প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
মাদারগঞ্জে মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপ, কোটি টাকার ডাম্পিং স্টেশন অকেজো
মোঃ ইউসুফ আলী , স্টাফ রিপোর্টার ||
জামালপুরের মাদারগঞ্জে মহাসড়কের পাশে বছরের পর বছর ধরে ময়লার স্তূপ জমে আছে। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। অথচ প্রায় ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ডাম্পিং স্টেশনটি চালুই হয়নি।মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদারগঞ্জ-জামালপুর মহাসড়কের বালিজুড়ী বাজারের ফার্নিচার মোড়ের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন বাজারের ময়লা এখানেই ফেলছেন। অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশের গাছপালা, পশুপাখি ও বাসিন্দারা।মাদারগঞ্জ পৌরসভার শুভগাছা এলাকায় ২০২১-২ অর্থবছরে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে একটি ডাম্পিং স্টেশন কাম বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৮৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৭ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স লাবনী কনস্ট্রাকশন ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করে।স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুর ও রবিউল জানান, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখানে একদিনের জন্যও ময়লা আনা হয়নি। জৈব সার উৎপাদনও শুরু হয়নি। বর্তমানে ভেতরে ভুট্টা শুকানো হচ্ছে। আগে এখানে বহিরাগতরা আড্ডা দিত, নেশা করত। গেটে তালা দেওয়ার পর থেকে জায়গাটি সুরক্ষিত আছে।স্থানীয় শিক্ষক খালেদুজ্জামান মনি তালুকদার বলেন, আগে এখানে ময়লার স্তূপ ছিল। এলাকার যুবদল নেতা আব্দুর রাজ্জাক পরিষ্কার করার পর থেকে যাতায়াত স্বাভাবিক হয়েছে। তিনি সরকারের কাছে ডাম্পিং স্টেশনটি দ্রুত চালুর দাবি জানান।ভুট্টার মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত ৫ আগস্ট কিছু লোক ভাঙচুর করতে এসেছিল। আমি বাধা দেওয়ায় তারা ২-৩টি পাইপে আগুন লাগিয়ে চলে যায়। এক মাস ধরে গেটে তালা দেওয়ার পর জায়গাটি এখন নিরাপদ আছে।মাদারগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, তিন পৌরসভা প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮০ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৭ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল পৌরসভার বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার তৈরি করা।মাদারগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক সুমন চৌধুরী বলেন, ডাম্পিং স্টেশনটি হস্তান্তর করা হলেও সংশ্লিষ্ট কোনো কাগজপত্র আমরা পাইনি। এটি চালাতে কারিগরি সহায়তা ও জনবল দরকার। কীভাবে কাজ করে তাও কেউ জানে না। দীর্ঘদিন ধরে এটি অকেজো পড়ে আছে। আমরা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে কাগজপত্র চেয়েছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাব।স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ডাম্পিং স্টেশনটি চালু করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে।
সম্পাদক :মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির (মঞ্জু) ll প্রকাশক: জাহিন ফয়সাল (শুভ)
২০২৬ © নগদ বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত