প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের রূপকার এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল: মাদারগঞ্জ–সারিয়াকান্দিতে ২য় যমুনা সেতুর জোর দাবি
মোঃ ইউসুফ আলী , স্টাফ রিপোর্টার ||
উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও জনজীবনে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশাজামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা এবং বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার মধ্যবর্তী যমুনা নদীর ওপর ২য় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গ ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত এই সেতু নির্মিত হলে দেশের উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল।বর্তমানে যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনের বিশাল চাপ দেশের অন্যতম বড় যোগাযোগ সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচলের ফলে যমুনা সেতুতে যানজট, ধীরগতি, সময়ক্ষেপণ এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি এখন নিত্যদিনের চিত্র। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতকারী মানুষ ও পণ্য পরিবহন খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ব্যাপকভাবে।এ অবস্থায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ থেকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি পর্যন্ত ২য় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এই সেতু বাস্তবায়িত হলে বর্তমান যমুনা সেতুর ওপর চাপ অনেকাংশে কমে আসবে, পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদারগঞ্জ–সারিয়াকান্দি রুটে ২য় যমুনা সেতু নির্মিত হলে উত্তরবঙ্গ থেকে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমে আসতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় কমবে, সময় সাশ্রয় হবে এবং কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।এ সেতু শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র শিল্প এবং স্থানীয় উৎপাদন ব্যবস্থায় আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। কৃষকরা সহজে ও কম খরচে তাদের উৎপাদিত পণ্য রাজধানীসহ দেশের বড় বাজারগুলোতে পৌঁছাতে পারবেন। এতে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।শুধু অর্থনীতি নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানেও এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের রাজধানী ও অন্যান্য বড় শহরে যাতায়াত সহজ হবে, রোগীরা দ্রুত উন্নত চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন এবং নতুন শিল্পকারখানা ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে এ অঞ্চলে কর্মসংস্থান বাড়বে, দারিদ্র্য কমবে এবং আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস পাবে।স্থানীয়দের মতে, মাদারগঞ্জ–সারিয়াকান্দি সেতু শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি হবে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের সেতুবন্ধন। এই সেতু বাস্তবায়িত হলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের নতুন করিডোর তৈরি হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।এ বিষয়ে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ২য় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।এখন সময়ের দাবি—জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও বগুড়ার সারিয়াকান্দির মধ্যবর্তী যমুনা নদীর ওপর ২য় যমুনা সেতু নির্মাণে দ্রুত সমীক্ষা, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন উদ্যোগ গ্রহণ করা। উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন, জাতীয় অর্থনীতির গতি বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এই সেতু হতে পারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
সম্পাদক :মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির (মঞ্জু) ll প্রকাশক: জাহিন ফয়সাল (শুভ)
২০২৬ © নগদ বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত