ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা

ইরান

জি-৭ মজুত ছাড়ার ঘোষণা দিতেই কমতে শুরু করেছে ডিজেলের দাম

জি-৭ মজুত ছাড়ার ঘোষণা দিতেই কমতে শুরু করেছে ডিজেলের দাম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলা তীব্র অস্থিরতা ও দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সমন্বয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জি-৭ দেশগুলো জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়তে একমত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সরকারগুলো ফ্রান্সের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে, যার আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলো ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল এবং আইইএ সদস্য দেশগুলো ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। ইউরোস্ট্যাটের হিসাব অনুযায়ী, ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল ছাড়া হলে তা ইইউর মোট জরুরি ডিজেল মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশের সমান হবে। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল ফিউচারসের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে প্রতি গ্যালন ৪.৪৪৯১ ডলারে নেমেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বেঞ্চমার্ক ডিজেল ফিউচারসের দাম প্রতি মেট্রিক টনে ৯০ ডলারের বেশি হ্রাস পেয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়াটি তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হয়ে টানা চার মাস চলবে। বিশেষ করে প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ডিজেল সরবরাহ করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। আসন্ন নভেম্বরের ৩ তারিখের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বদ্ধপরহিক মার্কিন প্রশাসন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সন্তোষ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ইউরোপ এইমাত্র তাদের বিপুল মজুত থাকা ডিজেল তেলের বড় একটি অংশ ছাড়তে সম্মত হয়েছে।’ এর আগে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, মার্কিন প্রশাসন জার্মানি ও ফ্রান্সকে তাদের জরুরি ডিজেল মজুত কমাতে চাপ দিয়েছিল এবং অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছিল। তবে জি-৭ এর বর্তমান বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সদস্য দেশগুলো পরস্পরের মধ্যে জ্বালানি পণ্য রপ্তানিতে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে বিরত থাকবে। ইউরোপের ভূমিকা ও বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব   বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল আমদানি বাড়িয়েছিল। বর্তমান এই যৌথ পদক্ষেপ বিশ্ববাজারের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাময়িকভাবে বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসবে। কীওয়ার্ড ও এসইও হাইলাইটস: মূল কিওয়ার্ড: জি-৭, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA), ডিজেল সংকট, ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিচার: এসইও অপ্টিমাইজড মেটা টাইটেল, আকর্ষক সাব-হেডিং এবং পয়েন্টভিত্তিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে সংবাদটি সার্চ ইঞ্জিনে দ্রুত র‍্যাংক করার উপযোগী করে সাজানো হয়েছে।

‘নিজের কল্পনায় আপনি প্রতিদিনই জিততে পারেন, কিন্তু বাস্তবতা তৈরি করে ইরান’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মার্কিন ইতিহাসের ‘সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্ট’ বলে কটাক্ষ করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক কড়া বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন। এক্স পোস্টে মোহসেন রেজায়ি লেখেন, ‘একের পর এক ব্যর্থতার পরও মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্ট শুধু কথা বলেই যাচ্ছেন। এখন তার কথাও তার নিজের কল্পনাকে ছাড়িয়ে গেছে।’ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘নিজের কল্পনায় আপনি প্রতিদিনই জিততে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা তৈরি করে ইরান; ইরানের জনগণ, সেনারা এবং ক্ষেপণাস্ত্র।’ অন্যদিকে, চলমান সংকটে ইরানের জনগণের সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কোয় ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের ২৩তম বার্ষিক সভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে মস্কোয় ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের অধিবেশনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘পুরো বিশ্ব কী ঘটছে তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইরানি জাতির সাহস ও বীরত্ব এবং তাদের প্রতিরোধ দেখে বিস্মিত।’ পুতিন আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী ও উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের একটি দল রয়েছে। এই মানুষগুলো নিজেদের জনগণের স্বার্থে যেকোনো আত্মত্যাগে প্রস্তুত। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি নিশ্চিত যে ইরানকে খুব দ্রুত শেষ করে দেওয়া হবে। তার দাবি, ইরানের শাসকগোষ্ঠী আত্মসমর্পণের জন্য প্রস্তুত এবং সাত মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রই জয়ী হবে। ট্রাম্পের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই কিংবা নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই এই বিজয় অর্জিত হতে পারে।

‘নিজের কল্পনায় আপনি প্রতিদিনই জিততে পারেন, কিন্তু বাস্তবতা তৈরি করে ইরান’
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream