উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও পরিস্থিতি প্রত্যাশার মতো ভয়াবহ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেলের মূল্য নিয়ে অতিরিক্ত আশঙ্কা প্রকাশকারী বিশেষজ্ঞদের কড়া সমালোচনাও করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে এক জনসভায় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে হামলার পর তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে—এমন আশঙ্কা তার উপদেষ্টারা করেছিলেন। তিনি বলেন, কিছু পরামর্শক সতর্ক করেছিলেন যে দাম ব্যারেলপ্রতি ৩০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের মন্দার দিকে ঠেলে দেবে। তবে বাস্তবে সেই আশঙ্কা সত্যি হয়নি বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সক্ষম হওয়ায় বাজারে বড় ধরনের ধস নামেনি। তিনি আরও বলেন, মার্কিন শেয়ারবাজার এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং অর্থনীতির গতিও স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইল-লেবানন পরিস্থিতিতে কিছুটা শান্তি ফেরার আভাস পাওয়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শুক্রবার এশীয় বাজারে লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দামও ৯৪ ডলারের নিচে অবস্থান করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকার পর তেলের দাম এখন ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হয়ে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি পাকিস্তানে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য বৈঠকের খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে সতর্ক প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই সূচক, হংকংয়ের হ্যাং সেং, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি এবং তাইওয়ানের সূচক—সবগুলোতেই পতন লক্ষ্য করা গেছে। চীনেও বিনিয়োগকারীরা কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এই রুটটি বিশ্ব তেল ও সার পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জ্বালানি ও সার সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষি উৎপাদন কমে যেতে পারে এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার ফলে খাদ্যের দাম বেড়ে যাবে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও পরিস্থিতি প্রত্যাশার মতো ভয়াবহ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেলের মূল্য নিয়ে অতিরিক্ত আশঙ্কা প্রকাশকারী বিশেষজ্ঞদের কড়া সমালোচনাও করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে এক জনসভায় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে হামলার পর তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে—এমন আশঙ্কা তার উপদেষ্টারা করেছিলেন। তিনি বলেন, কিছু পরামর্শক সতর্ক করেছিলেন যে দাম ব্যারেলপ্রতি ৩০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের মন্দার দিকে ঠেলে দেবে। তবে বাস্তবে সেই আশঙ্কা সত্যি হয়নি বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সক্ষম হওয়ায় বাজারে বড় ধরনের ধস নামেনি। তিনি আরও বলেন, মার্কিন শেয়ারবাজার এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং অর্থনীতির গতিও স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইল-লেবানন পরিস্থিতিতে কিছুটা শান্তি ফেরার আভাস পাওয়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শুক্রবার এশীয় বাজারে লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দামও ৯৪ ডলারের নিচে অবস্থান করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকার পর তেলের দাম এখন ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হয়ে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি পাকিস্তানে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য বৈঠকের খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে সতর্ক প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই সূচক, হংকংয়ের হ্যাং সেং, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি এবং তাইওয়ানের সূচক—সবগুলোতেই পতন লক্ষ্য করা গেছে। চীনেও বিনিয়োগকারীরা কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এই রুটটি বিশ্ব তেল ও সার পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জ্বালানি ও সার সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষি উৎপাদন কমে যেতে পারে এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার ফলে খাদ্যের দাম বেড়ে যাবে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।

আপনার মতামত লিখুন