এক কক্ষে তিন শ্রেণির পরীক্ষা, শিক্ষার্থী উপস্থিত ৯; রাস্তার বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ১২১ নম্বর মোসলেমাবাদ আইগেনীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা, পরীক্ষা পরিচালনা ও উন্নয়নকাজের বরাদ্দ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাগজপত্রে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক দেখানো হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছোট কক্ষে একই সময়ে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তিন শ্রেণি মিলিয়ে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থী। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের নথিপত্রে ওই তিন শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে প্রায় ৪০ জন। ফলে বাকি শিক্ষার্থীরা কোথায়—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যা ও বিদ্যালয়ের নথিতে থাকা তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদান ও পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ বা উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে তাঁদের অভিযোগ, বরাদ্দের পরও বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তার দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, রাস্তার কাজ বাস্তবায়ন না হয়ে থাকলে বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র বের করা হোক।
এক অভিভাবক বলেন, “তিনটি শ্রেণিতে কাগজে যদি ৪০ জন শিক্ষার্থী থাকে, তাহলে পরীক্ষার সময় মাত্র ৯ জন উপস্থিত থাকার কারণ খতিয়ে দেখা দরকার। শিক্ষার্থীর তথ্য ও সরকারি বরাদ্দের বিষয়েও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসংখ্যা, উপস্থিতির রেজিস্টার, পরীক্ষার খাতা, শিক্ষক উপস্থিতির তথ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজে বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্পষ্ট হবে।
এলাকাবাসী দ্রুত বিদ্যালয়টির সার্বিক কার্যক্রম তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, তদন্তে কোনো অনিয়ম বা সরকারি অর্থের অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
এক কক্ষে তিন শ্রেণির পরীক্ষা, শিক্ষার্থী উপস্থিত ৯; রাস্তার বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ১২১ নম্বর মোসলেমাবাদ আইগেনীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা, পরীক্ষা পরিচালনা ও উন্নয়নকাজের বরাদ্দ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাগজপত্রে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক দেখানো হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছোট কক্ষে একই সময়ে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তিন শ্রেণি মিলিয়ে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থী। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের নথিপত্রে ওই তিন শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে প্রায় ৪০ জন। ফলে বাকি শিক্ষার্থীরা কোথায়—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যা ও বিদ্যালয়ের নথিতে থাকা তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদান ও পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ বা উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে তাঁদের অভিযোগ, বরাদ্দের পরও বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তার দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, রাস্তার কাজ বাস্তবায়ন না হয়ে থাকলে বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র বের করা হোক।
এক অভিভাবক বলেন, “তিনটি শ্রেণিতে কাগজে যদি ৪০ জন শিক্ষার্থী থাকে, তাহলে পরীক্ষার সময় মাত্র ৯ জন উপস্থিত থাকার কারণ খতিয়ে দেখা দরকার। শিক্ষার্থীর তথ্য ও সরকারি বরাদ্দের বিষয়েও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসংখ্যা, উপস্থিতির রেজিস্টার, পরীক্ষার খাতা, শিক্ষক উপস্থিতির তথ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজে বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্পষ্ট হবে।
এলাকাবাসী দ্রুত বিদ্যালয়টির সার্বিক কার্যক্রম তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, তদন্তে কোনো অনিয়ম বা সরকারি অর্থের অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন