প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
মাল্টার দাম বেড়েছে ৮৬ শতাংশ, কমলার ৭১ শতাংশ—বাজারে ফলের দাম বাড়ার কারণ কী
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মাল্টার দাম বেড়েছে ৮৬ শতাংশ, কমলার ৭১ শতাংশ—কারণ কীদেশের বাজারে আমদানি করা ফলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের বাজারে বর্তমানে মাল্টা প্রতি কেজি প্রায় ৫২০ টাকা এবং কমলা ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগেও এসব ফলের দাম ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে রোগীর পথ্য ও পরিবারের পুষ্টির অন্যতম উৎস হিসেবে পরিচিত ফল এখন অনেক ভোক্তার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।পাঁচ সপ্তাহে মাল্টার দাম বেড়েছে ৮৬ শতাংশবাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষ দিকে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৮০ টাকায়। একই সময়ে কমলার দাম ছিল প্রায় ৩৫০ টাকা।বর্তমানে মাল্টা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫২০ টাকা কেজিতে। অর্থাৎ পাঁচ সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ২৪০ টাকা বা ৮৬ শতাংশ।অন্যদিকে কমলার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০০ টাকা কেজিতে। এতে পাঁচ সপ্তাহে প্রতি কেজি কমলার দাম বেড়েছে ২৫০ টাকা বা প্রায় ৭১ শতাংশ।শুধু আমদানি করা ফল নয়, দেশি ফলও চড়াবাজারে শুধু মাল্টা ও কমলার দামই বাড়েনি, অন্যান্য ফলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ঢাকার বাজারে দেশি ড্রাগন প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পেয়ারা ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং সাগরকলা প্রতি ডজন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এ ছাড়া জাম্বুরা আকার ও মানভেদে প্রতি পিস ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং আমড়া প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বছরের এই সময়ে সাধারণত এসব ফলের দাম তুলনামূলক কম থাকার কথা।আমদানি কমায় তৈরি হয়েছে সরবরাহ সংকটব্যবসায়ীদের হিসাবে, দেশে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় মাল্টার আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কোনো কোনো সপ্তাহে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা দেশে এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন হয়।ফলে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। সরবরাহ কম থাকার মধ্যেই ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য মাল্টা ও কমলার চাহিদা বেড়েছে। এতে বাজারে দামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।ডলার ও শুল্ক-করও প্রভাব ফেলছেসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি উচ্চ শুল্ক-কর, ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন, পরিবহণ ব্যয় এবং বন্দরসংক্রান্ত খরচও আমদানি করা ফলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।তাদের মতে, এসব ব্যয় শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারের দামের ওপর প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি আমদানি ও খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত মুনাফা বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগও রয়েছে।দ্রুত এলসি খোলার তাগিদফলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিকারকদের দ্রুত ঋণপত্র বা এলসি খোলার তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।শনিবার সচিবালয়ে ফল ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি মাল্টার দাম ৫২০ টাকা হওয়ার কারণ জানতে চান। বাজারে অস্বাভাবিক দামে ফল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানানো হয়।এ ছাড়া মাল্টার শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।শুল্ক পুনর্বিবেচনার দাবি ব্যবসায়ীদেরবাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমদানি করা ফলকে অনেক ক্ষেত্রে বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর ফলে আমদানিকারকদের ওপর উচ্চ কর ও শুল্কের চাপ তৈরি হয়, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের বহন করতে হয়।ফলের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানি করা ফলের ওপর আরোপিত সম্পূরক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি।রোগীর পথ্যেও পড়ছে বাড়তি চাপমাল্টা ও কমলা সাধারণত অসুস্থ ও রোগীদের জন্য সহজলভ্য পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের রোগীদের জন্য এসব ফল কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।বিশেষ করে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপের সময়ে রোগীর খাবার হিসেবে ফলের চাহিদা বাড়লেও বাজারে সরবরাহ কম থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামনে ফলের দাম আরও চাপের মধ্যে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক :মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির (মঞ্জু) ll প্রকাশক: জাহিন ফয়সাল (শুভ)
২০২৬ © নগদ বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত