প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশে ৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছে প্লাগ অ্যান্ড প্লে
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বাংলাদেশে ৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছে প্লাগ অ্যান্ড প্লেসিলিকন ভ্যালিভিত্তিক বৈশ্বিক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম প্লাগ অ্যান্ড প্লে বাংলাদেশে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনার সম্ভাব্য পথের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি অংশীদারত্ব, স্টার্টআপ উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ জোরদারের প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।তবে ৫০ কোটি ডলারের এই অঙ্ক কোনো নিশ্চিত বা চূড়ান্ত বিনিয়োগ নয়। এটি সম্ভাব্য বিনিয়োগের একটি রূপরেখা। নির্দিষ্ট প্রকল্প, বিনিয়োগকারী, অর্থায়ন কাঠামো ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পর প্রকৃত বিনিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।প্লাগ অ্যান্ড প্লের সঙ্গে বাংলাদেশের বৈঠক২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে প্লাগ অ্যান্ড প্লের সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়।বৈঠকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাংলাদেশের স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন পরিবেশ শক্তিশালী করা, এআই সক্ষমতা ও প্রযুক্তি দক্ষতা বাড়ানো এবং বৈশ্বিক করপোরেশন ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকের সময় বাংলাদেশ সরকার ও প্লাগ অ্যান্ড প্লে একটি সহযোগিতা নথিতে সই করে। এর আওতায় বাংলাদেশে এক বা একাধিক এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও যাচাই করার কথা রয়েছে।৫০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের পথবৈঠকের পর প্লাগ অ্যান্ড প্লে একটি কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রস্তাব দেয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন অংশীদারদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৫০ কোটি ডলারের বেশি এফডিআই আনার সম্ভাব্য পথ তুলে ধরা হয়েছে।প্রস্তাবে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনশক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়, হাইটেক পার্ক, শিল্প সক্ষমতা এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাব্য ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।গড়ে উঠতে পারে টেক ও এআই সেন্টারপ্রস্তাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বাংলাদেশ টেক সেন্টার এবং এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠা।এসব কেন্দ্র গড়ে উঠলে বাংলাদেশের স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক করপোরেশন, বিনিয়োগকারী ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।এর পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, গবেষণা ও শিল্প খাতের মধ্যে সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রবেশের সুযোগ তৈরির বিষয়ও প্রস্তাবে গুরুত্ব পেয়েছে।যেসব খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছেপ্লাগ অ্যান্ড প্লের প্রস্তাবে একাধিক প্রযুক্তি ও শিল্প খাতকে সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভোক্তা ইলেকট্রনিকসহালকা প্রকৌশলওষুধশিল্পউন্নত উৎপাদনসেমিকন্ডাক্টর পরীক্ষা ও প্যাকেজিংস্টার্টআপ ও ভেঞ্চার অর্থায়নএ ছাড়া আন্তর্জাতিক করপোরেট অংশীদারত্ব, কর্মশক্তির দক্ষতা উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা এবং বহুজাতিক প্রযুক্তি ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে আনার সম্ভাব্য পথও প্রস্তাবে রাখা হয়েছে।বাস্তব প্রকল্পে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ববাংলাদেশের প্রতিনিধিদল প্লাগ অ্যান্ড প্লের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাবনার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্যোগগুলোকে বাস্তব ও বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর প্রকল্পে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগের পাশাপাশি মানসম্মত কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর, রপ্তানি এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি মূল্যশৃঙ্খলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে যারা ছিলেনবাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবালও বৈঠকে অংশ নেন।বিনিয়োগ এখনো চূড়ান্ত নয়৫০ কোটি ডলারের বেশি এফডিআইয়ের বিষয়টি আপাতত একটি সম্ভাব্য বিনিয়োগ সুযোগ ও কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রস্তাব। এটিকে চূড়ান্ত বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আরও আলোচনা, সম্ভাব্যতা যাচাই, বিনিয়োগ কাঠামো নির্ধারণ, অর্থায়ন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রকল্প ও বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের লস অ্যাঞ্জেলেস কনস্যুলেট সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করবে।
সম্পাদক :মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির (মঞ্জু) ll প্রকাশক: জাহিন ফয়সাল (শুভ)
২০২৬ © নগদ বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত