জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে: হুমায়ুন কবির
জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে: হুমায়ুন কবিরজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের মাধ্যমে নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ এবং সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।চার দিনে ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিহুমায়ুন কবির জানান, চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি সাতটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন তিনি।সফরকালে ১১টি দেশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক ও সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকপররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।এ ছাড়া কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎসফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বলে জানান হুমায়ুন কবির।এ ছাড়া মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী, বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক বা সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানান তিনি।সফরের মাধ্যমে সহযোগিতার সুযোগহুমায়ুন কবির বলেন, সফরের বিভিন্ন সভা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (আন্তঃসরকারি সংস্থাসমূহ অনুবিভাগ) এম ফরহাদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম উপস্থিত ছিলেন।