স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্তর উপজেলা পরিষদকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপজেলা পরিষদের বিদ্যমান কাঠামো বহাল রাখা বা আগের মডেলে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা ও সরকারের দায়িত্বশীল মহলের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত মিলেছে।
বিএনপির এই অবস্থান নতুন নয়। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে দলটি তৎকালীন এরশাদ সরকারের চালু করা উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা বাতিল করেছিল। ওই বছরের নভেম্বরে অধ্যাদেশ জারি করে উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করা হয়। তিন দশক পর আবারও উপজেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ তৈরির সরকারি সিদ্ধান্ত নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকার এই উদ্যোগকে প্রশাসনিক সমন্বয় ও জনসেবার অংশ হিসেবে তুলে ধরলেও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা এটিকে কেন্দ্রীয় প্রভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
উপজেলা পরিষদের পথচলা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন
বাংলাদেশে উপজেলা পরিষদ কাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্র। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে উপজেলা পরিষদ বাতিল করে ‘স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন পুনর্গঠন) (রদ) অধ্যাদেশ, ১৯৯১’ জারি করে।
পরে আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৮ সালে উপজেলা পরিষদ আইন প্রণয়ন করলেও সে সময় নির্বাচন আয়োজন করেনি। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করে। তবে পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার সেই অধ্যাদেশকে আইনি কাঠামোয় রূপ দেয়নি।
এরপর ২০০৯ সালে নতুন উপজেলা পরিষদ আইন করে আওয়ামী লীগ সরকার স্থানীয় সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত করে। এর ফলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ে।
২০১৫ সালে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চালুর পর বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকারের নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন চরিত্র আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চেয়ারম্যান আছেন, ক্ষমতা নেই
স্থানীয় সরকার বিশ্লেষকদের মতে, উপজেলা পরিষদের সবচেয়ে বড় সংকট কাঠামোগত। জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও বাস্তবে উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তাদের ভূমিকা সীমিত।
উপজেলা পরিষদ আইনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ থাকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হাতে। আইন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের আওতায় আইনশৃঙ্খলা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, যুব, ক্রীড়া, সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশু উন্নয়ন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও সংস্কৃতিসহ বহু খাত থাকলেও প্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষমতা না থাকায় পরিষদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।
ফলে নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা অনেক ক্ষেত্রেই প্রতীকী পদে পরিণত হন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
‘এমপি কক্ষ’ নিয়ে আপত্তি
উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ তৈরির সিদ্ধান্তকে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন। তাদের মতে, এটি প্রশাসনিক সমন্বয়ের চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পথ আরও প্রশস্ত করবে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের ভাষ্য, উপজেলা পরিষদ ভবনে সংসদ সদস্যদের জন্য স্থায়ী উপস্থিতির ব্যবস্থা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ন করতে পারে। এতে ‘এমপি-নির্ভর প্রশাসনিক সংস্কৃতি’ আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তার মতে, স্থানীয় সরকার সংবিধান স্বীকৃত একটি স্বতন্ত্র শাসন কাঠামো। সেখানে জাতীয় সংসদ সদস্যদের সরাসরি প্রশাসনিক উপস্থিতি স্থানীয় সরকারের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতাকে দুর্বল করতে পারে।
৫ আগস্টের পর শূন্য উপজেলা পরিষদ
ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর স্থানীয় সরকারের অধিকাংশ নির্বাচিত প্রতিনিধি আড়ালে চলে যান। জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার অধিকাংশ শীর্ষ পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরা থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে দেশের ৪৯৩টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা হয়। তাদের স্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত নেতৃত্বের অনুপস্থিতি স্পষ্ট।
আগে ইউনিয়ন পরিষদ, পরে উপজেলা?
সরকারি মহল আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, সরকার আপাতত উপজেলা পরিষদের চেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতেই এ কৌশল নেওয়া হতে পারে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, দলটি স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার পক্ষে থাকলেও বর্তমান উপজেলা পরিষদ কাঠামো নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তাদের মতে, উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে প্রশাসনিক ও আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি।
রাজনৈতিক ঝুঁকির হিসাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উপজেলা পরিষদ জেলা ও ইউনিয়নের মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এই স্তরে কার্যকর জনপ্রতিনিধি না থাকলে উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা কমে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মেজবাহ-উল-আজম সওদাগরের মতে, উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক উপস্থিতি দুর্বল হলে যে কোনো দলের তৃণমূল সাংগঠনিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিএনপির জন্যও বিষয়টি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে উপজেলা পরিষদ নিয়ে সরকারের অবস্থান এখনো অনির্দিষ্ট। তবে ‘এমপি কক্ষ’ বিতর্ক, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সীমিত ক্ষমতার প্রশ্নে স্থানীয় সরকার কাঠামো নতুন করে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্তর উপজেলা পরিষদকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপজেলা পরিষদের বিদ্যমান কাঠামো বহাল রাখা বা আগের মডেলে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা ও সরকারের দায়িত্বশীল মহলের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত মিলেছে।
বিএনপির এই অবস্থান নতুন নয়। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে দলটি তৎকালীন এরশাদ সরকারের চালু করা উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা বাতিল করেছিল। ওই বছরের নভেম্বরে অধ্যাদেশ জারি করে উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করা হয়। তিন দশক পর আবারও উপজেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ তৈরির সরকারি সিদ্ধান্ত নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকার এই উদ্যোগকে প্রশাসনিক সমন্বয় ও জনসেবার অংশ হিসেবে তুলে ধরলেও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা এটিকে কেন্দ্রীয় প্রভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
উপজেলা পরিষদের পথচলা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন
বাংলাদেশে উপজেলা পরিষদ কাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্র। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে উপজেলা পরিষদ বাতিল করে ‘স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন পুনর্গঠন) (রদ) অধ্যাদেশ, ১৯৯১’ জারি করে।
পরে আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৮ সালে উপজেলা পরিষদ আইন প্রণয়ন করলেও সে সময় নির্বাচন আয়োজন করেনি। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করে। তবে পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার সেই অধ্যাদেশকে আইনি কাঠামোয় রূপ দেয়নি।
এরপর ২০০৯ সালে নতুন উপজেলা পরিষদ আইন করে আওয়ামী লীগ সরকার স্থানীয় সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত করে। এর ফলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ে।
২০১৫ সালে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চালুর পর বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকারের নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন চরিত্র আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চেয়ারম্যান আছেন, ক্ষমতা নেই
স্থানীয় সরকার বিশ্লেষকদের মতে, উপজেলা পরিষদের সবচেয়ে বড় সংকট কাঠামোগত। জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও বাস্তবে উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তাদের ভূমিকা সীমিত।
উপজেলা পরিষদ আইনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ থাকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হাতে। আইন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের আওতায় আইনশৃঙ্খলা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, যুব, ক্রীড়া, সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশু উন্নয়ন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও সংস্কৃতিসহ বহু খাত থাকলেও প্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষমতা না থাকায় পরিষদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।
ফলে নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা অনেক ক্ষেত্রেই প্রতীকী পদে পরিণত হন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
‘এমপি কক্ষ’ নিয়ে আপত্তি
উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ তৈরির সিদ্ধান্তকে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন। তাদের মতে, এটি প্রশাসনিক সমন্বয়ের চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পথ আরও প্রশস্ত করবে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের ভাষ্য, উপজেলা পরিষদ ভবনে সংসদ সদস্যদের জন্য স্থায়ী উপস্থিতির ব্যবস্থা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ন করতে পারে। এতে ‘এমপি-নির্ভর প্রশাসনিক সংস্কৃতি’ আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তার মতে, স্থানীয় সরকার সংবিধান স্বীকৃত একটি স্বতন্ত্র শাসন কাঠামো। সেখানে জাতীয় সংসদ সদস্যদের সরাসরি প্রশাসনিক উপস্থিতি স্থানীয় সরকারের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতাকে দুর্বল করতে পারে।
৫ আগস্টের পর শূন্য উপজেলা পরিষদ
ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর স্থানীয় সরকারের অধিকাংশ নির্বাচিত প্রতিনিধি আড়ালে চলে যান। জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার অধিকাংশ শীর্ষ পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরা থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে দেশের ৪৯৩টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা হয়। তাদের স্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত নেতৃত্বের অনুপস্থিতি স্পষ্ট।
আগে ইউনিয়ন পরিষদ, পরে উপজেলা?
সরকারি মহল আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, সরকার আপাতত উপজেলা পরিষদের চেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতেই এ কৌশল নেওয়া হতে পারে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, দলটি স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার পক্ষে থাকলেও বর্তমান উপজেলা পরিষদ কাঠামো নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তাদের মতে, উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে প্রশাসনিক ও আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি।
রাজনৈতিক ঝুঁকির হিসাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উপজেলা পরিষদ জেলা ও ইউনিয়নের মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এই স্তরে কার্যকর জনপ্রতিনিধি না থাকলে উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা কমে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মেজবাহ-উল-আজম সওদাগরের মতে, উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক উপস্থিতি দুর্বল হলে যে কোনো দলের তৃণমূল সাংগঠনিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিএনপির জন্যও বিষয়টি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে উপজেলা পরিষদ নিয়ে সরকারের অবস্থান এখনো অনির্দিষ্ট। তবে ‘এমপি কক্ষ’ বিতর্ক, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সীমিত ক্ষমতার প্রশ্নে স্থানীয় সরকার কাঠামো নতুন করে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন