিতিগুলো তাগিদ বাড়ায় সেগুলো এড়িয়ে চলার মতো পদক্ষেপও সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের বা গুরুতর আসক্তির ক্ষেত্রে শুধু নিজের ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর না করে পেশাদার সহায়তা নেওয়া ভালো। স্নায়ুবিজ্ঞানী নিকোল এ. তেত্রো তার একটি লেখায় ব্যাখ্যা করেছেন, মস্তিষ্কের পরিবর্তনশীলতার ক্ষমতার কারণে আচরণের পুরোনো ধরন বদলে নতুন অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এর জন্য সময়, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও যথাযথ সহায়তা প্রয়োজন। ছোট অঙ্কের বাজি মানেই যে কেউ আসক্ত হয়ে পড়বেন, তা নয়। কিন্তু অল্প সময়ে বারবার বাজি ধরার সুযোগ, অনিশ্চিত পুরস্কারের প্রত্যাশা এবং হারানো টাকা ফিরে পাওয়ার তাগিদ মিলে ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই বাজি ধরার অভ্যাস যখন অর্থ, সম্পর্ক কিংবা দৈনন্দিন জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করে, তখন সেটিকে নিছক বিনোদন ভেবে উপেক্ষা করা ঠিক নয়।

দুধের মধ্যে কখন গুড় দিলে দুধটা ফেটে যাবে না

শীতের মৌসুম মানেই নানা রকম পিঠা-পায়েসের আয়োজন। আর শীতের মিষ্টিমুখে খেজুরের গুড় থাকবে না, তা কি হয়! খেজুরের গুড়ের পায়েস অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু পায়েস রান্না করতে গিয়ে প্রায়ই একটি সমস্যায় পড়েন রাঁধুনিরা। দুধে গুড় মেশানোর পরই অনেক সময় তা ফেটে যায়। ফলে স্বাদ ও গন্ধ ঠিক থাকলেও পায়েসের চেহারা নষ্ট হয়ে যায়। তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন, রান্নার ঠিক কোন সময়ে গুড় মেশালে দুধ ফাটবে না? কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে চললেই এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব। পায়েস তৈরির জন্য প্রথমে চাল ধুয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। এরপর চাল সামান্য ভেঙে বা আধভাঙা করে নিতে পারেন। এবার একটি পাত্রে দুধ গরম করে তাতে চাল দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। চাল সেদ্ধ হয়ে দুধের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে পায়েস ঘন ও কিছুটা আঠালো হয়ে এলে আঁচ বন্ধ করে দিন। পায়েস চুলা থেকে নামিয়েই গুড় মেশাবেন না। বরং পাঁচ থেকে দশ মিনিট অপেক্ষা করুন, যাতে পায়েসের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসে। এদিকে খেজুরের গুড় কুরিয়ে বা ছোট ছোট টুকরো করে একটি পাত্রে রেখে দিন। পায়েসের তাপমাত্রা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এলে গুড় মেশাতে পারেন। তবে শুধু থার্মোমিটারে ওপর নির্ভর না করে হাতেও তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে পারেন। সেজন্য একটি আঙ্গুল পায়েসে ডুবিয়ে পরীক্ষা করুন এক সেকেন্ড বা তার একটু বেশি সময় পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারছেন কি না। এবার পায়েসে অল্প অল্প করে গুড় দিন এবং চামচ দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে মিশিয়ে নিন। একবারে অনেকটা গুড় না দিয়ে ধীরে ধীরে মেশালে তা সমানভাবে ছড়িয়ে পড়বে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গুড় মেশানোর পর পায়েস আবার চুলায় বসিয়ে ফুটিয়ে নেবেন না। খেজুরের গুড়ে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ধরনের জৈব অ্যাসিড থাকে। দুধের প্রোটিন তাপ ও অম্লতার প্রভাবে জমাট বাঁধে। বিশেষ করে দুধ খুব গরম থাকলে বা গুড়ে অম্লতার পরিমাণ বেশি হলে দুধ ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই পায়েসের তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে গুড় মেশালে, ভালো মানের গুড় ব্যবহার এবং গুড় দেওয়ার পর আর না ফোটানো এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন। তাহলেই শীতের প্রিয় খেজুরের গুড়ের পায়েসের স্বাদ ও মসৃণতা বজায় রাখার সম্ভাবনা বাড়বে। একই পদ্ধতি ব্যবহার করে খেজুর গুড় দিয়ে নানা রকম পিঠাও বানাতে পারবেন।

দুধের মধ্যে কখন গুড় দিলে দুধটা ফেটে যাবে না

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৪৯ জনের। সন্দেহজনক হামের রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ৭৪ জন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সন্দেহজনক হামে ঢাকায় ২৯৫ জন, সিলেটে ১৪২, চট্টগ্রামে ২৪৬, রাজশাহীতে ৩৭, ময়মনসিংহে ৭২, বরিশালে ১৩২, খুলনায় ১২৬ ও রংপুরে ২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। নিশ্চিত হামে আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ৬৩, চট্টগ্রামে ৬৭ ও খুলনায় নয়জন। হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় তিনজন, সিলেটে একজন ও চট্টগ্রামে দুজনের। গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৪ জনের। হামের উপসর্গে ১ হাজার ৬৬ জন মারা গেছেন। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ২২ হাজার ৭১২ জন। হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ২ লাখ ৭ হাজার ৩৭১ জনের মধ্যে। হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ জন। বিডি-প্রতিদিন/শআ

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু

ষাটের পর সুস্থ থাকতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের প্রয়োজন ও পুষ্টির চাহিদায় পরিবর্তন আসে। এ সময় সুস্থ থাকতে সুষম খাবার খাওয়ার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের দিকেও বাড়তি মনোযোগ দেওয়া জরুরি। কিছু খাবারে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকায় সেগুলো নিয়মিত খেলে হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ষাটের কাছাকাছি বয়স থেকে কয়েক ধরনের খাবার কম খাওয়া বা এড়িয়ে চলার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। ১. প্রক্রিয়াজাত মাংস সসেজ, সালামি, বেকন ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত মাংসে সাধারণত লবণ ও বিভিন্ন সংরক্ষণকারী উপাদান বেশি থাকে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে উচ্চ রক্তচাপসহ হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই এগুলোর পরিবর্তে তাজা মাছ, মুরগির মাংস, ডাল ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বেছে নেওয়া ভালো। খাবারের স্বাদ বাড়াতে অতিরিক্ত লবণের বদলে বিভিন্ন ভেষজ ও মসলা ব্যবহার করা যেতে পারে। ২. চিনিযুক্ত পানীয় কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত মিষ্টি জুস ও অতিরিক্ত চিনি দেওয়া পানীয়তে ক্যালরির পরিমাণ বেশি হতে পারে। নিয়মিত এসব পানীয় পান করলে ওজন বৃদ্ধি ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তৃষ্ণা মেটাতে পানি সবচেয়ে ভালো বিকল্প। চাইলে পানিতে লেবু বা ফলের টুকরা যোগ করা যায়। চিনি ছাড়া ভেষজ চাও পানীয়ের বিকল্প হতে পারে। ৩. সাদা পাউরুটি পরিশোধিত ময়দা দিয়ে তৈরি সাদা পাউরুটিতে পূর্ণ শস্যের তুলনায় আঁশ কম থাকে। এটি দ্রুত হজম হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাদা পাউরুটির পরিবর্তে আটার রুটি, পূর্ণ শস্যের পাউরুটি, ওটস ও অন্যান্য আঁশসমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। এসব খাবার হজমে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে পারে। ৪. অতিরিক্ত ভাজা খাবার পুরি, সিঙাড়া, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসহ অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারে ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ বেশি হতে পারে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধি এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই খাবার ভাজার পরিবর্তে সেদ্ধ, বেক, গ্রিল বা অল্প তেলে রান্নার পদ্ধতি বেছে নেওয়া ভালো। মসলা ও ভেষজ ব্যবহার করেও খাবারের স্বাদ বাড়ানো যায়। ৫. অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার মাখন, ক্রিম ও ফুল-ফ্যাটযুক্ত কিছু দুগ্ধজাত খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী কম চর্বিযুক্ত দুধ ও দই বেছে নেওয়া যেতে পারে। উদ্ভিজ্জ দুধও বিকল্প হতে পারে, তবে কেনার আগে তাতে যোগ করা চিনি ও পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ দেখে নেওয়া জরুরি। ৬. অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার আচার, চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস ও কিছু টিনজাত খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়, যা হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। এ ঝুঁকি কমাতে খাবারে লবণের ব্যবহার সীমিত করা এবং প্যাকেটজাত খাবারের লেবেলে সোডিয়ামের পরিমাণ দেখে কেনার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাজা ফল, সবজি ও ঘরে তৈরি খাবারকে প্রাধান্য দেওয়া ভালো। ৭. পেস্ট্রি ও কেক কেক, পেস্ট্রি, ডোনাট ও অন্যান্য মিষ্টিজাত বেকারি পণ্যে চিনি, মাখন ও অন্যান্য চর্বি বেশি থাকতে পারে। নিয়মিত বেশি পরিমাণে এসব খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে তাজা ফল বা চিনি ছাড়া দই বেছে নেওয়া যায়। ঘরে মিষ্টিজাত খাবার তৈরি করলে চিনির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব। খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য জরুরি ষাট বছর বয়সের পর সুস্থ থাকতে শুধু কয়েকটি খাবার বাদ দিলেই হবে না; প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির ভারসাম্য নিশ্চিত করাও জরুরি। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও রোগভেদে পুষ্টির চাহিদা আলাদা হতে পারে। তাই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদ্‌রোগ থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা ঠিক করা ভালো। বিডি-প্রতিদিন/এআইএস

ষাটের পর সুস্থ থাকতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

দিবাস্বপ্নের চক্করে পড়বেন, সঙ্গীকে হাসাতে ফালতু জোকস বলার চেষ্টা বিপদের কারণ হবে

আজ মেষ রাশির মানুষদের গ্রহরাজ মঙ্গলের সরাসরি তাপে মাথা গরম থাকার শতভাগ সম্ভাবনা। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মনে হতে পারে আপনিই পৃথিবীর শেষ যোদ্ধা, আর বাকি সবাই আপনার শত্রু। অফিসে বসের সামনাসামনি হলে হঠাৎ কোনো মহৎ বিপ্লব ঘটানোর চেষ্টা করবেন না, কারণ আজকের দিনে বসের যুক্তিহীন চিল্লাচিল্লি সহ্য করে হাসিমুখে ‘জি বস, ঠিক বলেছেন’ বলাই একমাত্র বেঁচে থাকার চাবিকাঠি। প্রেম বা সংসারের ক্ষেত্রেও আজ নিজের তেজ একটু কম রাখুন; সঙ্গীর সামান্য ভুলেও যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া শুরু করেন, তবে রাতের খাবার টেবিলের বদলে সোফাতেই কেটে যেতে পারে। রাস্তাঘাটে চলার সময় হিরোগিরি একটু পকেটে রাখুন, বিশেষ করে কাদাপানি বা ভাঙা ড্রেন পার হওয়ার সময় লাফ দিতে গেলে আপনার জামাকাপড় ও সম্মান দুটাই একসঙ্গে ধুলোয় মিশতে পারে। বৃষ রাশির জন্য আজ শুক্র গ্রহ বেশ শান্ত থাকলেও আপনার পেটের ভেতর একটা আস্ত আগ্নেয়গিরি ফুটছে। সারাদিন ধরে কাজের টেবিলে বসে আপনার ল্যাপটপের স্ক্রিনে হয়তো কাজ খোলা থাকবে, কিন্তু মাথার ভেতর ঘুরপাক খাবে দুপুরে মাংস খাওয়া হবে নাকি সন্ধ্যায় ধোঁয়া ওঠা ফুচকা। আজ আপনার অলসতা এমন একপর্যায়ে পৌঁছাবে যে বিছানা থেকে উঠতে গিয়ে মনে হবে বিছানা আপনাকে এক অদৃশ্য শক্তিতে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করছে। ভুলেও আজ অনলাইন শপিং অ্যাপগুলোতে ঢুঁ মারবেন না; কারণ আপনার চঞ্চল আঙুলগুলো অপ্রয়োজনীয় গ্যাজেট বা জামাকাপড় অর্ডার করে ব্যাংক ব্যালেন্স এক নিমেষে জিরো ফিগারে রূপান্তর করতে ওস্তাদ। ভালোবাসার মানুষকে আজ কোনো ভালো খাবার খাইয়ে ঠান্ডা রাখুন, কারণ পেটের শান্তিই আজ সমস্ত পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের শান্তি বজায় রাখবে। আজ বুধ গ্রহের অতি-চঞ্চলতার কারণে মিথুন রাশির মাথায় একটা নয়, একসঙ্গে অন্তত চারটা আলাদা ব্যক্তিত্ব লড়াই করবে। সকাল ১০টায় আপনার মনে হবে চাকরি ছেড়ে দিয়ে হিমালয়ে গিয়ে সাধনা করবেন, আবার ১০টা ৫ মিনিটে মনে হবে নতুন কোনো ব্যবসায় নেমে কোটিপতি হওয়া দরকার। কাজের জায়গায় এই দ্বিমুখী মানসিকতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বা মেইল ভুল ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়ার সমূহ আশঙ্কা আছে, তাই সেন্ড বাটনে চাপ দেওয়ার আগে অন্তত দু’বার চোখ বোলান। সঙ্গীর সঙ্গে আজ অতিরিক্ত ফাজলামো বা জ্ঞানগর্ভ রসিকতা করতে যাবেন না; তিনি হয়তো সিরিয়াস কিছু বলছেন আর আপনি সেখানে ফালতু জোকস মেরে বসলেন—এর পরিণতি মোটেও ভালো হবে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় আজ ট্রোলিং বা যেকোনো বিতর্কিত কমেন্ট সেকশন থেকে অন্তত একশ গজ দূরে থাকুন, তা না হলে অচেনা মানুষের সঙ্গে গ্যাঁড়াকলে জড়িয়ে পুরো দিনটাই পণ্ড হবে। চন্দ্রের অতিরিক্ত প্রভাবের কারণে আজ কর্কট রাশির ইমোশনের পারদ একদম এভারেস্টের চূড়ায় উঠে থাকবে। অফিসের গরম চা একটু ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কিংবা কাজের চাপে সহকর্মীর সামান্য কড়া কথাতেই আজ মনে হতে পারে এই পৃথিবীতে কেউ আপনাকে বোঝে না। কাজের টেবিলে বসে চোখের পানি ফেলার আগে আশপাশে তাকিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন কেউ দেখছে কিনা, তা না হলে হাসির পাত্র হবেন। আজ কোনো বড় আর্থিক বা পেশাগত সিদ্ধান্ত না নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে, কারণ ইমোশনাল হয়ে আজ যা সিদ্ধান্ত নেবেন তাতেই লস হওয়ার গ্যারান্টি শত ভাগ। প্রেম বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সঙ্গীর কাছে আজ অতিরিক্ত আদর-যত্ন দাবি করবেন না, তিনি হয়তো নিজের কাজেই ব্যস্ত আছেন; তাই মন খারাপ না করে এক কাপ কড়া চা খেয়ে নিজেকে বোঝান যে কাঁদলে শুধু টিস্যু পেপারেরই অপচয় হয়। আজ সিংহ রাশির জাতক-জাতিকাদের মাথায় সূর্যের প্রভাবে আত্মঅহংকার একদম রাজার পোশাক পরে বসে থাকবে। মনে হবে আপনি পুরো পৃথিবীর কেন্দ্রীয় চরিত্র আর বাকি সবাই আজ্ঞাবহ প্রজা বা এক্সট্রা। কিন্তু অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে এই রাজকীয় ভাব দেখাতে গেলে সহকর্মীরা মিলে ব্যাকস্টেজ চক্রান্ত করে আপনার বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে। প্রেমিকের বা জীবনসঙ্গীর সামনে আজ ‘আমিই সেরা’ ডায়লগটি ভুল করেও মারবেন না, কারণ ঘরে আজ আপনার রাজমুকুট ভাঙার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। কাজের ফাঁকে বারবার আয়নায় নিজের চেহারা বা চুল ঠিক করার মহিমান্বিত অভ্যাস আজ একটু কমান, না হলে বস এসে সেই আয়নার সামনেই আপনার বার্ষিক পারফরম্যান্স রিভিউ নিয়ে কড়া বক্তব্য পেশ করে দেবেন। কন্যা রাশির মানুষদের ঘাড়ে আজ নিখুঁত হওয়ার ভূত এমনভাবে সওয়ার হবে যে আশপাশের মানুষজন জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াবে। কাজের টেবিলে একটা কলম কেন সামান্য বাঁকা হয়ে আছে বা সহকর্মীর শার্টের কলার কেন কড়কড়ে নয়—এসব খুঁটিনাটি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আসল কাজের যে ডেডলাইন পার হয়ে যাচ্ছে, সেদিকে আপনার খেয়ালই থাকবে না। বাসাবাড়িতে নিজের ঘর গোছাতে গিয়ে পরিবারের বাকি সদস্যদের ওপর আদেশ জারি করতে পারেন, যা শেষ পর্যন্ত গৃহযুদ্ধের রূপ নিতে পারে। সঙ্গীর জামায় একটা ছোট্ট দাগ দেখেও আজ তাকে জ্ঞান দিতে যাবেন না, মনে রাখবেন মানুষ নিখুঁত হয় না আর আপনিও মহাজাগতিক কোনো ফেরেশতা নন। অতিরিক্ত খুঁতখুঁতানি আর টেনশনের কারণে মাথার পেছনে রিমরিম করে ব্যথা শুরু হতে পারে, তাই চোখ বন্ধ করে বুক ভরে শ্বাস নিন এবং বিশ্বকে তার মতো চলতে দিন। তুলা রাশির ভারসাম্যের দাঁড়িপাল্লা আজ মারাত্মক নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। সকালে জামা কোনটা পরবেন—নীল নাকি কালো, দুপুরে চা খাবেন নাকি কফি—এই সামান্য সিদ্ধান্ত নিতেই আধঘণ্টা পার হয়ে যাবে, আর এই সুযোগে বসের হাত থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ অন্য কেউ বাগিয়ে নিয়ে যাবে। সবাইকে একসাথে খুশি রাখার যে মহান মিশন নিয়ে চলেন, আজকের দিনে সেটা পুরোপুরি ফ্লপ হতে চলেছে। প্রেম ও সংসারের ক্ষেত্রে একসঙ্গে একাধিক পরিকল্পনা করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলবেন, ফলে সঙ্গী আপনাকে ‘গুরুত্ব দিচ্ছে না’ বলে অহেতুক সন্দেহ করতে পারে। কেনাকাটা করার বিশেষ ভূত আজ ঘাড়ে চাপলে সাবধান হন; আজ দোকানে গিয়ে কোনো কাজের জিনিস না কিনে স্রেফ দোকানদারের মিষ্টি কথায় ভুল করে এক গাদা অপ্রয়োজনীয় পচা জিনিস কিনে পকেট খালি করে বাড়ি ফিরবেন। আজ বৃশ্চিক রাশির মাথায় মাসুদ রানা, ফেলুদা, ব্যোমকেশ এক সঙ্গে ভর করবে। মনে হবে অফিসের কলিগ আপনার বিরুদ্ধে কোনো গভীর গোপন চক্রান্তে লিপ্ত, আর পাশের বাসার লোকটা হয়তো নজরদারি করছে। অহেতুক এই ডিটেকটিভ মার্কা আচরণের কারণে সহকর্মীরা আপনাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করবে এবং এতে আপনার কাজের ক্ষতি হবে। প্রেমিকের বা সঙ্গীর ফোনের লক কোড দেখার জন্য আজ অতিরিক্ত গোয়েন্দাগিরি চালাতে যাবেন না; যদি হঠাৎ ধরা পড়ে যান, তবে জবাবদিহি করতে করতে ঘাম ছুটে যাবে। যদি আজ সত্যি সত্যি আপনার সাথে কেউ খুব ভালো ব্যবহার করে, তবে তাকেও সন্দেহের চোখে দেখবেন না; মাঝে মাঝে সাধারণ মানুষও কোনো স্বার্থ ছাড়াই একটু ভালো কথা বলতে পারে—এটা মেনে নেওয়ার মানসিকতা রাখুন। ধনু রাশির মনের ডানায় আজ সওয়ার হয়েছে বৃহস্পতি, যার ফলে অফিসের এসি ঘরে বসে বসে পাহাড়ে মেঘ ছোঁয়ার বা সমুদ্রে সার্ফিং করার রঙিন স্বপ্ন দেখবেন। তবে ভ্রমণ গন্তব্যের ছবি দেখতে দেখতে যখন পকেটের কথা মনে পড়বে, তখন বাস্তবের কঠিন মাটিতে ঠাস করে আছাড় খাবেন। অফিসে বসে না ছুটি নেওয়ার পরিকল্পনা করবেন, না কাজের ফাইল শেষ করবেন—ফলাফল হিসেবে দিনশেষে জাঁতাকলে পিষ্ট হতে হবে। সঙ্গীকে আজ দূর কোনো দেশি-বিদেশি দ্বীপে নিয়ে যাওয়ার বড় আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি দেবেন না; তাকে নিয়ে আশপাশের কোনো ফুচকার দোকানে বা মোড়ের দোকানে চা-সিঙাড়া খাইয়ে ম্যানেজ করাই আজ পকেটের পক্ষে নিরাপদ। চলন্ত পথে আজ মোবাইলের স্ক্রিনে ডানা মেলতে গিয়ে সিঁড়ি বা ফুটপাত থেকে হুড়মুড়িয়ে পড়ে যাওয়ার ব্যাপক যোগ রয়েছে, তাই চোখটা রাস্তায় রাখুন। মকর রাশির ওপর শনির রোবটিক প্রভাবে আজ নিজের শরীরকে মানুষের বদলে একটা অবিরাম যন্ত্র মনে করতে শুরু করবেন। একটানা আট-দশ ঘণ্টা কাজ করার পর যখন ল্যাপটপ নিজেই গরম হয়ে আপনার কাছে একটু বিরতি ভিক্ষা চাইবে, তখনও কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন ফাইল খুঁজবেন। বসের কাছ থেকে হয়তো আজকের দিনে কিছুটা বাহবা পাবেন, তবে দিনশেষে ঘাড়ের রগ আর পিঠের ব্যথায় এমন অবস্থা হবে যে মনে হবে জীবনটা স্রেফ একটা কাজের ডায়েরি। সঙ্গীর কাছ থেকে আসা রোমান্টিক বা অনুভূতির বার্তাগুলোকেও আজ অফিসের প্রাতিষ্ঠানিক মেইল মনে করে শুকনো ও ফরমাল উত্তর দেবেন না, তা হলে সম্পর্কের উষ্ণতা বরফের মতো জমে যাবে। কাজ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নিজেকে একটু বিশ্রাম দেওয়াটাও কোনো পাপ নয়—কথাটা আজ মাথায় গুঁজে নিন। কুম্ভ রাশির মাথায় আজ এমন সব আজব ও অদ্ভুত আইডিয়া গিজগিজ করবে যা শুনলে সাধারণ মানুষ তো দূর, সায়েন্স ফিকশনের পরিচালকেরাও আঁতকে উঠবেন। অফিসের মিটিংয়ে আজ কোনো অতিরিক্ত প্রগতিশীল বা বৈপ্লবিক সমাধান দিতে যাবেন না, তাহলে বস আপনাকে সরাসরি কাজ ছেড়ে বাড়ি গিয়ে গবেষণা করার পরামর্শ দিয়ে দিতে পারেন। সাধারণ সোজা পথে চলাই আজ আপনার জন্য মঙ্গলজনক। ভালোবাসার মানুষটি যখন আজ আপনার কাছে একটু স্বাভাবিক সহমর্মিতা বা চা পানের আবদার করবে, তখন তাকে ব্ল্যাক হোল বা মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে জ্ঞান দিতে যাবেন না—তিনি খুব একটা আনন্দিত হবেন না। রাস্তায় হাঁটার সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে এলিয়েন বা ইউএফও খোঁজার অভ্যাস আজ বন্ধ রাখুন, না হলে হাঁটতে হাঁটতে সোজা গিয়ে নর্দমায় পড়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। মীন রাশির জাতক-জাতিকারা আজ বাস্তবের জমিন ছেড়ে কল্পনার সুবিশাল মহাসাগরে একদম তলিয়ে থাকবেন। চোখের সামনে ল্যাপটপের স্ক্রিন খোলা থাকবে, হাতে ফাইল থাকবে, কিন্তু আপনার মাথায় জ্বলজ্বল করবে যদি হঠাৎ কোনো দিন লটারিতে ১০০ কোটি টাকা পেয়ে যান তবে কীভাবে সেই টাকা খরচ করবেন! এই দিবাস্বপ্নের চক্করে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন হাতছাড়া হয়ে অফিসে তুমুল গোলমাল বাঁধার সম্ভাবনা রয়েছে। বাস্তব জীবনের সঙ্গীকে আজ আপনার কল্পনার রাজকুমার বা কাল্পনিক চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করে মেজাজ খারাপ করবেন না; রক্তমাংসের মানুষ ত্রুটিপূর্ণ হতেই পারে—সেটা মেনে নেওয়া শিখুন। ঘুম ঘুম চোখে আজ চা বা কফি খাওয়া বাড়িয়ে দিন এবং নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দিন যে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা আসার একমাত্র উপায় হলো মন দিয়ে আজকের কাজটুকু শেষ করা।

দিবাস্বপ্নের চক্করে পড়বেন, সঙ্গীকে হাসাতে ফালতু জোকস বলার চেষ্টা বিপদের কারণ হবে

খাবার নিয়ে কনটেন্ট বানিয়ে তান্‌হা পেয়েছেন জার্মানির নিমন্ত্রণ

জার্মানির খাবার, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা নিতে সাত দিনের এক বিশেষ সফরে গিয়েছিলেন তান্‌হা ইসলাম। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এই স্নাতক মূলত খাবারদাবার ও ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট তৈরি করেন। বার্লিনের রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ব্ল্যাক ফরেস্টের স্থানীয় বাজার—নানা জায়গা ঘুরে তাঁর ঝুলিতে জমা হয়েছে নানা স্বাদ ও অভিজ্ঞতা। সেসব শুনতেই যোগাযোগ করি তান্‌হার সঙ্গে। তান্‌হা খাবার নিয়ে কাজ করেন প্রায় ১০ বছর। এরই মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের খাবার ও সংস্কৃতির খোঁজে ১০টির বেশি দেশ ঘুরেছেন। ২০২৩ সালে টিকটকের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিভাগের আমন্ত্রণে নেপালেও গিয়েছিলেন। তবে জার্মানির এবারের সফরটি ছিল আলাদা। কারণ, শুধু নতুন খাবারের স্বাদ নেওয়াই নয়, খাবার কীভাবে একটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তা-ও জানার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ‘কালিনারি ট্রেন্ডস ইন জার্মানি’ শীর্ষক এই আয়োজন করে গ্যেটে ইনস্টিটিউট ও জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশ্বের ১৫টি দেশ থেকে অংশ নেন ১৫ জন। তাঁদের মধ্যে ১০ জন রন্ধনশিল্পী। বাকিরা কনটেন্ট নির্মাতা, ফুড ফটোগ্রাফার ও খাবারবিষয়ক পেশাজীবী। বাংলাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন তান্‌হা। সফরের প্রায় তিন মাস আগে ফেসবুকে তান্‌হার সঙ্গে যোগাযোগ করে জার্মান দূতাবাস। কয়েক দফা প্রশ্নোত্তর পর্ব ও আলোচনার পর মেলে জার্মানির টিকিট। বার্লিনে পৌঁছানোর পর প্রথম দিনের সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক ক্ল্যারশেস বলহাউসের লুনা ডি’ওরো রেস্তোরাঁয় ছিল স্বাগত নৈশভোজ। জার্মানির আঞ্চলিক খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরতে রন্ধনশিল্পী টোবি বেক তৈরি করেছিলেন নানা ধরনের পদ। সেসবের ইতিহাস ও তৈরির পদ্ধতিও তুলে ধরেন তিনি। পরদিন গ্যেটে ইনস্টিটিউটে পরিচয়পর্বে অংশ নেন ১৫ অংশগ্রহণকারী। নিজ নিজ সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল বড় পর্দায় দেখিয়ে তাঁরা নিজেদের কাজ তুলে ধরেন, ভাগ করে নেন মজার সব অভিজ্ঞতা। তান্‌হা বলছিলেন, ‘জার্মানির খাবার বুঝতে শুধু রেস্তোরাঁয় গেলেই হয় না। জানতে হয় মানুষ কোথা থেকে কী কিনছে, কোন খাবার বেছে নিচ্ছে।’ এ জন্যই অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল বাজার ঘুরে দেখার পর্ব। কম দামের স্থানীয় বাজার, সাধারণ সুপারমার্কেট থেকে শুরু করে অভিজাত কাদেওয়ে শপিং সেন্টার—বিভিন্ন জায়গায় খাবার ও পণ্যের বৈচিত্র্য দেখেছেন আমন্ত্রিতরা। সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বার্লিনের গাটোর এলাকার ভিয়ারফেল্ডারহফ জৈব খামার পরিদর্শন। সেখানে শস্য থেকে আটা তৈরি করে রুটি বানানোর কর্মশালায় অংশ নেন তাঁরা। জার্মানদের দৈনন্দিন খাবারে রুটির গুরুত্ব এবং সেই খাবার তৈরির পেছনের শ্রম সম্পর্কে কাছ থেকে জানার সুযোগ হয়েছে তান্‌হাদের। নিরামিষ ও উদ্ভিদনির্ভর খাবারের নানা ধরনও চেখে দেখেছেন তাঁরা। জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সফরেও গিয়েছিল খাদ্যরসিকদের এই দল। রাষ্ট্রদূতদের জন্য যেভাবে খাবারদাবারের আয়োজন করা হয়, প্রায় একই কায়দায় আপ্যায়ন করা হয়েছে তান্‌হাদেরও। তিনি বলেন, ‘জার্মানরা মনে করেন, খাবার মানুষের চিন্তাভাবনা ও মনোজগতে প্রভাব ফেলে। তাই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালো খাবার পরিবেশনের বিষয়টিকেও তাঁরা গুরুত্ব দেন। খাবার যে শুধু ক্ষুধা মেটানোর জন্য নয়, মানুষের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি ও আলোচনার পরিবেশ গড়ে তোলারও একটি মাধ্যম, এই সফরে তা নতুনভাবে বুঝেছি।’ বার্লিনে তিন দিন কাটানোর পর ট্রেনে করে ফ্রাইবুর্গের উদ্দেশে রওনা হন অংশগ্রহণকারীরা। বার্লিন ছিল ব্যস্ত ও প্রাণচঞ্চল, আর ফ্রাইবুর্গ অনেকটাই শান্ত, সরল ও মনোরম। শহরের আশপাশের মানুষের জীবনযাপন ও স্থানীয় খাবারের ব্যবস্থাও তান্‌হার নজর কেড়েছে। ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক বানানোর কর্মশালায় অংশ নেওয়াকে বলা যায় সফরের এই অংশের ‘হাইলাইট’। তান্‌হা বলেন, ‘ব্ল্যাক ফরেস্ট আমার খুব পছন্দ। তবে জার্মানিতে গিয়ে বুঝলাম, দেশে আমরা যেই ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক খাই, সেটার সঙ্গে ওদের ব্ল্যাক ফরেস্টের স্বাদের কোনো মিল নেই। একেবারেই আলাদা।’ জার্মানির খাবারদাবারের সংস্কৃতি ও আতিথেয়তাই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন আয়োজকেরা। তবে তান্‌হা ফিরেছেন আরও বড় শিক্ষা নিয়ে। সাত দিনের সফরে তিনি বুঝেছেন, একটা দেশের খাদ্যসংস্কৃতির যত্ন নিতে হলে স্থানীয় উৎপাদকদের গুরুত্ব দেওয়া, খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা, এসবও কতখানি জরুরি।

খাবার নিয়ে কনটেন্ট বানিয়ে তান্‌হা পেয়েছেন জার্মানির নিমন্ত্রণ

দিনাজপুরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, হাসপাতালে ভর্তি ৩৪

দিনাজপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছেন নারী-পুরুষ। তবে এসব রোগী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় আক্রান্ত হয়ে দিনাজপুরে চিকিৎসা নিতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এদিকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন অনেক রোগী। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক তিনটি ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রোগীদের মশারির ভেতরে রাখা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে এ হাসপাতালে ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা, গাজীপুর, খুলনা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে তাঁদের ভর্তি করা হচ্ছে। হাসপাতালের জরুরি ও বহির্বিভাগেও জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের শরীর ও মাথাব্যথার কারণে অনেকের খাবারে অরুচি দেখা দিচ্ছে। রোগীর স্বজনেরা জানান, তাঁদের আত্মীয়দের মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেওয়ায় ঢাকা থেকে দিনাজপুরে এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় সন্তুষ্ট বলেও জানান। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ইনচার্জ সাকলাইন সাঈদ সরন বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে সঠিক চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। শনিবার হাসপাতালে ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। এসব রোগী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ৬৭৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬২৯ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন দুজন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৫ জন।

দিনাজপুরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, হাসপাতালে ভর্তি ৩৪

বাংলার মসলিনে প্যারিস মাতালেন জাহ্নবী কাপুর

প্যারিসে বিজনেস অব ফ্যাশন (বিওএফ) গালায় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংমিশ্রণে নজর কাড়লেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। বাংলার মসলিনে তৈরি বিশেষ শাড়ি আর নজরকাড়া অলংকৃত হাতার সাজে গালার আসরে উপস্থিত হন তিনি। জাহ্নবীর এই বিশেষ সাজের দায়িত্বে ছিলেন রিয়া কাপুর। পোশাকটি তৈরি করেছে পঙ্কজ এস হেরিটেজ। জাহ্নবীর পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী শাড়ির আধুনিক রূপ। কোমরের কাছে শাড়িতে রাখা হয়েছিল আড়াআড়ি ভাঁজের বিশেষ নকশা। সঙ্গে ছিল কাঠামোবদ্ধ লিনেনের কুচি। শাড়ির আঁচল শরীরের ওপর দিয়ে জড়িয়ে কবজির চারপাশে পেঁচিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর তা কুচির পাশ দিয়ে নিচের দিকে নেমে আসে। ফলে পুরো সাজে তৈরি হয়েছিল একদিকে ঐতিহ্যের আবহ, অন্যদিকে আধুনিক নকশার ছাপ। তবে জাহ্নবীর সাজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল ব্লাউজের হাতা। হাতাজুড়ে ছিল একাধিক সোনালি বৃত্তাকার অলংকরণ। তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল হালকা গোলাপি রঙের ঝালর, যা হাতের নিচের অংশ পর্যন্ত নেমে এসেছিল। রিয়ার দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, হাতার অলংকরণে ব্যবহার করা হয়েছিল পোলকি, গারনেট ও পান্না। এর সঙ্গে ছিল সরাফা ঝালর, কিরণ ও রেশমের কাজ। পোশাকের কাপড় নিয়েও বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়েছে। রিয়া কাপুর জানিয়েছেন, জাহ্নবীর শাড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৬০ কাউন্টের বেঙ্গল মসলিন। অপরিশোধিত ও প্রাকৃতিক রঙের এই মসলিনকে বলা হয় ‘খুদ-রং’। বাতাসের মতো হালকা বুননের কারণে এর পরিচিতি রয়েছে ‘বাফত-ই-হাওয়া’ নামেও। ‘শবনমি’ বা ‘চাঁদনি’ নামেও এই সূক্ষ্ম মসলিন পরিচিত। রিয়ার ভাষায়, এটি বিলাসবহুল মসলিনের অন্যতম নিখুঁত রূপ। পুরো মসলিন খাদিই ভারতে বোনা হয়েছে। পোশাকের জাঁকজমককে সামনে রাখতে গয়নায় ছিল সংযমের ছাপ। জাহ্নবী বেছে নিয়েছিলেন শুধু সোনালি রঙের ছোট স্টাড দুল। গলায় বা হাতে বাড়তি কোনও গয়না রাখেননি তিনি। চুল মাঝখান থেকে সিঁথি করে টেনে নিয়ে পরিপাটি খোঁপায় বেঁধেছিলেন। ফলে নজর ছিল মূলত মসলিনের শাড়ি ও অলংকৃত হাতার দিকেই। রিয়া কাপুর জাহ্নবীর এই সাজের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পরই তা নজর কাড়ে। ছবিতে জাহ্নবীর ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে আধুনিক নকশার সংমিশ্রনটির প্রশংসা করেছেন অনুরাগীরা। প্যারিসের আন্তর্জাতিক ফ্যাশন আসরে ভারতীয় বয়নশিল্প ও মসলিনের ঐতিহ্যকে এভাবে তুলে ধরা জাহ্নবীর সাজকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।

বাংলার মসলিনে প্যারিস মাতালেন জাহ্নবী কাপুর

এক ছাদের নিচে থেকেও আলাদা? ‘ইন-হাউস সেপারেশন’ যখন বাস্তবতার নাম

সম্পর্ক ভাঙার গল্প মানেই আমরা সাধারণত বুঝি তুমুল ঝগড়া, বাক্সপেটরা গুছিয়ে ঘর ছে‍ড়ে চলে যাওয়া কিংবা আলাদা দুটি ঠিকানায় দুজনের নতুন জীবন শুরু করা। কিন্তু আধুনিক নাগরিক জীবনে এমন এক অদ্ভুত বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন অনেক দম্পতি, যেখানে শারীরিক ও মানসিক সম্পর্ক টিকে না থাকলেও তাঁরা একই ছাদের নিচে বছরের পর বছর বসবাস করছেন। সম্পর্কের এই বিশেষ অবস্থাকে মনস্তত্ত্ব ও সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ইন-হাউস সেপারেশন বা লিভিং সেপারেশন আন্ডার ওয়ান রুফ। যেখানে বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, তাঁরা একসঙ্গেই আছেন। কিন্তু ঘরের ভেতরের গল্পটা একেবারেই ভিন্ন। সেখানে কোনো দাম্পত্য নেই, কোনো ভাগাভাগি নেই; আছে শুধু দুজন মানুষের নীরব সহাবস্থান। একটি মৃত সম্পর্ককে টেনে নিয়ে একই বাড়িতে থাকার পেছনে কোনো রোমান্টিকতা থাকে না, থাকে কিছু কঠিন সামাজিক ও বাস্তব কারণ। অধিকাংশ দম্পতির ক্ষেত্রে মূল কারণটি হলো সন্তান। বাবা-মা চান না, তাঁদের ডিভোর্স বা দূরত্বের কারণে সন্তানের পড়াশোনা ব্যাহত হোক কিংবা তারা কোনো সামাজিক ট্রমার শিকার হোক। সন্তানের সামনে তাঁরা একনিষ্ঠ বাবা-মা, কিন্তু নিজেদের ঘরে তাঁরা শুধুই অচেনা। বর্তমান সময়ে একটি সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে হুট করে আলাদা ফ্ল্যাট নেওয়া, দ্বিগুণ খরচ বহন করা অনেকের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যৌথভাবে কেনা ফ্ল্যাটের ইএমআই বা লোন থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। দক্ষিণ এশীয় সমাজে ডিভোর্স বা সেপারেশন এখনো পুরোপুরি সহজভাবে নেওয়া হয় না। আত্মীয়স্বজন বা সমাজের কৌতূহলী চোখ এড়াতে অনেকে এই মধ্যপন্থা বেছে নেন। ইন-হাউস সেপারেশনে থাকা দম্পতিদের জীবনযাপন আর সাধারণ দম্পতিদের মতো হয় না। তাঁরা মূলত একই ফ্ল্যাটের দুজন রুমমেট হিসেবে বাস করেন। তাঁরা সাধারণত আলাদা শোয়ার ঘর ব্যবহার করেন। সংসারের খরচ, সন্তানের স্কুলের বেতন বা ইউটিলিটি বিলগুলো তাঁরা নিজেদের চুক্তি অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে ভাগ করে নেন। একে অপরের ব্যক্তিগত জীবন, ফোন বা যাতায়াত নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেন না। প্রথম দিকে এই সিদ্ধান্তকে খুব বাস্তবসম্মত মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটি বিশাল মানসিক বোঝায় পরিণত হতে পারে। একই ডাইনিং টেবিলে বসেও কথা না বলা, কিংবা ঘরের ভেতর থেকেও অন্য মানুষটির শূন্যতা অনুভব করা তীব্র একাকিত্বের জন্ম দেয়। বিশেষ করে সন্তানদের সামনে সারাক্ষণ ভালো থাকার অভিনয় করা চরম ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে। এটি স্থায়ী বা চিরস্থায়ী সমাধান হয়ে উঠতে পারে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি একটি সাময়িক মধ্যপন্থা বা ট্রানজিশন পিরিয়ড হিসেবে কাজ করে। এই অবস্থা দম্পতিদের চূড়ান্ত বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের জন্য মানসিক ও আর্থিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। এর বাইরে এটি নানান জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। যেমন— মানুষ হিসেবে সবারই জীবনে নতুন করে ভালোবাসা পাওয়ার, নতুন সঙ্গী খোঁজার কিংবা স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার থাকে। একই ছাদের নিচে সাবেক বা সেপারেটেড পার্টনারের সঙ্গে থাকলে আইনগত বা সামাজিকভাবে নতুন কোনো সম্পর্কে জড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমনকি নতুন কারও সঙ্গে ডেটিং করা বা কথা বলাও একই বাড়িতে থাকা অন্য মানুষটির জন্য অস্বস্তিকর ও মানসিক কষ্টের কারণ হতে পারে। সন্তান বা সমাজের সামনে প্রতিদিন ‘আমরা ভালো আছি’ কিংবা ‘আমরা শুধু রুমমেট’—এই অভিনয় করাটা চরম ক্লান্তিকর। একই ড্রয়িংরুম বা রান্নাঘর শেয়ার করার সময় অবচেতনভাবেই পুরোনো ক্ষোভ, দুঃখ বা অভিমান সামনে চলে আসে। এই নীরব মানসিক চাপ দিনের পর দিন বহন করা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অনেকে সন্তানের কথা চিন্তা করে এটিকে স্থায়ী সমাধান বানাতে চান। কিন্তু সন্তানেরা যখন একটু বড় হয়, তারা বাবা-মায়ের মধ্যকার এই অস্বাভাবিক নীরবতা, ভালোবাসাহীনতা এবং দূরত্ব ঠিকই টের পায়। একটি অসুখী, ভালোবাসাহীন ও কৃত্রিম পারিবারিক পরিবেশ সন্তানদের মনে সুস্থ সম্পর্কের ধারণা তৈরিতে বাধা দেয়। তারা দীর্ঘ মেয়াদে বিষণ্নতা বা সম্পর্কে জড়ানোর ভীতিতে ভুগতে পারে।

এক ছাদের নিচে থেকেও আলাদা? ‘ইন-হাউস সেপারেশন’ যখন বাস্তবতার নাম

ঋতু পরিবর্তনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাবেন যে ৫ খাবার

শীতের শুরুতে তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই সর্দি, কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এ সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে খাবারের দিকে একটু বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু পুষ্টিকর খাবার যোগ করলে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সহায়তা করা যায়। কোনো একটি খাবারই রোগ প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তবে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ কিছু খাবার শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। লেবুজাতীয় ফল কমলা, জাম্বুরা ও লেবুর মতো লেবুজাতীয় ফলে ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। প্রতিদিনের খাবারে এসব ফল রাখা যেতে পারে। সকালের নাস্তায় কমলা বা জাম্বুরা এবং খাবারের সঙ্গে লেবু খাওয়া সহজ উপায়। রসুনে অ্যালিসিনসহ বিভিন্ন সক্রিয় যৌগ রয়েছে। এসব উপাদানের জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সহায়তা করতে পারে। রান্নায় রসুন ব্যবহার করার পাশাপাশি সালাদ, সস বা বিভিন্ন খাবারেও এটি যোগ করা যায়। আদায় প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গলা ব্যথা বা বমি বমি ভাবের মতো কিছু সমস্যায় আদা উপকারী হতে পারে। শীতের সময়ে চা, স্যুপ বা রান্নায় আদা ব্যবহার করা যেতে পারে। দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। আর অন্ত্রের সুস্থতার সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থারও সম্পর্ক রয়েছে। নাশতা হিসেবে দইয়ের সঙ্গে তাজা ফল বা সামান্য মধু যোগ করা যেতে পারে। পালং শাকে ভিটামিন সি, বিটা-ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। সালাদ, স্যুপ বা রান্নায় পালং শাক রাখা যেতে পারে। হালকা আঁচে রান্না করলে এর বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য সহজলভ্য হতে পারে। তাই শীতকালে শুধু নির্দিষ্ট কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যতালিকা অনুসরণ করাই ভালো। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসও সুস্থ থাকতে গুরুত্বপূর্ণ। বিডি-প্রতিদিন/এআইএস

ঋতু পরিবর্তনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাবেন যে ৫ খাবার

আন্তর্জাতিক অফ-রোড দিবস: দুর্গম পথে রোমাঞ্চের দিন আজ

দুর্গম পথ ও বুনো প্রকৃতিতে রোমাঞ্চকর অভিযানের প্রতি ভালোবাসা থেকেই পালিত হয় আন্তর্জাতিক অফ-রোড দিবস। মরুভূমির বালিয়াড়ি, কাদাময় পথ কিংবা জঙ্গলের আঁকাবাঁকা ট্রেইলে গাড়ি, বাইক, এটিভি বা ৪x৪ যান নিয়ে অভিযানে বের হন অফ-রোডপ্রেমীরা। পাকা রাস্তার বাইরে গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার আনন্দই এ দিনের মূল আকর্ষণ। তবে দিনটি শুধু রোমাঞ্চ উপভোগের নয়। পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা, নিরাপদে চলাচল এবং সহযাত্রীদের প্রতি সম্মান দেখানোর বার্তাও দেওয়া হয় এদিন। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অফ-রোডপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয় বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক যোগাযোগ। আন্তর্জাতিক অফ-রোড দিবসের যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালে। বোম্বার্ডিয়ার রিক্রিয়েশনাল প্রোডাক্টসের (বিআরপি) ব্র্যান্ড ক্যান-অ্যাম অফ-রোড’ দিবসটি চালু করে। উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অফ-রোডপ্রেমীদের একই সম্প্রদায়ের অংশ হিসাবে একত্রিত করা। প্রথম বছরেই বিভিন্ন দেশের মানুষ দুর্গম পথে অভিযানে বেরিয়ে ছবি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। পরে বিভিন্ন ক্লাব ও অফ-রোড কমিউনিটিও এতে যুক্ত হয়। ধীরে ধীরে এটি একটি বৈশ্বিক আয়োজনে পরিণত হয়। নিরাপদে অফ-রোডিং এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিও এই উদযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। যেভাবে উদযাপন করবেন আন্তর্জাতিক অফ-রোড দিবসে নিজের দক্ষতার সঙ্গে মানানসই কোনও দুর্গম পথে গাড়ি বা বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন। যাত্রার আগে যানবাহন পরীক্ষা করে নিন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নিন। একা না গিয়ে বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে গেলে নিরাপত্তা ও আনন্দ দুটিই বাড়ে। চাইলে স্থানীয় কোনও অফ-রোড গ্রুপের আয়োজনে অংশ নিতে পারেন। নতুনদের জন্য সহজ রুট থাকলে সেখান থেকেও শুরু করা যায়। এদিন নতুন কোনও রুট বা অফ-রোডিং কৌশল চেষ্টা করতে পারেন, তবে নিজের দক্ষতার সীমা অতিক্রম না করাই ভালো। অভিযানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে অন্যদেরও উৎসাহিত করতে পারেন।

আন্তর্জাতিক অফ-রোড দিবস: দুর্গম পথে রোমাঞ্চের দিন আজ

যক্ষ্মা নির্ণয়ে আইসিডিডিআরবিকে ১.৪৫ মিলিয়ন ডলার দেবে জাপান

ঢাকার বস্তি এলাকায় যক্ষ্মা (টিবি) শনাক্তকরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে বাংলাদেশকে ১ লাখ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিচ্ছে জাপান। গতকাল ঢাকায় জাপান দূতাবাসে দেশটির রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) প্রতিনিধির মধ্যে এ-সংক্রান্ত অনুদান চুক্তি সই হয়েছে।   বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকার জাপান দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। জাপান সরকারের গ্রাসরুটস হিউম্যান সিকিউরিটি প্রজেক্টসের (জিজিপি) আওতায় এ অনুদান দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় ঢাকায় যক্ষ্মা শনাক্তকরণে একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার এবং ফুজিফিল্মের একটি বহনযোগ্য ডিজিটাল এক্স-রে ইউনিট কেনা হবে। মোবাইল টিমের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত বা সীমিত সুবিধা পাওয়া জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি যক্ষ্মা পরীক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে। বছরে প্রায় ৯ হাজার মানুষকে এ কার্যক্রমের আওতায় স্ক্রিনিং করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে আগে শনাক্ত না হওয়া যক্ষ্মা রোগীদের দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, ‘মানুষের জীবন ও মর্যাদা সুরক্ষায় মানবিক নিরাপত্তাকে জাপান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে যারা নানা বাধার মুখোমুখি হন, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এ প্রকল্প সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।’   অনুষ্ঠানে টয়োটা শো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানিও উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেবে টয়োটা শো করপোরেশন ও ফুজিফিল্ম। জাপান ১৯৮৯ সাল থেকে জিজিপির আওতায় বাংলাদেশে ২২৪টি এনজিও প্রকল্পে সহায়তা দিয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট অনুদানের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ মার্কিন ডলার। 

যক্ষ্মা নির্ণয়ে আইসিডিডিআরবিকে ১.৪৫ মিলিয়ন ডলার দেবে জাপান

শরীরে পানিশূন্যতা ঠেকাতে খাবারের তালিকায় রাখুন এই ৫ জিনিস

শরীর সুস্থ রাখতে শুধু পানি খেলেই হয় না, প্রয়োজন হয় বিভিন্ন খনিজেরও। বিশেষ করে গরমে অতিরিক্ত ঘাম হলে কিংবা শরীরচর্চার পর শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ দুটোই বেরিয়ে যেতে পারে। তখন দুর্বলতা বা ক্লান্তি অনুভূত হয়। অনেকেই এই সময়ে ইলেকট্রোলাইট পানীয় বেছে নেন। তবে প্রতিদিনের খাবারের তালিকাতেও এমন কিছু উপাদান রাখা যায়, যেগুলো শরীরকে প্রয়োজনীয় খনিজ জোগাতে সাহায্য করে। সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালশিয়াম—শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইলেকট্রোলাইট। স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে এগুলোর প্রয়োজন রয়েছে। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাসে ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ খাবার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। ১. পালংশাক: একসঙ্গে মিলবে একাধিক খনিজ সবুজ শাকের মধ্যে পালংশাক ইলেকট্রোলাইটের ভালো উৎস। এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালশিয়ামের পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে। এক কাপ পালংশাকে প্রায় ১৬৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ২৪ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম এবং ৩০ মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম পাওয়া যায়। ডাল বা অন্য সবজির সঙ্গে রান্না করে কিংবা হালকা ভাপে সেদ্ধ করে খেতে পারেন। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পালংশাক রাখলে একাধিক প্রয়োজনীয় খনিজ পাওয়ার সুযোগ থাকে। ২. কলা: শরীরচর্চার পর সহজ খাবার পটাশিয়ামের কথা উঠলে কলার নাম প্রথম দিকেই আসে। ১০০ গ্রাম কলায় প্রায় ৩৬২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমেও পটাশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ। কলা আবার ফাইবারসমৃদ্ধ। ফলে শরীরচর্চার আগে বা পরে সহজ নাশতা হিসাবেও একটি কলা রাখুন। ৩. অ্যাভোকাডো: পটাশিয়ামের পাশাপাশি উপকারী ফ্যাট পটাশিয়ামের উৎস হিসেবে অ্যাভোকাডোও বেশ সমৃদ্ধ। একটি অ্যাভোকাডোতে প্রায় ৭২৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পাওয়া যায়। পাশাপাশি এতে রয়েছে মোনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ফাইবার। পেট ভরা রাখতে এবং খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগ করতে অ্যাভোকাডো রাখা যেতে পারে। সালাদ বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গেও এটি খাওয়া যায়। ৪. তরমুজ: গরমের দিনে পানির সঙ্গে খনিজও গরমে শরীরকে সতেজ রাখতে তরমুজের জুড়ি নেই। এতে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় শরীরে তরল জোগাতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি তরমুজে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামও রয়েছে। এক কাপ তরমুজে প্রায় ১৭০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম এবং ১৫ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়। তাই গরমের দিনে কিংবা শরীরচর্চার পর জলসমৃদ্ধ ফল হিসেবে তরমুজ খাওয়া যেতে পারে। ৫. ডুমুর: পটাশিয়াম ও ক্যালশিয়ামের ভালো উৎস শুকনো ডুমুরেও রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। ১০০ গ্রাম শুকনো আঞ্জিরে প্রায় ১৬২ মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম এবং ৬৮০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পাওয়া যায়। পাশাপাশি এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। ক্যালশিয়ামের কারণে হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যও আঞ্জির উপকারী খাদ্য হিসেবে পরিচিত। পরিমিত পরিমাণে শুকনো আঞ্জির খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া, বমি বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে শরীরে পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি হলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাধারণভাবে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি এবং বৈচিত্র্যময় খাবারই শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও খনিজ পাওয়ার অন্যতম সহজ উপায়।

শরীরে পানিশূন্যতা ঠেকাতে খাবারের তালিকায় রাখুন এই ৫ জিনিস
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream