ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা

জাতীয়

সবুজ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সবুজ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এই দেশ তোমরাই পরিচালনা করবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ এখন থেকেই শুরু করতে হবে।’ শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত জনবহুল একটি দেশ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। এত মানুষের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হলেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘তোমরা যখন কোনো কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাঠে নেমে পরিচ্ছন্নতার কাজ করো, তখন খুব দ্রুত একটি জায়গা পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু শুধু নির্দিষ্ট কর্মসূচির মধ্যে এই কাজ সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নিজেদের উদ্যোগেও কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।’ পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি পরিবার ও তার আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার থাকলে সেই পরিবারের সদস্যদের সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অন্যদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নানা রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক মানুষ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে সবাইকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা করা কঠিন। তাই আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে মানুষকে সুস্থ রাখা। আর মানুষকে সুস্থ রাখতে হলে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর ডেঙ্গুতে অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হচ্ছে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা। আরও পড়ুনআরও পড়ুনডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজের বাসাবাড়ি, স্কুল-কলেজ, কর্মস্থল কিংবা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’ রাস্তা, খাল, নদী ও জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ময়লা জমে পরিবেশ দূষিত হয় এবং রোগজীবাণু ও মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ রাস্তায় ময়লা ফেললে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে তাকে সহযোগিতা করবে, যাতে ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয়। মনে রাখতে হবে, তোমরা শুধু নিজের জন্য নয়, সবার স্বার্থে কাজ করছ।’ ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান প্রায়ই ওপরের দিকে থাকে, যা অত্যন্ত বিব্রতকর। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। বৃক্ষরোপণে নিজের অতীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনের মাধ্যমে ২০০৪-০৫ সালের দিকে শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৮০ হাজার নিমগাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখন তোমাদের আমাকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। তোমরা আরও বেশি গাছ লাগাবে। ইনশাআল্লাহ, তোমরা পারবে।’ এ সময় সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ রোপণের ইতিহাসও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একসময় আরাফাতের ময়দান ছিল প্রায় বৃক্ষশূন্য। পরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেখানে নিমগাছের চারা পাঠান। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের পরামর্শে সৌদি আরবের আবহাওয়ার উপযোগী হিসেবে নিমগাছ নির্বাচন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেখানে নিমগাছের বিস্তার ঘটে। সেটি এখন ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত।  পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানের রাস্তাঘাটে খুব কম ময়লা-আবর্জনা দেখা যায়। এর পেছনে শুধু পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নয়, বরং মানুষের ময়লা না ফেলার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয় পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ ও পানির দূষণ রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। ভবিষ্যৎ তোমাদের। এই দেশ তোমরাই পরিচালনা করবে।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা গুলশান আরা ও দেবাশীষ রিমান্ড শেষে কারাগারে

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতায় উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে পল্লবী থানায় করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও বিজয় দেবাশীষ নারায়ন পালকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।  শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চার দিনের রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এদিন বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ চার দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের কারাগারে আটক রাখার এ আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামিদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন রয়েছে। রিমান্ডে তাদের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাদের ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করার লক্ষ্যে আরো রিমান্ড চাওয়া হবে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের লক্ষ্যে পরবর্তী রিমান্ডের জন্য তাদের জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন। এর আগে, গত সোমবার সন্ধ্যায় তাদেরকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে সেদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দিয়েছিলেন। গত রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে পল্লবী জোনাল টিমের একটি দল অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাসা থেকে লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত আড়াইটার দিকে বনানীর বাসা থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষকে গ্রেফতার করা হয়। এ দিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাওসার আহমেদ আসামিপক্ষের জামিনের বিরোধিতার করে শুনানি করেন। অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু ও মো. মশিউর রহমান জামিনের পক্ষে শুনানি করেন। তবে আদালত শুনানি শেষে জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা পল্লবীতে কাজী গুলশান আরার বাসায় অবস্থান করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা ১’ এবং ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থেকে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করতেন।  এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার অ্যান্ড পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ‘আজকাল ডটকম’ নামে একটি পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট প্রচার করা হতো। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাজী গুলশান আরার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচার ও পরিচালনার অভিযোগ করা হয়েছে।   আরও পড়ুনআরও পড়ুনসাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও তার পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ এজাহারে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে আনুগত্য প্রকাশ করেন কাজী গুলশান আরা। পরে সহযোগীদের নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টকশোতে সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অবজ্ঞা ছড়ানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরের যোগাযোগ রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় পল্লবী থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আলী আকবার দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা, সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা গুলশান আরা ও দেবাশীষ রিমান্ড শেষে কারাগারে

জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ নার্স রীপা গোমেজের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ নার্স রীপা ফ্রান্সিসকো গোমেজের খোঁজ নিয়েছেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন এ কথা জানান। তিনি জানান, কিছু দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীপা গোমেজের তথ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। এরপর তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে খোঁজ নেয়ার নির্দেশ দেন। এ প্রেক্ষিতে আজ রাজধানীর মধ্যবাড্ডার বাজার গলি এলাকায় কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রীপা গোমেজের বাসায় যায়। প্রতিনিধি দলটি রীপা গোমেজের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয় এবং প্রধানমন্ত্রীর সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মাসুদ রানা লিটন, ফরহাদ আলী সজীব, রুবেল আমিন, ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মিসবাহ প্রমুখ। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের কাছে আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন নার্স রীপা ফ্রান্সিসকো গোমেজ। সেদিন ৪৭টি সীসার ছররা গুলি ও দুটি রাবার বুলেটের আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। সবচেয়ে গুরুতর আঘাতটি লাগে তার ডান চোখের কোটরে। একটি বুলেট মস্তিষ্কের ১৪ সেন্টিমিটার গভীরে আটকে যায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই দৃষ্টিশক্তির জটিলতা ও নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন রীপা। একদিকে নিয়মিত চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাজের সুযোগ কমে যাওয়া- সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি। নিজের চিকিৎসার খরচ জোগাতে অন্য রোগীদের সেবা করেও জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন এই নার্স।

জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ নার্স রীপা গোমেজের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে লাগবে যেসব কাগজপত্র

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে সংশোধনের ধরন ও ভুলের মাত্রা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ভিন্নতা থাকতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নথি প্রস্তুত রাখলে প্রক্রিয়াটি সহজ হতে পারে। নাম সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এনআইডিতে নিজের নামের বানান বা আংশিক সংশোধনের জন্য সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদসহ নামের সঠিকতা প্রমাণের উপযোগী নথি জমা দিতে হতে পারে। প্রয়োজনে পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিবাহিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কাবিননামা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডির অনুলিপিও দেওয়া যেতে পারে। বাবা-মায়ের নাম সংশোধনে যেসব নথি লাগতে পারে এনআইডিতে বাবা বা মায়ের নামের বানান, পদবি কিংবা সম্পূর্ণ নাম সংশোধনের জন্য শিক্ষাগত সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ, বাবা-মায়ের এনআইডির অনুলিপি এবং নাগরিকত্ব বা চাকরিসংক্রান্ত প্রমাণপত্র জমা দিতে হতে পারে। বাবা-মায়ের নাম আমূল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের সনদ কিংবা রেজিস্ট্রেশন কার্ড, বাবা-মায়ের এনআইডির সত্যায়িত অনুলিপি এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। বাবা-মা মারা গেলে ভাই-বোনদের এনআইডির অনুলিপিও চাওয়া হতে পারে। জন্মতারিখ সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি ভিন্ন হতে পারে। এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের সাধারণত সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হয়। বয়সের ব্যবধান অস্বাভাবিক মনে হলে মূল সনদ প্রদর্শন কিংবা ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এসএসসি বা সমমানের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এনআইডি ইস্যুর আগের তারিখের সার্ভিস বুক, এমপিওর কপি, জন্মনিবন্ধন সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট বা নিকাহনামার মতো নথি চাওয়া হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে সিভিল সার্জনের বয়স নির্ধারণসংক্রান্ত প্রতিবেদনসহ অতিরিক্ত প্রমাণপত্রও জমা দিতে হতে পারে। ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগবে এনআইডিতে স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা সংশোধনের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ, বিদ্যুৎ, গ্যাস বা টেলিফোন বিল, পৌরকর বা চৌকিদারি করের রসিদ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়া যেতে পারে। ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঠিকানা সংশোধন করতে হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। তবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন না করে ঠিকানার নম্বর বা বানান সংশোধনের জন্যও আবেদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে পরিবারের কোনো সদস্যের এনআইডির অনুলিপি এবং ঠিকানার সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হতে পারে। আবেদনের আগে যা মনে রাখবেন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশোধনের ধরন ও জমা দেওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। জটিল বা বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শুনানি কিংবা সরেজমিন তদন্তও হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস বা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা থেকে প্রয়োজনীয় নথির তালিকা যাচাই করে নেওয়া ভালো।

এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে লাগবে যেসব কাগজপত্র

জাতীয় চিড়িয়াখানায় ১৩ বছর ধরে একা গন্ডার, সঙ্গীহীন আরও ৯ প্রাণী

রোদঝলমলে দুপুর। মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় আফ্রিকান গন্ডারটির খাঁচার সামনে ভিড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা। বেড়ার পাশে ছায়ায় মাটিতে মুখ রেখে শুয়ে আছে বিশালদেহী প্রাণীটি। তাকে দেখে উচ্ছ্বসিত শিশুরা চিৎকার করে উঠছে, ‘গন্ডার, গন্ডার!’ কিন্তু দর্শনার্থীদের হইচইয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই তার। নির্বিকার পড়ে আছে সে। একসময় এই গন্ডারেরও সঙ্গী ছিল। ২০১৩ সালে সেই সঙ্গী মারা যাওয়ার পর থেকে একাই দিন কাটছে তার। ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে খাঁচায় নিঃসঙ্গ জীবন কাটছে প্রাণীটির। ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এক জোড়া আফ্রিকান গন্ডার আনা হয়েছিল জাতীয় চিড়িয়াখানায়। ২০১৩ সালে মারা যায় পুরুষ গন্ডারটি। সঙ্গীর মৃত্যুর পর অসুস্থ হয়ে পড়ে এই মাদি গন্ডার। মেডিক্যাল বোর্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মালিকের যৌথ প্রচেষ্টায় এক পর্যায়ে সুস্থ হয়ে ওঠে সে। তবে ফেরেনি তার সঙ্গী, ঘোচেনি একাকিত্ব। শুধু এই গন্ডার নয়, জাতীয় চিড়িয়াখানায় আরও নয়টি প্রাণীকে কাটাতে হচ্ছে সঙ্গীহীন জীবন। তালিকায় আছে কেশোয়ারি পাখি, ক্যাঙারু, ইন্ডিয়ান সারস ক্রেন, হামাদ্রিয়াস বেবুন, উল্লুক, কুলু বানর, আফ্রিকান সাদা সিংহ, চিত্রা হায়েনা ও ডোরাকাটা হায়েনা। কোনোটি একা আছে প্রায় ১৭ বছর, কোনোটি এক বছরের কিছু বেশি সময় ধরে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব প্রাণীর সঙ্গী আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত প্রাণী কেনার যে তালিকা সরকার অনুমোদন দিয়েছে, তাতে নিঃসঙ্গ প্রাণীদের জন্য সঙ্গী সংগ্রহের বিষয়টিও আছে। ১৭ বছর ধরে একা কেশোয়ারি জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সঙ্গীহীন আছে একটি কেশোয়ারি পাখি। ২০০৯ সালের ২২ আগস্ট থেকে পাখিটি একা। প্রায় ১৭ বছর ধরে নিঃসঙ্গ জীবন কাটছে তার। অস্ট্রেলিয়া ও নিউগিনিতে কেশোয়ারির আবাস। উড়তে না পারা এই পাখির উচ্চতা এক মিটার পর্যন্ত হতে পারে, ওজন ৪০ থেকে ৫০ কেজি। কালো ও নীল রঙের শরীর, মাথার ওপর শক্ত হাড়ের মুকুট। আত্মরক্ষায় এই মুকুটের পাশাপাশি শক্ত পা ব্যবহার করে পাখিটি। দুই বছর বয়সে কেশোয়ারি পাখি প্রজননক্ষম হয়। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন লাগে। পুরুষ ও স্ত্রী উভয়েই ডিমে তা দেয়। চিড়িয়াখানার তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃতিতে কেশোয়ারি ফলমূল, শাকসবজি, পাতা ও কীটপতঙ্গ খায়। জাতীয় চিড়িয়াখানায় তাকে দেওয়া হয় পাউরুটি ও কলা। আবদ্ধ অবস্থায় এরা সাধারণত ১৮ থেকে ২০ বছর বাঁচে। অর্থাৎ চিড়িয়াখানার এ পাখির সম্ভাব্য আয়ুর বড় একটি অংশ কেটেছে সঙ্গীহীন অবস্থায়। একমাত্র গন্ডার সঙ্গীহীন ১৩ বছর নিঃসঙ্গ প্রাণীদের তালিকায় দ্বিতীয় দীর্ঘ সময় ধরে একা রয়েছে আফ্রিকান গন্ডারটি। ২০১৩ সালের ১৫ মে থেকে তার কোনো সঙ্গী নেই। আফ্রিকায় বসবাসকারী এই গন্ডারের ওজন ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। মাথায় সাধারণত দুটি শিং থাকে। তবে জাতীয় চিড়িয়াখানার গন্ডারটির মাথায় আছে একটি শিং; অন্যটি কাটা বা ভাঙা। সবুজ ঘাস, শাকসবজি ও ফলমূল গন্ডারের পছন্দের খাবার। চিড়িয়াখানায় তাকে দেওয়া হয় সবুজ ঘাস ও মিশ্র দানাদার খাবার। স্ত্রী গন্ডার সাধারণত ছয় থেকে সাত বছর বয়সে প্রজননক্ষম হয়। গর্ভধারণের সময় ১৬ থেকে ১৮ মাস। একবারে একটি বাচ্চা জন্ম দেয় তারা। এদের আয়ু ৩৫ থেকে ৪০ বছর। জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, আফ্রিকান গন্ডার বিপন্ন বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক কনভেনশনের (সাইটিস) অ্যাপেনডিক্স-১ তালিকাভুক্ত। এ কারণে এই প্রাণী আমদানি করা কঠিন। বাংলাদেশে থাকা একমাত্র গন্ডার এটি। তার মৃত্যু হলে দেশে আর কোনো গন্ডার থাকবে না। দুই হায়েনারও সঙ্গী নেই জাতীয় চিড়িয়াখানায় একটি চিত্রা হায়েনা ও একটি ডোরাকাটা হায়েনা আছে। চিত্রা হায়েনাটি ২০১৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সঙ্গীহীন। নিঃসঙ্গতার সময় বিবেচনায় প্রাণীদের তালিকায় তার অবস্থান তৃতীয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় চিত্রা হায়েনা পাওয়া যায়। বন্য গরু, ওয়াইল্ড বিস্ট ও জেব্রার মতো প্রাণী শিকার করে খায় এরা। তবে চিড়িয়াখানায় তাকে দেওয়া হয় গরুর মাংস। অন্যদিকে ডোরাকাটা হায়েনার শরীরে খাড়া বা তির্যক ডোরাকাটা দাগ থাকে। সেনেগাল, তানজানিয়া, কেনিয়াসহ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এদের দেখা যায়। প্রকৃতিতে ফল, পোকামাকড় ও মৃত প্রাণীর মাংস খায় তারা। জাতীয় চিড়িয়াখানায় এই হায়েনাটিকেও দেওয়া হয় গরুর মাংস। এটিও সঙ্গীহীন অবস্থায় আছে। বেবুন, সিংহ ও উল্লুকের নিঃসঙ্গতা জাতীয় চিড়িয়াখানার হামাদ্রিয়াস বেবুনটি ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে একা। আফ্রিকার ইথিওপিয়া ও দক্ষিণ-পশ্চিম আরবের দেশগুলোয় এদের দেখা যায়। বানর প্রজাতির হলেও এর মুখমণ্ডল কুকুরের মতো লম্বা। জন্মের সময় লোম কালো থাকলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ধূসর ও বাদামি হয়। আবদ্ধ অবস্থায় ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে এই প্রাণী। ‘দীপ’ নামের আফ্রিকান সাদা সিংহটি সঙ্গীহীন ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে। দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, সার্বিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় এদের বিস্তার রয়েছে। গায়ের রং সোনালি থেকে সাদার কাছাকাছি। চিড়িয়াখানায় সিংহটিকে খাবার হিসেবে দেওয়া হয় গরুর মাংস। আবদ্ধ অবস্থায় এরা সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর বাঁচে। এ ছাড়া একটি উল্লুকও রয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানায়। এটি ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, মিয়ানমার ও চীনে উল্লুকের বসবাস আছে। উল্লুকের লেজ নেই, হাত পায়ের চেয়ে লম্বা। মানুষের মতো সোজা হয়ে দাঁড়াতে ও হাঁটতে পারে। উল্লুক সাধারণত গাছে থাকে এবং ছোট ছোট দলে বসবাস করে। দিনের শুরুতে উচ্চ স্বরে ‘হো হো হো’ শব্দ করে। ফলমূল, ডুমুর, গাছের পাতা ও পোকামাকড় এদের খাবার। চিড়িয়াখানায় দেওয়া হয় কলা, পাউরুটি, ফলমূল, চিনাবাদাম, ছোলা, শসা ও সেদ্ধ ডিম। অতি বিপন্ন এই প্রাণী সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর বাঁচে। ক্যাঙারু, কুলু বানর ও সারস ক্রেনও একা জাতীয় চিড়িয়াখানার ক্যাঙারুটি ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট থেকে সঙ্গীহীন। অস্ট্রেলিয়া ও নিউগিনিতে এদের আদি আবাস। সামনের পা ছোট হলেও পেছনের পা লম্বা ও শক্তিশালী। এরা শক্তিশালী লেজের ওপর ভর করে লাফিয়ে চলে। ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়াতে পারে এরা। স্ত্রী ক্যাঙারুর পেটে থাকে বাচ্চা বহনের থলি। চিড়িয়াখানায় ক্যাঙারুটিকে সবুজ ঘাস, শাকসবজি, ছোলা, পাউরুটি ও মিশ্র দানাদার খাবার দেওয়া হয়। আবদ্ধ অবস্থায় ২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে প্রাণীটি। সম্প্রতি কুলু বানরটি একা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে সঙ্গীহীন সে। বাংলাদেশের সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে এই প্রজাতির বানর দেখা যায়। থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরেও রয়েছে এরা। প্রকৃতিতে দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। চিড়িয়াখানায় বানরটিকে কলা, পাউরুটি, ফলমূল, চিনাবাদাম, ছোলা, শসা ও সেদ্ধ ডিম খেতে দেওয়া হয়। এদের আয়ুষ্কাল ১৫ থেকে ২০ বছর। আর ইন্ডিয়ান সারস ক্রেনটি সঙ্গীহীন হয়েছে ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ। লম্বা গলা ও ঠোঁটের এই বৃহদাকার পাখি ভারতীয় উপমহাদেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায়। আবদ্ধ অবস্থায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। স্বজাতি আছে, তবে জাতীয় চিড়িয়াখানায় এমন কিছু প্রাণীও আছে, যাদের প্রজাতির অন্য সদস্য আছে, কিন্তু উপযুক্ত সঙ্গী নেই। দুটি আফ্রিকান সিংহের নাম মুক্তা ও ডেইজি। দুটিই স্ত্রী সিংহ। মুক্তা ২০১৯ সাল থেকে এবং ডেইজি ২০২৩ সাল থেকে পুরুষ সঙ্গীহীন। চিড়িয়াখানায় দুটি হনুমান লেঙ্গুর রয়েছে, তবে দুটিই পুরুষ। তিনটি লোনাপানির কুমিরও পুরুষ। মিঠাপানির কুমির রয়েছে দুটি, সেগুলোও পুরুষ। ফলে এসব প্রাণীর প্রজননের সুযোগ নেই। জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রাণী কেনার অনুমোদিত পরিকল্পনায় এসব প্রাণীর জন্যও সঙ্গী সংগ্রহের বিষয়টি আছে। যেসব পুরুষ প্রাণীর স্ত্রী সঙ্গী নেই, তাদের জন্য স্ত্রী এবং যেসব স্ত্রী প্রাণীর পুরুষ সঙ্গী নেই, তাদের জন্য পুরুষ সঙ্গী আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক মো. শাহিনুর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত চিড়িয়াখানায় কী কী প্রাণী কেনা হবে, তার একটি তালিকা সরকার অনুমোদন দিয়েছে। সেখানে নিঃসঙ্গ প্রাণীদের জন্য সঙ্গী আনার বিষয়টিও রয়েছে। চলতি অর্থবছরে সিংহ, হায়েনা ও উল্লুক কেনার পরিকল্পনা আছে। ‘কোনো প্রাণীর একাকিত্ব কাম্য নয়’ প্রাণীদের একাকী জীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তাঁর মতে, কোনো প্রাণীর জন্যই একাকিত্ব কাম্য নয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, একাকিত্ব দূর করার পরিকল্পনা ছাড়া প্রাণী আনা সমর্থন করেন না তিনি। জাতীয় চিড়িয়াখানায় নিঃসঙ্গ থাকা প্রাণীগুলো সামাজিক ও দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। যেসব প্রাণী দলে থাকে না, তারা অন্তত জোড়ায় থাকে। অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের ভাষায়, সঙ্গী থাকলে প্রাণীদের উত্তেজনা প্রশমিত হয়, জীবনযাপনও ভালো হয়। জাতীয় চিড়িয়াখানার খাঁচায় থাকা প্রাণীগুলোর জন্য তাই শুধু খাবার, চিকিৎসা কিংবা নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত সঙ্গীও। দীর্ঘদিনের নিঃসঙ্গতা ঘোচাতে সেই সঙ্গী কবে আসবে, এখন অপেক্ষা সেটিরই।

জাতীয় চিড়িয়াখানায় ১৩ বছর ধরে একা গন্ডার, সঙ্গীহীন আরও ৯ প্রাণী

‘জাতীয় প্রতিযোগিতার সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাতে সহযোগিতা করবে সরকার’

জাতীয় প্রতিযোগিতার সেরা তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠাতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, দেশব্যাপী একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে, সেখানে দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা অংশ নেবে। যারা চূড়ান্তভাবে বিজয়ী ও সেরা হিসেবে উঠে আসবে, সরকার নিজস্ব অর্থায়নে তাঁদের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। যাতে তরুণরা বিশ্বমঞ্চে লাল সবুজের পতাকার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করছি, আগামী বছর থেকে এই প্রস্তাবনা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করব। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে 'বাংলাদেশ ইউথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬' এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন। 'ফিউচার বাংলাদেশ'-এর আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা জাতীয় ও বৈশ্বিক নীতি নিয়ে বিতর্কে অংশ নেবেন। মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া-এই তিন ক্ষেত্রের এক অপূর্ব ত্রিভুজ সমন্বয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যার অধীনে দেশজুড়ে আয়োজন করা হবে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা। একই সাথে গণিত অলিম্পিয়াড, পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, নতুন কুঁড়ি, ক্বিরাআত ও হিফজ প্রতিযোগিতা, বিতর্ক এবং কুইজ প্রতিযোগিতাসহ শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশমূলক সকল আয়োজনে সরকারের সর্বাত্মক সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে মাহ্দী আমিন বলেন, রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে এই তরুণরাই এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। সে সময় তরুণরা একটি বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক সমাজের ভিত রচনা করেছে, যেখানে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করব। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন আরও বলেন, সরকার এমন এক বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর, যেখানে যেকোনো নাগরিকের সফল হওয়া কিংবা আত্মবিকাশের সুযোগ পাওয়ার জন্য কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের প্রয়োজন হবে না। সমাজে বজায় থাকবে ন্যায়বিচার ও সমতা, আর রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকবে স্বচ্ছতা ও কার্যকর জবাবদিহিতা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশের ভাগ্য জড়িয়ে আছে তরুণদের ভাগ্যের সাথে। দেশকে স্বনির্ভর ও স্বাবলম্বী করতে হলে তারুণ্যের এই আকাঙ্ক্ষাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারণ করতে হবে। আমাদের তরুণদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অ্যাকাডেমিক দিক থেকে পূর্ণ ক্ষমতায়ন করতে হবে। নীতি প্রণয়নের প্রতিটি স্তরে তরুণদের প্রত্যাশা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুগোপযোগী দক্ষতা তৈরি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য পলিসি মেকিং প্রক্রিয়ায় তরুণদের মতামত সরাসরি সম্পৃক্ত করা জরুরি। কেবল বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও উদ্ভাবনী ধারণা মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য আয়োজকদের প্রতি আরও বেশি 'নীতি সংলাপ' আয়োজনের আহ্বান জানান মাহ্দী আমিন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আর উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড।

‘জাতীয় প্রতিযোগিতার সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাতে সহযোগিতা করবে সরকার’

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগানে পড়ে ছিল ৯২টি ককটেল ও বিপুল বিস্ফোরক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে অভিযান চালিয়ে একটি আমবাগান থেকে ৯২টি ককটেল, ১১ দশমিক ৮ কেজি গান পাউডার এবং বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে এসআরবি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছে বিশেষায়িত এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ শুক্রবার এসআরবির পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এসআরবি-৫, সিপিসি-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আভিযানিক দল এসআরবি-৫, রাজশাহীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করে। এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব টিকরা গ্রামের একটি আমবাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব আলামত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অন্যান্য সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে দুটি হাঁসুয়া ও বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন উপকরণ। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এসআরবির ধারণা, উদ্ধার করা এসব আলামত দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা সেখানে মজুত করে রাখতে পারে। উদ্ধার করা আলামতগুলো পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগানে পড়ে ছিল ৯২টি ককটেল ও বিপুল বিস্ফোরক

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ২ হাজার ৭২৭ মণ্ডপে বিজিবি মোতায়েন

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ শুক্রবার থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ১৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের শহিদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় এবং বিজিবির আভিযানিক সফলতা নিয়ে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বিজিবি পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এসব তথ্য জানান। বিজিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ১ হাজার ৪২৫টি, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার ১৮৩টি পূজামণ্ডপ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় থাকবে। সীমান্তবর্তী মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিজিবি মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। অন্য এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা সহায়তা দেবে বাহিনীটি। নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মণ্ডপগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন ও রেকি করা হয়েছে। যাতায়াতের পথ, স্থানীয় পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে প্রয়োজনীয় জনবল ও বিশেষায়িত দল প্রস্তুত রাখা হবে। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিজিবির সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্বের পরিধি নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বিজিবি। পূজার সময় গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি। সংবেদনশীল কোনো তথ্য প্রচারের আগে তা যাচাই এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প, পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালন এবং পরিবার নিয়ে উৎসবে অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও অনুমোদিত নির্দেশনা অনুসরণ, সংযম এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রস্তুতির পাশাপাশি চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে মাদক, স্বর্ণ, বস্ত্র, প্রসাধনী ও অন্যান্য সামগ্রী রয়েছে। এ সময়ে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা, ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, প্রায় ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, ৯ কেজি হেরোইন এবং ২৮ হাজার বোতল ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক জব্দ করা হয়েছে। এসব মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১ হাজার ৫৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযানে ৭৮টি পিস্তল, সাতটি রাইফেল, একটি এসএমজি, সাতটি গ্রেনেড, ১২টি মাইন এবং ৩ হাজার ২১৩ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মোট ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আটক করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মানবপাচার প্রতিরোধে নারী ও শিশুসহ ৪২ জনকে পাচারের সময় উদ্ধার এবং ২০ জন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। পুশ-ইনের ১৮২টি চেষ্টা প্রতিহত বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় ১৮২টি ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এ ধরনের অপচেষ্টা মোকাবিলায় সীমান্তে নজরদারি ও টহলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া কৃষি উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সুরক্ষায় সার, জ্বালানি ও ভোজ্য তেল পাচার প্রতিরোধে অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে প্রায় ১৫৮ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার, ১ লাখ ২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং ১৫ হাজার লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে। সীমান্ত নজরদারি জোরদার করতে আধুনিক সরঞ্জাম, ড্রোন ও রাতের পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের চিকিৎসাসেবা, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তের নিরাপত্তা, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং মানুষের জীবন ও মর্যাদা সুরক্ষায় বাহিনীটির অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে সবার সহযোগিতাও কামনা করেছে বাহিনীটি।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ২ হাজার ৭২৭ মণ্ডপে বিজিবি মোতায়েন

অপরাধ প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ

অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সংঘটিত অপরাধের তুলনামূলক পরিসংখ্যান এবং উভয় বছরের তৃতীয় কোয়ার্টারের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়।  উপস্থাপিত পরিসংখ্যানে ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, দ্রুত বিচার, দাঙ্গা, ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপ, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, অপহরণ, চুরি, সিঁধেল চুরি, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানসংক্রান্ত অপরাধের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতির চিত্র উঠে আসে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এ উন্নতিতে বৈঠকে উপস্থিত কমিটির সদস্যবৃন্দ সন্তোষ প্রকাশ করেন। সারাদেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ দমনে পৃথক সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনসহ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম রাজধানী ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গৃহীত কার্যক্রম এবং এ সংক্রান্ত অগ্রগতি তুলে ধরেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, নূরুল ইসলাম এবং আব্দুল বাতেন অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অপরাধ প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ

মৈনপাটের পথে, পাহাড়-ঝরনা আর বৌদ্ধমঠে ভরা অনন্য ঠিকানা

কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা ও হাতে পাঁচ-ছয় দিন সময় থাকলে বেরিয়ে পড়া যায় অচেনা কোনও গন্তব্যের উদ্দেশে। পাহাড়, ঝরনা, সবুজ অরণ্য আর বৌদ্ধ সংস্কৃতির স্বাদ একসঙ্গে পেতে চাইলে পাশের দেশ ভারতের ছত্তীসগঢ়ের মৈনপাট হতে পারে দারুণ পছন্দ। অনেকেই জায়গাটিকে ‘মিনি তিব্বত’ বলে চেনেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্ত পরিবেশের কারণে এই পাহাড়ি জনপদকে আবার ‘ছত্তীসগঢ়ের শিমলা’ও বলা হয়। ছত্তীসগঢ়ের সরগুজা জেলায় অবস্থিত মৈনপাটের বিশেষত্ব পাহাড়ি দৃশ্য আর এখানকার তিব্বতি সংস্কৃতি, বৌদ্ধমঠ, ঝরনা ও অদ্ভুত কিছু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকার মতো এখানেও পাহাড়ের গায়ে রঙিন প্রার্থনার পতাকা চোখে পড়ে। পথে পড়বে রাঁচী, ঘুরে নিতে পারেন চান্ডিল জলাধারও কলকাতা থেকে মৈনপাটের উদ্দেশে গাড়ি নিয়ে রওনা দিলে প্রথমে যেতে পারেন রাঁচীর দিকে। পথে পড়বে কোয়ালাঘাট, ডেবরা, খড়গপুর, বহরাগোড়া ও ঘাটশিলার মতো পরিচিত জায়গা। কলকাতা থেকে রাঁচীর দূরত্ব প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। যাত্রাপথে একটু ঘুরে দেখতে চাইলে জামশেদপুরের কাছাকাছি চান্ডিল জলাধারে থামতে পারেন। পাহাড়ে ঘেরা বিশাল জলরাশি ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ সেখানে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ করে দেবে। জলাধারে নৌকাবিহারের ব্যবস্থাও থাকলে উপভোগ করতে পারেন সেই অভিজ্ঞতা। চান্ডিল ঘুরে রাঁচী পৌঁছোতে বিকেল গড়িয়ে যেতে পারে। তাই সেদিন আর বেশি ঘোরাঘুরি না করে বিশ্রাম নেওয়াই ভালো। পরদিন রাঁচী ও তার আশপাশের জলপ্রপাতগুলি ঘুরে দেখতে পারেন। হুন্ড্রু, জোনহা ও সীতা জলপ্রপাতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা এবং কিছুটা হাঁটার প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। চাইলে দশম জলপ্রপাত কিংবা পত্রাতু উপত্যকাও ঘুরে দেখতে পারেন। পাহাড়ি পথে মৈনপাটের দিকে রাঁচী থেকে মৈনপাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে পথের দৃশ্য ধীরে ধীরে বদলাতে থাকবে। জাতীয় সড়ক ধরে এগিয়ে নির্দিষ্ট সংযোগপথ দিয়ে মৈনপাটের দিকে যেতে হয়। রাঁচী থেকে গন্তব্যটির দূরত্ব আনুমানিক ৩০০ কিলোমিটারের কিছু বেশি হতে পারে। তবে যাত্রার আগে মানচিত্রে নির্দিষ্ট পথ ও রাস্তার বর্তমান অবস্থা দেখে নেওয়া ভালো। পাহাড়ি রাস্তায় পৌঁছোনোর পর সবুজে ঢাকা ঢাল, অরণ্য আর খোলা আকাশের দৃশ্য পথের ক্লান্তি অনেকটাই ভুলিয়ে দিতে পারে। মৈনপাটে পৌঁছোতে বিকেল বা সন্ধ্যা হয়ে গেলে সেদিন আর দর্শনীয় স্থান ঘোরার পরিকল্পনা না করাই ভালো। পরদিন সকাল থেকে শুরু করা যেতে পারে বেড়ানো। এখানকার বেশ কিছু আকর্ষণ কাছাকাছি এলাকায় থাকলেও কোনও কোনও জায়গায় পৌঁছোতে হাঁটতে হতে পারে। ;উল্টোপথে বয়ে চলে জলধারা! মৈনপাটের সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক জায়গাগুলির মধ্যে রয়েছে উল্টাপানি। ভিসারপানি গ্রামের কাছে এই জলধারাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এখানে জলপ্রবাহের দিক দেখে মনে হয় জল যেন উঁচুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জায়গাটি ঘুরে দেখার সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে এর প্রকৃতি ও ভূপ্রকৃতি সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। এরপর যেতে পারেন পরপটিয়া সূর্যাস্ত দেখার জায়গায়। পাহাড়ি পরিবেশে দিনের শেষ আলো উপভোগ করার জন্য এটি পরিচিত। আশপাশের ঝরনা ও পাহাড়ি পথও পর্যটকদের নজর কাড়ে। তবে সন্ধ্যার আগে ফেরার পথ ধরতে হবে, বিশেষত অপরিচিত পাহাড়ি এলাকায় নিজে গাড়ি চালালে। মৈনপাটের আরেকটি আকর্ষণ জলজলি পয়েন্ট, যা ‘বাউন্সিং গ্রাউন্ড’ নামেও পরিচিত। এখানকার ভূমিরূপের বিশেষ বৈশিষ্ট্য নিয়ে পর্যটকদের কৌতূহল রয়েছে। জায়গাটি ঘুরে দেখার সময় নির্দিষ্ট পথ মেনে চলা এবং স্থানীয় নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। চাইলে মাছলি পয়েন্ট বা ফিশ পয়েন্টেও যেতে পারেন। বৌদ্ধমঠ, তিব্বতি খাবার ও ঝরনার হাতছানি মৈনপাটের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তিব্বতি সংস্কৃতি। স্থানীয় বাজারে খাবার ও দৈনন্দিন জীবনের নানা অনুষঙ্গে সেই সংস্কৃতির ছাপ পাওয়া যায়। ঘুরে দেখতে পারেন ধাকপো শেপদুলিং বৌদ্ধমঠ। শান্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানোর পাশাপাশি এখানকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহ অনুভব করা যাবে। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য রয়েছে টাইগার পয়েন্ট জলপ্রপাত। সবুজ পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা জলধারা এই জায়গার অন্যতম আকর্ষণ। নামটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাঘের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় লোককথা। তবে বন্যপ্রাণী দেখার নিশ্চয়তা নেই। আশপাশের পরিবেশ উপভোগ করার পাশাপাশি মৈনপাট থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত যোগীমারা গুহাও ঘুরে দেখতে পারেন। কোথায় থাকবেন, কী ভাবে ফিরবেন? মৈনপাটে পর্যটকদের থাকার জন্য বিভিন্ন রিসর্ট ও আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। পূজার ছুটিতে ভিড়ের সম্ভাবনা থাকায় আগেভাগে ঘর বুক করে নেওয়া সুবিধাজনক। থাকার জায়গা বেছে নেওয়ার সময় খাবারের ব্যবস্থা, গাড়ি রাখার জায়গা এবং দর্শনীয় স্থানগুলিতে যাতায়াতের সুবিধা যাচাই করে নিন। মৈনপাটে এক দিন ও পরদিন সকালের সময় ঘোরাঘুরির জন্য রাখতে পারেন। দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে কলকাতার পথে রওনা দেওয়া যায়। ফেরার পথে চাইলে রাঁচী অথবা জামশেদপুরে রাত কাটিয়ে পরদিন বাকি পথ পাড়ি দিতে পারেন। নিজের গাড়িতে এই সফরের পরিকল্পনা করলে জ্বালানি, টোল, চালকের বিশ্রাম এবং পাহাড়ি পথে গাড়ি চালানোর বিষয়গুলি মাথায় রাখা জরুরি। কলকাতা থেকে রাঁচী হয়ে মৈনপাটের এই যাত্রায় যেমন থাকবে দীর্ঘ সড়কপথের অভিজ্ঞতা, তেমনই মিলবে পাহাড়, জলপ্রপাত, অরণ্য ও ভিন্ন সংস্কৃতির স্বাদ।

মৈনপাটের পথে, পাহাড়-ঝরনা আর বৌদ্ধমঠে ভরা অনন্য ঠিকানা

ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকালে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের ওয়াকআউট

কনফারেন্স অন ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়ার (সিকা) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে সম্মেলন কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেছেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত সিকা সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকালে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের ওয়াকআউট করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট তার ভাষণ শুরু করলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ওয়াকআউট করে। বাকু থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও এই ওয়াকআউটে যোগ দেন এবং ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করেন। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে প্রতিবাদ হিসেবে এসব প্রতিনিধিদল সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন। এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর শীর্ষ নেতা ও জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের নিয়ে আজারবাইজানের রাজধানীতে সপ্তম ‘সিকা’ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকালে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের ওয়াকআউট

ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার মোস্তাকের সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডন বোরো অব টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার মোস্তাক আহমেদ।   আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্ক, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান এবং যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হেমলেটসে অনেক বাংলাদেশি বসবাস করেন। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এবং উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার এবং বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের লন্ডন বোরো অব টাওয়ার হ্যামলেটস এর সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত  করেন। স্পিকার মোস্তাক আহমেদ বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সু-সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  সাক্ষাৎকালে মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটস এর দু'জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।  বিডি প্রতিদিন/এআরএ

ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার মোস্তাকের সাক্ষাৎ

চার ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন উত্তরার পোশাকশ্রমিকেরা

বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় চার ঘণ্টা অবরোধ করেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে গেলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সকাল ৮টার দিকে উত্তরার আজমপুর, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাঁরা সংগঠিত হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অবরোধের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. শাহজাহান হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, বেলা ১২টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে চলে যান। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. রেজাউল করিম জানান, কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিনিধি ছিলেন না। তাঁরা বিচ্ছিন্নভাবে নিজেদের দাবিদাওয়ার কথা জানাচ্ছিলেন। মো. রেজাউল করিম বলেন, একপর্যায়ে যানবাহনে হামলা ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ধাওয়া দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে পাল্টা ধাওয়া করে এবং কয়েকটি শব্দ গ্রেনেড ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খরচের সঙ্গে বর্তমান মজুরির কোনো সংগতি নেই বলে শ্রমিকদের অভিযোগ। সংসারের খরচ মেটাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। এ পরিস্থিতিতে মজুরি বৃদ্ধি ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন। শ্রমিক নেতা আবদুল বারেক আজকের পত্রিকাকে বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। এর আগে বুধবারও একই দাবিতে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজলক্ষ্মী ও আজমপুর এলাকায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে নামেন। পরে তাঁদের অবরোধ বিমানবন্দর সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষসহ সাধারণ যাত্রীরা। অনেককে যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

চার ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন উত্তরার পোশাকশ্রমিকেরা

নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করার চেষ্টা চলছে : তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম রিঅ্যাক্টর থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।  বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, ১২০০ মেগাওয়াটের এই মেগা প্রজেক্টটি রাশিয়ার রোসাটম কোম্পানির ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট হওয়ায় তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে এবং তিন মাস আগে পাঠানো বিশেষজ্ঞদের নিয়ে দিন-রাত কাজ চলছে। পাশাপাশি আগামী বছরের জুনের দিকে দ্বিতীয় রিঅ্যাক্টরে ফুয়েল লোড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করার চেষ্টা চলছে : তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের কৃষিকে একটি লাভজনক খাতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি এখন আর লাভজনক কোনো খাত নয়। কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকরা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন। এ কারণে এখন মাঠে কাজ করার জন্য কৃষক পাওয়া যায় না। তাই এই খাতকে লাভজনক করতে করতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও ঐ অঞ্চলের কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। অনেক সময় তারা আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। একইভাবে উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর আলুর দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও এ সমস্যা রয়েছে।’ তিনি বলেন, শুধু আলু নয়, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপযোগী কোল্ড স্টোরেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রয়োজন।’  এ সময় রাষ্ট্রপতি পেঁয়াজ উৎপাদনে গবেষকদের সাফল্যের ভূয়সী প্রসংশা করে বলেন, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতো। বর্তমানে আমদানির প্রয়োজন না হওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। তিনি ফলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।  কৃষিজমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত সার মাটির ক্ষতি ও ফসলের গুণগত মান নষ্ট করছে। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি বিজ্ঞানীরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে তিনি কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, খাল খনন কর্মসূচি ও উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দেশের কৃষিখাতে পরিবর্তন এনেছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।

কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream